Pages

Showing posts with label আল্‌-কুরআনের ভাবানুবাদ. Show all posts
Showing posts with label আল্‌-কুরআনের ভাবানুবাদ. Show all posts

Friday, 29 July 2022

আল-কুরআনের ভাবানুবাদঃ (৭২) সূরাতু আল্‌-জিন্‌ (জিন জাতি)


 

৭২) সূরাতু আল্‌-জিন্‌ (জিন জাতি)জিন

মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ২৮, রুকু’ ২  

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অতীব দয়ালু মহান আল্লাহ্‌র নামে (আরম্ভ করছি)
 

قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا

(মুহাম্মদ সাঃ) তুমি বলে দাও, আমার প্রতি ওহী (প্রত্যাদেশ) অবতীর্ণ করা হয়েছে যে, জিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে কোরআন শ্রবণ করেছে, অতঃপর তারা বলেছেঃ আমরা এক বিস্ময়কর আবৃত্তি ও পাঠ শ্রবণ করেছি;

يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ وَلَن نُّشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا

যা সৎ পথ প্রদর্শন ও নির্দেশ করে। ফলে আমরা তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আর আমরা কখনও আমাদের পালনকর্তার সাথে কাউকে শরীক ও অংশীদার স্থাপন করবো না।

وَأَنَّهُ تَعَالَى جَدُّ رَبِّنَا مَا اتَّخَذَ صَاحِبَةً وَلَا وَلَدًا

(আরও বিশ্বাস করি যে,) আমাদের পালনকর্তা, তাঁর মহান মর্যাদা সবার উর্ধ্বে, তিনি না তো কোনো স্ত্রী গ্রহণ করেছেন আর না তাঁর কোনো সন্তান আছে।

وَأَنَّهُ كَانَ يَقُولُ سَفِيهُنَا عَلَى اللَّهِ شَطَطًا

তবে আমাদের মধ্য থেকে কিছু নির্বোধ (যেমন ইবলিশ শয়তান ও তার অনুগামীরা) মহান আল্লাহ সম্পর্কে বাড়াবাড়ি করতো এবং সর্বৈব মিথ্যা কথা বলতো।

وَأَنَّا ظَنَنَّا أَن لَّن تَقُولَ الْإِنسُ وَالْجِنُّ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا

অথচ আমরা মনে করতাম, মানুষ ও জিন কখনও মহান আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলতে পারে না।

وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الْإِنسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا

তাছাড়া কিছু মানুষ কতক জিনের আশ্রয় নিত, আর তারা অর্থাৎ জিনেরা ওই মানুষদের আত্মম্ভরিতা, পাপাচারিতা ও সীমালঙ্ঘন আরও বাড়িয়ে দিত।

وَأَنَّهُمْ ظَنُّوا كَمَا ظَنَنتُمْ أَن لَّن يَبْعَثَ اللَّهُ أَحَدًا

তারাও ধারণা করতো যেমন তোমরা ধারণা করতে যে, মহান আল্লাহ্‌ আর কাউকেই (রাসূল অর্থাৎ বার্তাবাহক করে মানুষ ও জিনেদের নিকট) পাঠাবেন না।

وَأَنَّا لَمَسْنَا السَّمَاء فَوَجَدْنَاهَا مُلِئَتْ حَرَسًا شَدِيدًا وَشُهُبًا

আর আমরা আকাশমণ্ডলীকে স্পর্শ ও পর্যবেক্ষণ করেছি; আমরা দেখেছি, আকাশ কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিন্ড দ্বারা পরিপূর্ণ হয়ে আছে।

وَأَنَّا كُنَّا نَقْعُدُ مِنْهَا مَقَاعِدَ لِلسَّمْعِ فَمَن يَسْتَمِعِ الْآنَ يَجِدْ لَهُ شِهَابًا رَّصَدًا

পূর্বে আমরা আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সংবাদ শ্রবণার্থে বসে থাকতাম। কিন্তু এখন কেউ সংবাদ শুনতে গেলে দেখে, জলন্ত উল্কাপিন্ড ওঁৎ পেতে আছে।

