Pages

Tuesday, 5 July 2022

ফাতিনা আল-গুররাহঃ অর্গাজম


 
অর্গাজম
ফ়াতিনা আল্‌-গুর্‌রাহ্‌, ফিলিস্তিন
অনুবাদ- আব্দুল মাতিন ওয়াসিম
 
যখন মৃত্যু আসবে আমার কাছে
আমার ইচ্ছা, আমি তার জন্য সাজবো
যেমন করে সাজে প্রেমিকা নিজ প্রেমিকের জন্য;
মোমবাতি জ্বেলে পুরো বাড়ি আলোকিত করবো
পর্দা টেনে কুটিল দৃষ্টি থেকে আড়াল করবো নিজেকে
লাজুকভাবে আস্তে আস্তে শরীর ধুয়ে
স্নাত হবো সুগন্ধি-ফোয়ারায়
অতিযত্নে প্রয়োজন-মতো তেল মেখে
কালো ফিতের নাইট গাউনে নিজেকে ঢেকে
উদ্দীপ্ত হবো আবহ সঙ্গীতে
জীবনের চুম্বন আস্বাদনের অপেক্ষায়।
 
আমি তৈরি হবো মৃত্যুর জন্য
যেমন করে তৈরি হয় প্রেমিকের জন্য প্রেমিকা
অপেক্ষা করে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে
হাতে নিয়ে নিজের বানানো নাবিযের[1] পেয়ালাটি
যার তরলকে ছুঁয়ে যাবে প্রেমিকের ঠোঁট, অন্তত দুবার
এবং তৈরি রাখে সিগারেট ও মিউজিক
সাথে পছন্দের গান ও ভিডিওক্লিপ
দীর্ঘক্ষণ হাসবে সেসব দেখে-শুনে দুজনে
যতক্ষণ না গড়িয়ে পড়ে আনন্দাশ্রু
চোখের কোণ বেয়ে;
উন্মাদনায় নৃত্য করবে যখন শরীর
মৃদু ভঙ্গিমায়
ছড়িয়ে পড়বে আঙুলগুলো
শরীর জুড়ে, ধীরে ধীরে।
 
আমাকে তৈরি হতে হবে মৃত্যুর জন্য, পূর্ণরূপে
যেমন করে সেজে তৈরি থাকে একজন পতিতা
নিজের ঘরটা লাল আলোয় রাঙিয়ে
শরীরে তেল ও সুগন্ধি মেখে
মুছে ফেলে ফিরে না-আসা পুরুষদের স্মৃতি
সস্তা সুগন্ধির মিশ্রণে সুবাসিত করে নিজ দেহকে
অপেক্ষা করে চৌকাঠের পাশে দাঁড়িয়ে
নিজের সমস্ত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে
সেই মুহূর্তের জন্য, যে মুহূর্তে
আসবে তার কাছে কোনো খদ্দের
আর সে খুলে ফেলবে তার ট্রাউজার
তারপর দু’জনে মেতে উঠবে আদিম খেলায়
 
মৃত্যুকে স্বাগত জানাবো আমি, আগ্রহ ভরে
সেই স্ত্রীর মতো করে, যে শুক্রবার রাতে
বাচ্চাদের এলোমেলো করা ঘর গুছিয়ে গোসল করে
ঘষেমেজে পরিষ্কার করে গায়ে লেগে থাকা রান্নার গন্ধ
আলতো করে সুর্মা লাগায়
ঠোঁট দুটোকে রাঙিয়ে তোলে গোলাপি লিপিস্টিকে
রে নেয় নিজের আরামদায়ক পায়জামাটা
তারপর, গিয়ে শোয় বিছানার মাঝখানে
তৈরি থাকে নিজ কর্তব্য পালনের জন্য।
 
