Pages

Wednesday, 29 December 2021

লাবীদ বিন রাবিআহ আল-আমেরী (রাঃ)-এর মুআল্লাকা


 
লাবীদ বিন রাবি‘আহ্‌ আল্‌-‘আমেরী (রাঃ)-এর মু‘ল্লাক়া
 
عَفَتِ  الدِّيَارُ   مَحَلُّهَا   فَمُقَامُهَا              بِمِنَىً  تَأَبَّـدَ  غَوْلُهَا  فَرِجَامُهَـا
মিনায় অবস্থিত প্রেমিকার স্থায়ী ও অস্থায়ী বসবাসের গৃহসমূহ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। আর সেখানকার গাওল ও রিজাম পর্বতদ্বয়ও জনশূন্য ও ভয়ংকর হয়ে পড়েছে।
 
فَمَدَافِعُ  الرَّيَّانِ  عُرِّيَ  رَسْمُهَـا                  خَلَقَاً كَمَا ضَمِنَ  الوُحِيَّ سِلامُهَا
রাইয়ান পর্বতের জলপ্রণালীর চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে পুরাতন ও জীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও; যেন শিলা তার লিপিকে সংরক্ষণ করে রেখেছে।
 
دِمَنٌ  تَجَرَّمَ  بَعْدَ   عَهْدِ  أَنِيسِهَا              حِجَجٌ  خَلَوْنَ  حَلالُهَا  وَحَرَامُهَا
বাস্তুভিটাগুলি এমন যে, তার অধিবাসীদের প্রস্থানের পর বহু বছর অতিবাহিত হয়েছে, বহু হালাল ও হারাম মাসও অতিক্রান্ত হয়েছে।
 
رُزِقَتْ  مَرَابِيْعَ  النُّجُومِ  وَصَابَهَا                 وَدْقُ  الرَّوَاعِدِ  جَوْدُهَا   فَرِهَامُهَا
সেখানে নক্ষত্র প্রভাবিত বসন্ত বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে। আর বজ্রবিদ্যুত সমন্বিত বৃষ্টিও, কখনও মুষলধার আবার কখনও ঝিরিঝিরি 
 
مِنْ  كُلِّ  سَارِيَةٍ  وَغَادٍ   مُدْجِنٍ           وَعَشِيَّةٍ    مُتَجَـاوِبٍ    إِرْزَامُهَا
(সেই বৃষ্টি বর্ষিত হয়) রাতের মেঘ, ঘোর ঘনঘটা বিশিষ্ট সকালের মেঘ ও সান্ধ্য মেঘ হতে, যাদের ডাক ( শুনে মনে হয়) যেন পরস্পরে আলাপরত।
 
فَعَلا  فُرُوعُ  الأَيْهُقَانِ  وأَطْفَلَتْ           بِالجَلْهَتَيْـنِ  ظِبَاؤُهَا   وَنَعَامُهَـا
(সেই বৃষ্টির ফলে সেখানে) আইহাকান বৃক্ষের শাখাপ্রশাখাগুলি উঁচু হয়ে গেছে। তাই সেখানে উপত্যকার দুই প্রান্তে হরিণী ও উটপাখিগুলি শাবক জন্ম দিয়েছে।  
 
وَالعِيْـنُ  سَاكِنَةٌ  عَلَى  أَطْلائِهَا           عُوذَاً  تَأَجَّلُ  بِالفَضَـاءِ   بِهَامُهَا
আর বৃহৎ আঁখি বিশিষ্ট নীলগাইগুলি সেখানে তাদের নবজাতক শাবকদের নিয়ে অবস্থান করছে। আর তাদের বাছুরগুলো সেখানকার উন্মুক্ত প্রাঙ্গনে দলে দলে বিচরণ করছে। 
 
وَجَلا السُّيُولُ عَنْ الطُّلُولِ كَأَنَّهَا           زُبُرٌ   تُجِدُّ    مُتُونَهَا   أَقْلامُـهَا
আর প্লাবন উপত্যকা (-র রেখা) গুলিকে স্পষ্ট করে দিয়েছে, (মনে হচ্ছে) যেন সেগুলি এমন গ্রন্থরাজি যার লিপি-পাঠকে লেখনি নতুনত্ব দান করেছে।   
 
أَوْرَجْعُ وَاشِمَةٍ أُسِفَّ نَؤُورُهَا         كِفَفَاً  تَعَرَّضَ  فَوْقَهُنَّ  وِشَامُهَا
অথবা তা যেন উল্কি অঙ্কনকারিণীর পুনরাঙ্কন, যাতে বৃত্তাকারে কালি লেপন করা হয়েছেতাই তার ওপর রেখাগুলি প্রতিভাত হচ্ছে। 
 
فَوَقَفْتُ أَسْأَلُهَا وَكَيْفَ سُؤَالُنَا          صُمَّاً خَوَالِدَ مَا  يَبِيْنُ  كَلامُهَا
আমি দাঁড়িয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে লাগলামআর এমন নীরব শক্ত কঠিন পাথরকে প্রশ্ন করা কেমন, যার কথা স্পষ্ট হয় না ?!
 
