অহ়ী— অর্থ, প্রকৃতি ও পার্থক্যঃ কিছু কথা
ড. আব্দুল মাতিন ওয়াসিম
মানব সভ্যতার ইতিহাসে জ্ঞানের উৎস ও প্রকৃতি নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে জ্ঞানের সর্বোচ্চ
রূপ হলো অহ়ী
অর্থাৎ মহান আল্লাহর পক্ষ
থেকে নবী ও রাসূলদের নিকট প্রেরিত বার্তা। অহ়ী ইসলাম ধর্মে যেমন মৌলিক বিষয়, তেমনি মানব-স্রষ্টা সম্পর্ক, ভাষা
ও জ্ঞানতত্ত্বের পর্যালোচনাতেও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
আভিধানিক অর্থ— অহ়ী আরবি শব্দ। এর মূল ধাতু “ওয়াও-হ়া-ইয়া”, যার আভিধানিক অর্থ দ্রুত, ইশারা,
গোপন বার্তা, অন্তর্দৃষ্টি ও নীরব ইঙ্গিত। বিখ্যাত ভাষাবিদ ইবনু মানজ়ূর তাঁর
লিসানুল-‘আরাব গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন— অহ়ী হলো নীরবে এবং দ্রুত বার্তা প্রেরণ করা [ইব্নু মানজ়ূর, লিসানুল-‘আরাব ১৫/৩৮০]। আরবি ব্যাকরণবিদ রাগ়িব আল-ইস়্ফ়াহানী বলেছেন— অহ়ী ইশারায়, লেখায়,
বার্তায়, অনুপ্রেরণায় এবং গোপন কথোপকথনে প্রকাশ
পায় [মুফ়্রাদাতু আল্ফ়াজ়িল ক়ুর্আন ৫৩৪]। অতএব
আভিধানিক ভাবে অহ়ী এমন এক প্রকার
যোগাযোগ, অনেক সময়ে যা উচ্চারিত
নয়, কিন্তু অনুধাবনযোগ্য;
দৃশ্যমান নয়, কিন্তু হৃদয়ে
প্রবাহিত।
পারিভাষিক অর্থ— পরিভাষায় অহ়ী
হল আল্লাহর পক্ষ থেকে ফেরেশতা (দূত) মারফৎ নবী ও রাসূলদের নিকট প্রেরিত ঐশী বার্তা,
যা মানবজীবনের পথনির্দেশ হিসেবে কার্যকর। ক়ুর্আনে অহ়ী শব্দটি প্রায় ৭৮ বার ব্যবহৃত হয়েছে, বিভিন্ন
প্রেক্ষাপটে। উদাহরণস্বরূপ—
নবী
(সাঃ)
ও অন্যান্য নবী-রাসূলদের
প্রতি অহ়ী [সূরা আশ্-শূরা ৩, আজ়্-জ়ুমার ৬৫, আল্-কাহাফ় ২৭, আল্,-আন্‘আম ১০৬, ইউনুস ১০৯, আল্-আ’রাফ় ২০৩]
মৌমাছিকে প্রেরিত নির্দেশ [সূরা আন-নাহ়্ল, ৬৮], মূসা (আঃ)-এর মায়ের প্রতি অহ়ী [সূরা আল-ক়াস়াস়, ৭]। সুতরাং অহ়ী প্রকৃতি ও সাধারণ মানুষের অন্তরে নেমে আসা ঐশী অনুপ্রেরণাকেও
নির্দেশ করে।
দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে অহ়ী— দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে, অহ়ী হলো জ্ঞানের এমন এক রূপ যা ইন্দ্রিয় ও যুক্তির সীমা অতিক্রম করে। মুসলিম
চিন্তাবিদ
ইমাম গ়াজ়্জ়ালী
তাঁর ইহ়্ইয়াউ ‘উলূমিদ-দীন
গ্রন্থে বলেছেন—
অহ়ী সেই আলো যা মহান স্রষ্টার জ্ঞান থেকে নির্গত হয়ে নবীর