একজন সন্ন্যাসিনীর মতো করে
আমি গ্রহণ করবো মৃত্যুকে, চারপাশে ধূপ ছড়িয়ে
সাথে বাতাসে ভাসমান নিস্তব্ধতার ঘ্রাণ
যে ঘ্রাণ বাতাসে রাখে না কোনো স্থান কারুর জন্য;
তারপর ছড়িয়ে দেব নিজ দেহ
পূজোবেদীতে, অনুগত ও ক্ষমতাহীন হয়ে
মাদকে আহ্লাদিত করে তুলবো নিজের শরীর
এক নির্মম মন্থরতা ও উত্তেজনায়
সন্দেহের কোনো দাগ ছাড়াই;
অবশেষে গিয়ে শোবো বিছানায়, আর আমি
অতীতে কখনো কোনো পুরুষের জন্য তা করিনি
অতঃপর অস্থির হয়ে আমি তাকে দেবো
যা কিছু তার প্রাপ্য, পূর্ণরূপে।


أورغازم
فاتنة الغرّة

حينما يأتيني الموت أريد أن أتهيأ له كما تتهيأ حبيبة لحبيبها
أضيء البيت بالشموع
أسدل الستائر بيني وبين عيون المتلصصين
أغسل جسدي برقة ودلال
أطيّبه بالعطر
أرطبه بالزيت دون مبالغة أو إفراط
ألبس قميص النوم الدانتيل الأسود
أشعل موسيقى خافتة
بانتظار قبلة الحياة

سأتهيأ للموت مثلما تتهيأ عاشقة لعشيقها
تنتظره من خلف الشباك كي ينقر نقرتين
فيما هي تُثلج النبيذ
تعد السجائر والموسيقى
الأغاني المفضلة ومقاطع الفيديو
التي سيضحكان عليها طويلاً حتى تدمع عيناهما
الرقص الخفيف على وقع النشوة
ثم تبدأ الأصابع بالعمل رويداً رويداً
...
يجب أن أتهيأ للموت تماماً كما تتهيأ عاهرة
تضيء شقتها بالأحمر
ترطب جسدها
تمسح عنه ذكرى رجال لم يمروا
تعطره بخليط من عطور رخيصة
منتظرة على حافة الباب
بكل مهاراتها وخبراتها
اللحظة التي يدخل فيها
كي تفتح سحّاب بنطاله وتبدأ العمل

سأستقبل الموت تماماً كما يليق بزوجة
تنظف البيت ليلة جمعة من شقاوة الأولاد
تأخذ دوشاً
تليّف جسدها مما علق به من روائح الطبيخ
تضع كحلاً خفيفاً وأحمر شفاه وردياً
ترتدي بيجامتها المريحة
ترقد في منتصف السرير
متهيئة لأداء الواجب

سأستقبل الموت كما يليق براهبة
بالبخور التي تعبق المكان
رائحة السكينة التي تطفو في الجو
فلا تترك مساحة لأي شيء آخر
سأتمدد على المذبح طائعة خائرة القوى
سأسمح للّذة أن تخدّر أطرافي
ببطء شديد وبتوتر لا مجال للشك فيه
سأستلقي كما لم أفعل لرجل
سأعطيه ما يستحق تماماً
وأنتفض.


[ফাতিনা আল্‌-গুর্‌রাহ। জন্ম ১৯৭৪-এ গাজায়। জীবনের একটা দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন যুদ্ধ বিধ্বস্ত এই গাজাতেই। তারপর অভিবাসিত হয়েছেন মিশর এবং ফ্রান্সে। শেষে, ২০০৯-এ বেলজিয়ামে। এখন সেখানেই থাকেন। একসময় আল-জাজিরার সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন। ওয়াফা নিউজ এজেন্সির রেডিও উপস্থাপকও ছিলেন কিছুদিন। চল্লিশের দশক থেকে তাঁর মাতৃভূমিকে শাসন করে চলেছে এক অপরাজেয় রাজনৈতিক অস্থিরতা। তা সত্ত্বেও তিনি নিজ কবিতায় লালন করে চলেছেন প্রেম, ভালোবাসা, নারীত্ব ও নারীবাদকে। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ মা যালা বাহ্‌রুন্‌ বায়নানা’ (এখনো আমাদের মাঝে বিরাজ করছে একটি সমুদ্র, ২০০০ সালে  দারুল্‌ মিক্বদাদ গাজা থেকে প্রকাশিত), দ্বিতীয় হল ইম্‌রাআতুম্‌ মুশাগিবাতুন জিদ্দা’ (এক অত্যন্ত ঝঞ্ঝাটে মহিলা, কায়রোর দারুল্‌ হাযারাহ্‌ থেকে ২০০৩-এ প্রকাশিত], তৃতীয় লায়সা হুনা ইল্লায়ি’ (ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ২০১০-এ প্রকাশিত), চতুর্থ খেয়ানাতুর্‌ রাব’ (বেইরুতের দারুন্‌ নাহ্‌যাহ্‌ থেকে ২০১১-তে প্রকাশিত)এছাড়া তাঁর সুক়ূবুন্‌ ওয়াসিআহ্‌’ (প্রশস্ত বিবরসমূহ) নামে একটি গদ্য কবিতার বইও আছে। তাঁর কবিতা, চিন্তাচেতনা ও আর্তনাদ আন্তর্জাতিক পাঠকমননের সমাদর লাভ করেছে। তাঁর বহু কবিতা পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে। আর এজন্যেই হালফিলে তাঁকে ইতালির রোম থেকে ফিউমিসিনো (Fiumicino Award) পুরষ্কারে সম্মানিত করা হয়েছে।]
 
