ভূমিকা
বর্তমান যুগে পরিবেশ বিপর্যয়, জলবায়ু পরিবর্তন, বনভূমি ধ্বংস, জলদূষণ, বায়ুদূষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অযাচিত ব্যবহার বিশ্বব্যাপী এক গভীর সংকটের জন্ম দিয়েছে। পৃথিবীর পরিবেশগত ভারসাম্য আজ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত; যার প্রভাব পড়ছে স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক জীবনব্যবস্থার উপর। এই বাস্তবতার নিরিখে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন এখন কেবল বৈজ্ঞানিক বা রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় নয়; এটা এখন নৈতিক, সামাজিক এবং ধর্মীয় দায়িত্বেও পরিণত হয়েছে। ইসলাম, একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষার বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছু নীতিমালা ও মূল্যবোধ উপস্থাপন করেছে। বিশেষত বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর বাণী, কর্ম ও জীবনাচরণে পরিবেশ-সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা, সংযম, প্রাণিকুলের প্রতি সহমর্মিতা এবং সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহারের যে শিক্ষা পাওয়া যায়, তা আধুনিক পরিবেশ-ভাবনার সঙ্গেও গভীরভাবে সাযুজ্যপূর্ণ।
ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষ পৃথিবীর একচ্ছত্র অধিপতি নয়; বরং আল্লাহর প্রতিনিধি ও আমানতদার। এই পৃথিবী, এর সম্পদ, জল, বায়ু, বৃক্ষ, প্রাণিকুল সবই মহান আল্লাহর সৃষ্টি এবং মানুষের নিকট অর্পিত আমানত। সুতরাং পরিবেশ
সংরক্ষণ,
সম্পদের অপচয় রোধ, জনস্বাস্থ্য রক্ষা,
পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জীবজগতের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ
করা একজন মুসলমানের ধর্মীয় ও নৈতিক কর্তব্য।
ইসলামে পরিবেশ-ভাবনার তাত্ত্বিক ভিত্তি
ইসলামের পরিবেশ ভাবনার মূলভিত্তি হলো তাওহীদ, খিলাফত, আমানত এবং ই’তিদাল বা ভারসাম্য নীতি। তাওহীদের ধারণা মানুষকে শিক্ষা দেয় যে সমগ্র বিশ্বজগৎ একক স্রষ্টা মহান আল্লাহর সৃষ্টি; ফলে প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানই পবিত্র ও মর্যাদাসম্পন্ন। খিলাফতের ধারণা মানুষকে পৃথিবীতে দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। অর্থাৎ মানুষ প্রকৃতির উপর স্বেচ্ছাচারী কর্তৃত্বের অধিকারী নয়; বরং তার সংরক্ষণ, পরিচর্যা ও ন্যায়সংগত ব্যবহারের দায়িত্বপ্রাপ্ত। অন্যদিকে আমানত-এর ধারণা পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি মানুষের নৈতিক দায়বদ্ধতাকে সুদৃঢ় করে। একইভাবে ই’তিদাল বা ভারসাম্যের নীতি অতিভোগ, অপচয় ও ধ্বংসাত্মক আচরণ থেকে আমাদেরকে বিরত থাকতে শেখায়।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, ইসলামে পরিবেশ
রক্ষার প্রশ্নটি কেবল উপযোগবাদী নয়; বরং তা ইবাদত,
নৈতিকতা, সামাজিক
দায়বদ্ধতা এবং সৃষ্টির প্রতি সম্মানবোধের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ফলে পরিবেশ সংরক্ষণ ইসলামের দৃষ্টিতে নিছক কোনো আধুনিক সামাজিক আন্দোলন নয়; বরং একটি ধর্মীয়
দায়িত্ব এবং নৈতিক অনুশাসনও বটে।
বিশ্বনবী (সাঃ)-এর শিক্ষার সার্বজনীনতা