عَرِيَتْ وَكَانَ بِهَا الجَمِيْعُ فَأَبْكَرُوا         مِنْهَا  وَغُودِرَ  نُؤْيُهَا  وَثُمَامُهَا
সেই বাস্তুভিটা শূন্য হয়ে পড়েছে, অথচ সেখানে একদা সকলেই ছিলতাঁরা ঊষাকালে সেখান থেকে প্রস্থান করেছেআর সেখানকার পরিখা ও ঝাউগাছগুলি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে
 
شَاقَتْكَ ظُعْنُ الحَيِّ حِينَ  تَحَمَّلُوا          فَتَكَنَّسُوا   قُطُنَاً   تَصِرُّ    خِيَامُهَا
আমায় আকৃষ্ট করেছিল গোত্রের যুবতীরা, যখন তাঁরা যাত্রা করার নিমিত্তে সূতি কাপড়ে ঘেরা এমন এক হাওদায় প্রবেশ করল যার কাঠগুলো মড়মড় শব্দ করছিল ।  
 
مِنْ كُلِّ مَحْفُوفٍ يُظِلُّ عِصِيَّهُ         زَوْجٌ عَلَيْـهِ كِلَّـةٌ وَقِرَامُـهَا
(সেই হাওদাটি) চারিদিক থেকে বেষ্টিত ছিল, তার কাঠগুলোকে আবৃত করে রেখেছিল একটি মোটা পর্দা, যার উপর আচ্ছাদিত ছিল একটি সূক্ষ্ম ও একটি নক্সাকাটা পর্দা ।  
 
زُجَلاً كَأَنَّ نِعَاجَ تُوْضِحَ فَوْقَهَا         وَظِبَاءَ وَجْرَةَ عُطَّفَـاً أرْآمُهَا
(তাঁরা যাত্রা করছিল) সারিবদ্ধ ভাবে, (দেখে মনে হচ্ছিল) যেন ‘তুযিহ’ নামক জায়গার বন্যগাভির দল এবং ‘ওয়াজরা’ নামক জায়গার মমতাময়ী শ্বেত মৃগের পাল ।   
 
حُفِزَتْ وَزَايَلَهَا السَّرَابُ كَأَنَّهَا         أَجْزَاعُ بِيشَةَ أَثْلُهَا وَرِضَامُهَا
দ্রুত এগিয়ে চলল, মরীচিকা তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল, মনে হচ্ছিল যেন বিশা উপত্যকার রাস্তার বাঁকের ঝাউ গাছ ও মাইল ফলক ।
 
بَلْ مَا تَذَكَّرُ مِنْ نَوَارَ وقَدْ نَأَتْ          وتَقَطَّعَتْ أَسْبَابُهَا وَرِمَامُـهَا
বরং নাওয়ারকে স্মরণ করে আর কী লাভ ! সে তো বহু দূরে চলে গেছে, তার সঙ্গে মিলনের যাবতীয় উপায় ছিন্ন হয়ে গেছে ।  
 
مُرِّيَةٌ حَلَّتْ بِفَيْدَ وَجَـاوَرَتْ          أَهْلَ الحِجَازِ فَأَيْنَ مِنْكَ مَرَامُهَا
সে মুররা গোত্রীয়, অবতরণ করেছে ফায়দে, অতঃপর প্রতিবেশিনী হয়েছে হিজাযবাসীদের; তাহলে কীভাবে (তাঁর সঙ্গে মিলনের) তোমার উদ্দেশ্য পূরণ হবে ! 
 
بِمَشَارِقِ الجَبَلَيْنِ  أَوْ بِمُحَجَّرٍ          فَتَضَمَّنَتْهَا  فَـرْدَةٌ   فَرُخَامُـهَا
(সে উপনীত হয়েছে) পর্বতদ্বয়ের পূর্বদিকে অথবা মুহাজ্জারে; অতঃপর ফারদা ও রুখামে হাজির হয়েছে । 
 
فَصُوائِقٌ إِنْ  أَيْمَنَتْ  فَمَظِنَّـةٌ         فِيْهَا وِحَافُ القَهْرِ أَوْ طِلْخَامُهَا
অতঃপর সুয়ায়েকে। সেখান থেকে যদি ডান দিকে যাত্রা করে, তাহলে হয় বিহাফুল্‌ ক্বাহ্‌রে নয়তো ত্বিল্‌খামে।
 