হৃদয়ে প্রতিফলিত হয়। ইমাম ইব্নু খ়ালদূন
তাঁর আল-মুক়াদ্দিমাহ
গ্রন্থে অহ়ীকে “মানবচেতনার
অতীন্দ্রিয় পর্যায়ে পৌঁছানো” বলে বর্ণনা করেছেন, যেখানে আত্মা সরাসরি
ঐশী জ্ঞানের সঙ্গে সংযুক্ত হয়। আধুনিক কালে, অহ়ীকে মানুষের অন্তর্দৃষ্টি ও সৃজনশীল জ্ঞানের উৎস হিসেবেও মূল্যায়ন করা হয়। আর সমসাময়িক চিন্তাবিদরা
অহ়ীকে এক প্রকার
অন্তর্গত প্রেরণা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
সালাফ়দের দৃষ্টিভঙ্গিতে অহ়ী— সালাফ়দের মতে, অহ়ী এক অলৌকিক
প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে আল্লাহ নবী-রাসূলদের নিকট নির্ভুলভাবে নিজ বার্তা পৌঁছে দেন। অহ়ী ব্যতীত নবুয়ত, শরীয়াহ্, বা আল্লাহ্র নির্দেশসমূহ মানবজাতির কাছে
পৌঁছানো অসম্ভব। তাঁদের মতে, অহ়ী হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে বেশ কিছু
পদ্ধতিতে নবী-রাসূলদের সাথে যোগাযোগ
স্থাপন ও বার্তা প্রেরণ। যেমন পবিত্র আল-ক়ুরআনের সূরা
আশ্-শুরা’র ৫১ নম্বর আয়াতে অহ়ীর প্রকৃতি তিনভাবে নির্দেশ করা হয়েছে— (১) সরাসরি অহ়ী, (২) পর্দার আড়াল থেকে কথা বলা, (৩) ফেরেশতার মাধ্যমে বার্তা প্রেরণ। তাঁদের মতে,
অহ়ীর চারটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে— (১) অলৌকিক,
(২) ত্রুটিমুক্ত, (৩)
নির্দেশনামূলক, (৪) এবং এর গ্রহীতা সীমিত। ইমাম ইব্নু তাইমিয়াহ (রাহঃ) বলেছেন— অহ়ী হল, বান্দাদের জানানোর উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ্র নিজ নবী-রাসূলদের নানা বিষয়ে অবহিত করা। [মাজ্মূ’উল ফ়াতাওয়াহ্ ১২/২৭] আর ইমাম ইব্নু ক়াইয়্যিম (রাহঃ)-এর মতে— অহ়ী এমন এক আলো,
যা আল্লাহ তাঁর নির্বাচিত
বান্দার অন্তরে প্রক্ষেপণ করেন। [মাদারিজুস্ সালেকীন ১/৬৫]
অহ়ী অবতরণের
পদ্ধতি— অহ়ী বিভিন্ন ভাবে নবী (সাঃ)-এর প্রতি অবতীর্ণ হতো।
নানা বর্ণনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অহ়ী কখনো
সরাসরি,
কখনো ফেরেশতার মাধ্যমে, কখনো
অনুপ্রেরণা বা স্বপ্নের আকারে নবীজির কাছে পৌঁছেছে। পবিত্র আল্-ক়ুরআনে রয়েছে— “কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় যে, আল্লাহ তার সঙ্গে কথা বলবেন তবে অহ়ীর মাধ্যমে, অথবা পর্দার আড়াল থেকে, অথবা কোনো দূত (ফেরেশতা) প্রেরণ করে।” [সূরা
শ্-শুরা
৫১] ওলামা,