মহান আল্লাহ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বশেষ নবী ও সর্বোত্তম আদর্শরূপে প্রেরণ করেছেন। ফলে তাঁর শিক্ষা কেবল ইবাদত, আকিদা (ধর্মীয় বিশ্বাস) ও ব্যক্তিগত পবিত্রতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র—ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি, নৈতিকতা, বিচার, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশ সবকিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে। এ কারণেই তাঁর জীবনদর্শনকে একটি সমন্বিত সভ্যতাগত দিকনির্দেশনা বলা যায়। একটি হাদিসে নবী (সাঃ) বলেছেন— “সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে! যদি মূসা (আঃ) জীবিত থাকতেন, তবে তিনিও আমার অনুসরণ করা ছাড়া অন্য কোনো পথ পেতেন না।” [আল-বিদাইয়াহ্ ওয়ান্-নিহাইয়াহ্, ইবনু কাসীর ১/১৮৫, সাহীহ]
এই হাদিসের তাৎপর্য হলো, নবী (সাঃ)-এর শিক্ষা সর্বজনীন, সর্বকালীন এবং মানবজীবনের প্রতিটি দিক ও প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য প্রাসঙ্গিক। পরিবেশ রক্ষা, সম্পদ সংরক্ষণ,
পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সৃষ্টিজগতের প্রতি দায়িত্বশীল
আচরণও তাঁর এই সার্বিক শিক্ষার অংশ।
জল সংরক্ষণ ও অপচয় রোধে নবীজির নির্দেশনা
পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে জলের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। জল মানবজীবনের মৌলিক উপাদান, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের ভিত্তি এবং সভ্যতার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। ইসলাম জলকে আল্লাহ তা’আলার এক মূল্যবান নিয়ামত বা অনুগ্রহ রূপে বিবেচনা করেছে এবং এর ব্যবহারকে নিয়ন্ত্রিত, সচেতন ও সংযত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সাঃ) একবার প্রিয় সাহাবী সা‘দ (রাঃ)-কে ওজু করতে দেখে বলেন, “এ কেমন অপচয়?” সা‘দ (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, “ওজুতেও কি অপচয় হতে পারে?” তখন নবীজি (সাঃ) বললেন, “হ্যাঁ, এমনকি তুমি যদি প্রবাহমান নদীর তীরেও থাকো, তবুও অপচয় করবে না।” [সুনান ইবনু মাজাহ্ ৪২৫, সাহীহ]
এই হাদিসটি ইসলামী পরিবেশ-নীতির এক মৌলিক ভিত্তি উপস্থাপন করে। এখানে জল সংরক্ষণকে কেবল অর্থনৈতিক বা সামাজিক প্রয়োজন হিসেবে নয়, বরং নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবেও চিহ্নিত করা
হয়েছে। জল সহজলভ্য হলেও তা অপচয় করা যাবে না। এই শিক্ষা
আজকের জলসংকট,
ভূগর্ভস্থ জলের স্তর হ্রাস এবং পানির অযাচিত ব্যবহারের প্রেক্ষাপটে
অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
জলের পবিত্রতা, দূষণরোধ ও জনস্বাস্থ্য
ইসলাম কেবল জলের ব্যবহার নয়, এর পবিত্রতা ও দূষণমুক্ত অবস্থায় এর সংরক্ষণেরও নির্দেশ দিয়েছে। বিখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেছেন, “তোমাদের কেউ যেন স্থির বা জমে থাকা পানিতে প্রস্রাব না করে, এবং সেই পানি দিয়ে গোসল না করে।” [সাহীহ বুখারী ২৩৯, সাহীহ মুসলিম ৫৪৩]
এই হাদিসে পরিবেশ সচেতনতার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যবিষয়ক একটি সুস্পষ্ট নীতিও নিহিত রয়েছে। জমে থাকা জলকে দূষিত করলে তা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে, রোগব্যাধি ছড়াতে পারে এবং জলের ব্যবহার