فَاقْطَعْ لُبَانَةَ مَنْ تَعَرَّضَ وَصْلُهُ           وَلَشَرُّ وَاصِلِ خُلَّـةٍ صَرَّامُهَا
তুমি সম্পর্ক ছিন্ন করো তাঁর সাথে যার সঙ্গে মিলন ও সাক্ষাৎ বাধাপ্রাপ্ত হয়। আর বন্ধুত্ব স্থাপনকারীদের মধ্যে নিকৃষ্ট ব্যক্তি সে যে সেই সম্পর্ককে ছিন্ন করে।
 
وَاحْبُ المُجَامِلَ بِالجَزِيلِ  وَصَرْمُهُ           بَاقٍ  إِذَا  ظَلَعَتْ  وَزَاغَ   قِوَامُهَا
যে তোমাকে ভালবাসে/ সহৃদয় বা ভালো ব্যবহার করে তাকে তুমি প্রাণভরে ভালোবাসো তবে তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার অবকাশ যেন অবশিষ্ট থাকে; যখন তার প্রেমে শিথিলতা দেখা দেবে এবং তার খুঁটি অন্য দিকে ঝুঁকে পড়বে (তখন যেন তুমি তাঁর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারো।)
 
بِطَلِيحِ أَسْفَـارٍ تَرَكْنَ بَقِيَّـةً          مِنْهَا فَأَحْنَقَ صُلْبُهَا وسَنَامُهَا
(সেই প্রেমিকার সঙ্গ ত্যাগ করতে পার) এমন এক উষ্ট্রীর পৃষ্ঠে আরহন করে, যে সুদীর্ঘ ভ্রমণে ক্লান্ত ও শীর্ণকায় হয়ে পড়েছে এবং যার উদর ও পৃষ্ঠদেশ একত্রিত হয়ে গেছে।
 
فَإِذَا  تَغَالَى  لَحْمُهَا   وَتَحَسَّرَتْ           وَتَقَطَّعَتْ  بَعْدَ  الكَلالِ  خِدَامُهَا
যখন সেই উষ্ট্রীর মাংস নিঃশেষিত হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়, সে শান্ত হয়ে পড়ে আর তার নালের বন্ধন অক্ষম হওয়ার পরে টুকরো টুকরো হয়ে যায়।
 
فَلَهَا  هِبَابٌ  فِي  الزِّمَامِ   كَأَنَّهَا           صَهْبَاءُ خَفَّ مَعَ الجَنُوبِ جَهَامُهَا
তখন লাগাম স্পর্শ করা মাত্র সে আনন্দে নেচে ওঠে, মনে হয় যেন সে এক ধূসর মেঘ, যা বারি বর্ষণের পর হালকা হওয়ার কারণে দক্ষিণা বাতাসের স্পর্শে উড়ে চলে।
 
أَوْ مُلْمِعٌ وَسَقَتْ  لأَحْقَبَ  لاَحَهُ          طَرْدُ  الفُحُولِ وَضَرْبُهَا  وَكِدَامُهَا
অথবা (সেই উষ্ট্রী) এক বৃহৎ স্তন বিশিষ্ট গর্দভীর মত, যা এমন এক শুভ্র উদর বিশিষ্ট গর্দভ দ্বারা গর্ভ ধারণ করেছে যাকে অন্য রসভ গর্দভেরা বিতাড়িত করে পদাঘাত করে আর দন্তাঘাত করে ক্ষত বিক্ষত করে দিয়েছে। 
 
يَعْلُو بِهَا حَدَبَ  الإِكَامِ  مُسَحَّجٌ           قَدْ  رَابَهُ  عِصْيَانُهَا   وَوِحَامُـهَا
আর সেই দন্তপৃষ্ট (বিকৃত দেহী) গর্দভ ঐ গর্দভীকে টিলার উপর তাড়িয়ে নিয়ে যায়, কারণ ঐ গর্দভীর অবাধ্যতা আর অবদমিত যৌনাকাঙ্ক্ষা নিমিত্ত সে সন্দেহ পোষণ করে। 
 
بِأَحِزَّةِ  الثَّلَبُوتِ   يَرْبَأُ   فَوْقَـهَا           قَفْرَ   المَرَاقِبِ   خَوْفُهَا    آرَامُهَا
(তাকে নিয়ে যায়) সাল্‌বুতের প্রস্তরময় স্থানে, সেই টিলার উপর সে তাকে পাহারা দেয় আর ভয় চকিত দৃষ্টিতে লক্ষ করে কোন শিকারি পাথরের আড়াল হতে তার প্রতি তাক করেছে কি না।
 
حَتَّى  إِذَا  سَلَخَا  جُمَادَى  سِتَّةً           جَزْءاً   فَطَالَ   صِيَامُهُ   وَصِيَامُهَا
এই ভাবে তারা যখন তথায় শীতের ছয় মাস অতিবাহিত করল, কেবল ঘাস ভক্ষন করে এবং সেই গর্দভ ও গর্দভীর পানি পান  না করার সময় দীর্ঘতর হল।
 