وَأَنَّا لَا نَدْرِي أَشَرٌّ أُرِيدَ بِمَن فِي الْأَرْضِ أَمْ أَرَادَ بِهِمْ رَبُّهُمْ رَشَدًا

আমরা জানি না, পৃথিবীবাসীদের অমঙ্গল সাধন করার কোনো অভীষ্ট রয়েছে, না তাদের পালনকর্তা তাদের মঙ্গল সাধনের ইচ্ছা করেছেন।

وَأَنَّا مِنَّا الصَّالِحُونَ وَمِنَّا دُونَ ذَلِكَ كُنَّا طَرَائِقَ قِدَدًا

আমাদের মধ্যে কিছু জন ছিল সৎ কর্মপরায়ণ আর কিছু জন ছিল অসৎ। সত্যি বলতে, আমরা বিভিন্ন পথে বিভক্ত ছিলাম।

وَأَنَّا ظَنَنَّا أَن لَّن نُّعجِزَ اللَّهَ فِي الْأَرْضِ وَلَن نُّعْجِزَهُ هَرَبًا

আর আমরা বুঝতে পেরেছি যে, আমরা পৃথিবীতে মহান আল্লাহকে কোনোভাবেই পরাস্ত ও পরাভূত করতে পারবো না এবং কোথাও পালিয়ে গিয়েও তাঁকে অপারক ও অক্ষম করতে পারবো না।

وَأَنَّا لَمَّا سَمِعْنَا الْهُدَى آمَنَّا بِهِ فَمَن يُؤْمِن بِرَبِّهِ فَلَا يَخَافُ بَخْسًا وَلَا رَهَقًا

ফলে আমরা যখন সুপথের নির্দেশ (অর্থাৎ কুরআন-পাঠ) শুনলাম, আমরা তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম। আর যে তার পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, সে যেন (তাঁর সৎ কর্মের বিনিময় প্রাপ্তির ক্ষেত্রে) কোনো ক্ষয়ক্ষতি ও (ভুলত্রুটির শাস্তির ক্ষেত্রে) কোনোরকম বৃদ্ধির আশংকা না করে।

وَأَنَّا مِنَّا الْمُسْلِمُونَ وَمِنَّا الْقَاسِطُونَ فَمَنْ أَسْلَمَ فَأُوْلَئِكَ تَحَرَّوْا رَشَدًا

আর আমাদের কিছুজন আজ্ঞাবহ হয়েছেন এবং কিছুজন অন্যায়কারী। তবে যারা আজ্ঞাবহ হয়েছে তারাই সৎ পথ বেছে নিয়েছে।

وَأَمَّا الْقَاسِطُونَ فَكَانُوا لِجَهَنَّمَ حَطَبًا

আর যারা অন্যায়কারী, তারা তো জাহান্নামেরই ইন্ধন।

وَأَلَّوِ اسْتَقَامُوا عَلَى الطَّرِيقَةِ لَأَسْقَيْنَاهُم مَّاء غَدَقًا

এবং এই প্রত্যাদেশও অবতীর্ণ করা হয়েছে যে, তারা যদি সত্য পথে অবিচল থাকতো, তাহলে আমি অবশ্যই তাদেরকে প্রচুর বর্ষণের মাধ্যমে সিক্ত ও সমৃদ্ধ করতাম।

لِنَفْتِنَهُمْ فِيهِ وَمَن يُعْرِضْ عَن ذِكْرِ رَبِّهِ يَسْلُكْهُ عَذَابًا صَعَدًا

যাতে এ ব্যাপারে তাদেরকে পরীক্ষা করি। আর যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার স্মরণ ও উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তিনি তাকে কঠিন শাস্তিতে নিক্ষেপ করবেন।

وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا

এবং এই প্রত্যাদেশও দেওয়া হয়েছে যে, মসজিদসমূহ (অর্থাৎ সকল প্রকার আরাধনা ও স্তুতি) কেবল আল্লাহরই জন্য। অতএব তোমরা আল্লাহর সাথে কাউকেই ডেকো না।

وَأَنَّهُ لَمَّا قَامَ عَبْدُ اللَّهِ يَدْعُوهُ كَادُوا يَكُونُونَ عَلَيْهِ لِبَدًا

আর যখন আল্লাহর বান্দা (অর্থাৎ নবী মুহাম্মদ সাঃ) তাঁকে ডাকার জন্য দাঁড়ায়, তখন অনেক জিন তাঁর কাছে (তাঁর কুরআন পাঠ শোনার জন্য) ভিড় জমায়।

قُلْ إِنَّمَا أَدْعُو رَبِّي وَلَا أُشْرِكُ بِهِ أَحَدًا

(হে মুহাম্মদ সাঃ) তুমি বলে দাও, আমি তো আমার পালনকর্তাকেই ডাকি এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করি না।

قُلْ إِنِّي لَا أَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّا وَلَا رَشَدًا

আরও বলে দাও, আমার কোনো ক্ষমতা নেই, না তোমাদের অনিষ্ট করার আর না তোমাদেরকে সুপথে চালিত করার।

قُلْ إِنِّي لَن يُجِيرَنِي مِنَ اللَّهِ أَحَدٌ وَلَنْ أَجِدَ مِن دُونِهِ مُلْتَحَدًا

আরও বলে দাও, আল্লাহর কবল থেকে আমাকে কেউই রক্ষা করতে পারবে না এবং আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কারও কাছে আমি কোনো আশ্রয়স্থল পাবো না।

إِلَّا بَلَاغًا مِّنَ اللَّهِ وَرِسَالَاتِهِ وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا

তবে, আল্লাহর বাণী পৌছানো ও তাঁর পয়গাম প্রচার করাই আমার কাজ। আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করে, তাদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাতে তারা থাকবে অনন্তকাল।

حَتَّى إِذَا رَأَوْا مَا يُوعَدُونَ فَسَيَعْلَمُونَ مَنْ أَضْعَفُ نَاصِرًا وَأَقَلُّ عَدَدًا

এমনকি যখন তারা প্রতিশ্রুত শাস্তি দেখতে পাবে, তখন তারা জানতে পারবে, প্রকৃতপক্ষে কার সাহায্যকারী দূর্বল এবং কার সংখ্যা কম।

قُلْ إِنْ أَدْرِي أَقَرِيبٌ مَّا تُوعَدُونَ أَمْ يَجْعَلُ لَهُ رَبِّي أَمَدًا

তুমি বলে দাও, আমি জানি না তোমাদের প্রতিশ্রুত বিষয় আসন্ন না আমার পালনকর্তা এর জন্য কোনো দীর্ঘ মেয়াদ স্থির করে রেখেছেন।

عَالِمُ الْغَيْبِ فَلَا يُظْهِرُ عَلَى غَيْبِهِ أَحَدًا

(আর আমার প্রভু,) তিনিঅদৃশ্যের জ্ঞানী। তিনি তাঁর অদৃশ্য বিষয় কারও কাছে প্রকাশ করেন না।

إِلَّا مَنِ ارْتَضَى مِن رَّسُولٍ فَإِنَّهُ يَسْلُكُ مِن بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ رَصَدًا

তবে তাঁর মনোনীত নবী-রসূলদের নিকট (কিছু অদৃশ্য বিষয়ে যতটুকু তিনি চান প্রকাশ করেন)। আর তিনি তাদের অগ্রে পশ্চাতে প্রহরী নিযুক্ত করেন।

لِيَعْلَمَ أَن قَدْ أَبْلَغُوا رِسَالَاتِ رَبِّهِمْ وَأَحَاطَ بِمَا لَدَيْهِمْ وَأَحْصَى كُلَّ شَيْءٍ عَدَدًا