মুহ়াদ্দিস ও
মুফ়াস্সিরগণ অবতরণের বর্ণনাগুলি বিশ্লেষণ করে
এই পদ্ধতিগুলি নির্ধারণ করেছেন—
(১) রুইয়া স়াদিক়া বা সত্য
স্বপ্নের মাধ্যমে,
“নবুয়তের সূচনায় রাসূলু (সাঃ)-এর প্রতি অহ়ী আসত সত্য স্বপ্নের আকারে।” [স়াহ়ীহ় বুখ়ারী
৩] (২)
কখনো ফেরেশতা নবীর অন্তরে কথা স্থাপন করতেন, কিন্তু নবী তাঁকে দেখতে পেতেন না, “জিবরাঈল (আঃ) আমার অন্তরে
অনুপ্রেরণা দিয়েছেন যে, কোনো প্রাণ তার
নির্ধারিত রিজিক ও সময় পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যু বরণ করবে না।” [স়াহ়ীহ় মুসলিম ২৯৮৫], একেই
ইল্হাম
বলে। (৩)
কখনো নবীজি ফেরেশতার কণ্ঠ শুনতেন, কিন্তু তাঁকে
দেখতে পেতেন না, “কখনো অহ়ী আমার কাছে
ঘণ্টাধ্বনির মতো শব্দে আসে, যা আমার জন্য সবচেয়ে কঠিন রূপ।” [স়াহ়ীহ় বুখারী ৬৮৬৫, স়াহ়ীহ় মুসলিম ২৩৩৩] (৪)
কখনো ফেরেশতা মানবাকৃতি ধারণ করে নবীর সামনে উপস্থিত হতেন, হ়াদীস-ই-জিব্রীল [স়াহ়ীহ় মুসলিম ৮] (৫) কখনও ফেরেশতার প্রকৃত রূপে আগমন, নবীজি দু’বার জিবরীল (আঃ)-কে তাঁর প্রকৃত রূপে দেখেছেন, “তিনি (মুহ়াম্মদ সাঃ) তাঁকে (জিবরীল আঃ-কে) আরেকবার দেখেছিলেন সিদরাতুল মুনতাহায়।” [সূরা
আন্-নাজ্ম
১৩-১৪]
সেই সময় জিবরীল (আঃ)-এর ছিল ছয়শ’ ডানা, যা দিগন্তজুড়ে বিস্তৃত ছিল। (৬) পর্দার আড়াল থেকে আল্লাহ্র কথোপকথন, এটি বিরল ও বিশেষ মর্যাদার অহ়ী। যেমন মূসা (আঃ)-এর ক্ষেত্রে ঘটেছিল, “নিশ্চয় আমি তোমার প্রভু; তোমার জুতো জোড়া খুলে ফেলো।”
[সূরা তাহা
১১-১৩]
তাছাড়া নবীজিও মি’রাজ-এর রাতে আল্লাহর সঙ্গে
পর্দার আড়াল থেকে কথা বলেছেন এবং এর মাধ্যমে নামাজ় ফরজ় করা হয়েছে। আর অহ়ী অবতরণের সময় নবীজির মুখমণ্ডল লাল হয়ে যেত, কপাল ঘামে ভিজে যেত, কখনো উটের পীঠে থাকলে উট বসে পড়ত, আর অহ়ী শেষে তিনি আয়াতগুলো স্পষ্টভাবে তেলাওয়াত করতেন। অহ়ীর অবতরণ পদ্ধতি ইসলামে এক অনন্য অধ্যায়। এগুলো নবুয়তের স্বকীয়তা ও অহ়ীর ঐশী
প্রকৃতিকে প্রমাণ করে। আর তাই সালাফ়দের
বিশ্বাস
অহ়ী মানবীয় চিন্তা, কল্পনা বা
অভিজ্ঞতার ফল নয়; এটি আল্লাহর নির্ভুল যোগাযোগ ব্যবস্থা।
অহ়ীর প্রকারভেদ— ইসলামী তত্ত্ব ও শাস্ত্রে অহ়ী
একটি কেন্দ্রীয়
ধারণা। অহ়ী মহান আল্লাহ
কর্তৃক প্রেরিত নির্দেশ, যা মানবজগতের জন্য আইন, শিক্ষা ও নির্দেশনা বহন করে।
