Pages

Showing posts with label আরবি কথাসাহিত্য. Show all posts
Showing posts with label আরবি কথাসাহিত্য. Show all posts

Wednesday, 26 October 2022

নাজিব মাহফুজ নোবেল বিজয়ী মিশরীয় ঔপন্যাসিক

 

নাজিব মাহ়্ফ়ুজ় নোবেল বিজয়ী মিশরীয় ঔপন্যাসিক  

(১৯১১ ২০০৬)

 

আরবি ভাষার কিংবদন্তি ঔপন্যাসিক নাজিব মাহফুজ। ১৯৮৮ সালে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য পেয়েছেন নোবেল পুরস্কার। আরব লেখকদের মধ্যে তিনিই প্রথম ও সাহিত্যে একমাত্র নোবেল বিজয়ী। আরবি সাহিত্যে যেসব লেখক অস্তিত্ববাদ নিয়ে লেখালেখি শুরু করেন, তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। আরব বিশ্ব ছাড়িয়ে তিনি অবস্থান করে নিয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা সাহিত্যিকদের তালিকায়।

 

জন্ম ও পরিচিত

পূর্ণ নাম নাজিব মাহ়্ফ়ুজ় আব্দুল আজীজ ইব্‌রাহীম আহ্‌মাদ আল্‌-বাশা। জন্ম মধ্যপ্রাচ্যের দেশ মিশরে। ১৯১১ সালের ১১ই ডিসেম্বর কায়রোর আল-জামালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বয়স যখন ১৩ বছর, তখন তাঁর বাবা তাঁর জন্মস্থান আল-জামালিয়া থেকে স্থানান্তরিত হয়ে আল-আব্বাসিয়া গ্রামে চলে যান। তাঁরা বহু বছর সেখানে বসবাস করেন। পিতার মৃত্যুর পরও নাজিব মাহ়্ফ়ুজ় তাঁর মাকে নিয়ে সেখানে অনেকদিন বসবাস করেন। তারপর তিনি চলে আসেন পুরনো কায়রোর আল-আজহার এলাকায়।

 

প্রতিপালন ও শিক্ষা

তাঁর বয়স যখন সাত, ১৯১৯ সালের বিখ্যাত বিপ্লব ঘটে মিশরে, যা পরবর্তী জীবনে তাঁকে ব্যাপক ভাবে প্রভাবিত করেছিল। ১৯৩০ সালে তিনি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকেই দর্শনে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। তারপর তিনি স্নাতকোত্তরের অভিসন্দর্ভ রচনা আরম্ভ করেন। বিষয় ছিল ইসলামি দর্শনে সৌন্দর্য। কিন্তু মাঝ পথে নিজ চিন্তার পরিবর্তন ঘটান। অতঃপর দর্শনের পরিবর্তে সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করেন।

 

কর্মব্যস্ততা

ওয়াক্‌ফ মন্ত্রণালয়ের সাংসদ সচিব রূপে দীর্ঘ আট বছর (১৯৩৮ ১৯৪৫) কাজ করেছেন। তারপর নির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক সচিব রূপে। তারপর সেন্সর বোর্ডের সেক্রেটারির দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯৬০ সালে তিনি চলচিত্র পর্ষদের পরিচালক হন। তারপর চলচিত্র, সম্প্রচার ও টিভি-রেডিও বিভাগের উপদেষ্টা হন। শেষে চলচিত্র ও সম্প্রচার বিভাগের সভাপতি রূপে ১৯৬৬ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত কাজ করেন। তারপর সরকারী কর্ম থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

 

সংসার জীবন

৪৩ বছর বয়স পর্যন্ত অবিবাহিত ছিলেন নাজিব মাহফুজ। তার আশঙ্কা ছিল, যদি বিয়ে করে সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তাহলে লেখালেখির ক্ষতি হবে। কিন্তু সেই আশঙ্কাকে পাশে রেখে ১৯৫৪ সালে আতিয়াতুল্লাহ ইব্‌রাহিম নামের এক নারীকে বিয়ে করেন নাজিব মাহফুজ। তাদের সংসারে দুটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। তবে তিনি তার নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সব সময়ই খুব অন্তর্মুখী ছিলেন ও একা থাকতে ভালোবাসতেন। প্যারিস রিভিউকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তাই তিনি নিজেই বলেছেনআমি কখনো ডিনার পার্টি বা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যেতে চাই না। এমনকি আমার বন্ধুদের বাড়িতেও ঘুরতে যাই না। আমি তাদের সঙ্গে দেখা করি ক্যাসিনো কাসর আ-নীল অথবা কোনো কফি হাউজে।