যাতে তিনি যাচাই করে নেন যে, নবী-রসূলগণ তাঁদের পালনকর্তার পয়গাম ও বার্তা (লোকেদের নিকট) পৌঁছে দিয়েছেন কি না। আর নবী-রসূলগণের কাছে যা কিছু আছে সবই তাঁর জ্ঞান-গোচরে রয়েছে। এবং তিনি সবকিছুর সংখ্যা সহ বিস্তারিত হিসেব রাখেন।

ভাবানুবাদ- আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

Tuesday, 31 May 2022

আল-কুরআনের ভাবানুবাদঃ (৭৪) সূরাতু আল্‌-মুদ্‌দাস্‌সির (চাদরাবৃত ব্যক্তি)

 


৭৪) সূরাতুল্‌-মুদ্‌দাস্‌সির (চাদরাবৃত ব্যক্তি)
মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৫৬, রুকু
 
بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
আল্লাহর নামে, যিনি পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু (আরম্ভ করছি)
 
يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ
হে চাদরাবৃত (মুহাম্মদ সাঃ)!
قُمْ فَأَنذِرْ
ওঠো এবং (জনসাধারণকে সত্য-মিথ্যা ও ন্যায়-অন্যায় সম্পর্কে) সতর্ক করো; 
وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ
এবং তোমার প্রভুর মহিমা ও মাহাত্ম্য ঘোষনা করো;
وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ
নিজ অন্তর ও আচ্ছাদন পবিত্র করো;
وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ
এবং যাবতীয় অপবিত্রতা হতে দূরে থাকো।
وَلَا تَمْنُن تَسْتَكْثِرُ
তবে অধিক প্রতিদান পাওয়ার আশায় দান করো না।
وَلِرَبِّكَ فَاصْبِرْ
বরং নিজ পালনকর্তার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে ধৈর্য ধারণ করো।
فَإِذَا نُقِرَ فِي النَّاقُور
যেদিন শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে;
فَذَلِكَ يَوْمَئِذٍ يَوْمٌ عَسِيرٌ
সেদিনটি অত্যন্ত কঠিন ও সংকটের দিন;
عَلَى الْكَافِرِينَ غَيْرُ يَسِيرٍ
অবিশ্বাসীদের জন্য (তার সংকট) মোটেও সহজ নয়।
ذَرْنِي وَمَنْ خَلَقْتُ وَحِيدًا
তাকে আমার হাতে ছেড়ে দাও, যাকে আমি একাই অনন্য করে সৃষ্টি করেছি;
وَجَعَلْتُ لَهُ مَالًا مَّمْدُودًا
অতঃপর বিপুল ধন-সম্পদ দিয়েছি;
وَبَنِينَ شُهُودًا
এবং সদাসঙ্গী পুত্রবর্গ দিয়েছি;
وَمَهَّدتُّ لَهُ تَمْهِيدًا
তাকে বিপুল ভাবে আর্থিক সচ্ছলতা প্রদান করেছি;
ثُمَّ يَطْمَعُ أَنْ أَزِيدَ
তারপরও সে আশা করে, যেন আমি তাকে আরও বেশী দিই।
كَلَّا إِنَّهُ كَانَ لِآيَاتِنَا عَنِيدًا
কখনই নয়! সে আমার নিদর্শনসমূহের বিরুদ্ধাচরণ করেছে।
سَأُرْهِقُهُ صَعُودًا
অতিসত্ত্বর আমি তাকে শাস্তির পাহাড়ে আরোহণ করাবো।
إِنَّهُ فَكَّرَ وَقَدَّرَ
সে চিন্তা করেছে এবং মনঃস্থির করেছে;
فَقُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ
ধ্বংস হোক সে, কীভাবে সে এমন বিষয়ে মনঃস্থির করেছে!
ثُمَّ قُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ
নিপাত যাক সে, কীভাবে সে এমন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে!
ثُمَّ نَظَرَ
সে পুনরায় দৃষ্টিপাত করেছে;
ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ
অতঃপর ভ্রূকুঞ্চিত এবং মুখ বিকৃত করেছে;
ثُمَّ أَدْبَرَ وَاسْتَكْبَرَ
অতঃপর পৃষ্ঠপ্রদশন এবং অহংকার করেছে।
فَقَالَ إِنْ هَذَا إِلَّا سِحْرٌ يُؤْثَرُ
তারপর এই বলে মন্তব্য করেছে যে,টা লোক-পরম্পরায় প্রাপ্ত জাদু বৈ আর কিছুই নয়;
إِنْ هَذَا إِلَّا قَوْلُ الْبَشَر
টা তো আদ্যোপান্ত মানুষেরই উক্তি।
سَأُصْلِيهِ سَقَرَ
আমি তাকে নিক্ষেপ করবো সাক়ার নামক নরকে।
وَمَا أَدْرَاكَ مَا سَقَرُ
সাক়ার সম্পর্কে তুমি কী জানো?
لَا تُبْقِي وَلَا تَذَرُ
সাক়ার এমন এক জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ড যা (নিক্ষিপ্তকে) অক্ষত রাখবে না এবং ছেড়েও দেবে না।
لَوَّاحَةٌ لِّلْبَشَر
বরং মানুষকে দগ্ধ করবে (তাদের শরীরের মাংস-চামড়া সব ঝলসে দেবে)।
عَلَيْهَا تِسْعَةَ عَشَرَ
ই সাক়ার নরকে নিয়োজিত রয়েছে উনিশ জন (ফেরেশতা প্রহরী রূপে)।
وَمَا جَعَلْنَا أَصْحَابَ النَّارِ إِلَّا مَلَائِكَةً وَمَا جَعَلْنَا عِدَّتَهُمْ إِلَّا فِتْنَةً لِّلَّذِينَ كَفَرُوا لِيَسْتَيْقِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَيَزْدَادَ الَّذِينَ آمَنُوا إِيمَانًا وَلَا يَرْتَابَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَالْمُؤْمِنُونَ وَلِيَقُولَ الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ وَالْكَافِرُونَ مَاذَا أَرَادَ اللَّهُ بِهَذَا مَثَلًا كَذَلِكَ يُضِلُّ اللَّهُ مَن يَشَاء وَيَهْدِي مَن يَشَاء وَمَا يَعْلَمُ جُنُودَ رَبِّكَ إِلَّا هُوَ وَمَا هِيَ إِلَّا ذِكْرَى لِلْبَشَر
আমি ফেরেশ্‌তাদেরকে জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক ও প্রহরী করেছি। এবং কাফের ও অবিশ্বাসীদেরকে পরীক্ষা করার জন্যেই আমি ফেরেশ্‌তাদের এই সংখ্যা উল্লেখ করেছি; যাতে আসমানি গ্রন্থের অনুসারীদের দৃঢ়বিশ্বাস জন্মে এবং বিশ্বাসীদের ঈমান বৃদ্ধি পায় আর তারা উভয়ে অর্থাৎ আহ্‌লু কিতাব ও মুমিনরা এতে সন্দেহ পোষণ না করে; এবং যাতে অন্তরে রোগ আছে এমন লোকেরা এবং অবিশ্বাসীরা বলে যে, আল্লাহ এর দ্বারা কী বোঝাতে চেয়েছেন। এভাবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে চালিত করেন। আর তোমার প্রভুর বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন;ই বর্ণনা ও উল্লেখ তো মানুষের জন্য কেবলই উপদেশ স্বরূপ।
كَلَّا وَالْقَمَر
কখনই নয়, চন্দ্রের শপথ;
وَاللَّيْلِ إِذْ أَدْبَرَ
এবং রাতের শপথ যখন তার অবসান ঘটে;
وَالصُّبْحِ إِذَا أَسْفَرَ
এবং ঊষার শপথ যখন তা আলোকোদ্ভাসিত হয়;
إِنَّهَا لَإِحْدَى الْكُبَر
নিশ্চয় জাহান্নাম গুরুতর বিপদসমূহের মধ্যে অধিক ভয়াবহ;
