Pages

Wednesday, 4 May 2016

খোঁজখবর - আব্দুল মাতিন ওয়াসিম



খোঁজখবর
 
আব্দুস সালাম সরকারবয়স পঁয়ষট্টির কাছাকাছি। পেশায় কৃষকজীবনের প্রায় পুরোটা সময় মাটির সঙ্গে লড়াই করেই কাটিয়ে দিয়েছেন। নিজে প্রায় নিরক্ষর; কাগজে কলমে সইটুকুও কারও সাহায্য ছাড়া করতে পারেন না। কিন্তু বুকের ভেতর ছিল একটাই স্বপ্নএকমাত্র ছেলে রফিকুল ইসলামকে মানুষ করবেন, শিক্ষিত করবেন, মানুষের কাতারে দাঁড় করাবেন।
 
সেই স্বপ্ন আগলে রাখতে গিয়ে কত না কষ্টই সহ্য করেছেন! খেতের ফসল ভালো হলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচতেন, খারাপ হলে রাতভর দুশ্চিন্তায় ছটফট করতেন। নিজের গায়ের কাপড় জীর্ণ হলেও ছেলের পড়াশোনায় কোনোদিন ঘাটতি হতে দেননি। হোস্টেলের খরচ, বইখাতাসবই জুটেছে বাবার অক্ষয় জেদের জোরে।
 
এভাবেই কত আষাঢ়, কত কার্ত্তিক পেরিয়ে অগ্রহায়ণে তুলাইয়ের পাড় ভরে উঠেছে সোনালী শীষে। আর রফিকুলও মনোযোগ সহকারে লেখাপড়া করেছে, পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করেছে, চাকরিও পেয়েছে। এখন সে কলকাতায় সেটেল্ড। কিন্তু আব্দুস সালাম সরকার পড়ে আছেন সেই অজপাড়া গ্রামচণ্ডীপুরে, মাটির দেওয়াল আর পুরোনো টিনের চালা দেওয়া তাঁর জন্মভিটেতেই।
 
গ্রাম থেকে এক কিলোমিটার দূরে একটা ছোট্ট মোড়নাম আয়ড়া। দু-চারটে দোকান, ক’টা চায়ের ঠেক, তার এক কোণে মোবাইল সারানোর একটা দোকান। সেদিন চৈত্রের দুপুর। আকাশ থেকে যেন আগুন ঝরছে। বৃদ্ধ আব্দুস সালাম লাঠি হাতে ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেলেন মোড়ে।
 
মোবাইলের দোকানে ঢুকে খানিকটা সংকোচ, খানিকটা দ্বিধা নিয়ে বললেন,
হাঁ বো বাবাজি, একবার দেখো তো বো... মোবাইলটার কী হইছে, ফোন কেনে যায় না?
দোকানের ছেলেটা কিছুক্ষণ ঘাঁটাঘাঁটি করে বলল,
কোনো সমস্যা নেই কাকু। একদম ঠিক আছে।
আব্দুস সালাম একটু চুপ করে রইলেন। তারপর খুব আস্তে, যেন নিজের সঙ্গেই কথা বলছেন,
তাইলে... রফিকুলের ফোন কেনে আসে না?
 
পাঁচ দিন। আজ ধরে টানা পাঁচ দিন হল, ছেলের কোনো ফোন আসেনি। বুকের ভেতরটা কেমন খাঁ খাঁ করছিলরাতে ঠিকমতো ঘুমও আসেনি। বারবার মনে হয়েছেএই বুঝি ফোনটা বেজে উঠল। কিন্তু ফোনটা নীরবই থেকেছে।
 
রাতটা কোনোরকমে কাটিয়ে ভোরবেলা, মোরগের ডাকাডাকি আরম্ভ হতেই ছুটে গেলেন পাশের বাড়ির ইমরানের কাছে। ইমরান স্নাতক তৃতীয় বর্ষের ছাত্র, সামনে ফাইনাল পরীক্ষা। কাকভোরে উঠে পড়তে বসেছে। আব্দুস সালাম দরজায় দাঁড়িয়েই বললেন,
হাঁ বেটা ইমরান, উঠিছি বা, দিন ধরি তোর রফিকুল দা’র ফোন আসে না। একবার এনা ফোনটা লাগেই দি তো।
 
