কবিতা

গোবিন্দ পান্তি 
অনামিক
গোবিন্দ পান্তি

মানুষের পাশে দাঁড়ায় আপাত-মানুষ
যখন সে একান্তে অস্মিতায়
আবার মানুষই এগিয়ে যায়
রোদ-ছায়া মাড়িয়ে সম্প্রীত অভিযোজনে
রক্তে তখন সময় কালের ইন্দ্রিয়াতীত জ্যোতিষ্মান
সত্যি এবং সত্যি বজায়ের।
   #
আবার কিছু মানুষ চোখে পড়ে
একটানা দেহ, খঞ্জ-খিন্ন নয়
দীঘল চোখে তবু কুঞ্চনে
 অন্তস্থ পোশাকের ভাঁজে তীব্র অসূয়া
অনৈতিক হাসি, শতাব্দীর দানবাত্মা।
   #
দেখলাম তো ক’জনকে
                নিজস্ব ঘেরাটোপে
ফিসফিস কথায় মুহূর্তকে মোড়কে ভ’রে।
একটানা বৃষ্টির মতো
যা হ’তে পারে সবিস্তার সংঘর্ষ
প্রিয় পোষণে বাহ্যত উপকারী
ভেতরের কূটজ-বল্কলের জনান্তিক।
   #
কতদিন বিচ্ছেদ বহ্নিতে দাউদাউ জ্বলা,
উপেক্ষিত-ঈশ্বরের শতকণাশ্রয়
দৃষ্টান্ত-সম্বল ঘ্রাণ প্ল্যাকার্ড-হোর্ডিংয়ে
আর সব সুধাক্ষরা অপনীত বানী
সহিষ্ণু জলের মত চারিত জারণ;
   #
যতটা দেখেছি ভূমা পরাশ্রমী-বাস
কালক্রমে বিপন্ন-বাতাস, লজ্জা অন্তর্ধান
এখন কতটা দায় বয়ে নিই কাঁধে

বিবর্ণ মুখের রংয়ে সংস্রব তুষ্ণীতে। 


কে এম মাকীন
স্বদেশ
কে এম মাকীন

চারিদিকে এই ধর্ম এবং রাজার নীতির পসরা নিয়ে
ওহে ফেরিওয়ালা, কতদিন তুই চলবি রে তোর পদ বাঁচিয়ে
দিয়েছিল যারা বিভেদ ভুলে
দেশের তরে জীবন মিলে
সামনে তাদের দাঁড়াবি কি তোরা  মুখের উপর রং চাপিয়ে?

স্বৈরাচারের ছত্র ধরে ঢাকবি রোদের তীব্র কর?
ঝড়ের মুখে কেমনে তারে বাঁচাবি রে নীচ ছত্রধর
বিচ্ছেদেরই জটিল পাশে
পড়বি যখন কঠিন ফাঁসে
চিৎকারে তোর কোথাও তখন আসবে না কেউ বন্ধুবর

দাঙ্গা ফ্যাসাদ রোজনামচা কে থামাবে রথের চাকা
সর্ষেতে যার ভূত হবে ভাই, তার বুলি যে সবই ফাঁকা
বাণ ছুঁড়ছে জবান ফুঁড়ে
গরল যে তার দেশটা জুড়ে
বিষময় আজ অন্তর সব মুখটা কেবল চর্মে ঢাকা

হাতে মারা শুধু যথেষ্ট নয় চাই যে এবার ভাতেও মারা
বঞ্চনাতে হয়নি রে সুখ, নে কেড়ে নে হিংসা দ্বারা
“মোদের ছিল থাকবে মোদের
এর অধিকার কীসের তোদের”
কেমনে বলে বুক ফুলিয়ে, পাচ্ছে সাহস কোথায় তারা?

“একবৃন্তে দুটি কুসুম” সত্যি কি তাই সমাজ আজ
ছিন্ন বৃন্ত নই কি মোরা, হারিয়ে দিয়ে সকল লাজ
হইনি নিরাশ দেশবাসী সব
রুদ্ধ করব বিরূপ রব
হাত মিলিয়েই নতুন করে আমরা নেব যুদ্ধসাজ।


আব্দুল মাতিন ওয়াসিম
দ্বিচারিতা
আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

আমি মুখ বাঁকিয়ে ভ্রূ কুঁচকিয়ে
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছি,
মনের মধ্যে চলছে জোর সন্ধান
লাগামছাড়া চিন্তাগুলি খুবলে খাচ্ছে মাথাটাকে।
চারিদিকে বিদঘুটে অন্ধকার
আলোর কোনও হদিশ নেই
আয়নায় প্রতিবিম্বটাও ক্রমশঃ অদৃশ্য হয়ে পড়ছে;
অথচ আমার গলা ফাটানো চিৎকার-
‘আমি তো আলোর জগতেরই অধিবাসী!’