 

মৃত্যু ও পরলোকগমন

১৯৭২ সাল পর্যন্ত নাজিব মাহ়্ফ়ুজ় সরকারি চাকরিতে নিযুক্ত ছিলেন। চাকরি ছাড়ার পরে নিয়মিত কলাম লিখতেন বিভিন্ন প্রভাবশালী পত্র-পত্রিকায়। তবে বেশি লিখতেন আল-আহরাম পত্রিকায়। এসব কলাম নিয়ে পত্রিকাটি ২০০১ সালে একটি বইও বের করে। প্রায় ৭০ বছর লেখালেখিতে সক্রিয় থাকা এ মহান সাহিত্যিক ২০০৬ সালের ৩০ আগস্ট কায়রোয় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। এ দীর্ঘ জীবনে তিনি আরবি সাহিত্যকে তুলে ধরেন বিশ্বদরবারে।

 

সৃজনশীলতা ও রচনাসমূহ

তিনি ছাত্রাবস্থা থেকেই দর্শনের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। ১৯৩৪ সালে বর্তমান কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় (তৎকালীন ফুয়াদ বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পাশাপাশি তিনি ছিলেন সাহিত্যের একজন গভীর পাঠক। ছাত্রজীবনে ইংরেজি এবং ফরাসি ভাষায় রচিত বহু গ্রন্থ গভীর আনন্দের সাথে অধ্যয়ন করেনবিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র থাকাকালীনই তিনি তিনটি ছোট আকৃতির ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখে ফেলেন। তিনি ১৭ বছর বয়সে লেখালেখি শুরু করেন। তাঁর লিখিত প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ সালে। তবে লেখালেখির শুরুতেই খ্যাতি পেয়ে জাননি, করতে হয়েছে অনন্য সাধনা। প্যারিস রিভিউতে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর লেখালেখি শুরুর গল্প বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন

১৯২৯ সালে আমার লেখালেখির যাত্রা শুরু। তখন আমার সবগুলো গল্প প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। মাজাল্লার সম্পাদক সালামা মুসা বলতেন, “তুমি সম্ভাবনাময়, কিন্তু এখন পর্যন্ত ভালো কিছু লিখতে পারনি। ১৯৩৯ সালের সেপ্টেম্বরের কথা আমার বিশেষভাবে মনে পড়ে, কারণ সেটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু, হিটলার পোল্যান্ড আক্রমণ করলেন। আমার গল্প আবা আল-আকদারপত্রিকায় ছাপা হলো, সেটা আমার জন্য মাজাল্লা প্রকাশকদের পক্ষ থেকে একধরনের অপ্রত্যাশিত উপহার ছিল। সেটা আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

 

১৯৫২ সালের জুলাই মাসে সংগঠিত মিসর বিপ্লবের আগে তার প্রায় ১০টি বই প্রকাশিত হয়। এই বিপ্লবে তার লেখালেখি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এরপর তিনি বেশকিছু বছর তাঁর লেখালেখি বন্ধ রাখেন। ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস সুলাসিয়্যাতুল্‌ কাহেরাহ্‌’ (কায়রো ট্রিলজি) যা তাঁকে সারাবিশ্বে পরিচিত করে তোলে। তাঁর লিখিত মোট উপন্যাসের সংখ্যা ৩টি, ছোটগল্পের সংখ্যা ২২৩টি। এছাড়াও লিখেছেন টি নাটক এবং ২৬টি চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য। তাঁর লিখিত অনেক গল্প নিয়ে মিসরে ও বিভিন্ন দেশে নির্মিত হয়েছে বহু চলচ্চিত্র।

 