ইমরান ফোনটা হাতে নিয়ে নম্বর ডায়াল করল। ফোনে কলার টিউন বেজেই চলেছে
রাব্বির হাম্‌হুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগীরা…”
দোয়ার সুরটা যেন আব্দুস সালামের বুকের ভেতর কোথাও গিয়ে ধাক্কা মারছিল। রিং শেষ হলো, কেউ ধরল না। আবার ডায়াল। আবার সেই কলার টিউন
রাব্বির হাম্‌হুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগীরা…”
প্রতিটা শব্দ যেন তাঁর জীবনের গল্পই বলছেশৈশব থেকে কোলে করে বড় করে তোলার গল্প, কাঁধে করে শাটিমারি-আঙ্গারিবন হাটে নিয়ে যাওয়ার গল্প, টাকা বাঁচিয়ে বাতাসা-জিলিপি-খুরমা কেনার গল্পতৃতীয়বার রিং হতেই হঠাৎ ফোনটা রিসিভ হলো। আব্দুস সালাম আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না। উৎকণ্ঠা আর জমে থাকা অভিমান মিশিয়ে একনাগাড়ে বলে চললেন,
রফিকুল, ভালো আছি বা তুই? আইজ দিন হলি তোর ফোন আসে না, কুনো খোঁজখবর নাইতোর মাও খুব চিন্তা করছে...
ও প্রান্ত থেকে এক গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এল,
রফিকুল অসুস্থ। এখন ঘুমোচ্ছে। আমি ওর শ্বশুর বলছি। আপনি পরে ফোন করবেন।
লাইন কেটে গেল।
 
কথাটা শুনে আব্দুস সালামের বুকটা কেমন ছ্যাঁত করে উঠল। যেন ভেতরের সব শক্তি হঠাৎ ফুরিয়ে গেছে গুম মেরে বসে থাকলেন দীর্ঘক্ষণ তারপর যখন ইমরানের ঘর থেকে নিঃশব্দে বেরিয়ে এলেন, ততক্ষণে সূর্যের আলো এসে পড়েছে পুন্যাদীঘির জলে। আর তাঁর চোখের কোণে জমে উঠেছে নোনাজল। ঘরে ফিরে দেখলেন, দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন গিন্নী, তাঁর সহযোদ্ধাচোখে উৎকণ্ঠা, মুখে অজানা আশঙ্কা। আব্দুস সালাম মুখে কিছুই বলতে পারলেন না। কিন্তু তাঁর চোখের জল বাঁধ মানল না তবে সেই কান্নার আসল কারণটা কীছেলের অসুস্থতা, না কি শহরের জীবনে ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া একমাত্র সন্তানের অবহেলার যন্ত্রণাতা অজানাই থেকে গেল।
 
০৪/০৫/২০১৬
পার্কসার্কাস, কোলকাতা

Monday, 25 April 2016

Critical Appreciation বা কাব্য সমালোচনা কীভাবে করবো?



Critical Appreciation বা কাব্য সমালোচনা কীভাবে করবো?
কাজী মোহাঃ মাকীন
 
কাব্য সমালোচনা কী?
শুরুতেই একটা কথা বলে নেওয়া প্রয়োজন, কাব্য সমালোচনা (Critical Appreciation) বলতে প্রচলিত যে সমালোচনা বোঝায় তা কিন্তু নয়। বরং একটা কবিতাকে বিভিন্ন দিক থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করাই হল কাব্য সমালোচনা বা critical appreciation কবিতার অর্থ, প্রসঙ্গ, উদ্দেশ্য, লেখ্যরীতি, অলংকার, তুলনামূলক আলোচনা, বর্ণনাভঙ্গী ইত্যাদি এর অন্তর্ভুক্ত।
 
কেন করবো?
যে কোনো বিষয়েই সামগ্রিক ধারণা তৈরিতে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ পঠনের প্রয়োজন আছে। একজন শিক্ষার্থী কাব্য সমালোচনার জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করলে পঠিত বিষয়টি সে ভালভাবে রপ্ত তো করবেই, পাশাপাশি তার লেখাতেও নিজস্ব সৃজনশীলতা তৈরি হবে।
 
কীভাবে করবো?
যে সমস্ত বিষয়গুলো এজন্য কমপক্ষে আবশ্যক সেগুলো নিম্নে আলোচনা করা হল—
 
