Pages

Showing posts with label আরবি কবিতা. Show all posts
Showing posts with label আরবি কবিতা. Show all posts

Friday, 1 May 2026

আধুনিক আরবি কবিতা: বিকাশ, বৈশিষ্ট্য ও কবিগণ - ড. আব্দুল মাতিন ওয়াসিম



আধুনিক আরবি কবিতা এক দীর্ঘ রূপান্তরের ফসলযেখানে প্রাচীন ঐতিহ্যের দৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে নবচেতনা, সৃষ্টিশীলতা ও মননের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। উনবিংশ শতাব্দীর আরব পুনর্জাগরণ (নাহদা), পাশ্চাত্যের সঙ্গে বর্ধিত যোগাযোগ, শিক্ষা ও মুদ্রণব্যবস্থার উন্নয়ন, এবং বহুবিধ রাজনৈতিক-সামাজিক পরিবর্তন এই রূপান্তরের পেছনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। এর ফলে আরবি কবিতা শুধু তার রূপ-রীতিতেই নয়, ভাব ও দৃষ্টিভঙ্গিতেও এক মৌলিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়।
 
আধুনিক আরবি কবিতার বিকাশ 
আধুনিক আরবি কবিতা সময়ের প্রবাহে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে ক্রমে পরিণত রূপ লাভ করেছে
 
(ক) পুনর্জাগরণ বা ক্লাসিক ধারাঃ এই ধারা আধুনিকতার সূচনালগ্নকে নির্দেশ করে। এ সময়ের কবিরা প্রাচীন আরবি কাব্যের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যবিশেষত আব্বাসীয় যুগের শিল্পরীতিপুনরুজ্জীবিত করতে সচেষ্ট হন। ছন্দ, অন্ত্যমিল ও কাঠামোগত শৃঙ্খলা বজায় রেখেও তারা ভাষা ও ভাবপ্রকাশে সূক্ষ্ম নতুনত্বের সঞ্চার করেন। প্রশংসা, শোকগাথা ও আত্মগৌরবের পাশাপাশি দেশপ্রেম ও সামাজিক চেতনার সুরও এ সময়ের কবিতায় ধ্বনিত হয়। এই ধারার উজ্জ্বল প্রতিনিধি হলেন মাহমুদ সামী আল-বারুদী, আহমাশাকী এবং হাফিজ ইবরাহীম।
 
(খ) রোমান্টিক বা আবেগপ্রবণ ধারাঃ বিশ শতকের প্রথমার্ধে উদ্ভূত এই ধারা ক্লাসিক রীতির অনমনীয়তা থেকে মুক্তির এক সজীব প্রত্যয় বহন করে। এখানে কবির অন্তর্জগৎ, ব্যক্তিমানসের সূক্ষ্ম অনুভব ও আবেগময় অভিজ্ঞতা বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রকৃতির সান্নিধ্য, একাকিত্বের বেদনামিশ্রিত সৌন্দর্য, কল্পনার উন্মুক্ততাএসবই এই কবিতার প্রাণ। এই ধারার বিশিষ্ট কবিদের মধ্যে আছেন ইব্‌রাহীম নাজি, আলি মাহমুদ তাহা, মিখাইল নুয়াইমা, ইলিয়া আবু মাজী এবং খালিল মুরানযাঁদের রচনায় হৃদয়ের নিবিড় স্পন্দন ধ্বনিত হয়েছে।  
 
(গ) মুক্তছন্দ বা তাফইলা কবিতাঃ চল্লিশের দশকে আরবি কবিতা এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়। প্রচলিত পঙ্‌ক্তিবদ্ধ কাঠামো ভেঙে দিয়ে কবিরা নতুন ছন্দচেতনার অনুসন্ধানে প্রবৃত্ত হন। তাফইলাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই কবিতায় ভাবপ্রকাশ পায় অধিক স্বাধীনতা, প্রবাহমানতা ও স্বাভাবিকতা। একক অন্ত্যমিলের বাধা শিথিল হয়ে কবিতার অভিব্যক্তি হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত ও গভীর। এই নবধারার পথিকৃৎ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন বদর শাকির আ-সাইয়াব এবং নাজিক আল-মালাইকা।  
 