نَذِيرًا لِّلْبَشَر
সকল মানুষের জন্য সতর্ককারী;
لِمَن شَاء مِنكُمْ أَن يَتَقَدَّمَ أَوْ يَتَأَخَّرَ
তোমাদের মধ্যে যারা অগ্রসর হতে চায় বা যারা পিছিয়ে পড়ে সবার জন্য।
كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ
প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের কাছে দায়বদ্ধ;
إِلَّا أَصْحَابَ الْيَمِين
কেবল ডানপন্থীরা ছাড়া (যাঁদেরকে মহাপ্রলয়ের দিন কৃতকর্মের ফলাফল তাঁদের ডান হাতে প্রদান করা হবে);
فِي جَنَّاتٍ يَتَسَاءلُونَ
তারা জান্নাতে ঠাই পাবে এবং (সেখানে) জিজ্ঞাসাবাদ করবে;
عَنِ الْمُجْرِمِينَ
অপরাধীদেরকে তাদের অবস্থান সম্পর্কে—  
مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ
(তোমাদের) কোন্‌ কাজ ও বিষয়গুলো তোমাদেরকে এই সাক়ার জাহান্নামে নিক্ষেপ করেছে?
قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ
তারা উত্তরে বলবে আমরা নামাজী ছিলাম না;
وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ
আমরা অভাবগ্রস্তকে আহার্য্য দিতাম না;
وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ الْخَائِضِينَ
আমরা (স্রোতে গা ভাসিয়ে) সমালোচকদের সাথে সমালোচনা করতাম;
وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّين
এবং প্রতিফল প্রদানের (এই) মহা দিবসকে অস্বীকার করতাম।
حَتَّى أَتَانَا الْيَقِينُ
আর এ অবস্থাতেই একদিন মৃত্যু আমাদেরকে আক্রান্ত করলো।
فَمَا تَنفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِينَ
(সেদিন) সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোনও উপকারে আসবে না।
فَمَا لَهُمْ عَنِ التَّذْكِرَةِ مُعْرِضِينَ
তাদের কী এমন হল যে, তারা উপদেশ বাণী (পবিত্র আল্‌-কুর্‌আন) থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে?
كَأَنَّهُمْ حُمُرٌ مُّسْتَنفِرَةٌ
যেন তারা কোনো ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত গর্দভের দল;
فَرَّتْ مِن قَسْوَرَةٍ
যা হট্টগোলের কারণে সিংহের সম্মুখ হতে পলায়নপর।
بَلْ يُرِيدُ كُلُّ امْرِئٍ مِّنْهُمْ أَن يُؤْتَى صُحُفًا مُّنَشَّرَةً
বরং তাদের প্রত্যেকেই চায় যে, তাদের প্রত্যেককে একটি করে উম্মুক্ত গ্রন্থ দেয়া হোক।
كَلَّا بَل لَا يَخَافُونَ الْآخِرَةَ
কখনই নয়, বরং তারা পরকালকে ভয় করে না।
كَلَّا إِنَّهُ تَذْكِرَةٌ
কখন না, এটা (অর্থাৎ আল-কুরআন) তো উপদেশ মাত্র।
فَمَن شَاء ذَكَرَهُ
অতএব যার ইচ্ছা হবে সে এর থেকে অবশ্যই উপদেশ গ্রহণ করবে।
وَمَا يَذْكُرُونَ إِلَّا أَن يَشَاء اللَّهُ هُوَ أَهْلُ التَّقْوَى وَأَهْلُ الْمَغْفِرَة
তবে মহান আল্লাহ্‌র ইচ্ছা ও অনুমতি ব্যতিরেকে কেউই উপদেশ গ্রহণ করতে পারবে না। কেবলমাত্র তিনিই ভয়ের যোগ্য এবং ক্ষমার অধিকারী।
ভাবানুবাদ- আব্দুল মাতিন ওয়াসিম