رَجَعَا  بِأَمْرِهِمَا  إِلىَ   ذِي   مِرَّةٍ          حَصِدٍ  وَنُجْحُ  صَرِيْمَةٍ  إِبْرَامـُهَا
তখন তারা নিজেদের সংকল্পে দৃঢ় হয়ে (পানির নিকট) অবতরণের মনস্থ করল আর দৃঢ় সংকল্প দ্বারাই পূর্ণ সফলতা লাভ করা যায়।
 
وَرَمَى دَوَابِرَهَا  السَّفَا  وَتَهَيَّجَتْ           رِيْحُ المَصَايِفِ  سَوْمُهَا  وَسِهَامُهَا
আর কণ্টক গুল্ম ঘাস গর্দভীর পশ্চাত ভাগকে বিদ্ধ করছিল আর প্রখর গ্রীষ্মের বাতাস প্রবল বেগে বইতে শুরু করেছিল।
 
فَتَنَازَعَا  سَبِطَاً   يَطِيْرُ   ظِلالُـهُ           كَدُخَانِ  مُشْعَلَةٍ  يُشَبُّ  ضِرَامُهَا
তারা উভয়ে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে ধুলো উড়িয়ে ছুটছিল; ওই ধুলোর আস্তরণ ধোঁয়ার মতো করে উপরে উড়ছিল। দেখে মনে হচ্ছিল, কোনো প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ডের ধোঁয়ার পাহাড় যার আগুনকে খুঁচিয়ে দেওয়া হয়েছে।
 
مَشْمُولَةٍ  غُلِثَتْ   بِنَابتِ   عَرْفَجٍ          كَدُخَانِ  نَارٍ  سَاطِعٍ   أَسْنَامُـهَا
যে অগ্নিকুণ্ডে উত্তুরে বাতাস লেগেছে। অতঃপর তাতে আর্‌ফাজের কচি ডাল মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত তা এমন অগ্নিকুণ্ডের ধোঁয়ার মতো ছিল যার লেলিহান শিখা ঊর্ধ্বগগনে পাড়ি দিচ্ছিল।
 
فَمَضَى  وَقَدَّمَهَا  وَكَانَتْ   عَادَةً          مِنْهُ  إِذَا   هِيَ  عَرَّدَتْ  إِقْدَامُـهَا
ছুটতে ছুটতে ওই গর্দভ এগিয়ে যেতো। অতঃপর সে গর্দভীকে এগিয়ে দিতো। এটা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল, যখনই গর্দভী পিছিয়ে পড়তো গর্দভ তাকে এগিয়ে দিতো।
 
فَتَوَسَّطَا عُرْضَ  السَّرِيِّ  وَصَدَّعَا           مَسْجُـورَةً   مُتَجَاوِرَاً    قُلاَّمُهَا
তারা উভয়ে ছোট নদীর মোহনার মধ্যখানে গিয়ে উপস্থিত হল। তারা কানায় কানায় জলে পূর্ণ ও কুল্লাম ঘাসে আচ্ছাদিত নদীকে বিদীর্ণ করে সেখানে পৌঁছেছিল।
 
مَحْفُوفَةً  وَسْطَ   اليَرَاعِ   يُظِلُّهَا           مِنْهُ  مُصَرَّعُ  غَابَـةٍ   وَقِيَامُـهَا
ওই ছোট্ নদীটি নলখাগড়ায় বেষ্টিত ছিল। তাকে আচ্ছাদিত করে রেখেছিলো নলখাগড়ার ঝাড়, কোথাও পড়ে থাকা তো কোথাও দাঁড়িয়ে থাকা নলখাগড়া।
 
أَفَتِلْكَ أَمْ وَحْشِيَّةٌ مَسْبُوعَةٌ خَذَلَتْ     وَهَادِيَةُ الصِّوَارِ قِوَامُهَا  
আমার উষ্ট্রিটি ওই গর্দভীর মতো নাকি এমন এক বন্য গাভীর মতো, যে হিংস্র প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে এবং (নিজ পাল থেকে) পিছিয়ে পড়েছে। অথচ পালের নেতা সর্বদা অগ্রগামী হয়।
 
خَنْسَاءُ ضَيَّعَتِ الفَرِيرَ فَلَمْ يَرِمْ          عُرْضَ الشَّقَائِقِ طَوْفُهَا وَبُغَامُهَا
এই বন্য গাভীটি চ্যাপটা নাক বিশিষ্টা। সে তার বাছুর-শাবককে হারিয়ে ফেলেছে। ফলে উপত্যকার চারিদিকে নিরন্তর পরিক্রমা করছে এবং চিৎকার করে চলেছে।
 