(ঘ) গদ্যকবিতাঃ বিশ শতকের মধ্যভাগে উদ্ভূত গদ্যকবিতা আরবি কাব্যধারায় এক ভিন্নমাত্রা যোগ করে। এখানে ছন্দ ও অন্ত্যমিলের প্রচলিত নিয়ম সম্পূর্ণরূপে পরিত্যক্ত হলেও, অন্তর্লীন সুর, চিত্রকল্প ও ভাবগভীরতা কবিতাকে স্বতন্ত্র সৌন্দর্যে উদ্ভাসিত করে। এই ধারা নিয়ে মতভেদ থাকলেও এর শিল্পমূল্য অস্বীকার করা যায় না। এই ধারার উল্লেখযোগ্য কবিদের মধ্যে রয়েছেন আদুনিস, আনসি আল-হাজ্জ, মুহাম্মদ আল-মাগুত এবং সারকুন বুলুস।
 
আধুনিক আরবি কবিতার বৈশিষ্ট্য 
আধুনিক আরবি কবিতা তার স্বাতন্ত্র্য নির্মাণ করেছে নানাবিধ বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে
(ক) রূপ ও গঠনে নবচেতনা: কবিতা প্রথাগত কাঠামোর সীমা অতিক্রম করে বহুরূপী প্রকাশভঙ্গি অর্জন করেছে।
(খ) ছন্দের বৈচিত্র্য ও স্বাধীনতা: একঘেয়ে অন্ত্যমিলের পরিবর্তে এসেছে পরিবর্তনশীল ছন্দ, এমনকি অন্তর্লীন সুরের সূক্ষ্ম ব্যবহার।
(গ) বিষয়ের ব্যাপ্তি ও গভীরতা: ব্যক্তিমানস থেকে শুরু করে সমাজ, রাজনীতি, মানবিক সংকটসবকিছুই কবিতার পরিসরে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
(ঘ) পাশ্চাত্য প্রভাবের সংমিশ্রণ: রোমান্টিকতা, প্রতীকবাদ, অতীন্দ্রিয়বাদ ও অস্তিত্ববাদ কবিতাকে নতুন দার্শনিক মাত্রা দিয়েছে।
(ঙ) প্রতীক ও ইঙ্গিতময়তা: সরল বক্তব্যের বদলে ইঙ্গিত, প্রতীক ও রূপকের মাধ্যমে ভাব প্রকাশিত হয়েছে গভীরতর ও শিল্পসম্মত ভঙ্গিতে।
(চ) ব্যক্তিসত্তার উন্মেষ: কবির ব্যক্তিগত অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা কবিতার কেন্দ্রস্থলে স্থান পেয়েছে।
(ছ) চিত্রকল্প ও কল্পনার প্রসার: সমৃদ্ধ চিত্রকল্প ও সৃজনশীল কল্পনা কবিতাকে নান্দনিক ঔজ্জ্বল্যে ভরিয়ে তুলেছে।
(জ) ভাষার অভিনব রূপ: কখনো সহজ, কখনো প্রতীকধর্মীএই দ্বৈত বৈশিষ্ট্যে আধুনিক কবিতার ভাষা হয়েছে জীবন্ত ও তাৎপর্যময়।
 
উপসংহার 
আধুনিক আরবি কবিতা এক নিরবচ্ছিন্ন অভিযাত্রার নামযেখানে অতীতের ঐতিহ্য ও বর্তমানের সৃজনশীলতা একসূত্রে গাঁথা। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এটি নিজেকে বারবার নতুনভাবে আবিষ্কার করেছে। ফলে আধুনিক মানুষের অনুভব, সংকট ও স্বপ্নকে প্রকাশ করার এক শক্তিশালী শিল্পমাধ্যম হিসেবে এটি আজও প্রাসঙ্গিক ও প্রাণবন্ত। 