অনুপযোগী হয়ে উঠতে পারে। আধুনিক জনস্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও পরিবেশবিদ্যার আলোকে এই নির্দেশনার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এটি মূলত জলদূষণ রোধ, পরিচ্ছন্নতা রক্ষা এবং সামাজিক স্বাস্থ্যসুরক্ষার একটি
প্রাথমিক কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর নীতি।
একই ভাবে ইবনু
উমার (রাঃ) থেকে
বর্ণীত, তিনি বলেন— আমি শুনেছি, নবীজিকে (একবার) এমন জলের
বিধান সম্পর্কে
জিজ্ঞেস করা
হয়েছিল যা
জঙ্গল ও
জনশূন্য প্রান্তরে
থাকে এবং
যেখানে পানি
পান করার
জন্য হিংস্র
ও বন্য জন্তুরা আসে। নবীজি উত্তরে বলেন,
পানি যদি
দুই কুল্লা
পরিমাণ হয়
তাহলে তা
অপবিত্র হয়ে
যায় না।
[জামে’ তিরমিজি ৬৭৬৭, সুনান আবু দাউদ
৬৩,
সুনান নাসায়ী
৩২৮,
সাহীহ] উল্লেখ্য যে, কুল্লা হচ্ছে বড় আকারের মাটির পাত্র বিশেষ, যাতে প্রায় একশ সাড়ে তেরো লিটার জল ধরে, সুতরাং দুই কুল্লা
অর্থাৎ প্রায় ২২৭ লিটার জল। অতএব কোথাও যদি জলের পরিমাণ এর থেকে কম হয় আর সেই জলে কোনো অপবিত্র
বস্তু, মল-মূত্র ইত্যাদি মিশে যায় বা ময়লা-আবর্জনা পড়ার কারণে জলের রং, গন্ধ অথবা স্বাদ পালটে যায়
তাহলে সেই জল অপবিত্র ও নাপাক হয়ে যায়। এই হাদিসটি ইসলামে জলের বিশুদ্ধতা নির্ণয়ের একটি বাস্তবভিত্তিক মানদণ্ড তুলে ধরে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়,
ইসলাম পবিত্রতা ও অপবিত্রতার প্রশ্নে বাস্তব অবস্থা, জলের পরিমাণ এবং তার গুণগত পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিয়েছে। এর থেকে বোঝা যায় যে, ইসলামী শরিয়তে
পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিষয়ক বিবেচনা অত্যন্ত সুসংহতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা ও জনপরিসর রক্ষায় ইসলামের শিক্ষা
পরিবেশ রক্ষার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো পরিচ্ছন্নতা। ইসলামে পরিচ্ছন্নতা কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বা সামাজিক সৌন্দর্যের বিষয় নয়; বরং এটি ঈমানি চরিত্রের অংশ। শরীর, পোশাক, বাসস্থান, উপাসনালয় এবং জনপরিসর সবকিছুর পরিচ্ছন্নতা ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়েছে। নখ কাটা, শরীরের অপ্রয়োজনীয় লোম পরিষ্কার করা, অপবিত্রতা দূর করা এবং পবিত্র অবস্থায় ইবাদত করা—এসব নির্দেশনার মাধ্যমে ইসলাম ব্যক্তি-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সামাজিক পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতিও গড়ে তোলে। এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সাঃ) বলেছেন, “তোমরা লানতযোগ্য অর্থাৎ অভিশপ্ত দু’টি কাজ থেকে বেঁচে থাকো।” সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, “সেই অভিশপ্তি কাজ দু’টো কী?” নবীজি (সাঃ) বললেন, “মানুষের চলার পথে অথবা বিশ্রামের উপযুক্ত ছায়াময় কোনো স্থানে মল-মূত্র ত্যাগ করা।” [সাহীহ বুখারী ৫০৬]
এই হাদিসে জনপরিসর,
জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশ-শৃঙ্খলার একটি অত্যন্ত উন্নত ধারণা
পাওয়া যায়। পথঘাট,
ছায়াযুক্ত স্থান, বিশ্রামস্থল
এসব মানুষের যৌথ ব্যবহার্য স্থান; সেগুলো নোংরা করা কেবল অশোভনীয় আচরণ নয়, বরং অন্যের কষ্ট ও অসুবিধার কারণও। অতএব জনপরিসরের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা সামাজিক দায়িত্ব