অহ়ীকে প্রধানত দু’ ভাগে ভাগ করা
হয়— (১) অহ়ী মাত্লু অর্থাৎ তেলাওয়াতযোগ্য অহ়ী (২) অহ়ী গ়ায়ের মাত্লু অর্থাৎ তেলাওয়াতের জন্য নয়,
তবে
নির্দেশনামূলক। উভয়ই আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত, তবে তাদের ভাষাগত ও ব্যবহারিক বৈশিষ্ট্য ভিন্ন।
(১) অহ়ী মাত্লু— “মাত্লু” শব্দটি আরবি শব্দ “তালা ইয়াত্লু তিলাওয়াতান” থেকে নির্গত, যার অর্থ পাঠ করা বা আবৃত্তি করা। সুতরাং অহ়ী মাতলু বলতে বোঝায়, যে অহ়ীর শব্দ ও অর্থ উভয়ই মহান আল্লাহ পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং যা তিলাওয়াতযোগ্য। এটি কেবলমাত্র পবিত্র আল্-ক়ুর্আন। আর এ সম্পর্কে পবিত্র আল-ক়ুর্আনের সূরা আশ্-শু‘আরাতে বলা হয়েছে—“এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের অবতীর্ণ বাণী। বিশ্বস্ত রূহ (জিব্রাঈল আঃ) তা অবতীর্ণ করেছেন তোমার অন্তরে, সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।” [সূরা আশ্-শু‘আরা 192–195]
এবং সূরা আল্-হ়িজ্র-এ রয়েছে—
“নিশ্চয় আমিই এই
‘জ়িক্র’
(ক়ুর্আন) অবতীর্ণ করেছি, এবং আমিই একে সংরক্ষণ করবো।”
[সূরা আল্-হ়িজ্র ৯] আর সূরা আল্-ক়িয়ামাহ্তে রয়েছে—
“নিশ্চয় (তোমার
অন্তরে) এটি সমাবিষ্ট করা ও (তোমাকে) পাঠ করানো আমার দায়িত্ব। যখন আমি এটি (জিবরীলের মাধ্যমে) পাঠ করবো, তখন তুমি তার তেলাওয়াত অনুসরণ
করো। এরপর তার ব্যাখ্যা করাও আমার দায়িত্ব।”
[সূরা আল্-ক়িয়ামাহ্ ১৭-১৯] এই আয়াতগুলো থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে,
পবিত্র আল-ক়ুর্আন
শব্দ ও অর্থসহ আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ; আর তাই পাঠযোগ্য ও সংরক্ষিত। এবং এর পাঠ একটি পুণ্যময় কাজ।
(২) অহ়ী গ়ায়ের মাত্লু— “গ়ায়ের মাতলু”-এর অর্থ যা তেলাওয়াতের জন্য নয়, অর্থাৎ যে অহ়ীর ভাব ও অর্থ আল্লাহর, কিন্তু শব্দ ও ভাষা নবী (সাঃ)-এর নিজের। এটি তেলাওয়াতের জন্য নয়, অর্থাৎ এটি আল-কুরআনের মতো তেলাওয়াত ও
পাঠ করলে পুণ্য হবে, এমনটা নয়; তবে নির্দেশ ও বিধান ক়ুর্আনের মতোই অনুসরণের উপযোগী। সাধারণত হ়াদীস ও সুন্নাহ
এই শ্রেণীর
অন্তর্ভুক্ত। এ মর্মে পবিত্র আল-ক়ুর্আনে রয়েছে— “তিনি (সাঃ) নিজ ইচ্ছায় কোনো কথা বলেন না; তবে তা অহ়ী যা তাঁর প্রতি প্রেরণ করা হয়।”
[সূরা আন্-নাজ্ম ৩-৪]