Tuesday, 7 November 2023

সালেম বিন ওয়াবেসাহঃ যে যুবক অশ্লীলতাকে প্রত্যাখ্যান করে আমি তাকে ভালোবাসি


أحب الفتى ينفي الفواحش سمعه
سالم بن وابصة الأسدي 
 
أُحِبُّ الْفتَى ينْفِي الْفَوَاحِشَ سَمْعُهُ         كأَنَّ بِهِ عَنْ كُلِّ فاحِشَةٍ وَقْرَا
আমি সেই যুবককে পছন্দ করি, যার কান অশ্লীলতা প্রত্যাখ্যান করে, যেন প্রতিটি অশ্লীলতার সাথে বধিরতা রয়েছে।

سَلِيمُ دَوَاعِي الصَّدْرِ لاَ بَاسِطاً أذًى        وَلاَ مَانِعاً خيراً وَلاَ قائلاً هُجْرَا
যে হৃদয় হিংসা ও বিদ্বেষ হতে মুক্ত, ক্ষতিকর জিনিসের প্রচার করে না, ভাল জিনিসের প্রতিবন্ধক হয় না আর না অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে
 
إذا شِئتَ أنْ تُدْعَى كَرِيماً مُكَرَّماً         أديبًا ظَرِيفاً عَاقِلاً مَاجِداً حُرَّاً
তুমি যদি ইচ্ছা করো যে, তোমাকে অভিজাত, সম্মানিত, সাহিত্যিক, চতুর, বুদ্ধিমান, মর্যাদাবান এবং স্বাধীন বলে ডাকা হোক,

إذا مَا أتَتْ مِنْ صَاحِبٍ لَكَ زَلةُ          فَكُنْ أنْتَ مُحْتالاً لِزَلَّتِهِ عُذرَا
তাহলে যদি বন্ধুর পক্ষ থেকে কোন ত্রুটিবিচ্যুতি ঘটে, তুমি তার ভুলের জন্য অজুহাত সন্ধানকারী হয়ে ওঠো
 
غِنى النَّفْسِ مَا يَكْفِيكَ مِنْ سَدِّ خَلَّةٍ       فإنْ زَادَ شيْئًا عادَ ذاكَ الغِنى فقرَا
আত্মার প্রাচুর্য হল যা তোমার অভাব পূরণের জন্য যথেষ্ট। কোনো কিছু অতিরিক্ত হয়ে গেলে, সেই প্রাচুর্য অভাবে পরিণত হয়ে যায়।


Tuesday, 20 September 2022

হাফিজ ইবরাহীমঃ ইমাম মুহাম্মদ আব্দুহুর প্রতি



আমি ত্যাগ করেছি আমার পূর্বের ধারণা
যেভাবে ত্যাগ করে নিজের ধারণা কোনো স্বাধীনচেতা মানুষ
আমি পুনর্বিবেচনা করেছি, নিজে থেকে করেছি সুবিচার
একজন বিবেকবান হিসেবে তা-ই ছিল আমার কর্তব্য
 
হে আমার মুর্শিদ, আমি কুড়ি দিন-কুড়ি রাত
আপনার সাহচর্য লাভ করেছি, দুচোখ ভরে
দেখেছি আপনার কার্যকলাপ
ছুঁয়ে দেখেছি আপনার বিশ্বাস
স্পর্শ করেছি আপনার চেতনা
যার পরনায় স্থিরতা লাভ করেছে আমার ঈমান  
পূর্বে যা  ডুবে ছিল দ্বিধাদ্বন্দের গহ্বরে।
আমি যখন যাত্রা শুরু করি
আমার চারপাশ ছিল নৈরাশ্যের অন্ধকারে মোড়া
কিন্তু যখন ফিরে এলাম
বুকের ভেতর বইছে ধৈর্যের স্রোত
দুচোখের পাতায় ভিড় করছে স্বপ্নেরা 
ওই নৌবিহারে ইম্‌রান পুত্র মূসার (আঃ) মতো
আমি শিখছিলাম বহু কিছু প্রতিনিয়ত
যেন আপনি আমার খিজির (আঃ)
সূরা কাহাফ জুড়ে রয়েছে যার বিবরণ।   
 