নাজিব মাহ়্ফ়ুজ় তাঁর সাহিত্য সাধনার প্রথম দশ বছর যে কয়েক ডজন ছোটগল্প রচনা করেছেন, তার অধিকাংশই শহুরে জীবনের নানা অন্ধকার দিক নিয়ে লিখিত এবং তাঁর গল্পের অনেক চরিত্রই সরাসরি জীবন থেকে নেয়া। ফলে অতি দ্রুত সময়ে তিনি পাঠকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন১৯৪৫ থেকে ১৯৫৭ সালের মধ্যে তাঁর যে উপন্যাসগুলো প্রকাশিত হয়, তা সাধারণভাবে বাস্তবতাবাদী সামাজিক উপন্যাস বলে অভিহিত হয়। এসব উপন্যাসের মধ্যে খান আল্‌-খালীলী, জুকাকুল্‌ মিদাক (মিদাক সরণী), আস্‌-সারাব (মরীচিকা), বিদায়াহ্‌ ওয়া নিহায়াহ্‌ (শুরু ও শেষ) সুলাসিয়্যাতুল্‌ কাহেরাহ্‌ (কায়রো ট্রিলজি) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য১৯৫৯ সালে প্রকাশিত আওলাদু হাররাতিনা ৯জেবেলাউইর শিশুরা) দিয়ে তার লেখালেখিতে পরিবর্তন আসে। রূপক ও প্রতীকধর্মী রাজনৈতিক বিষয়াদি এ সময়ে তিনি তাঁর লেখায় তুলে ধরেন। লেখায় দার্শনিক ও জটিল মনস্তাত্ত্বিক বিষয়সমূহ প্রাধান্য পেতে শুরু করে। তাঁর এই গ্রন্থটি একইসাথে বিখ্যাত এবং বিতর্কিত। নিজ দেশ মিশরে আজও বইটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়নি। ১৯৬৭ সালে লেবানন থেকে সর্বপ্রথম বই আকারে প্রকাশিত হয় এই উপন্যাসটি। এ সময়ে প্রকাশিত তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাস হচ্ছে, আল্‌-লিস্‌সু ওয়াল্‌ কিলাব (চোর ও কুকুর), সার্‌সারাতুন্‌ ফাওকান্‌ নীল (নীলের ছোট ছোট কথা) এবং মিরামার ইত্যাদি।

 

খান-আল-খালীলী কায়রোর আল-আযহার মসজিদের পাশের একটি বাজার। এই বাজারের অজস্র অলিগলি ও তাদের উপাখ্যানকে কেন্দ্র করেই নাজিব মাহ়্ফ়ুজ় লিখেছেন তার খান-আল-খালীলী উপন্যাসটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কায়রো শহরকে কীভাবে বদলে দেয়, সেই কাহিনী নিয়ে রচিত হয়েছে যূকাকুল্‌ মিদাকমাহফুজের প্রথমদিকের উপন্যাসের মধ্যে এই উপন্যাস সবচাইতে বিখ্যাত, সম্ভবত তখন পর্যন্ত তার সবচাইতে পরিণত সৃষ্টিও। এই উপন্যাসের কাহিনী নিয়ে মেক্সিকো থেকে একটি চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে মিদাক গলি নামেই।

 

মাহফুজকে মিশরে ও আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যাপক খ্যাতি এনে দেয় তার বিখ্যাত উপন্যাস কায়রো ট্রিলজিএই সুবৃহৎ উপন্যাসের রয়েছে আলাদা আলাদা তিনটি খণ্ড যথাবাইনাল্কাস্রাইন (প্যালেস অব ওয়াক), কাস্‌রুশ্‌ শাওক (প্যালেস অব ডিজায়ার) আস্‌-সুক্‌কারিয়াহ্‌ (সুগার স্ট্রিট); এগুলো মূলত নাজিব মাহফুজের পুরনো গ্রাম আল-জামালিয়ার তিনটি রাস্তার নামে নামকরণকৃত। কেউ কেউ এই উপন্যাসকে আরব বিশ্বের ওয়ার অ্যান্ড পিসবলে আখ্যায়িত করে থাকেন। কায়রো ট্রিলজির জন্য নাজিব মাহ়্ফ়ুজ় ১৯৫৭ সালে মিশরের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

 

নাজিব মাহফুজের প্রায় সব উপন্যাসে কাল একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তার চরিত্ররা সবসময় কাল নিয়ে ভাবে। তার উপন্যাসে আমরা প্রায়শ এই সব বাক্যাবলীর সাক্ষাৎ পাইসময় এক ভয়ঙ্কর সহযাত্রী, সময় আমার বন্ধুর অবস্থা এ কী করেছে? তার মুখে একটি বীভৎস মুখোশ এঁটে দিয়েছে! তাঁর এই কালজয়ী সৃষ্টিই তাঁকে বিশ্বের দরবারে অমর করে তুলেছে নোবেলের মতো আন্তর্জাতিক পুরস্কারে পুরস্কৃত করেছে সেই সাথে তাঁর হাত ধরেই বিশ্বের দরবারে পৌঁছে গেছে আরবি উপন্যাস ও আরব মননশীলতা

 