ও নৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।
বৃক্ষরোপণ, সবুজায়ন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ
ইসলামী পরিবেশ ভাবনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়নের প্রতি উৎসাহ। আধুনিক বিশ্বে বৃক্ষরোপণকে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা, মাটির উর্বরতা রক্ষা, বায়ুমণ্ডলের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের একটি মৌলিক উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আশ্চর্যের বিষয়, বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সাঃ) বহু পূর্বেই এই কাজকে মানবকল্যাণ ও পুণ্যময় কাজ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সাঃ) বলেন, “কোনো মুসলমান যদি বৃক্ষ রোপণ করে বা ফসল ফলায়, আর তা থেকে কোনো মানুষ, পাখি বা প্রাণী খায়, তবে তা তার জন্য সাদকা অর্থাৎ দান হিসেবে গণ্য হবে।” [সাহীহ বুখারী ২৩২০]
এই হাদিসে বৃক্ষরোপণকে একাধারে পরিবেশবান্ধব, মানবকল্যাণমূলক এবং আধ্যাত্মিক মূল্যসম্পন্ন কাজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
একটি গাছ শুধু ফল বা ছায়াই দেয় না; এটি পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা করে, বায়ুকে বিশুদ্ধ করে,
প্রাণিকুলের আশ্রয়স্থল তৈরি করে এবং মানুষের জীবনে স্থায়ী
কল্যাণ বয়ে আনে। ফলে বৃক্ষরোপণ ইসলামের দৃষ্টিতে কেবল একটি অর্থকরী কাজ নয়; বরং সামাজিক কল্যাণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সাদকার একটি স্থায়ী রূপ।
বৃক্ষরোপণের প্রতি উৎসাহিত করতে রাসুল (সাঃ) এক
জায়গায় বলেছেন, “যদি কিয়ামত অর্থাৎ মহাপ্রলয় এসে যায় এবং তোমাদের কারও হাতে একটি চারা গাছ থাকে, আর সে যদি তা রোপণ করার সুযোগ পায়, তবে সে যেন তা রোপণ করে দেয়।” [সাহীহ আল-আদাব আল-মুফরাদ, শায়েখ আলবানী ৩৭১]
এই হাদিসের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। এখানে বৃক্ষরোপণকে শুধু উপযোগী কাজ হিসেবে
নয়,
বরং আশাবাদ, কর্মপ্রেরণা এবং মানবকল্যাণের ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
অর্থাৎ চূড়ান্ত সংকটময় মুহূর্তেও কল্যাণকর কাজ থেকে বিরত না থাকার শিক্ষা ইসলাম এই হাদিসে প্রদান করেছে।
প্রাণিকুল ও সৃষ্টিজগতের প্রতি সহমর্মিতা
পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো প্রাণিকুল। ইসলাম প্রাণীদের প্রতিও সহমর্মিতা, সদাচরণ এবং দায়িত্বশীল আচরণের শিক্ষা দিয়েছে। বিনা প্রয়োজনে পশু-পাখি হত্যা, জীবজন্তুকে কষ্ট দেওয়া, আনন্দের জন্য প্রাণী হত্যা করা বা তাদের আবাসস্থল ধ্বংস করা ইসলামে নিন্দিত ও ঘৃণ্য। এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং সৃষ্টিজগতের সঙ্গে নৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে আমি মনে করি।
ইসলামের আলোকে, পরিবেশ সংরক্ষণ কেবল গাছপালা বা জল সংরক্ষণের মধ্যে
সীমাবদ্ধ নয়;
বরং প্রাণিকুলের অধিকার, তাদের জীবন ও বাসস্থানের সুরক্ষাও এর অন্তর্ভুক্ত। ফলে ইসলামী পরিবেশ ভাবনা মূলত একটি
সমন্বিত ও জীবনমুখী দৃষ্টিভঙ্গি, যেখানে মানুষ
নিজেকে প্রকৃতির প্রভু নয়,
বরং দায়িত্বশীল সহাবস্থানের অংশ হিসেবে দেখতে শেখে।
সমকালীন পরিবেশ-সংকট ও ইসলামী শিক্ষার প্রাসঙ্গিকতা