মুর্শিদ, আপনার সান্নিধ্য পেয়ে আমি মুগ্ধ
আমার হৃদয় বিলীন হয়ে গেছে আপনার ভালোবাসায়
যেভাবে সূচ হারিয়ে যায় গভীর সমুদ্রে;  
তবে আমি যদি কভু অপথে হাটি বা কুপথ ধরি  
আপনিই দিশা দেবেন আমাকে সুপথের  
মুর্শিদ, আমি মুগ্ধ আপনার আদর্শে
বিমোহিত আপনার কাজকর্ম দেখে
আর তাই আমার কলম
বুনে চলেছে শব্দমাল্য আপনার প্রশংসায়
যেন কোনো সাজদাবনত উপাসক
আল্লাহ্‌র ভয়ে অঝোরে অশ্রুপাত করছে 
আপনার চতুর্দিকে আবর্তিত হচ্ছে
জনসাধারণের আশা-আকাঙ্খা-স্বপ্ন
যেন আপনি এক স্বচ্ছ জলাধার, যার চারপাশে
ডানা মেলে উড়ে বেড়াচ্ছে অসংখ্য পাখপাখালি
মুর্শিদ, আপনার জ্ঞানালোকে
উদ্ভাসিত হয়েছে আমার মন
উদ্ভাসিত হয়েছে আমার চেতনা
দিশা পেয়েছে আমার কর্মকথা
তাই সারাক্ষণ আমি কুড়িয়ে চলেছি
আপনার মুখনিঃসৃত কুঁড়ি, ফুল ও ফল
আর আপনার প্রশংসার কুঁড়ি দিয়েআমার এ হৃদয়
প্রস্তুত করেছে এক পুষ্প স্তবক
যার দিকে দেখে ধাধিয়ে গেছে বসন্তের চোখ।
প্রত্যেক সকালে তাকে সঙ্গে নিয়ে
প্রবাহিত হচ্ছে মৃদু-মন্দ বাতাস
আর যখন ওই বাতাস অতিক্রম করছে উদ্যানগুলির ওপর দিয়ে
মেতে উঠছে সেই উদ্যানগুলি তার সুগন্ধে
 
হে সঠিক পথের দিশারী, আমি দেখছি
লোকেরা আবিষ্কার করেছে নিজেদের জন্য বহু রীতি
যে রীতিগুলি ইসলামের শাশ্বত রীতি হতে ভিন্ন।
তারা মনে করছে, মৃতদের কবরে
তাদের জন্য রয়েছে জীবনের রসদ
আর তাই সমাধিগুলির পরিক্রমা করছে তারা
সেখানে বসে মানত ও আহাজারি করছে
সময় অতিবাহিত করছে, কারণ তারা
নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে ওই কবরগুলোর প্রতি
যে করে প্রাক-ইসলামী যুগে মক্কার লোকেরা  
নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল একাধিক মূর্তির প্রতি
লাত, মানাত, হুবল ও উজ্জার প্রতি;  
মুর্শিদ, আপনি এ মানুষগুলোকে  
আলোর পথ দেখিয়ে দিন, যাতে তারা
আপনার জ্ঞানের ছোঁয়া পেয়ে উন্নতি করে
ভুলত্রুটিগুলো শুধরে নিয়ে
নিজেদেরকে ক্ষমার যোগ্য করে তোলে
ঠিক যেভাবে সূর্য সমুদ্রের নোনাজলকে
সুপেয় পানিতে পরিনত করে
কারণ আপনিই তাদের সূর্য।
 