কলমেআব্দুল মাতিন ওয়াসিম

Monday, 4 July 2022

তাওফীক আল-হাকীমঃ বিস্মৃতির ব্যামো – ১ম কিস্তি



বিস্মৃতির ব্যামো
তাওফ়ীক় আল্‌-হ়াকীম
 (১ম কিস্তি)

মূল চরিত্রে— মনরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বার্‌রাক, রোগী শ্রীমান সিলিস্তান বুলার, নার্স সাইয়েদুনি
গৌণ চরিত্রে বা পর্দার আড়ালে— গাড়ি চালক, রোগীর স্ত্রী মিসেস বুলার
স্থান— ডাক্তার বার্‌রাকের ক্লিনিক
 
এক প্রৌঢ় ব্যক্তি, বয়স চল্লিশের উপর হবে, ডাক্তার বার্‌রাকের চেম্বারে প্রবেশ করছে...
ডাক্তার— ওয়েলকাম মিস্টার!
রোগী— গুড মর্নিং... আচ্ছা স্যার আপনি কেন আমার সাথে দেখা করতে এসেছেন, আমি কি তা জানতে পারি? মানে আপনার এখানে আসার একজ্যাক্ট কারণটা কী?
ডাক্তার— (অবাক হয়ে) কী বলছেন আপনি? এই প্রশ্নটা তো আমার আপনাকে করার কথা...
রোগী— তা কী করে হয়?
ডাক্তার— আরে ভাই, আপনিই আমার কাছে এসেছেন, আমি তো আমার চেম্বারেই আছি।
রোগী— ও... তাহলে আমি আপনার কাছে এসেছি। আচ্ছা, আপনার চেম্বারটা ভীষণ সুন্দর, বেশ সাজানোগোছানো, অনেক অনেক অভিনন্দন আপনাকে।
ডাক্তার— অসংখ্য ধন্যবাদ জনাব। এবার বলুন, আপনি কী বিষয়ে আমার সাথে কন্সাল্ট করতে এসেছেন?
রোগী— কন্সাল্ট করতে? আমিও তো ওই একই প্রশ্ন আপনাকে করতে চাই!
ডাক্তার— কী! এ কী বলছেন আপনি? আরে আপনি এসেছেন আমার সাথে কন্সাল্ট করতে। আপনার স্বাস্থ্য সম্পর্কে আলাপআলোচনা করতে ও পরামর্শ নিতে।
রোগী— আমার স্বাস্থ্য সম্পর্কে? হতে পারে। আপনি তো একজন ডাক্তার।
ডাক্তার— হ্যাঁ, একদম ঠিক ধরেছেন।
রোগী— হুম..., হতে পারে বাড়িতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাই আপনাকে ডাকা হয়েছে তার চিকিৎসার জন্য। অসংখ্য ধন্যবাদ ডাক্তার বাবু আসার জন্য। তা আপনি বসে কেন?!
ডাক্তার— আরে মশাই বিষয়টা আপনি উল্টে ভাবছেন, আপনিই আমার কাছে এসেছেন, ডাক্তার দেখাতে। আর এখন আপনি আমার চেম্বারে আছেন।
রোগী— আপনি ঠিক বলছেন তো? তাহলে আমিই আপনার কাছে এসেছি, বেশ। আপনার বাড়িটা ভীষণ সুন্দর। আন্তরিক অভিনন্দন আপনাকে। তা আপনি এখানে কী বিষয়ে আমার সাথে পরামর্শ করতে এসেছেন?
ডাক্তার— শুনুন, আমার মনে হয় এভাবে আলোচনা করতে থাকলে আমরা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারবো না।
রোগী— আপনি তো অদ্ভুত লোক মশাই! আপনি স্বেচ্ছায় আমার কাছে এসেছেন। আর এখন আপনি আমাকে আপনার আসার কারণ জানাতে অস্বীকার করছেন! আল্লাহ্‌র কসম করে বলছি, আপনি বড়ই অদ্ভুত মানুষ, আপনার মতো লোক আমি দেখিনি!
ডাক্তার— আচ্ছা ঠিক আছে। আপনার পকেটে ওই খামটা কীসের?
রোগী— আমার পকেটে চিঠির খাম। ও হ্যাঁ, ঠিকই তো!
ডাক্তার— দয়া করে ওটা আমাকে দিন।
রোগী— এই নিন।
ডাক্তার— চিঠিটা আমার জন্য। হয়তো এই চিঠি বাতলে দেবে আপনি এখানে কেন এসেছেন এবং আমাদের কী কী করতে হবে।
রোগী— আপনি নিশ্চিত, এই চিঠিটা আপনার? আচ্ছা এইটা কি আপনার নাম?
ডাক্তার— হ্যাঁ, এই যে দেখছেন, এইটা আমার নাম ও ঠিকানা। এবার আমাকে অনুমতি দিন। আমি চিঠিটা খুলে পড়ে দেখি, এর বিষয়বস্তু কী।
(ডাক্তার খামটা খুলে চিঠিটা পড়তে আরম্ভ করলেন)—
ডাক্তার বাবু, আমি আমার স্বামীকে আপনার কাছে পাঠাচ্ছি। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বিস্মৃতির ব্যামোতে আক্রান্ত। প্রত্যেক দু’মিনিট অন্তর সব কিছু ভুলে যাচ্ছেন। তাই আমি তাঁকে বাড়ির বাইরে কোথাও একা ছাড়ি না; পাছে ফেরার রাস্তা ভুলে যান। ইদানীং আমি খুব ব্যস্ত। তাই তাঁকে সাথে করে আপনার কাছে নিয়ে যেতে পারলাম না। সেজন্যই বুদ্ধি করে একটা ট্যাক্সি মারফৎ তাঁকে আপনার কাছে পাঠাচ্ছি। ট্যাক্সি ড্রাইভারকে আমি আপনার ঠিকানা দিয়েছি। সে ট্যাক্সি নিয়ে আপনার ক্লিনিকের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবে। দেখানো হয়ে গেলে তাঁকে বাড়িতে ড্রপ করে দেবে। আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ, আপনি তাঁকে একটু ভালো করে পরীক্ষানিরীক্ষা করবেন। তাঁর এই ব্যামো আমাকে বড্ড দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
 