لِمعَفَّرٍ قَهْدٍ  تَنَـازَعَ شِلْـوَهُ          غُبْسٌ كَوَاسِبُ لا يُمَنَّ طَعَامُهَا
সে চিৎকার করছে এক ভূলুণ্ঠিত বাছুরের জন্য, যার অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেয়েছে ধূসর বর্ণের কিছু হিংস্র প্রাণী; যাদের খাবারের অভাব হয় না।   
 
صَادَفْنَ منهَا  غِـرَّةً  فَأَصَبْنَهَا         إِنَّ الْمَنَايَا لاَ  تَطِيشُ  سِهَامُهَا
তারা গাভীটির উদাসীনতা লক্ষ্য করলো, সেই সুযোগে তার বাছুরের উপর আক্রমণ করলো। নিঃসন্দেহে মৃত্যুর তীর কখনই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় না।
 
بَاَتتْ وَأَسْبَلَ وَاكِفٌ من دِيـمَةٍ          يُرْوِي الْخَمَائِلَ دَائِمَاً تَسْجَامُها
সে রাত অতিবাহিত করলো; এমত অবস্থায় যে বজ্র-বিদ্যুৎ ছাড়াই অবিরাম ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছিল। আর সেই অবিরাম বৃষ্টি সেখানকার মরূদ্যান ও তৃণক্ষেত্রগুলোকে সিক্ত করে তুলেছিল।
 
يَعْلُو طَرِيقَةَ مَتْنِهَا مُتَوَاتِـرٌ          فِي لَيْلَةٍ كَفَرَ النُّجُـومَ غَمَامُهَا
তার পীঠ বরাবর অবিরাম বৃষ্টি পড়ছিল এমন এক রাতে, যে রাতে মেঘের আবরণে ঢাকা পড়ে গেছিলো তারার দল।
 
تَجَتَافُ أَصْلاً قَالِصَاً مُتَنَبِّـذَاً          بعُجُوبِ أَنْقَاءٍ يَمِيلُ هُيَامُـهَا
ওই গাভী গিয়ে প্রবেশ করলো এক বৃহদাকারের গাছের শেকড়ের ভিতরে, যে গাছটি একাকী দাঁড়িয়ে ছিল এক বালুময় উপত্যকার শেষ প্রান্তে; যেখানকার শুকনো ও ঝিরিঝিরি বালুরাশি ধীরে ধীরে খসে পড়ছিল।
   
وَتُضِيءُ في وَجْهِ الظَّلامِ مُنِيرَةً         كَجُمَانَةِ الْبَحْرِيِّ سُلَّ نِظَامُهَا
রাতের প্রথম প্রহরে সে জ্যোৎস্না-স্নাত হয়ে জ্বলজ্বল করছিল (এবং চক্রাকারে ঘুরছিল, মনে হচ্ছিল) যেন কোনো ডুবুরীর মুক্তোর মালা, যার সুতোটা ছিঁড়ে গেছে
 
অনুবাদ- আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

তুলাইয়ের তল্লাটে - আব্দুল মাতিন ওয়াসিম


আমি তখন সবে কৈশোরে পা দিয়েছে। মনের গহীনে নিত্যদিন নতুন নতুন আবেগের আনাগোনা, খানিকটা আমার অজান্তেই। সেই বেলায় প্রথম দেখাতেই আমি তার প্রেমে পড়েছিলাম। তবে ‘তাকে ভালোবাসি, বা তার প্রেমে পড়েছি’ এমন কোনো শব্দবন্ধনী আমি কোনোদিন উচ্চারণ করিনিকিন্তু তাকে দেখলেই আমার ভেতরে এক নিঃশব্দ আলো জ্বলে উঠত। সেই আলো হয়তো সে কোনোদিন দেখেনি, কিংবা দেখতে চায়নি। দেখা হলেই সে মুখ ফিরিয়ে নিততার চোখেমুখে এমন এক বিরক্তি ফুটে উঠত, যেন আমার উপস্থিতি তার জীবনে এক অপ্রয়োজনীয় ছায়া।
 
একদিন সাহস সঞ্চয় করে, বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পিড়াপীড়িতে তাকে কিছু বলতে চেয়েছিলাম। পেছন থেকে ডেকেওছিলাম, কিন্তু সে থামেনি। হাঁটতে হাঁটতে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিল, তার শোনার কিছুই নেই। এই সংক্ষিপ্ত প্রত্যাখ্যান বহুদিন ধরে আমার মনে ঘুরে বেড়িয়েছেঅপূর্ণতার মতো, প্রশ্নের মতো।
 
এর কিছুদিন পরেই তার বিয়ে হয়ে গেল এলাকার এক প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে। সম্পদ আর ক্ষমতার দরুন লোকটার বাড়ি সর্বদা লোকে লোকারণ্য হয়ে থাকতোবিয়ের দিন উঠোন কানায় কানায় ভরে উঠেছিল। পাড়ার মানুষ বলাবলি করছিলএমন ঘরে বউ হওয়া ভাগ্যের ব্যাপার  
 