আজকের বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, বন উজাড়, প্লাস্টিক দূষণ, জল সংকট, বায়ুদূষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের নির্বিচার শোষণ মানবসভ্যতার অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রযুক্তি, নীতি ও আন্তর্জাতিক চুক্তির পাশাপাশি প্রয়োজন একটি শক্তিশালী নৈতিক দর্শন, যা মানুষকে প্রকৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে দায়িত্বশীল করে তুলবে, যা মানুষকে প্রাকৃতিক উপাদানের সঠিক ব্যবহার, সংযম, পরিচ্ছন্নতা এবং প্রকৃতির প্রতি যত্নশীল হতে উদ্বুদ্ধ করবে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর শিক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে আমার বিশ্বাস।
নবীজির শিক্ষার আলোকে
সমকালীন পরিবেশ-সংকট মোকাবিলার যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি চিহ্নিত করা যায়, তা হল—প্রথমত,
প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় রোধ করতে হবে; দ্বিতীয়ত, জলবায়ু ও জনপরিসর দূষণমুক্ত রাখতে হবে; তৃতীয়ত, পরিচ্ছন্নতাকে
ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনের মৌলিক মূল্যবোধে পরিণত করতে হবে; চতুর্থত, বৃক্ষরোপণ, সবুজায়ন এবং
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করতে হবে; পঞ্চমত, আমাদের নিজেদেরকে প্রকৃতির মালিক ও অধিকারী রূপে নয়,
বরং আল্লাহ প্রদত্ত আমানতের রক্ষক হিসেবে ভাবতে হবে।
উপসংহার
পরিবেশ রক্ষায় বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর নির্দেশনা পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয় যে ইসলাম একটি গভীর, সমন্বিত এবং দায়িত্বশীল পরিবেশ-দর্শন উপস্থাপন করেছে। জল সংরক্ষণ, অপচয় রোধ, জলদূষণ প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, জনপরিসর সুরক্ষা, বৃক্ষরোপণ, প্রাণিকুলের প্রতি সহমর্মিতা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহার—এসবই ইসলামী জীবনদর্শনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলে পরিবেশ সংরক্ষণ ইসলামের দৃষ্টিতে কেবল সামাজিক বা প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়; বরং ইবাদত, নৈতিকতা এবং মানবকল্যাণের একটি মৌলিক অনুষঙ্গ।
অতএব সমসাময়িক
পরিবেশ-সংকটের প্রেক্ষাপটে নবীজির শিক্ষার পুনঃপাঠ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। যদি ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, সমাজ এবং রাষ্ট্র সব পর্যায়ে ইসলামের এই পরিবেশ-সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুধাবন ও
বাস্তবায়ন করা যায়,
তবে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর,
ভারসাম্যপূর্ণ এবং সুন্দর পৃথিবী গড়ে
তোলার ক্ষেত্রে তা নিশ্চিতরূপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সুতরাং বলা যেতে পারে, বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর পরিবেশ-ভাবনা কেবল ধর্মীয় অনুশাসন নয়; বরং আধুনিক পরিবেশ-নৈতিকতারও শক্তিশালী ভিত্তি। শেষে মহান স্রষ্টার নিকট দু’আ করি— হে আল্লাহ, তুমি আমাদের সবাইকে তোমার সৃষ্টিজগতের মর্যাদা অনুধাবন করার, পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করার এবং বিশ্বনবী (সাঃ)-এর আদর্শ অনুসারে জীবন পরিচালনা করার শক্তি, সামর্থ্য ও সুমতি দান করো, আমিন!