এইবার আমি সব বুঝতে পেরেছি। আপনার স্ত্রী মিসেস বুলার আপনাকে আমার কাছে পাঠিয়েছেন, যাতে আমি আপনার ট্রিটমেন্ট করি।
অনুবাদ- আব্দুল মাতিন ওয়াসিম


داء النسيـــــان
توفيق الحكيم
 
الأشخاص: الدكتور النفساني المعروف براك، المريض السيد سيلستان بولار، الممرضة سيدوني
الأشخاص وراء الحجاب: السائق، زوجة المريض السيدة بولار
المشهد: في عيادة الدكتور براك العالم النفساني المعروف
 
يدخل حجرة الفحص رجل في العقد الرابع من العمر...
الطبيب: أهلا بك، أيها السيد!
المريض: عمت صباحا، يا سيدي. هل لي أن أعرف السبب الذي من أجله تشرفني بزيارتك؟
الطبيب: (بدهشة) ماذا تقول؟ ينبغي لي أنا أن أطرح عليك هذا السؤال...
المريض: وكيف ذلك؟
الطبيب: أنت الذي تزورني... إنك في عيادتي الطبية.
المريض: آه... آه... أنا عندك إذن. اسمح لي أن أهنئك بهذه العيادة إنه مكان جميل ومنظم.
الطبيب: هذا لطف منك. والآن مالذي حملك على استشارتي؟
المريض: استشارتك؟ هذا ما كنت أتسآل عنه.
الطبيب: ماذا؟ ماذا؟ أنت الذي آت لاستشارتي وبالتالي للتحدث عن صحتك.
المريض: عن صحتي؟ هذا ممكن ... لأنك طبيب؟
الطبيب: طبعا، طبعا.
المريض: آه... آه... إذن ينبغي أن يكون هناك مريض في البيت، فدعيت لمعالجته، فشكرا لمجيئك أيها الدكتور. هلا جلست!
الطبيب: ها أنت عدت إليّ قلب الأدوار، أيها السيد العزيز. أنت الذي جئت إليّ، أنت عندي الآن.
المريض: أصحيح ما تقول؟ إذن أنا عندك. حسنا حسنا، منزلك جميل، تهاني القلبية. والآن في أية قضية جئت تستشيرني؟
الطبيب: اسمع ياهذا... أعتقد أننا لن نتوصل إلى أية نتيجة إذا بقينا على هذه الحال.
المريض: غريب أمرك... تأتي إلي بكل طيبة خاطر، ولكنك ترفض أن تطلعني على سبب زيارتك، غريب والله أمرك!
الطبيب: اسمع... ماهذا الظرف الذي تحمله؟
المريض: أأنا أحمل ظرفا؟ آه... أجل صحيح!
الطبيب: أتسمح لي به؟
المريض: أرجوك...
الطبيب: إنها رسالة لي، ولابد أن تلقي الضوء على ما نحن فيه.
المريض: أمتأكد أنت أنها رسالة لك؟ وهل هذا اسمك؟
الطبيب: أجل اسمي وعنواني كما ترى. أتسمح لي بأن أفضها وأطلع على مضمونها؟
(يفضها ويقرأ فيها):
"سيدي الطبيب، إني موفدة إليك زوجي، وهو مصاب بداء النسيان منذ مدة غير قصيرة. وهو ينسى كل شيء بين دقيقة وأخرى. فأنا لا أدعه يخرج بمفرده من البيت خوفا من أن ينسى طريق العودة. ولما كانت مشاغلي تحول بيني وبين مرافقته إلى عيادتك فقد احتطت للأمر وأوفدته في سيارة تاكسي أعطيت سائقها عنوانك. وستنتظره هذه السيارة خارج العيادة لتنقله إلى البيت. فالرجاء أن تفحصه فحصا دقيقا لأن حالته تقللقني جدا!"
الآن فهمت كل شيء... لقد أوفدتك إليّ السيدة بولار لكي أفحصك.