[শব্দের মিছিল, অনুবাদ বিভাগ, সোমবার, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮-তে প্রকাশিত]


[1] এক প্রকারের পানীয়। শুকনো বা পাকা খেজুর বা কিশমিশ একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জলে বা দুধে ভিজিয়ে রেখে প্রস্তুত করা হয়। খুবই উপকারী ও উপাদেয়। প্রাচীন কাল থেকেই আরবদের অত্যন্ত পছন্দের। নবী (সাঃ) নিজেও খুব পছন্দ করতেন। 

Monday, 4 July 2022

তাওফীক আল-হাকীমঃ বিস্মৃতির ব্যামো – ১ম কিস্তি



বিস্মৃতির ব্যামো
তাওফ়ীক় আল্‌-হ়াকীম
 (১ম কিস্তি)

মূল চরিত্রে— মনরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বার্‌রাক, রোগী শ্রীমান সিলিস্তান বুলার, নার্স সাইয়েদুনি
গৌণ চরিত্রে বা পর্দার আড়ালে— গাড়ি চালক, রোগীর স্ত্রী মিসেস বুলার
স্থান— ডাক্তার বার্‌রাকের ক্লিনিক
 
এক প্রৌঢ় ব্যক্তি, বয়স চল্লিশের উপর হবে, ডাক্তার বার্‌রাকের চেম্বারে প্রবেশ করছে...
ডাক্তার— ওয়েলকাম মিস্টার!
রোগী— গুড মর্নিং... আচ্ছা স্যার আপনি কেন আমার সাথে দেখা করতে এসেছেন, আমি কি তা জানতে পারি? মানে আপনার এখানে আসার একজ্যাক্ট কারণটা কী?
ডাক্তার— (অবাক হয়ে) কী বলছেন আপনি? এই প্রশ্নটা তো আমার আপনাকে করার কথা...
রোগী— তা কী করে হয়?
ডাক্তার— আরে ভাই, আপনিই আমার কাছে এসেছেন, আমি তো আমার চেম্বারেই আছি।
রোগী— ও... তাহলে আমি আপনার কাছে এসেছি। আচ্ছা, আপনার চেম্বারটা ভীষণ সুন্দর, বেশ সাজানোগোছানো, অনেক অনেক অভিনন্দন আপনাকে।
ডাক্তার— অসংখ্য ধন্যবাদ জনাব। এবার বলুন, আপনি কী বিষয়ে আমার সাথে কন্সাল্ট করতে এসেছেন?
রোগী— কন্সাল্ট করতে? আমিও তো ওই একই প্রশ্ন আপনাকে করতে চাই!
ডাক্তার— কী! এ কী বলছেন আপনি? আরে আপনি এসেছেন আমার সাথে কন্সাল্ট করতে। আপনার স্বাস্থ্য সম্পর্কে আলাপআলোচনা করতে ও পরামর্শ নিতে।
রোগী— আমার স্বাস্থ্য সম্পর্কে? হতে পারে। আপনি তো একজন ডাক্তার।
ডাক্তার— হ্যাঁ, একদম ঠিক ধরেছেন।
রোগী— হুম..., হতে পারে বাড়িতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাই আপনাকে ডাকা হয়েছে তার চিকিৎসার জন্য। অসংখ্য ধন্যবাদ ডাক্তার বাবু আসার জন্য। তা আপনি বসে কেন?!
ডাক্তার— আরে মশাই বিষয়টা আপনি উল্টে ভাবছেন, আপনিই আমার কাছে এসেছেন, ডাক্তার দেখাতে। আর এখন আপনি আমার চেম্বারে আছেন।
রোগী— আপনি ঠিক বলছেন তো? তাহলে আমিই আপনার কাছে এসেছি, বেশ। আপনার বাড়িটা ভীষণ সুন্দর। আন্তরিক অভিনন্দন আপনাকে। তা আপনি এখানে কী বিষয়ে আমার সাথে পরামর্শ করতে এসেছেন?