আব্দুল লতিফ 

এতীম

আব্দুল লতিফ

মাঝ রাতে ঘুমের মধ্যে দেখি
আকাশের বুকে নৃশংস গলা
ফাটানো চিৎকার।
পেটে পাথর বাঁধা অসংখ্য
তারার দল,
সূর্যকে হাত জোড় করে বলছে,
হুজুর আমাদের প্রাণ ভিক্ষা দিন।



বিবেকের মৃত্যু
মনিরুজ্জামান 
মনিরুজ্জামান

আশা করেছিল এক মমতাময়ী
শান্তির নীড় বাঁধতে –
সে সাজিয়েছিল তার নীড়কে
মুক্তা খচিত মায়ার বাঁধনে ।
সে পূর্ণিমার চাঁদ পেয়েছিল ,
জোৎন্সনার তরীতে সে পাড়ি
দিত; গল্পের সাগরে ,
তারপর অনেকটা সময় –
হটাৎ একদিন দেখি –
ফুতপাতে সেই স্নেহময়ী
চমকে উঠলাম , কি করুণ দৃশ্য ;
তার আশার সাগরে ভাঁটা
এনেছে ,ওই কলঙ্কিত চন্দ্রটি ।
একদিন যার স্বপ্ন ছিল আকাশসম
সেই স্বপ্ন আজ ফুটপাতে পাদপৃষ্ঠ ,
সে স্বপ্ন মৃদু হাওয়ায় ডানা মেলেদিত
নীল আকাশের নীচে ;অনেক উপরে ।
হায়রে ললাটের লিখন ;
কেন এসেছিল তার হ্রদে
স্বপ্নের বান ?
অবসান হক –
দুঃশ্চরিত্রের কালো দুর্গ ,
শাখায় –শাখায় ভরে উঠুক
সবুজ কচি পাতা-
চারিদিকে ধ্বনিত হোক
বিবেক তুমি কোথায় ? 




সন্ত্রাসবাদ
নার্গিস পারভিন
অস্তিত্বের সংকটে

সন্ত্রাসবাদ! আমি দেখেছি তোমার লেলিহান শিখা
বিশ্বের নানা প্রান্তে;
এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকার ঘরে ঘরে
বিস্তৃত তোমার তাণ্ডব!
পৃথিবীর সেরা জীব মানুষ, আর সভ্যতা
নিদারুণ অস্তিত্বের সংকটে।
রক্তের স্রোতস্বিনী ধারা তাই আজও বহমান
ধ্বংসের উন্মুক্ত নিনাদে!
মানুষ ভাবে আর পথ চলে
ধংসের ক্যাকটাস বনে।
তবু, সম্প্রীতি আর ভালোবাসার প্রলেপ
গড়ে দেবে মানবতার শক্ত ইমারৎ,
এ আমার নিটোল বিশ্বাস।



আকাঙ্খা
ফজের আলি
ফজের আলি
আমি খুঁজি সেই কবিতাটা
যাতে আমি আমার মুক্তির গান
নিজেই লিখেছি
আজ পুঞ্জীভূত অন্ধকার
নক্ষত্রের বুকে –

আমি খুঁজি সেই কবিতাটা
যা আমি আলোর জন্য লিখেছি
সে কি আমার শৈশব
না যৌবন –
না কি দিশাহারা সময়ের প্রলুব্ধ চেহারা!

শুধু দুটো শব্দ
ধ্যাবড়ানো কালির মধ্যে
আজও জেগে আছে,
আলো আর ভালোবাসা
শব্দ দুটো পৃথিবীর ঘূর্ণনে পাক খায়
কখনো মেলে
কখনো দূরে চলে যায়
এখন আমার কাজ একটাই
একটা শক্ত কবিতা লিখতে চাই,

যাতে শব্দ দুটো মিলিত হয়






অযাচিত
জয়ন্ত মণ্ডল
জয়ন্ত মণ্ডল
নিস্তব্ধতার জঠর কাঁপিয়ে 
       প্রতিধ্বনিত হয় ফেউডাক
দাম্পত্য প্রতীক্ষা চূর্ণ ক’রে
জন্ম নেয় সভ্যতার পঞ্চম জারজ –
              ক্ষমাহীন প্রতিদ্বন্দ্বী !
যেন বলয় গ্রাসে পূর্ণিমার আলো।
উপেক্ষার চোরাবালিতে আটকে যাওয়া শৈশব
উদ্বৃত্ত মাতৃত্বের ছিটেফোঁটা করুণায়
       খুঁজে পায় কিছু অক্সিজেন,
এবার অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম –
তার মৌলিক চাহিদাগুলি শেষ নিঃশ্বাস ফেলে
সভ্যতার হিসেবি চোখের গলিপথে,
তীব্র প্রতিকূল স্রোতে ঘুরে চলে
              জীবনের টারবাইন,
হয়তো তৈরি হবে বিপুল শক্তি
গ’ড়ে উঠবে ভবিষ্যৎ স্বপ্নের মৃত্যুচিতা,
ভস্মীভূত হবে স্নেহ-মমতা-ভালোবাসার

       সুকুমার বিজ্ঞাপন!