Saturday, 16 April 2022

আমর বিন বাহর আল-জাহিজঃ বিচারক ও মাছির গল্প


 
বিচারক মাছির গল্প
‘আম্‌র বিন্‌ বাহ়্‌র আল্‌-জাহ়িজ়
 
বসরায় আমাদের এক বিচারক ছিলেন। নাম আব্দুল্লাহ বিন সেওয়ার। লোকেরা কখনো তাঁর মতো এমন সম্মানীয় ও দৃঢ় চিত্তের শাসক দেখেনি, আর না বিনয়ী ও ভদ্র, যে নিজেকে ও নিজের নড়াচড়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে যেমনভাবে তিনি করতে পারেন। তিনি ভোরের সালাত (নামায) বাড়িতে পড়তেন; অথচ তাঁর বাড়ি ছিল মসজিদের কাছেই। তারপর তিনি বৈঠকে গিয়ে উবু হয়ে বসতেন। কোনো কিছুতে ঠেস দিতেন না, একদম সোজা ও স্থির। তাঁর হাত-পা নড়াচড়া করতো না, আর না এধার-ওধার তাকাতেন। তাঁর উবুর গেরো খুলেও যেত না, আর না তিনি একটা পাকে অপর পায়ের উপর চাপাতেন। এমনকি শরীরের কোনো একদিকে ঝুঁকে থাকতেন না। তিনি যেন কোনো নির্মিত ভবন বা স্থাপিত পাথর ছিলেন।
 
তিনি এভাবেই বসে থাকতেন যোহর অবধি। যোহরের নামায আদায়ের পর আবার বৈঠকে ফিরে আসতেন। আসরের নামায অবধি ওভাবেই বসে থাকতেন। আসরের নামায সেরে আবার বৈঠকে ফিরে আসতেন এবং আগের মতোই বসে থাকতেন। অতঃপর মাগরিবের আজান হলে নামাজের উদ্দেশ্যে বেরোতেন। তারপর কোনো কোনো দিন বৈঠকে ফিরতেন, অধিকাংশ সময় সন্ধি, চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কোনো কাজ অসমাপ্ত থাকলে ফিরতেন। তারপর ঈশার নামায পড়ে বাড়ি ফিরতেন। লোকাচার অনুযায়ী, তিনি এই দীর্ঘ সময়ে একবারও উঠতেন না, ওজুর জন্যও না; বলা বাহুল্য তাঁর ওজুর প্রয়োজনই পড়তো না। আর না জল বা অন্য কিছু পান করার জন্য উঠতেন।
 
কী গ্রীষ্ম, কী শীত, কী বড় দিন, কী ছোট দিন, সব সময় তিনি অমন ভাবেই বসে থাকতেন। না হাত নড়াতেন না অন্য কোনো অঙ্গ। না মাথা দিয়ে ইশারা-ইঙ্গিত করতেন আর না কথা বলতেন। যদি কখনও কথা বলতেন, খুবই সীমিত ও সংক্ষিপ্ত করে এবং স্বল্প কথায় সমগ্র মনের ভাব প্রকাশ করতেন।
 