অর্থাৎ নবী (সাঃ)-এর বক্তব্যও
আল্লাহর অহ়ী, যদিও শব্দ ও ভাষা নবীজির। বিভিন্ন হ়াদীসেও এ বিষয়টি
উপস্থাপিত হয়েছে, নবীজি (সাঃ) বলেছেন— “শোনো, আমাকে ক়ুর্আনের পাশাপাশি তারই মতো আরেকটি (অহ়ী) প্রদান করা হয়েছে।”
[আবু দাঊদ 4604,
মুসনাদ আহ়মাদ 17174] সহজ করে বললে, হ়াদীস ও সুন্নাহ অহ়ী
গ়ায়ের মাতলু’র অন্তর্ভুক্ত।
অহ়ী মাত্লু ও গ়ায়ের
মাত্লু’র পার্থক্য— মাত্লু ও গ়ায়ের
মাত্লু উভয় অহ়ীর উৎস মহান আল্লাহ্। তবে মাত্লু’র ভাষা আল্লাহ্
কর্তৃক নির্ধারিত, আর গ়ায়ের মাত্লু’র ভাষা খোদ নবীজির। তাছাড়া মাত্লু তেলাওয়াত যোগ্য অর্থাৎ এর কেবল পাঠও এক
ধরণের ইবাদত বা পুণ্যের কাজ। কিন্তু গ়ায়ের মাত্লু’র কেবল পাঠ পুণ্যময় কাজ হিসেবে
গণ্য হয় না। মাত্লু বলতে পবিত্র আল-ক়ুর্আন আর গ়ায়ের
মাত্লু বলতে হ়াদীস ও সুন্নাহকে
বোঝানো হয়।
অহ়ী গ়ায়ের
মাত্লু’র গুরুত্ব— অহ়ী গ়ায়ের মাত্লু’র পাঠ পুন্যময়
কাজ না হলেও শরীয়তে এর গুরুত্ব অপরিসীম। অহ়ী মাত্লু অর্থাৎ পবিত্র আল-ক়ুর্আনের বহু আয়াত সংক্ষিপ্তরূপে অবতীর্ণ হয়েছে। পরবর্তীতে অহ়ী গ়ায়ের
মাত্লু অর্থাৎ হ়াদীস ও সুন্নাহ সেই আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত রূপ প্রদান করেছে। যেমন— নামাজ়,
রোজ়া,
হ়জ্জ ও
জ়াকাতের পদ্ধতি ক়ুর্আনে সবিস্তারে আলোচিত হয়নি,
তবে হ়াদীসে পূর্ণ রূপে উপস্থাপিত হয়েছে। তাই বলা হয়, অহ়ী গ়ায়ের মাত্লু ক়ুর্আনের সহায়ক ও ব্যাখ্যাকারী। এটি ক়ুর্আনের নির্দেশ বাস্তব জীবনে কীভাবে পালন করতে হবে তা শেখায়। এটি শরীয়তের অন্যতম উৎস। এর মাধ্যমে মুসলিম সমাজ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক দিকনির্দেশনা পায়। তাছাড়া নবীজি এমন বহু বিষয়ে কথা
বলেছেন যা ক়ুর্আনে নেই, কিন্তু পরে তা সত্য
প্রমাণিত হয়েছে। তাই এটি নবীজির নবুয়ত ও সত্যতারও প্রমাণ। অতএব অহ়ী গ়ায়ের মাত্লু শরীয়তের এক অপরিহার্য অংশ। এটি ক়ুর্আনের পরিপূরক ও ব্যাখ্যাকারী হিসেবে কাজ করে, ইসলামী
জীবনব্যবস্থাকে পূর্ণতা প্রদান করে। আর তাই নবীজি বিদায়ী হ়জ্জের ভাষণে অহ়ী মাত্লু ও গ়ায়ের মাত্লু অর্থাৎ ক়ুর্আন
ও সুন্নাহ দুটোকেই আঁকড়ে ধরার আহবান জানিয়েছেন।
[পূবের কলম, দ্বীন দুনিয়া, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫-এ প্রকাশিত]