১) SETTING (পটভূমি/আবহ) প্রত্যেক কবিতা, গল্প, নাটক, উপন্যাসের একটি নির্দিষ্ট পটভূমি থাকে। সেটা সমুদ্র, পাহাড়, মরুভূমি হতে পারে বা কোনো প্রাসাদ, বাড়ি, যুদ্ধের ময়দানও হতে পারে। রচনার উদ্দেশ্য বা অর্থে আবহেরবিশেষ প্রভাব থাকে। যেমন আহমাদ শাওকীর مناجاة الأهرام কবিতায় কবি মিশরীয় আশ্চর্য পিরামিড তথা তার পরিপার্শ্বকে পটভূমি হিসেবে নিয়েছেন। অনুরূপভাবে খলীল মুত্বরান তার المساء কবিতায় আলেকজান্দ্রিয়ার এক বৈকালিক সমুদ্রতটকে আবহের রূপ দিয়েছেন।
 
) CONTEXT (প্রেক্ষাপট) কোন সময় বা স্থানের প্রেক্ষাপটে কবিতাটি লেখা সেটা নির্ণয় করতে হবে কেননা কবিতা রচনার সমসাময়িক স্থান-কাল-পরিস্থিতি অবগত থাকলে কবিতা সহজবোধ্য হবে যেমন আব্বাস মাহমুদ আল আক্কাদের سكران কবিতা থেকে তৎকালীন পরাধীন মিশরের ভাবনা ফুটে ওঠে আহমাদ শাওকীর صدى الحرب কবিতায় অটোমান-তুর্কী যুদ্ধ পরিস্থিতির আভাস পাই
 
) SPEAKER (কথক) কবিতার কথক কে এটা নির্ণয় করাটাও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় কারণ এটা না বুঝতে পারলে আমরা কবিতার ভূমিতে আন্দাজে বিচরণ করব কথক যেমন কবি নিজে হতে পারে, তেমন অন্য কোনো ব্যক্তি, বস্তু, প্রাণী, প্রকৃতিও হতে পারে যেমন হাফিয ইবরাহীমের في لسان حال اللغة العربية কবিতায় আরবী ভাষাকেই কথকরূপে পাই
 
) GENRE (কবিতার শ্রেণী) কবিতাটি কোন ধারা বা কোন শ্রেণীর সেটাও নির্ণেয় কারণ শ্রেণীবৈচিত্র্যে কবিতার চরিত্রও পালটে যায় আর এই বৈচিত্র্য একদিকে অর্থগতও হতে পারে, যেমন প্রশংসা, শোক, প্রেম, প্রকৃতি, স্বাধীনতা, শিক্ষা ইত্যাদি বিষয়কেন্দ্রিক; অপরদিকে গঠনগতও হতে পারে, যেমন মহাকাব্য, কাব্য, কবিতা, সনেট, রুবাইয়াত, মুক্তছন্দ কবিতা প্রভৃতি
 
) MEANING (কবিতার অর্থ) এটাকে কাব্য সমালোচনার প্রধান অংশ বলা যায় কবিতাটি একাধিকবার পড়ে একটি স্পষ্ট ধারণা তৈরি করতে হবে যে, কবি এখানে কী বলতে চেয়েছেন কবিতায় ব্যবহৃত কঠিন বা দুর্বোধ্য শব্দগুলির যথাযথঅর্থ বার করতে হবে। কবিতার নামকরণ থেকেও অনেক সময় কবির উদ্দিষ্ট চিন্তাধারার আভাস পাওয়া যায়। যেমন হাফিয ইবরাহীমের الأمّ مدرسة কবিতায় তিনি যে নারীজাতির শিক্ষার গুরুত্ব বোঝাতে চেয়েছেন, তা প্রদত্ত নাম থেকেই অনুধাবন করা যায়।
 
৬) INTERTEXTUALITY (তুলনামূলক আলোচনা) কোনো দুই বা ততোধিক কবিতায়, বর্ণনা বা কবির চিন্তাধারার মেলবন্ধন ঘটেছে কিনা সেটা তুলে ধরাই হল intertextuality যেমন শাওকীর الرقّ والحرّية ও হাফিযের الأمّ مدرسة তে নারীর উদ্দাম নয়, বরং যথার্থস্বাধীনতার সমর্থনে তাদের চিন্তাধারার মিল খুঁজে পাই। এটা থেকে পাঠকের পড়াশোনা বা তার উপলব্ধির পরিসর কতটা তার পরিচয় পাওয়া যায়।
 