এভাবেই একদিন তিনি বসে ছিলেনআর তাঁর সম্মুখে ও চারপাশে তাঁর সঙ্গীসাথীরা দুটো সারিতে বসে ছিল। এমন সময় হঠাৎ করে একটি মাছি তাঁর নাকের ডগায় এসে বসলো। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলো। তারপর সেখান থেকে চোখের কোণে গিয়ে বসলো। বিচারক ধৈর্য ধরে বসে থাকলেন। মাছিটা তাঁর চোখের কোণে দংশন করলো, শুঁড় ফোটাল, তবুও তিনি ধৈর্য ধরে বসে থাকলেন। যেমনটা স্থির বসে ছিলেন, যখন মাছি তাঁর নাকের ডগায় বসেছিল। তিনি নাক-মুখ কিছুই নড়াননি, না আঙুল দিয়ে সরিয়ে দিয়েছিলেন। মাছিটা দীর্ঘক্ষণ চোখের কোণে বসে জ্বালাতন করতে থাকলো। তাকে নানা ভাবে ব্যস্ত করে তোলার চেষ্টা করলো। ভীষণ রকম যন্ত্রণা দিল। তারপর এমন এক জায়গায় গিয়ে বসলো, বিচারকের পক্ষে আর ইগ্নোর করা সম্ভব হল না। বাধ্য হয়ে তিনি দুচোখের পাতা এক করলেন। তবুও মাছি উঠলো না। বাধ্য হয়ে তিনি বেশ কয়েক বার চোখের পাতা বন্ধ করলেন এবং খুললেন। আর মাছিটা ঠিক সেই মুহূর্তটুকু দূরে সরে থাকলো। অতঃপর যখন চোখ পুনরায় স্থির হল, আবার চোখের কোণে এসে বসে পড়লো এবং পূর্বের তুলনায় অধিক তীব্র ভাবে আঘাত করতে লাগলো। শুঁড়টা পূর্বের জায়গায় বিঁধিয়ে দিল। ফলে বিচারক অধৈর্য হয়ে পড়লেন সহ্য করতে না পেরে তিনি চোখের পাতা নড়াতে লাগলেন এবং তীব্র ভাবে নড়াতে থাকলেন। যতক্ষণ তিনি নিরন্তর চোখের পাতা বন্ধ-খোলা করতে থাকলেন, মাছিটাও দূরে সরে থাকলো। কিন্তু যখনই চোখের পাতার নড়া বন্ধ হয়ে গেল মাছিটা অমনি এসে পূর্বের জায়গায় বসে পড়লো। নানা ভাবে জ্বালাতন করতে লাগলো। বিচারক আর সহ্য করতে পারলেন না। এক পর্যায় তিনি বাধ্য হয়ে কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে হাত দিয়ে মাছিটাকে তাড়িয়ে দিলেন। অন্যদিকে উপস্থিত সবাই বিস্ফারিত চোখে তাঁকে দেখছিল। তবে এমন ভান করছিল, যেন তারা তাঁর এ আচরণ লক্ষ্যই করেনি। তাঁর হাতের নড়াচড়া বন্ধ হতেই মাছিটা আবার পূর্বের জায়গায় এসে বসলো। এবার তিনি বাধ্য হয়ে জামার হাতা দিয়ে বারবার মাছিটাকে তাড়াতে লাগলেন।
 
(কিছুক্ষণ পর) তিনি অনুভব করলেন, তাঁর এসব কর্মকাণ্ড উপস্থিত সভাসদ ও পারিষদদের সম্মুখে ঘটেছে। ফলে যখন তারা চোখ তুলে তাঁর দিকে তাকাল, তিনি বললেন— আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি, মাছি গুবরেপোকার চেয়ে অধিক একগুঁয়ে এবং কাক অপেক্ষা অধিক বিরক্তিকর। তিনি আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা চেয়ে আরও বললেন— আত্মবিমুগ্ধ ব্যক্তি বড্ড বাড়াবাড়ি করে। অতঃপর আল্লাহ্‌ তাকে তার অজানা ও গোপন দুর্বলতাগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন। তোমরা সবাই জানো, আমি নিজের কাছে এবং তোমাদের সবার কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ও ওজনদার ব্যক্তি। কিন্তু আল্লাহ্‌র এক অত্যন্ত দুর্বল সৃষ্টি একটি মাছি আমাকে পরাজিত করল। ফলে আমি এক চরম লাঞ্ছনার মুখোমুখি হলাম। অতঃপর তিনি একটি আয়াত পরিবেশন করলেন— যদি একটি মাছি এদের থেকে কোনোকিছু ছিনিয়ে নেয়, এরা তা রক্ষা করতে পারে না; এরা এবং এদের নিকট প্রার্থনাকারীরা কতই না দুর্বল!
[কিতাবুল্‌ হ়াইয়াওয়ান, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১০৬, আত-তাক়াদ্দুম প্রকাশনী কায়রো মিশর, ১৯০৬]