ডাক্তার— শুনুন, আমার মনে হয় এভাবে আলোচনা করতে থাকলে আমরা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারবো না।
রোগী— আপনি তো অদ্ভুত লোক মশাই! আপনি স্বেচ্ছায় আমার কাছে এসেছেন। আর এখন আপনি আমাকে আপনার আসার কারণ জানাতে অস্বীকার করছেন! আল্লাহ্‌র কসম করে বলছি, আপনি বড়ই অদ্ভুত মানুষ, আপনার মতো লোক আমি দেখিনি!
ডাক্তার— আচ্ছা ঠিক আছে। আপনার পকেটে ওই খামটা কীসের?
রোগী— আমার পকেটে চিঠির খাম। ও হ্যাঁ, ঠিকই তো!
ডাক্তার— দয়া করে ওটা আমাকে দিন।
রোগী— এই নিন।
ডাক্তার— চিঠিটা আমার জন্য। হয়তো এই চিঠি বাতলে দেবে আপনি এখানে কেন এসেছেন এবং আমাদের কী কী করতে হবে।
রোগী— আপনি নিশ্চিত, এই চিঠিটা আপনার? আচ্ছা এইটা কি আপনার নাম?
ডাক্তার— হ্যাঁ, এই যে দেখছেন, এইটা আমার নাম ও ঠিকানা। এবার আমাকে অনুমতি দিন। আমি চিঠিটা খুলে পড়ে দেখি, এর বিষয়বস্তু কী।
(ডাক্তার খামটা খুলে চিঠিটা পড়তে আরম্ভ করলেন)—
ডাক্তার বাবু, আমি আমার স্বামীকে আপনার কাছে পাঠাচ্ছি। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বিস্মৃতির ব্যামোতে আক্রান্ত। প্রত্যেক দু’মিনিট অন্তর সব কিছু ভুলে যাচ্ছেন। তাই আমি তাঁকে বাড়ির বাইরে কোথাও একা ছাড়ি না; পাছে ফেরার রাস্তা ভুলে যান। ইদানীং আমি খুব ব্যস্ত। তাই তাঁকে সাথে করে আপনার কাছে নিয়ে যেতে পারলাম না। সেজন্যই বুদ্ধি করে একটা ট্যাক্সি মারফৎ তাঁকে আপনার কাছে পাঠাচ্ছি। ট্যাক্সি ড্রাইভারকে আমি আপনার ঠিকানা দিয়েছি। সে ট্যাক্সি নিয়ে আপনার ক্লিনিকের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবে। দেখানো হয়ে গেলে তাঁকে বাড়িতে ড্রপ করে দেবে। আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ, আপনি তাঁকে একটু ভালো করে পরীক্ষানিরীক্ষা করবেন। তাঁর এই ব্যামো আমাকে বড্ড দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
 
এইবার আমি সব বুঝতে পেরেছি। আপনার স্ত্রী মিসেস বুলার আপনাকে আমার কাছে পাঠিয়েছেন, যাতে আমি আপনার ট্রিটমেন্ট করি।
অনুবাদ- আব্দুল মাতিন ওয়াসিম


داء النسيـــــان
توفيق الحكيم
 
الأشخاص: الدكتور النفساني المعروف براك، المريض السيد سيلستان بولار، الممرضة سيدوني
الأشخاص وراء الحجاب: السائق، زوجة المريض السيدة بولار
المشهد: في عيادة الدكتور براك العالم النفساني المعروف
 