শুধু কি তা-, নাহ্‌!
আপনি দানশীল, ক্ষমাকারী
আপনি ন্যায়পরায়ণ, আর তাই
চারিদিকে আপনার শত্রু প্রচুর  
তবে আপনি বিদ্বেষ পোষণ করেন না কারুরই প্রতি 
বরং উপকার করেন সবার
এমনকি যারা ঘৃণা করে তাদেরও।
আর তাই আপনার জন্য বরাদ্দ রয়েছে এক বিশেষ স্থান
আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জনের ক্ষেত্রে
পরোপকার করুনার ক্ষেত্রে
যেন আপনার মুখমণ্ডলে
জামালুদ্দীন আফগানীর আভা
আর আপনার আলোয়ানে ভাস্বর হয়ে আছেন  
মহা তাপস  আহনাফ বিন কায়েস।
আমি লক্ষ্য করেছি, আপনার ফাতওয়া
কখনো কাউকে রাগান্বিত করে না।
আপনার ফাতওয়া ও জ্ঞানে যে
রয়েছে নবী ইউসুফের (আঃ) ছোঁয়া।
কি প্রাচ্য কি পাশ্চাত্য, যেখানেই থাকুক
কোনো দোদুল্যমান দ্বিধাগ্রস্থ ব্যাক্তি
আপনার জ্ঞান ও নির্দেশনা
তাঁকে পথ দেখাবার জন্য যথেষ্ট
কারণ, আপনি অর্জন করেছেন এমন পূর্ণতা
যদি তা স্পর্শ করে কোনো প্রকম্পিত ব্যাক্তির অবিশ্বাসকে
তাহলে সেও হয়ে যায় ধর্মপরায়ণ
হয়ে যায় নিষ্কলুষ ইমানদার
 