বর্তমান যুগে পরিবেশ বিপর্যয়, জলবায়ু পরিবর্তন, বনভূমি ধ্বংস, জলদূষণ, বায়ুদূষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অযাচিত ব্যবহার বিশ্বব্যাপী এক গভীর সংকটের জন্ম দিয়েছে। পৃথিবীর পরিবেশগত ভারসাম্য আজ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত; যার প্রভাব পড়ছে স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক জীবনব্যবস্থার উপর। এই বাস্তবতার নিরিখে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন এখন কেবল বৈজ্ঞানিক বা রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় নয়; এটা এখন নৈতিক, সামাজিক এবং ধর্মীয় দায়িত্বেও পরিণত হয়েছে। ইসলাম, একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষার বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছু নীতিমালা ও মূল্যবোধ উপস্থাপন করেছে। বিশেষত বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর বাণী, কর্ম ও জীবনাচরণে পরিবেশ-সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা, সংযম, প্রাণিকুলের প্রতি সহমর্মিতা এবং সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহারের যে শিক্ষা পাওয়া যায়, তা আধুনিক পরিবেশ-ভাবনার সঙ্গেও গভীরভাবে সাযুজ্যপূর্ণ।
ইসলামের পরিবেশ ভাবনার মূলভিত্তি হলো তাওহীদ, খিলাফত, আমানত এবং ই’তিদাল বা ভারসাম্য নীতি। তাওহীদের ধারণা মানুষকে শিক্ষা দেয় যে সমগ্র বিশ্বজগৎ একক স্রষ্টা মহান আল্লাহর সৃষ্টি; ফলে প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানই পবিত্র ও মর্যাদাসম্পন্ন। খিলাফতের ধারণা মানুষকে পৃথিবীতে দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। অর্থাৎ মানুষ প্রকৃতির উপর স্বেচ্ছাচারী কর্তৃত্বের অধিকারী নয়; বরং তার সংরক্ষণ, পরিচর্যা ও ন্যায়সংগত ব্যবহারের দায়িত্বপ্রাপ্ত। অন্যদিকে আমানত-এর ধারণা পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি মানুষের নৈতিক দায়বদ্ধতাকে সুদৃঢ় করে। একইভাবে ই’তিদাল বা ভারসাম্যের নীতি অতিভোগ, অপচয় ও ধ্বংসাত্মক আচরণ থেকে আমাদেরকে বিরত থাকতে শেখায়।
মহান আল্লাহ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বশেষ নবী ও সর্বোত্তম আদর্শরূপে প্রেরণ করেছেন। ফলে তাঁর শিক্ষা কেবল ইবাদত, আকিদা (ধর্মীয় বিশ্বাস) ও ব্যক্তিগত পবিত্রতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র—ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি, নৈতিকতা, বিচার, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশ সবকিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে। এ কারণেই তাঁর জীবনদর্শনকে একটি সমন্বিত সভ্যতাগত দিকনির্দেশনা বলা যায়। একটি হাদিসে নবী (সাঃ) বলেছেন— “সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে! যদি মূসা (আঃ) জীবিত থাকতেন, তবে তিনিও আমার অনুসরণ করা ছাড়া অন্য কোনো পথ পেতেন না।” [আল-বিদাইয়াহ্ ওয়ান্-নিহাইয়াহ্, ইবনু কাসীর ১/১৮৫, সাহীহ]
পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে জলের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। জল মানবজীবনের মৌলিক উপাদান, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের ভিত্তি এবং সভ্যতার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। ইসলাম জলকে আল্লাহ তা’আলার এক মূল্যবান নিয়ামত বা অনুগ্রহ রূপে বিবেচনা করেছে এবং এর ব্যবহারকে নিয়ন্ত্রিত, সচেতন ও সংযত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সাঃ) একবার প্রিয় সাহাবী সা‘দ (রাঃ)-কে ওজু করতে দেখে বলেন, “এ কেমন অপচয়?” সা‘দ (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, “ওজুতেও কি অপচয় হতে পারে?” তখন নবীজি (সাঃ) বললেন, “হ্যাঁ, এমনকি তুমি যদি প্রবাহমান নদীর তীরেও থাকো, তবুও অপচয় করবে না।” [সুনান ইবনু মাজাহ্ ৪২৫, সাহীহ]
ইসলাম কেবল জলের ব্যবহার নয়, এর পবিত্রতা ও দূষণমুক্ত অবস্থায় এর সংরক্ষণেরও নির্দেশ দিয়েছে। বিখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেছেন, “তোমাদের কেউ যেন স্থির বা জমে থাকা পানিতে প্রস্রাব না করে, এবং সেই পানি দিয়ে গোসল না করে।” [সাহীহ বুখারী ২৩৯, সাহীহ মুসলিম ৫৪৩]