يدخل حجرة الفحص رجل في العقد الرابع من العمر...
الطبيب: أهلا بك، أيها السيد!
المريض: عمت صباحا، يا سيدي. هل لي أن أعرف السبب الذي من أجله تشرفني بزيارتك؟
الطبيب: (بدهشة) ماذا تقول؟ ينبغي لي أنا أن أطرح عليك هذا السؤال...
المريض: وكيف ذلك؟
الطبيب: أنت الذي تزورني... إنك في عيادتي الطبية.
المريض: آه... آه... أنا عندك إذن. اسمح لي أن أهنئك بهذه العيادة إنه مكان جميل ومنظم.
الطبيب: هذا لطف منك. والآن مالذي حملك على استشارتي؟
المريض: استشارتك؟ هذا ما كنت أتسآل عنه.
الطبيب: ماذا؟ ماذا؟ أنت الذي آت لاستشارتي وبالتالي للتحدث عن صحتك.
المريض: عن صحتي؟ هذا ممكن ... لأنك طبيب؟
الطبيب: طبعا، طبعا.
المريض: آه... آه... إذن ينبغي أن يكون هناك مريض في البيت، فدعيت لمعالجته، فشكرا لمجيئك أيها الدكتور. هلا جلست!
الطبيب: ها أنت عدت إليّ قلب الأدوار، أيها السيد العزيز. أنت الذي جئت إليّ، أنت عندي الآن.
المريض: أصحيح ما تقول؟ إذن أنا عندك. حسنا حسنا، منزلك جميل، تهاني القلبية. والآن في أية قضية جئت تستشيرني؟
الطبيب: اسمع ياهذا... أعتقد أننا لن نتوصل إلى أية نتيجة إذا بقينا على هذه الحال.
المريض: غريب أمرك... تأتي إلي بكل طيبة خاطر، ولكنك ترفض أن تطلعني على سبب زيارتك، غريب والله أمرك!
الطبيب: اسمع... ماهذا الظرف الذي تحمله؟
المريض: أأنا أحمل ظرفا؟ آه... أجل صحيح!
الطبيب: أتسمح لي به؟
المريض: أرجوك...
الطبيب: إنها رسالة لي، ولابد أن تلقي الضوء على ما نحن فيه.
المريض: أمتأكد أنت أنها رسالة لك؟ وهل هذا اسمك؟
الطبيب: أجل اسمي وعنواني كما ترى. أتسمح لي بأن أفضها وأطلع على مضمونها؟
(يفضها ويقرأ فيها):
"سيدي الطبيب، إني موفدة إليك زوجي، وهو مصاب بداء النسيان منذ مدة غير قصيرة. وهو ينسى كل شيء بين دقيقة وأخرى. فأنا لا أدعه يخرج بمفرده من البيت خوفا من أن ينسى طريق العودة. ولما كانت مشاغلي تحول بيني وبين مرافقته إلى عيادتك فقد احتطت للأمر وأوفدته في سيارة تاكسي أعطيت سائقها عنوانك. وستنتظره هذه السيارة خارج العيادة لتنقله إلى البيت. فالرجاء أن تفحصه فحصا دقيقا لأن حالته تقللقني جدا!"
الآن فهمت كل شيء... لقد أوفدتك إليّ السيدة بولار لكي أفحصك.

Saturday, 2 July 2022

মায়ার কানন - আব্দুল মাতিন ওয়াসিম


দুপুরের আকাশ যেন চারপাশে আগুনের চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। সূর্যের তাপে মদিনার পথঘাট সব তেতে উঠেছে। বাতাসেও যেন উত্তাপের দীর্ঘশ্বাস। এমন রোদজ্বলা দুপুরে সাধারণত কেউই ঘর থেকে বের হতে চায় না। অথচ বাড়ির দরজা পেরিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলেন হযরত আবু বকর (রাঃ)। কিন্তু কোথায় যাবেন তিনি...?