অনুবাদ- আব্দুল মাতিন ওয়াসিম



بين قاض وقور وذباب جسور[1]
عمرو بن بحر الجـاحظ
 
كان لنا بالبصرة قاضٍ يقال له: عبد الله بن سوار لم ير الناس حاكما قط زميتاً ولا ركينا ولا وقورا حليما ضبط من نفسه وملك من حركته مثل الذي ضبط وملك. كان يصلي الغداة في منزله وهو قريب الدار من مسجده فيأتي مجلسه فيحتبي ولا يتكئ فلا يزال منتصبا لا يتحرك له عضو ولا يلتفت ولا تحل حبوته ولايحمل رجلا على رجل ولا يعتمد على أحد شقيه حتى كأنه بناء مبني أو صخرة منصوبة.

فلا يزال كذلك حتى يقوم إلى صلاة الظهر ثم يعود إلى مجلسه فلا يزال كذلك حتى يقوم إلى صلاة العصر ثم يرجع إلى مجلسه فلا يزال كذلك حتى يقوم لصلاة المغرب ثم ربما عاد إلى مجلسه بل كثيرا ما كان يكون ذلك إذا بقي عليه شيء من قراءة العهود والشروط والوثائق ثم يصلي العشاء وينصرف.‏ فالحق يقال لم يقم في طول تلك المدة والولاية مرة واحدة إلى الوضوء ولا احتاج إليه ولا شرب ماء ولا غيره من الشراب.

كذلك كان شأنه في طوال الأيام وقصارها وفي صيفها وفي شتائها وكان مع ذلك لا يحرك يدا ولا عضوا ولا يشير برأسه وليس إلا أن يتكلم. ثم يؤجز ويبلغ باليسير من الكلام إلى المعاني الكبيرة.

فبينما هو كذلك ذات يوم وأصحابه حواليه وفي السماطين بين يديه - أي كانوا في صفين – (إذ) سقط على أنفه ذباب فأطال المكث ثم تحول إلى مؤق عينه (طرف العين قرب الأنف) فرام الصبر على سقوطه على المؤق وصبر على عضته ونفاذ خرطومه كما رام الصبر على سقوطه على أنفه من غير أن يحرك أرنبته أو يغضن وجهه أو يذب بإصبعه فلما طال ذلك عليه من الذباب وشغله وأوجعه وأحرقه وقصد إلى مكان لا يحتمل التغافل أطبق جفنه الأعلى على جفنه الأسفل فلم ينهض فدعاه ذلك إلى أن يوالي بين الإطباق والفتح فتنحى ريثما سكن جفنه ثم عاد إلى مؤقه بأشد من مرته الأولى فغمس خرطومه في مكان كان قد آذاه قبل ذلك فكان احتماله أقل وعجزه عن الصبر عليه في الثانية أقوى فحرك أجفانه وزاد في شدة الحركة وألح في فتح العين وفي تتابع الفتح والإطباق فتنحى عنه بقدر ما سكنت حركته ثم عاد إلى موضعه فما زال يلح عليه حتى استفرغ صبره وبلغ مجهوده فلم يجد بدا من أن يذب عن عينه بيده ففعل وعيون القوم ترمقه وكأنهم لا يرونه فتنحى عنه بقدر ما رد يده وسكنت حركته ثم عاد إلى موضعه ثم ألجأه إلى أن ذب عن وجهه بطرف كمه ثم ألجأه إلى أن تابع ذلك.‏

وعلم أن فعله كله بعين من حضره من أمنائه وجلسائه فلما نظروا إليه قال:‏ أشهد أن الذباب ألج من الخنفساء وأزهى من الغراب.‏ قال واستغفر الله فما أكثر من أعجبته نفسه فأراد الله عزوجل أن يعرفه من ضعفه ما كان عنه مستورا وقد علمتم أني عند نفسي وعند الناس من أرزن الناس فقد غلبني وفضحني أضعف خلقه. ثم تلا قوله تعالى: وإن يسلبهم الذباب شيئا لا يستنقذوه ضعف الطالب والمطلوب.


 [1] الجاحظ - كتاب الحيوان- الجزء الثالث- مطبعة التقدم بمصر القاهرة- 1906- ص 106