ভাবানুবাদআব্দুল মাতিন ওয়াসিম 


সরল অনুবাদঃ
আমি ভুল ধারণাগুলি পরিত্যাগ করেছি। আর স্বাধীন মুক্তচিন্তক ব্যাক্তি অনেক ক্ষেত্রে নিজ ধারণা পরিবর্তন করে। আমি নিজের থেকে সুবিচার করেছি, আর বিবেকবানেরা সুবিচার করে।
আমি কুড়ি দিন রাত (সেই) পথপ্রদর্শকের সাহচর্য সান্যিধ্য লাভ করলাম, ফলে আমার বিশ্বাস যা পূর্বে অস্থির ছিল স্থির হয়ে গেল।
অতঃপর আমি যাত্রা শুরু করলাম এমত অবস্থায় যে, আমার মনের মধ্যে নৈরাশ্যের একটি তরবারি বিরাজ করছিল। আর আমি ফিরে আসলাম এমত অবস্থায় যে আমার মনে গহীনে রচিত হয়ে গেছিল ধৈর্যের এক মহাগ্রন্থ।
আমি ইমরান-তনয় মুসা আঃ-এর মত শিক্ষার্থীতে পরিনত হয়েছিলাম, আর তিনি ছিলেন সূরা কাহাফে বর্ণীত সেই ব্যাক্তির ন্যায়।
আমার হৃদয় এমন এক সুচে পরিনত হয়েছিল যেটি আপনার প্রেমে নিমজ্জিত হয়ে পরেছিল। আমি যদি বিচ্যুত হই আপনি আমাকে ক্ষমা করবেন।
আমার কলম (মন মতামত) আপনার প্রশংসায় এমন এক সাজদাবনত ব্যাক্তির ন্যায়, আল্লাহ্‌র ভয়ে যার অশ্রু প্রবাহিত হয়।
এমত অবস্থায় যে আপনার চতুর্দিকে (জনসাধারণের) আশা-আকাঙ্খা আবর্তিত হচ্ছে- আপনি যেন এমন স্বচ্ছ জলের ন্যায় যার উভয় পাশে পাখীরা ডানা মেলে উড়ে বেড়ায়।
আমার মনের মণিকোঠায় আমার অভিমত, আমার কর্ম আমার কথা উদ্ভাসিত হয়েছে। তাই আমার মন (তাঁর নিকট থেকে) ফল ফুল চয়ন করতে করতে রাত্রি অতিবাহিত করেছে।
আর আপনার প্রশংসার কুঁড়ি দিয়ে তা (আমার মন) এমন এক পুষ্প স্তবক প্রস্তুত করেছে, যার দিকে দেখে বসন্ত চোখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
প্রত্যেক সকালে তাকে সঙ্গে নিয়ে মৃদু-মন্দ বায়ু প্রবাহিত হয় এবং অতিক্রম করে উদ্যানগুলির ওপর দিয়ে, তখন উদ্যানগুলিও (তার সুগন্ধে) সুগন্ধময় হয়ে ওঠে।
হে সঠিক পথের দিশারী, আমি লোকেদেরকে দেখছি তারা নিজেদের জন্য এমন কিছু নতুন রীতি আবিষ্কার করে নিয়েছে যা হতে ইসলামী শরিয়ত সম্পূর্ণ রূপে পৃথক।
তারা মনে করছে মৃতদের কবরেই তাদের জন্য জীবন-রসদ রয়েছে। তাই তারা সেই কবর বা সমাধিগুলির নিকট যাচ্ছে এবং তার পরিক্রমা করছে।
এবং সেই কবরগুলির ওপর নির্ভরশীল হয়ে তারা সময় অতিবাহিত করছে, যেন তারা প্রাক-ইসলামী যুগের মূর্তিগুলির উপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
তাই সেই মানুষগুলিকে সঠিক জ্ঞান দান করুন,  যাতে তারা আপনার জ্ঞানের আলো পেয়ে উন্নতি করতে পারে এবং ক্ষমার যোগ্য হয়।
যেমন সমুদ্রের জন্য সূর্য তেমনই তাদের জন্য আপনি,  সূর্য লবণাক্ত খারা পানিকে সুপেয় পানিতে পরিনত করে অতঃপর তা পান করা হয়।
আপনি অধিক দানশীল, ক্ষমাকারী ন্যায়বিচারক। যদিও আপনার প্রচুর শত্রু, কিন্তু আপনি বিদ্বেষমুক্ত পরোপকারী।
প্রত্যেক দিন তাঁর জন্য আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জনে একটি বিশেষ স্থান রয়েছে এবং পরোপকার করুনার ক্ষেত্রেও একটি বিশেষ স্থান।
যেন তাঁর মুখমণ্ডলের আলোয় জামালুদ্দীন আফগানী উদ্ভাসিত এবং তাঁর পরিধেয় বস্ত্রাদির মাঝে আহনাফ বিন কায়েস আলোকিত।
আমি মনে করি, আপনি ফাতওয়া প্রদানের ক্ষেত্রে কোনও বিবেকবানকে রাগান্বিত করেন না;  যেন আপনি ফাতওয়া জ্ঞানের ব্যাপারে ইয়সুফ ()-এর মতো।
যদি প্রাচ্যে কোনও প্রকম্পিত ও দ্বিধাগ্রস্থ ব্যাক্তি দাঁড়ায় তার জন্যও আপনি এবং তার জন্যও যদি পাশ্চাত্যে কোনও প্রকম্পিত ব্যাক্তি দাঁড়ায়।
আপনি এমন পরিপূর্ণতা অর্জন করেছেন যে তা যদি সেই প্রকম্পিত ব্যাক্তির অবিশ্বাসকে স্পর্শ করে তাহলে সে একনিষ্ঠ বিশ্বাসী অর্থাৎ ইমানদারে পরিনত হবে।