৭) LANGUAGE (ভাষা) কবিতায় ব্যবহৃত ভাষা হল কবির চিন্তাশক্তির উৎকৃষ্টতম বাহন। বাক্যের গঠন, বর্ণনার ভঙ্গী, এমনকী বাক্য বা কবিতাটির দৈর্ঘ্যও লক্ষ্যণীয়। কবিতার মধ্যে কোথায় বর্ণনা বা প্রসঙ্গের পরিবর্তন ঘটছে; কোথায় নতুন চিন্তার সংযোজন হচ্ছে তা চিহ্নিত করতে হবে। এছাড়াও আছে বাক্য-শব্দ-অর্থালংকারের প্রয়োগ। এর থেকে কবির ভাষাগত দক্ষতা ও কবিতার ভাষাগত উৎকর্ষের ধারণা পাওয়া যায়।
 
৮) RHYME SCHEME (ছন্দ প্রকরণ) ছন্দ হল কবিতার একদম স্বতন্ত্র একটি বৈশিষ্ট্য। কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত (ছন্দোবদ্ধ কবিতার ক্ষেত্রে) তা নির্ণয় করাটাও প্রয়োজন। সুন্দর ছন্দের ব্যবহার কবিতার আবৃত্তিতে অপরূপ শ্রুতিমাধুর্য তৈরি করে। অতএব ছন্দনির্ণয় হল কবিতা পাঠের জন্য সহায়ক।
 
প্রিয় বন্ধুরা, আশা করি উপরের আটটি বিষয় তোমরা পড়ে নিয়েছ। কিন্তু একটি বিষয় লক্ষ্য করেছ কি? সেটা হলপ্রথম তিনটি কবিতার বাহ্যিক উপকরণ; তারপরের তিনটি কবিতার অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর শেষ দুটি কবিতার ভাষার গঠনগত আলোচনা।
 
এখন, ছাত্রছাত্রীদের করণীয় হল, শিক্ষকের প্রদত্ত ভাষণ মনোযোগ দিয়ে শোনা, জিজ্ঞাসা থাকলে জেনে নেওয়া। এবার এই আটটি বিষয় পাশে নিয়ে একটা একটা করে মিলিয়ে পড়তে থাকো। আশা করি, একবারেই পঠিত বিষয়টি হৃদয়ঙ্গম করতে সক্ষম হবে এবং তোমাদের নোট-নির্ভরতাও কমবে।
 
বিঃদ্রঃ এটি কোনো তত্ত্ব-তথ্য ভরা প্রবন্ধ নয়। ছাত্রাবস্থায় নিছকই নিজের একটি অসুবিধার প্রতিকার পরবর্তীদের সুবিধার্থে তুলে ধরলাম। আশা করি স্ব-চেষ্টায় সচেষ্ট হয়ে তারা উপকৃত হবে।

Friday, 15 April 2016

العصر الجاهلي - الشاعر الحكيم زهير بن أبي سلمى: سؤالا وجوابًا


 
الشاعر الحكيم زهير بن أبي سلمى: سؤالا وجوابًا 
(520 – 609 م)
س: من هو الشاعر الحكيم؟
ج: الشاعر الحكيم هو زهير بن ربيعة بن رباح المزني.
س: إلى أي قبيلة ينتمى زهير بن أبي سلمى؟
ج: ينتمى زهير بن أبي سلمى إلى قبيلة بني غطفان.
س: هو شاعر جاهلي، خاله بشامة بن غدير الذي كان صاحب الوثوق في الرأي وكان غنيا ومشتهرا بكثرة ماله وشعره الرفيع، أخذ منه الشعر – من هو؟
ج: هو زهير بن أبي سلمى.  
س: من هما السيدان الذان مدحهما زهير بن أبي سلمى في معلقته؟
ج: هما حارث بن عوف وهرم بن سنان.
س: من هو الشاعر الذي لم يزل يقل الشعر في مدح هرم بن سنان؟
ج: هو زهير بن أبي سلمى.  
س: هو شاعر جاهلي كان يؤمن بالله وباليوم الآخر – من هو؟
ج: هو زهير بن أبي سلمى.
س: متى توفي زهير بن أبي سلمى؟
ج: توفي قبيل بعثة النبي محمد صلى الله عليه وسلم بسنة واحدة.
س: هو شاعر جاهلي، من أصحاب المعلقات، أسلم ابناه كعب وبجير – من هو؟
ج: هو زهير.  
س: هو عريق في الشاعرية: كان أبوه ربيعة بن رباح المزني يكنى بأبي سلمى وأختاه سلمى وخنساء وابناه كعب وبجير كلهم من الشعراء – من هو؟
ج: هو زهير بن أبي سلمى.  
س: كان ينظم القصيدة في أربعة أشهر، ثم يهذبها في أربعة، ثم يعرضها على أصحاب الفن في أربعة، وهكذا لا يعرضها على الناس إلا بعد سنة كاملة. فتسمت تلك القصائد بالحوليات. وسمي هو بصاحب الحوليات – من هو؟
ج: هو زهير بن أبي سلمى.   
س: هو شاعر جاهلي من أصحاب المعلقات، امتاز بالحكمة في الشعر، فتسمى شاعر الحكمة – من هو؟
ج: هو زهير بن أبي سلمى.  
س: ما كان اسم حبيبة زهير بن أبي سلمى التي ذكرها في معلقته وكنيتها؟
س: اسمها ليلى وكنيتها أم أوفى.
س: هو شاعر جاهلي، معلقته ميمية، شبّه فيها الموت بوطأة جمل أعمى يسير ليلا – من هو؟
ج: هو زهير بن أبي سلمى.  
س: هو شاعر من أصحاب المعلقات، قال فيه عمر بن الخطاب رضي الله عنه لبعض أولاد هرم بن سنان: قد ذهب ما أعطيتموه وبقى ما أعطاكم – من هو؟
ج: هو زهير بن أبي سلمى.  
س: من هو أشعر الناس إذا رغب؟
ج: هو زهير بن أبي سلمى.  
س: ما مطلع معلقة زهير بن أبي سلمى؟
ج: مطلع معلقته:  
        أَمِنْ أُمِّ أَوْفَى دِمْنَةٌ لَـمْ تَكَـلَّــمِ       بِحَوْمانَة الدَّرَّاجِ فَالْمُتَثَلَّمِ
س: فلا تكتمن اللّه ما في صدوركم       ليخفي ومهما يكتم اللّه يعلم              
     يؤخر فيوضع في كتاب فيدخـر      ليوم الحساب أو يعجـل فينقم
من قال ذلك؟
ج: قاله زهير بن أبي سلمى. 
س: من هو بطل معلقة زهير بن أبي سلمى؟
ج: السيدان هرم بن سنان والحارث بن عوف.