নিজ অজান্তেই পা বাড়ালেন মসজিদের দিকেকয়েক কদম যেতেই তাঁর মোলাকাত হল হযরত উমর (রাঃ)-এর সাথেউমর (রাঃ) তাঁকে দেখে খানিকটা বিস্মিত হলেন। এমন গনগনে দুপুরে আবু বকর (রাঃ) বাড়ির বাইরে, কারণ কী? জিজ্ঞেস করলেন,

এই অবেলায় বেরিয়েছেন! কী ব্যাপার?

আবু বকর (রাঃ) একটু থেমে মৃদু স্বরে বললেন,

সত্যি বলতে কী, বাধ্য হয়েই বেরিয়েছি। প্রচণ্ড খিদে পেয়েছে। আর বাড়িতে তেমন কিছুই নেই।

উমর (রাঃ) যেন নিজের কথাই শুনতে পেলেন। বললেন,

আমিও ঠিক একই কারণে বেরিয়েছি।

দু’জনের চোখে তখন ক্ষুধার ক্লান্তি, তবে মুখে কোনো অভিযোগ নেই। তাঁরা পাশাপাশি হাঁটতে লাগলেন মসজিদের দিকে। কিছুদূর এগোতেই সামনে দেখা মিলল প্রিয় নবীজির (সাঃ) নবীজিও (সাঃ) তাঁদের দেখে অবাক হলেন— এমন দহন-দুপুরে তাঁরা দু’জনেই কেন ঘরের বাইরে?! জিজ্ঞেস করলেন,

তোমরা এই অবেলায় বাড়ি থেকে বেরিয়েছ! রোদে তো পথঘাট সব তেতে আছে। কী ব্যাপার?

আবু বকর ও উমর (রাঃ) দু’জনেই প্রায় একই সঙ্গে বলে উঠলেন,  

ইয়া রাসূলাল্লাহ (হে আল্লাহ্‌র রাসুল)! প্রচণ্ড খিদে পেয়েছে। বাড়িতে খাবার মতো কিছুই নেই। ক্ষুধার জ্বালায় বাধ্য হয়েই বেরিয়েছি।

নবীজি (সাঃ) একটু মুচকি হাসলেন। যেন তাঁদের কষ্টের সঙ্গে নিজের কষ্টটাও মিশে আছে। বললেন,

আমিও তো ওই একই কারণে এই অবেলায় ঘর থেকে বেরিয়েছি। চলো, তোমরা আমার সঙ্গে চলো।

তিনজন মানুষতিনজনই ক্ষুধার্ত ও ক্লান্ত, অথচ হৃদয়ে পরস্পরের জন্য অফুরান মায়া, হাঁটতে লাগলেন একসাথে। হাঁটতে হাঁটতে তাঁরা এসে পৌঁছলেন আবু আইয়ুব আনসারি (রাঃ)-এর বাড়ির সামনে। আবু আইয়ুব (রাঃ)-এর ঘরে নবীজির (সাঃ) জন্য এক বিশেষ জায়গা ছিলশুধু ঘরের কোনো কোণে নয়, তাঁর হৃদয়ের একেবারে গভীরে। তিনি প্রতিদিন নবীজির জন্য কিছু খাবার তুলে রাখতেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, হয়তো আজও প্রিয় অতিথি আসবেন। তাই খাবার আলাদা করে রেখে দিতেন। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলে যখন বুঝতেন, আজ আর নবীজি আসবেন না, তখন সেই খাবার পরিবারের লোকেদের দিয়ে দিতেন।

সেদিনও হয়তো তিনি তা-ই করেছিলেন। তবে ভাবতেও পারেননি যে, আজ তাঁর দরজায় এসে দাঁড়াবেন নবীজি, সাথে তাঁর প্রিয় দুই সহচর। নবীজি (সাঃ) দরজায় কড়া নাড়লেন। ভেতর থেকে শব্দ পেয়ে উম্মু আইয়ুব (রাঃ) দ্রুত বেরিয়ে এলেন। দরজা খুলতেই তাঁর চোখ বড় হয়ে গেলদরজার সামনে স্বয়ং আল্লাহর রাসূল (সাঃ)! সঙ্গে আবু বকর ও উমর (রাঃ)। আনন্দে তাঁর মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তিনি বললেন,

মারহাবান বি-রাসুলিল্লাহি ওয়া বিমান মাআহু (আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সঙ্গীদের সাদর অভ্যর্থনা ও অভিনন্দন)!