আমার ইতিহাসে


লাকি মাইতি
আমার ইতিহাসে
লাকি মাইতি

সেদিন, ক্রমশ বাড়ছিল তোমার উষ্ণতা,
আঁচড়ে
ভিজেছিল ঠোঁট দুটি ভালোবেসে।

ভবিষ্যৎ - চিন্তা প্রাচীর হয়ে উঠছিল মাঝে....
চিন্তার দানায় বিধে গিয়েছিলাম,আর তুমি?
বিধির বাধায় মেঘে ঢাকা সূর্য।
 ##
আঁচড়ের বদলে ঠোটে আঁকলে
দৃষ্টির বৃষ্টি

আমার ইতিহাসে।




ঠিকানা-১  
সামসুন নাহার

আজ তোমার কত গুরুত্ব
তোমার আবাসনে জনসমুদ্র
গহীন রাতে সকলে জাগ্রত
সকলে এখন তোমাতে মত্ত
শুভ্র পোশাকের আভিজাত্যে
সাজিয়েছে তোমায় অতি যত্নে।
পৌঁছে দিয়েছে মহা মহিয়ান

তোমার নির্দিষ্ট ঠিকানান্তে। 




একটু ছোঁয়া
(Udayan Study Centreসম্পর্কিত)
মনিরুজ্জামান
৩য় বর্ষ

সাত- সাতটি বসন্ত তোমাকে ছুঁয়েছে
তুমি আজ ষোড়ষী,নদীর ঢেউয়ের মতো তোমার যৌবনে
আমার স্বপ্নের - বাগান প্লাবিত৷
***
মাতৃত্ব তোমার অহংকার-
যুগের কালো হাতছানি
তোমাকে পিষতে চায়
শিলের অমসৃনতায় ;
***
তুমি হাঁফিয়ে ওঠো
হাঁফরের মতো-
তবুঅপলক নয়নে
চেয়ে থাক,
***
নক্ষএের সাথে অঙ্ককষে
মেলাতে চাও সপ্তষীর মতো,উজ্জ্বল- স্বপ্নের কিনারায় হাত বাড়ান-
যশের তরীতে পাড়ি দেওয়া-
অপ্রতিরোধ্য সেনাধ্যক্ষের মতো৷
***
মরু সাইক্লোনে তুমি
সালাউদ্দিনের শানিত তরবারি,সমুদ্রের উওাল তরঙ্গে
বিন কাসিমের দোসর৷
***
তোমার বুকের রক্তে
জ্বলে ওঠে সন্ধ্যাপ্রদীপ,তোমার প্রশস্থ উদারতায়
গঙ্গা মুচকে হাসে
উন্মুখ নম্রতায় ৷
***
তুমি পথ হারার মাইলস্টোন,চাতকের কাঙ্খিত বৃষ্টি- ফোঁটা,কৃষ্ণদ্বাদশীর বুক চিরে
মরানদীর চরে
পুঁতে দাও… 
একমুঠো জ্যোৎস্না ৷






ভাগাড়ে পশু
আব্দুল লতিফ
আব্দুল লতিফ 


লক্ষকোটি শকুনের মাঝে
আমি যেন ভাগাড়ে পশু
পেটের ওপর দিয়ে
লাঙল চালিয়েছে ওরা
এখন আমার মুখ বন্ধ।
হাজার যন্ত্রনার বিছানা
পড়ে থেকে
প্রতিক্ষা চুপ,
একটা সাদা পারার জন্য… 






নারী
আব্দুল মাতিন ওয়াসিম
সমাজে



আমি হাল ছাড়িনি
আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

আদের সাইক্লোনে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে সব
জীবনের শেষ সম্বলটুকুও নিয়ে গেছে
নূহের  প্লাবন
শবের মিছিল এখন চারিদিকে
সেও অন্ধকারের চাদরে মোড়া; আমি একলা দাঁড়িয়ে
ঝাপসা চোখে চেয়ে দেখি আকাশ পানে-
কোথাও গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালা
হাতে বসরার আধ-পড়া গোলাপ
কোথাও মানবতাবাদী কর্মীরা
মুহুর্মুহু দিচ্ছে হাঁক  
শান্তির ফেরি করে বেড়াচ্ছে তাঁরা
হরেক রকম শান্তি তাঁদের ঝুড়িতে

হয়তো, আবার আসবে সেই পাঞ্জেরী
পৃথিবীর কোনো প্রান্তে
আর আমার আকাশজুড়ে
উড়ে বেড়াবে সেই শাহিন
পৃথিবীকে আবার শাসন করবে
মদিনার সনদ
মুসলিম-ইসায়ি-ইহুদি-মুশরিক সব
থাকবে একসাথে মিলেমিশে;
এ-আশা বুকে আঁকড়ে
আমি আজও বেঁচে আছি
আমি আজও লড়ে যাচ্ছি


আমি হাল ছাড়িনি। 

ধর্মে            চাবি-সোপান-স্বর্গ 
ইতিহাসে       মেরী-আয়েশা-ট্রেসা-সারদা 
বিজ্ঞানে        কুরী-চাওলা-সুনিতা
সমাজে         নির্ভয়াআমরা         আধুনিক 

              সভ্যও বটে।

No comments:

Post a Comment