সেদিন আমি কিছুই বলিনি। বেলা গড়াতেই গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম তুলাই নদীর পাড়ে। বর্ষার নদী ফুলে উঠেছিলস্রোত ছিল অস্থির, শব্দ ছিল তীব্র। নদীর গর্জনের ভেতরেও নিজের বুকের ভারী শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। অপমান, হাহাকার আর অজস্র প্রশ্ন নিঃশব্দে আমাকে গ্রাস করছিল। সন্ধ্যার আগেই স্থির করেছিলামএই পাড়া, এই জনপদ, এই মানুষজন, এমনকি এই নদীকেও পেছনে ফেলে আমি চলে যাবো, দূরে কোথাও  
 
আমি চলে গেছিলাম কাউকে কিছু না জানিয়েদূরের শহরগুলোতে আমি ছিলাম এক নামহীন মানুষকখনো শ্রমিক, কখনো রাজমিস্ত্রী, কখনো জোগাড়ি, কখনো রিকশাওয়ালা, কখনো দোকানের কর্মচারী, কখনো কেবল ভিড়ের অংশ। কেউ কখনো আমার পরিচয় জানতে চাইলে শুধু বলতামনদীর ধারে আমার বাড়ি। এর বেশি কিছু নয়।
 
এভাবেই কেটে গেল দশটি বসন্ত, দশটা বর্ষা। একদিন মনে হলোআর কত দূর, আর কত দিন? তখনই ফেরার ব্যাপারে মনঃস্থির করলাম। এবং একদিন ফিরেও এলাম, ঠিক যেমন করে নিঃশব্দে চলে গেছিলাম। আমার ফেরায় পাড়ায় নতুন করে কৌতূহল জেগে উঠল, লোকজনের মুখে ছিল নানা প্রশ্ন। আমি ধীরে ধীরে এমনভাবে উত্তর দিতে শুরু করলাম, যাতে আর কোনো প্রশ্ন না আসে। শেষে একদিন বলেই ফেললামআমি কোথাও যাইনি, শুরু থেকে এখানেই ছিলাম। লোকজন প্রথমে বিস্মিত হলেও ধীরে ধীরে সেই কথাকেই সত্য বলে মেনে নিল। স্মৃতির দায় ঝেড়ে ফেলা সকলের জন্য সহজ ছিল, বোধ করি  
 
এরপর আমার বিয়ে হলো। স্ত্রীর প্রতি আমার ভালোবাসা ছিল গভীরসন্তান হওয়ার কথা উঠলে আমি নিরুত্তর থাকতাম। পরে জানা গেলসে কোনোদিন মা হতে পারবে না। তবু আমি তাকে ছেড়ে যাইনি। পাড়াপড়শি, বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনদের নানা উপদেশের উত্তরে নীরব থেকেছি, কিংবা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিযা আছে, তাই যথেষ্ট।
 
আমাদের বাড়ির পেছনে ছিল ছোট্ট একটা বাগান। তাতে তিনটা ফলের গাছ ছিলনিয়ম করে আমি ও আমার স্ত্রী সেগুলোর যত্ন নিতাম, কিন্তু কখনো ফল পাড়তাম না। সেগুলোতে কুঁড়ি আসতো, ফল ধরতো, পাকতো, আবার একদিন শুকিয়ে মাটিতে পড়ে যেতোশরৎ আর শীতে মন ভারী হয়ে উঠত আমাদের, বসন্তে কিছুটা হালকা লাগতযেন আবার নতুন করে বাঁচার উপকরণ পেয়েছি
 
কিন্তু একদিন ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে ফেরার পথে দেখলামতিনটা গাছই লণ্ডভণ্ড, সব ফল চুরি হয়ে গেছে, ডালপালা ভেঙ্গে তছনছ আর এসব দেখে আমার স্ত্রী হাউমাউ করে কাঁদতে আরম্ভ করলো। তার কান্নাকাটি আমাকে মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ করে দিয়েছিল। মনে হয়েছিলআমি আবার কোনো সন্তানের মৃত্যু দেখছি।
 
এর কিছুদিন পর, খদ্দের ডেকে অল্প দামে বাড়িটা বিক্রি করে দিলাম। জানতে পেরে পাড়াপড়শি ছুটে এলো, জিজ্ঞেস করতে লাগল—কোথায় যাবে, কী করবে? সেদিন তাদের এসব প্রশ্নের উত্তরে শুধু বলেছিলাম, যেখানে নদী থাকে। তারপর একদিন কাকভোরে স্ত্রীর হাত ধরে বেরিয়ে পড়লাম। পাড়ার শেষ প্রান্তে এসে একটু থামলাম। সামনে তুলাই নদী তখন শান্ত। জল ধীরে ধীরে বয়ে চলেছেযেন সাগরে পৌঁছানোর কোনো তাড়াহুড়ো নেই তার, যেন যাত্রাপথ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই, কোনো আশংকাও নেই।
 