الجمع والإعداد: عبد المتين وسيم الدين

Wednesday, 6 April 2016

আবু হাফস উমার ইব‌নুল‌ ফারিদ


আবু হ়াফ়্স়্ ‘উমার ইব্‌নুল্‌ ফারিদ়্
(১১৮১ ১২৩৫ খ্রি)
আব্দুল মাতিন ওয়াসিম
 
পরিচিতি ও জন্মঃ   
ইব্‌নুল্‌ ফারিদ়্ আব্বাসী যুগের অন্যতম প্রতিভাধার কবি। তিনিই সর্বপ্রথম আরবী সাহিত্যে সফল ভাবে সাংকেতিক পন্থার প্রবর্তন করেন। আরবি কাব্যজগতের একমাত্র সূফি কবি তিনিই। তাঁর প্রকৃত নাম ‘উমার, উপনাম আবু হাফ্‌স, উপাধি শার্‌ফুদ্দীন ও সুল্‌তানুল্‌ ‘আশেকীন (প্রেমিককুলের সম্রাট)। পিতার নাম ‘আলি, উপাধি আল্‌-ফারিদ়্কবি ১১৮১ খ্রিস্টাব্দের ২২শে মার্চ মিশরের রাজধানী কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষরা সিরীয়ার হামাত-এর অধিবাসী ছিলেন। এজন্যই তাঁর নামের শেষে আল্‌-হামাবী যোগ করা হয়।
 
প্রতিপালন ও বিদ্যার্জনঃ
তিনি এক ধার্মিক উচ্চ শিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন উচ্চ আদালতের একজন প্রধান বিচারপতি। তাই তিনি, বাল্যকালে পিতার নিকটেই প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করেন। আর সেই সঙ্গে তাঁর ধর্মীয় অনুশীলনও চলতে থাকে। যৌবনকালে তিনি কায়রোয় উপকন্ঠে অবস্থিত আল্‌-মুকাত্তাম পর্বতে গিয়ে তপস্যা করে কাটাতেন।
 
সূফিতত্ত্বে দীক্ষাঃ
ধর্মতত্ত্বের জ্ঞানার্জনের পর তাঁর মন সূফিতত্ত্বের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। ক্রমাগতভাবে সূফিতত্ত্বের প্রতি তাঁর বিশ্বাস দৃঢ় হতে দৃঢ়তর হয়। তাই তিনি সূফিতত্ত্বে অনুসন্ধান ও অনুশীলনের মাধ্যমে জীবন অতিবাহিত করেন।
 