পরিবেশ রক্ষার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো পরিচ্ছন্নতা। ইসলামে পরিচ্ছন্নতা কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বা সামাজিক সৌন্দর্যের বিষয় নয়; বরং এটি ঈমানি চরিত্রের অংশ। শরীর, পোশাক, বাসস্থান, উপাসনালয় এবং জনপরিসর সবকিছুর পরিচ্ছন্নতা ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়েছে। নখ কাটা, শরীরের অপ্রয়োজনীয় লোম পরিষ্কার করা, অপবিত্রতা দূর করা এবং পবিত্র অবস্থায় ইবাদত করা—এসব নির্দেশনার মাধ্যমে ইসলাম ব্যক্তি-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সামাজিক পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতিও গড়ে তোলে। এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সাঃ) বলেছেন, “তোমরা লানতযোগ্য অর্থাৎ অভিশপ্ত দু’টি কাজ থেকে বেঁচে থাকো।” সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, “সেই অভিশপ্তি কাজ দু’টো কী?” নবীজি (সাঃ) বললেন, “মানুষের চলার পথে অথবা বিশ্রামের উপযুক্ত ছায়াময় কোনো স্থানে মল-মূত্র ত্যাগ করা।” [সাহীহ বুখারী ৫০৬]
ইসলামী পরিবেশ ভাবনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়নের প্রতি উৎসাহ। আধুনিক বিশ্বে বৃক্ষরোপণকে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা, মাটির উর্বরতা রক্ষা, বায়ুমণ্ডলের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের একটি মৌলিক উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আশ্চর্যের বিষয়, বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সাঃ) বহু পূর্বেই এই কাজকে মানবকল্যাণ ও পুণ্যময় কাজ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সাঃ) বলেন, “কোনো মুসলমান যদি বৃক্ষ রোপণ করে বা ফসল ফলায়, আর তা থেকে কোনো মানুষ, পাখি বা প্রাণী খায়, তবে তা তার জন্য সাদকা অর্থাৎ দান হিসেবে গণ্য হবে।” [সাহীহ বুখারী ২৩২০]
পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো প্রাণিকুল। ইসলাম প্রাণীদের প্রতিও সহমর্মিতা, সদাচরণ এবং দায়িত্বশীল আচরণের শিক্ষা দিয়েছে। বিনা প্রয়োজনে পশু-পাখি হত্যা, জীবজন্তুকে কষ্ট দেওয়া, আনন্দের জন্য প্রাণী হত্যা করা বা তাদের আবাসস্থল ধ্বংস করা ইসলামে নিন্দিত ও ঘৃণ্য। এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং সৃষ্টিজগতের সঙ্গে নৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে আমি মনে করি।
আজকের বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, বন উজাড়, প্লাস্টিক দূষণ, জল সংকট, বায়ুদূষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের নির্বিচার শোষণ মানবসভ্যতার অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রযুক্তি, নীতি ও আন্তর্জাতিক চুক্তির পাশাপাশি প্রয়োজন একটি শক্তিশালী নৈতিক দর্শন, যা মানুষকে প্রকৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে দায়িত্বশীল করে তুলবে, যা মানুষকে প্রাকৃতিক উপাদানের সঠিক ব্যবহার, সংযম, পরিচ্ছন্নতা এবং প্রকৃতির প্রতি যত্নশীল হতে উদ্বুদ্ধ করবে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর শিক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে আমার বিশ্বাস।
পরিবেশ রক্ষায় বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর নির্দেশনা পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয় যে ইসলাম একটি গভীর, সমন্বিত এবং দায়িত্বশীল পরিবেশ-দর্শন উপস্থাপন করেছে। জল সংরক্ষণ, অপচয় রোধ, জলদূষণ প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, জনপরিসর সুরক্ষা, বৃক্ষরোপণ, প্রাণিকুলের প্রতি সহমর্মিতা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহার—এসবই ইসলামী জীবনদর্শনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলে পরিবেশ সংরক্ষণ ইসলামের দৃষ্টিতে কেবল সামাজিক বা প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়; বরং ইবাদত, নৈতিকতা এবং মানবকল্যাণের একটি মৌলিক অনুষঙ্গ।
[দৈনিক আপনজন ৩০ জুলাই ২০২৬, দাওয়াত বিভাগে প্রকাশিত]
-%E0%A6%8F%E0%A6%B0%20%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%83%20%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81%20%E0%A6%95%E0%A6%A5%E0%A6%BE.png)