আমি এখন তুলাই থেকে বহু দূরে, বাস করি এক পাথুরে উপত্যকায়এখানেও পাশেই একটা নদী আছে, তুলাইয়ের চেয়ে ঢের বড় ও বিশাল, তবে তার স্রোতে ঘৃণার পরিমাণ বেশি, তার উচ্ছ্বাসে বিদ্বেষ উতলে উঠে মুহুর্মুহু। আমার আর কখনো ফেরা হয়নি তুলাইয়ের তল্লাটে লোক মারফৎ জেনেছি, পাড়ার লোকজন কেউ কেউ মাঝে মাঝে আমার কথা বলে। কেউ কেউ আমার নাম শুনে ভ্রূ কুঁচকোয়, যেন কিছুই মনে করতে পারছে না। আবার কেউ কেউ বলে, ও নামের এই এলাকাতেই কেউ ছিল না। কিন্তু তুলাই নদী, নীরবে বয়ে যেতে যেতে হয়তো আজও ভাবেএত এত বিদায়ের শব্দ নদীর জলে তাহলে কে ফেলে গেছে…!  
 
বাঁশকুড়ি, দক্ষিণ দিনাজপুর
২৭ ডিসেম্বর ২০২১

Monday, 20 December 2021

আল-কুরআনের ভাবানুবাদঃ (৭৫) সূরাতু আল-কেয়ামাহ (মহাপ্রলয় ও পুনরুত্থান)



৭৫) সূরাতু আল্‌-ক়েয়ামাহ্‌ (মহাপ্রলয় ও পুনরুত্থান) 

মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৪০, রুকু’ ২  

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ

আল্লাহ্‌র নামে (শুরু করছি); তিনি পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু।
 

لَا أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيَامَةِ

আমি শপথ করছি প্রলয় ও পুনরুত্থান দিবসের,

وَلَا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ اللَّوَّامَةِ

আরও শপথ করছি তিরস্কারকারী আত্মার (যে আত্মা ভুলভ্রান্তির পর নিজের সমালোচনা করে এবং নিজেকে তিরস্কার করে)—

أَيَحْسَبُ الْإِنسَانُ أَلَّن نَجْمَعَ عِظَامَهُ

মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার অস্থিসমূহ একত্রিত করতে পারবো না?

بَلَى قَادِرِينَ عَلَى أَن نُّسَوِّيَ بَنَانَهُ

পরন্তু আমি তো তার আঙুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত সঠিক ভাবে পুনর্বিন্যস্ত ও সন্নিবেশিত করতে সক্ষম।

بَلْ يُرِيدُ الْإِنسَانُ لِيَفْجُرَ أَمَامَهُ

তবুও মানুষ ভবিষ্যত জীবনেও ধৃষ্টতা করতে চায়

يَسْأَلُ أَيَّانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ

সে প্রশ্ন করে— কেয়ামত ও পুনরুত্থান কবে হবে?

فَإِذَا بَرِقَ الْبَصَرُ

(পুনরুত্থান হবে) যখন দৃষ্টি চমকে যাবে,

وَخَسَفَ الْقَمَرُ

চন্দ্র জ্যোতিহীন হয়ে পড়বে,

وَجُمِعَ الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ

এবং সূর্য ও চন্দ্রকে একত্রিত করা হবে-

يَقُولُ الْإِنسَانُ يَوْمَئِذٍ أَيْنَ الْمَفَرُّ

সেদিন মানুষ বলবে— আজ পালাবার জায়গা কোথায়?

كَلَّا لَا وَزَرَ

না, কোথাও কোনো আশ্রয়স্থল নেই।

إِلَى رَبِّكَ يَوْمَئِذٍ الْمُسْتَقَرُّ

তোমার প্রভুর কাছেই সেদিন দাঁড়াতে হবে।

يُنَبَّأُ الْإِنسَانُ يَوْمَئِذٍ بِمَا قَدَّمَ وَأَخَّرَ

সেদিন মানুষকে অবহিত করা হবে সে সামনে কী প্রেরণ করেছে এবং পশ্চাতে কী ছেড়ে এসেছে।

بَلِ الْإِنسَانُ عَلَى نَفْسِهِ بَصِيرَةٌ

বরং মানুষ নিজেই তার নিজের সম্পর্কে চক্ষুষ্মান ও সাক্ষী হবে (অর্থাৎ তার প্রতিটি অঙ্গ তার সম্পাদিত কর্মের খতিয়ান পেশ করবে)।