নবীজি (সাঃ) জিজ্ঞেস করলেন,

আবু আইয়ুব কোথায়?

উম্মু আইয়ুব (রাঃ) বললেন, তিনি পাশের খেজুরবাগানে কাজ করছেন।

নবীজির কণ্ঠ শুনতে পেয়ে আবু আইয়ুব (রাঃ) ছুটে এলেন। নবীজিকে সামনে দেখে তাঁর চোখেমুখে আনন্দের ঢেউ। স্বাগত জানিয়ে তিনি বললেন,

ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই অবেলায়! এটা তো আপনার আসার সময় নয়!

নবীজি (সাঃ) মৃদু হেসে বললেন,

তুমি ঠিকই বলেছ, আবু আইয়ুব। খানিকটা বাধ্য হয়েই এসেছি।

কথাটুকুই যথেষ্ট ছিল। আবু আইয়ুব (রাঃ) আর কোনো প্রশ্ন করলেন না। অতিথির মুখের ভাষার আগেই যেন মনের ভাষা পড়ে ফেলেছিলেন। তিনি ছুটে গেলেন বাগানের দিকে। একটা খেজুরগাছ থেকে একটি কাঁদি কাটলেনতাতে কাঁচা, ডাগর ও পাকাসব ধরনের খেজুর ছিল। কাঁদিটি নিয়ে দ্রুত নবীজির খিদমতে হাজির হলেন। নবীজি (সাঃ) খেজুরের কাঁদিটি দেখে বললেন,

পুরো কাঁদিটা কাটার প্রয়োজন ছিল না। তুমি তো কাঁদি থেকে কিছু খেজুর পেড়ে আনতে পারতে!

আবু আইয়ুব (রাঃ) বিনয়ের সঙ্গে বললেন,

ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কাঁচা, ডাগর ও পাকাসব ধরনের খেজুর খেতে পছন্দ করেন। তাই ভাবলাম, সবগুলোই যদি আপনার সামনে থাকে! আর আপনি যদি নিজ পছন্দ মতো খান, তাতে তো আমার পরম আনন্দ।

কথার শেষে যেন তাঁর ভালোবাসার সমস্ত দরজা খুলে গেল; বললেন,

আজ আপনার জন্য আমি একটি মেষ জবাই করব।

নবীজি (সাঃ) বললেন,

শোনো, যদি জবাই করো, তবে কোনো দুগ্ধবতী মেষ জবাই করো না।

আবু আইয়ুব (রাঃ) নবীজির কথা মেনে একটি ছাগশিশু ধরে জবাই করলেন। তারপর স্ত্রীকে ডাকলেন,

আইয়ুবের মা! তুমি তো খুব ভালো রুটি বানাতে পারো। আজ আমাদের জন্য ক’টা রুটি বানাবে গো?  

উম্মু আইয়ুব (রাঃ) কাজে লেগে গেলেন। ঘরের একদিকে রুটি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে মাংস রান্না হচ্ছে। আবু আইয়ুব (রাঃ) মাংসের অর্ধেক রান্না করলেন, আর বাকি অর্ধেক ভুনা করলেন। একসময় রান্নার সব কাজ শেষ হলো। ঘর ভরে উঠল খাবারের ঘ্রাণে। দস্তরখান বিছানো হলো। সামনে বসলেন নবীজি (সাঃ)তাঁর দুই পাশে দুই সহচর আবু বকর ও উমর (রাঃ)। রুটি ও মাংসের পদগুলো দস্তরখানে সাজিয়ে দেওয়া হলো। নবীজি (সাঃ) একটি রুটি নিলেন। তাতে ক’টা মাংসের টুকরো রাখলেন। তারপর আবু আইয়ুব (রাঃ)-এর দিকে তাকিয়ে বললেন,

আবু আইয়ুব, আমার একটা কাজ করে দেবে?

জী, ইয়া রাসুলাল্লাহ!

নবীজি (সাঃ) বললেন,

এই একটা রুটি আর ক’পিস মাংস ফাতেমার কাছে দিয়ে আসবে...?