মক্কার পথেঃ
যৌবনে পদার্পন করে তিনি কায়রোর সায়ফিয়া কলেজের তোরনের পাশে এক দরবেশ মুদীর কথা অনুযায়ী হজ পালনের জন্য মক্কার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। হজ্জপালনের পর, পবিত্রভূমির প্রেমে আবদ্ধ হয়ে জীবনের পনেরটি বসন্ত মক্কা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অতিবাহিত করলেন।
 
প্রত্যাবর্তন ও পরোলকগমনঃ
মক্কা নগরীতে দীর্ঘকাল অবস্থানের পর তিনি মাতৃভূমি মিশর প্রত্যাবর্তন করেন। অবশিষ্ট জীবন তিনি সন্মানের সহিত মিশরেই অতিবাহিত করেন। অবশেষে ১২৩৫ খ্রিস্টাব্দে ২৩শে জানুয়ারি তিনি মৃত্যু বরণ করেন। আল্‌-মুকাত্তাম পাহাড়ের পাদদেশে তাঁকে সমাহিত করা হয়
 
তাঁর গুনাবলীঃ
তিনি অত্যন্ত সুশ্রী, আল্লহ্‌ভীরু ও দরবেশ প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তাঁর নগরবাসীরা তাঁর প্রচুর সম্মান করত। তিনি পথ দিয়ে যাওয়ার সময় লোকেরা তাঁর নিকট একত্রিত হয়ে তাঁর কাছে দুয়ার আবেদন করত।
 
কাব্য প্রতিভাঃ
আরব বিশ্বের সুফি কবি তিনিই। যৌবনে পদার্পন করেই কবি তা রচনা আরম্ভ করেছিলেন। তিনি ছিলেন মরমী কবি। তাই তাঁর প্রায় সমস্ত কবিতাই আধ্যাত্মগান্ধী। আরবি কাব্য-জগতে আত্‌-তারীকাতুর্‌ রাম্‌যিয়্যাহ্‌ বা সাংকেতিক পন্থার প্রবর্তক তিনিই। তাঁর কাব্য প্রতিভা সম্পর্কে আহ্‌মাদ হাসান যাইয়্যাত বলেছেন, তিনি (ইব্‌নুল ফারিদ) আরব কবিদের মধ্যে সর্বাধিক কালাম-এর ব্যবহারে ও প্রয়োগে যত্নশীল ছিলেন। অলংকার শাস্ত্রের বাদী’, জেনাস ও তিবাকের অধিক ব্যবহার তাঁর কবিতায় লক্ষ্য করা যায়।
 
কাব্যিক বৈশিষ্টাবলীঃ
তাঁর কবিতার ভাষা সহজ-সরল ও তাঁর রচনাশৌলী প্রশংসনীয়। তাঁর অধিকাংশ কবিতার ভাব দ্ব্যার্থবোধক। তাঁর বহু কবিতা বাহ্যতঃ সুরসঙ্গীত বলে প্রতীয়মান হয়। অথচ আভ্যন্তরীন মর্ম সূফীতত্ত্বমূলক। তাই সেগুলি মুর্‌শিদ ও মাদকাসক্ত উভয় শ্রেণীর নিকট সমাদৃত তাই তাঁর কবিতা যেমন যিক্‌রের মাহ্‌ফিলে পঠিত ও পরিবেশিত হতো ঠিক তেমনই পানশালায় সুরার আসরে হতো। কবিতা রচনার পূর্বে তাঁকে অবচেতন অবস্থা আচ্ছন্ন করে রাখতো। সেই অবচেতন অবস্থা কখনো কখনো দশ দিন পর্যন্ত দীর্ঘ হতো। সেই অবস্থায় তিনি খাওয়াদাওয়া কোনো কিছুই করতেন না। তার পর সম্বিৎ ফিরে পেলে গড়গড় করে কবিতা ডিক্টেট করতেন। তিনি তাঁর এক বিখ্যাত কবিতার সূচনায় মদের প্রশংসায় বলেছেন
شربنا على ذكر الحبيب مدامة                    وسكرنا لها من قبل أن يخلق الكرم
ওই কবিতাতেই মদের প্রভাবকে তিনি এভাবে ব্যক্ত করেছেন
ولو قولوا من جانها مقعدامشى                   وتنطق من ذكرى مذاقتهاالبكم
তিনি একজন সফল গজল রচয়িতাও ছিলেন। যেমন তিনি তাঁর এক কবিতায় বলেছেন
وأسأل نجوم الليل هل زاري الكرى               جفني؟ وكيف يزور من لم يعرف