وَلَوْ أَلْقَى مَعَاذِيرَهُ

যদিও সে (নিজ মিথ্যাচার ও পাপাচারিতা ঢাকতে) তার নানা ধরণের অজুহাত পেশ করতে চাইবে।

لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ

(হে মুহাম্মদ সাঃ) তাড়াতাড়ি শিখে নেওয়ার জন্য তুমি দ্রুত ওহী (অর্থাৎ আল্‌-কুর্‌আন) আবৃত্তি করো না।

إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ

এর সংরক্ষণ ও পাঠ আমারই দায়িত্ব।

فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ

অতঃপর আমি যখন তা পাঠ করি (অর্থাৎ আমার তরফ থেকে জিব্‌রাইল আঃ পাঠ করে), তখন তুমি সেই পাঠের অনুসরণ করো।

ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ

আর এর বিশদ ব্যাখ্যা ও বর্ণনারও দায়িত্ব আমারই।

كَلَّا بَلْ تُحِبُّونَ الْعَاجِلَةَ

কখনই না, বরং তোমরা পার্থিব জীবনকে (অধিক) ভালবাসো

وَتَذَرُونَ الْآخِرَةَ

এবং পরকালকে উপেক্ষা কর।

وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَّاضِرَةٌ

সেদিন অনেক মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে।

إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ

তারা নিজ পালনকর্তার দিকে তাকিয়ে থাকবে।

وَوُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ بَاسِرَةٌ

এবং অনেক মুখমণ্ডল সেদিন উদাস ও বিবর্ণ হবে।

تَظُنُّ أَن يُفْعَلَ بِهَا فَاقِرَةٌ

এই আশঙ্কায় যে, তাদের সাথে কোমর-ভাঙ্গা আচরণ করা হবে।

كَلَّا إِذَا بَلَغَتْ التَّرَاقِيَ

কখনই না, যখন প্রাণ ওষ্ঠাগত হবে।

وَقِيلَ مَنْ رَاقٍ

এবং বলা হবে, কে (তাকে) রোগমুক্ত করবে (অর্থাৎ কে তাকে মৃত্যু থেকে রক্ষা করতে পারবে)?

وَظَنَّ أَنَّهُ الْفِرَاقُ

এবং সে মনে করবে যে, তার বিদায়ের ক্ষণ এসে গেছে।

وَالْتَفَّتِ السَّاقُ بِالسَّاقِ

এবং পায়ের গোছার সাথে গোছা জড়িয়ে যাবে (অর্থাৎ মৃত্যুযন্ত্রণার সাথে পারলৌকিক জীবনের অনিশ্চয়তার উদ্বেগ তাকে আষ্টেপিষ্টে ধরবে)।

إِلَى رَبِّكَ يَوْمَئِذٍ الْمَسَاقُ

সেদিন, তোমার পালনকর্তার নিকট সবকিছু নিয়ে যাওয়ার দিন।

فَلَا صَدَّقَ وَلَا صَلَّى

সে তো (পার্থিব জীবনে) না বিশ্বাস করেছিল আর না নামায পড়েছিল;

وَلَكِن كَذَّبَ وَتَوَلَّى

পরন্তু (জীবনভর) মিথ্যারোপ করেছে এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছে।

ثُمَّ ذَهَبَ إِلَى أَهْلِهِ يَتَمَطَّى

অতঃপর দম্ভ ভরে পরিবার-পরিজনের নিকট ফিরে গেছে।

أَوْلَى لَكَ فَأَوْلَى

এই দুর্ভোগ তোমারই জন্য প্রযোজ্য।

ثُمَّ أَوْلَى لَكَ فَأَوْلَى

হ্যাঁ, তুমিই এর হকদার আর এটাই তোমার প্রাপ্য।

أَيَحْسَبُ الْإِنسَانُ أَن يُتْرَكَ سُدًى

মানুষ কি মনে করে যে, তাকে এমনি নিরর্থক ছেড়ে দেয়া হবে (স্রষ্টার আদেশ মান্য করার পুরস্কার এবং অমান্য করার কোনো শাস্তি তাকে দেওয়া হবে না)?

أَلَمْ يَكُ نُطْفَةً مِّن مَّنِيٍّ يُمْنَى

সে কি (নারী ও পুরুষের) স্খলিত বীর্যের শুক্রবিন্দু ছিল না?

ثُمَّ كَانَ عَلَقَةً فَخَلَقَ فَسَوَّى

অতঃপর সে ছিল রক্তপিণ্ড, তারপর আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং সুঠাম ও সুবিন্যস্ত করেছেন।

فَجَعَلَ مِنْهُ الزَّوْجَيْنِ الذَّكَرَ وَالْأُنثَى

অতঃপর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন জোড়া জোড়া নর ও নারী।

أَلَيْسَ ذَلِكَ بِقَادِرٍ عَلَى أَن يُحْيِيَ الْمَوْتَى

তবুও কি তিনি মৃতদেরকে পুনর্জীবিত করতে সক্ষম নন?! 

ভাবানুবাদ- আব্দুল মাতিন ওয়াসিম