একটু থামলেন তিনি। তারপর এমন একটি কথা বললেন, যা শুধু একজন পিতার হৃদয় থেকেই বের হতে পারে,

মেয়েটা আমার অনেক দিন ধরে এমন ভালো খাবার খায়নি গো।

[তথ্যসূত্র: সাহীহ ইবনু হিব্বান, কিতাবুল আতইমাহ, বাবু আদাবিল আক্‌ল, হাদিস নং ৫২১৬]

Friday, 1 July 2022

খলীফার পুত্রবধূ হলেন এক গোয়ালিনী যুবতী



খলীফার পুত্রবধূ হলেন এক গোয়ালিনী যুবতী
 
মদীনার আকাশে গাঢ় অন্ধকার নেমেছে। রাত তখন গভীর। খলীফা উমার (রাঃ) বেরিয়ে পড়লেন বাড়ি থেকে। ঘুরতে লাগলেন মদিনার অলিগলিতে। উদ্দেশ্য সহনাগরিকদের অবস্থা, কে কীরকম আছে, জানা। হঠাৎ তাঁর কানে ভেসে এলো বাদানুবাদের স্বর। থমকে দাঁড়ালেন। কান পাতলে দেওয়ালে। শুনতে পেলেন, এক বৃদ্ধা মহিলা নিজ মেয়েকে বলছে মা, দুধে পানি মিশিয়ে বিক্রি করলে হয় না? তাহলে একটু বেশি আয় হবে। আমাদের অবস্থা একটু স্বচ্ছল হবে
 
মেয়েটি সহসা উত্তর দিল তা কী করে হয়, মা। খলীফার আদেশ, কেউ দুধে পানি মেশাতে পারবে না
 
বৃদ্ধা বলল— “থাক তোর খলীফার আদেশ, কেউ তো আর দেখছে না
 
মেয়েটি প্রতিবাদ করল— “না মা, তা হয় না। আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য খলীফার আদেশ মেনে চলা। খলীফা দেখতে পাচ্ছেন না, কিন্তু আল্লাহ তো সর্বব্যাপী, তার চোখে ধুলো দেবো কী করে?”
 
খলীফা উমার (রাঃ) দাঁড়িয়ে সব কথা শুনলেন। তারপর বাড়ির দরজায় একটা চিহ্ন এঁকে দিয়ে ফিরে গেলেন নিজ আবাসে বাড়ি পৌঁছে শুয়ে পড়লেন। কিন্তু কিছুতেই ঘুম আসছিলো না। বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ করতে লাগলেন। ঘটনাটা তিনি ভুলতে পারছিলেন না। ভাবতে লাগলেন, অজানা ওই মেয়েটিকে তাঁর সততার জন্য কী পুরষ্কার দেওয়া যায়। অনেক কিছু ভেবে একটা সিদ্ধান্ত নিলেন।
 
পরদিন সকালে ওই অজানা মেয়েটিকে ডেকে পাঠালেন। খলীফার ডাক পেয়ে মা ও মেয়ে ভয় পেয়ে গেল। দুরুদুরু বুকে, ইতস্তত পায়ে তারা খলীফার নিকট উপস্থিত হল।
 
অতঃপর খলীফা নিজ পুত্রদের ডাকলেন। তাদের সামনে গত রাতের সমস্ত ঘটনা তুলে ধরলেন। তারপর বললেন— “তোমাদের মধ্যে কে এই মেয়েকে বিয়ে করতে আগ্রহী? এর চেয়ে ভালো ও উপযুক্ত মেয়ে আমি খুঁজে পাইনি।
 
পুত্রদের মধ্য থেকে আসিম তৎক্ষণা রাজি হয়ে গেলো। মেয়েটিও সম্মতি দিল। আর এভাবেই খলীফার ছেলের সাথে সেই স গোয়ালিনী মেয়েটির বিয়ে হয়ে গেলো
 
[তথ্যসূত্র- ইব্‌নুল জাওজ়ী, তারীখ়ু ‘উমার বিন আল্‌-খ়াত়্ত়াব, পৃষ্ঠা ১০৩; ইব্‌নু ‘আসাকির, তারীখু দিমাশ্‌ক; আবু নায়ীম, আল্‌-হ়িল্‌ইয়াহ্‌]

 -আব্দুল মাতিন ওয়াসিম