إلى الأستاذ الإمام الشيخ محمد عبده[1]
شاعر النيل حافظ إبراهيم
 
صَدَفتُ عَنِ الأَهواءِ وَالحُرُّ يَصدِفُ       وَأَنصَفتُ مِن نَفسي وَذو اللُبِّ يُنصِفُ 
صَحِبتُ الهُدى عِشرينَ يَوماً وَلَيلَةً                فَقَرَّ يَقيني بَعدَما كانَ يَرجُفُ
فَرُحتُ وَفي نَفسي مِنَ اليَأسِ صارِمٌ       وَعُدتُ وَفي صَدري مِنَ الحِلمِ مُصحَفُ
وَكُنتُ كَما كانَ اِبنُ عِمرانَ ناشِئاً         وَكانَ كَمَن في سورَةِ الكَهفِ يوصَفُ
كَأَنَّ فُؤادي إِبرَةٌ قَد تَمَغطَسَت             بِحُبِّكَ أَنّى حُرِّفَت عَنكَ تَعطِفُ
كَأَنَّ يَراعي في مَديحِكَ ساجِدٌ             مَدامِعُهُ مِن خَشيَةِ اللَهِ تَذرِفُ
كَأَنَّكَ وَالآمالُ حَولَكَ حُوَّمٌ                نَميرٌ عَلى عِطفَيهِ طَيرٌ تُرَفرِفُ
وَأَزهَرَ في طِرسي يَراعي وَأَنمُلي          وَلَفظي فَباتَ الطِرسُ يَجني وَيَقطِفُ
وَجَمَّعَ مِن أَنوارِ مَدحِكَ طاقَةً             يُطالِعُها طَرفُ الرَبيعِ فَيُطرَفُ
تَهادى بِها الأَرواحُ في كُلِّ سُحرَةٍ         وَتَمشي عَلى وَجهِ الرِياضِ فَتَعرُفُ
إِمامَ الهُدى إِنّي أَرى القَومَ أَبدَعوا         لَهُم بِدَعاً عَنها الشَريعَةُ تَعزِفُ
رَأَوا في قُبورِ المَيِّتينَ حَياتَهُم             فَقاموا إِلى تِلكَ القُبورِ وَطَوَّفوا
وَباتوا عَلَيها جاثِمينَ كَأَنَّهُم               عَلى صَنَمٍ لِلجاهِلِيَّةِ عُكَّفُ
فَأَشرِق عَلى تِلكَ النُفوسِ لَعَلَّها           تَرِقُّ إِذا أَشرَقتَ فيها وَتَلطُفُ
فَأَنتَ بِهِم كَالشَمسِ بِالبَحرِ إِنَّها          تَرُدُّ الأُجاجَ المِلحَ عَذباً فَيُرشَفُ
كَثيرُ الأَيادي حاضِرُ الصَفحِ مُنصِفٌ    كَثيرُ الأَعادي غائِبُ الحِقدِ مُسعِفُ
لَهُ كُلَّ يَومٍ في رِضى اللَهِ مَوقِفٌ          وَفي ساحَةِ الإِحسانِ وَالبِرِّ مَوقِفُ
تَجَلّى جَمالُ الدينِ في نورِ وَجهِهِ         وَأَشرَقَ في أَثناءِ بُردَيهِ أَحنَفُ
رَأَيتُكَ في الإِفتاءِ لا تُغضِبُ الحِجا       كَأَنَّكَ في الإِفتاءِ وَالعِلمِ يوسُفُ
فَأَنتَ لَها إِن قامَ في الشَرقِ مُرجِفٌ       وَأَنتَ لَها إِن قامَ في الغَربِ مُرجِفُ
كَمُلتَ كَمالاً لَو تَناوَلَ كُفرَهُ               لَأَصبَحَ إيماناً بِهِ يُتَحَنَّفُ

[1]  كان يزعم الشاعر حافظ إبراهيم عن الإمام محمد عبده، بأنه زعيم سياسي ومصلح اجتماعي يريد إصلاح القوم والشعب المصري على نهج الأوربا فظل يكرهه. لكن لمّا تشرف بمعيته في رحلة بحرية استغرقت نحو عشرين يوما، رجع عن ظنه فمدحه لجهوده المتواصلة في إصلاح قومه على الأساس الإسلامي والقيم الدينية بهذه المنظومة. والتمس من الشيخ للقيام بدعوته الإصلاحية هذه متواصلا. وهذه المنظومة في بحر الطويل.