Pages

Showing posts with label স্বপ্ন. Show all posts
Showing posts with label স্বপ্ন. Show all posts

Wednesday, 1 June 2022

আব্দুল মাতিন ওয়াসিমঃ মরীচিকা

 



মরীচিকা
আব্দুল মাতিন ওয়াসিম  
 
বিভোর মনে আজও স্বপ্নে দেখি
ঠোঁটে এক চিলতে হাঁসি নিয়ে
বিস্ফারিতে চোখে আমার পানে চেয়ে
সে আমাকে কাছে ডাকছে;
আর আমি, তাঁর ঠোঁটের উষ্ণ ছোঁয়া
 হাতের কোমল স্পর্শ পাবার আশায় 
দিগ্বিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে
পাগলের মতো ছুটে যাচ্ছি তাঁর দিকে;
কিন্তু সে তো মরীচিকা!

Monday, 17 September 2018

আব্দুল মাতিন ওয়াসিমঃ আমি এখন স্বপ্নবিহীন...!


আমি এখন স্বপ্নবিহীন...!
আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

এই কদিন কোনকিছুই লিখতে পারছিনা। লিখতে বসলে শব্দগুলো কেমন জড়িয়ে যাচ্ছে। ভাবনাগুলো থেমে থেমে আসছে। রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝে আর্থসামাজিক ইস্যুগুলো কেমন কিলবিল করছে মাথার মধ্যে। স্মৃতি হাতড়ে পূর্বের কোনো দিন বা মুহূর্ত ঘুরে আসলে সেই স্মৃতিই বারবার জারণ করছে মনকে; অজান্তেই কখনো এক চিলতে হাঁসি ভেসে উঠছে ঠোঁটের কোণে, তো কখনো চোখের কোণ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে এক-আধ ফোঁটা অশ্রু। 
আমি চাষির ছেলে। আর্থিক সংকটকে গল্প-কাহিনী-সিনেমা-সিরিয়াল দিয়ে নয়; বাস্তব জীবন থেকে অনুভব করেছি। তাই আমার শৈশব-কৈশোর-তারুণ্য-যৌবনের উচ্ছলতা-উচ্ছ্বাস-আবেগ-উল্লাস সব তিল তিল করে জমানো ছিল বুকে; বেশ গভীর ভাবে। স্বপ্ন ছিল, ভালোভাবে পড়াশুনা করে আগে একটা চাকরি পেতে হবে। তারপর সেই স্বপ্নের জগতে পাড়ি জমাবো। এক এক করে জয় করবো পরিকল্পনার কেল্লা-প্রাসাদকে...। 
কিন্তু, আজকাল আমি কেমন যেন গুটিয়ে গেছি। আগে বন্ধুদের মাঝে সারাক্ষণ বকবক করতাম। এখন বন্ধুদের থেকে আড়ালে থাকি; তাঁদের ফোন ধরিনা। এড়িয়ে যাই। ডাকলেও যাই না। তাই, কেউ কেউ ভাবে, আমি চাকরি পেয়ে বদলে গেছি। জানি না, তাঁরা ঠিক না ভুল। তবে, হ্যাঁ বদলে গেছি আমি; চাকরি পেয়ে নয়। আসলে আমার ভাবনাগুলো বদলে গেছে। ভেঙে গেছে আমার স্বপ্নে গড়া সেই জগত। একটা একটা করে খসে পড়ছে ইচ্ছার সব তারারা। একটু একটু করে ধসে যাচ্ছে আত্মবিশ্বাসের সেই গগনচুম্বী প্রাচীর। তবে আমি আজও থেমে নেই; হেঁটে চলেছি দিগদিগন্তে; উদ্ভ্রান্তের মতো; অজানার পাণে...। 
হয়তো, আজ আমি অসহায়; বালক ইউসুফের মতো; যাকে কুয়োতে নিক্ষেপ করেছিল তাঁর সহোদরেরা...। 
আজ আমি স্বপ্নবিহীন। মনের গহীনে লালিত স্বপ্নেরা পালিয়েছে আমায় ফেলে এই ঘন অন্ধকারের চাদরে-মোড়া সমাজ-কুয়োতে। যেভাবে ঠিকাদার ফেলে যায় রাস্তার ধারে তাঁর বিকল রোড-রোলার!

Thursday, 14 June 2018

الأستاذ بديع الرحمن: على سطح الحرم المكي


 
على سطح الحرم المكي
الأستاذ بديع الرحمن
 
أفي المنام أرى أمامي بيتا بناه إبراهيم
وابنـــــه إسمعيــل ورجــــــــال الجرهم
أم في السكــــــــران خيـل لي أول بيت
وضع الله ببكـــــة في الزمن القديـــــــم
أم صحوت فقمت أمــــــــــام الكعبــــــة
فيــــــا عجبـــــــــــا من جلالها الكــــريم
كـــــــــــم زاد الشـــــــوق في المطوفيـن
طوافــــــــا حـــول البيت العظيـــــــــــم
كــــــــم وددت أن أكون أحــــدا منهـــــم 
وها أنا موجــــــــــود بين الزحــــــــــــام
كــــم تمنيت أن أســــــــأل الله نعمـــــــا
وها أنا واقف خبط الحواس أمام الكريم
مـــــاذا حدث بي إذ خـــــلا الشعــــــــور
وجننت بمعرفة عظمــــــة الرب العظيم
فدفعت نفسي أن أكون عبـــــدا شكـورا
وأطلب ما يطلب الرجــــال ذوو المـرام
فآثرت سؤال الجنــــــة بغير حســــــاب
من الله تعالى ذي الجــــــــلال والإكرام
ولم أرض العكوف هنــــاك وحيـــــــــدا
فادخلني الجنـــــــة وأهلي مع الكـــرام
وكيف أسكــن هنـــــــــــاك بدون بنتـي
يا لقلبي في غفران وجــوار الرحيـــــم
 
12/11/2010 م

Wednesday, 16 November 2016

আব্দুল মাতিন ওয়াসিমঃ স্বপ্নের লুকোচুরি


স্বপ্নের লুকোচুরি

আব্দুল মাতিন ওয়াসিম
আর পাঁচটা ছেলের মতো
জীবনে আমারও অনেক স্বপ্ন
তবে আমার স্বপ্নগুলো ঠিক আমার মতোই
আর স্বপ্নের সঙ্গে আমার সম্পর্কটাও বেশ নিবিড়
সেই ছোট্ট বেলা থেকে,
সেই সেদিন থেকে যেদিন প্রথম স্কুলে যাই
যখন ভাবনা আর স্বপ্নরা ছিল
খুব সীমিত, ছিল খুবই ছোট
পুলকিত হতাম এই ভেবে যে,
স্কুলে যাবো, নতুন নতুন বই খাতা পাবো,
নতুন নতুন জামা কাপড় পাবো,
এছাড়া, মাঝেমধ্যে স্কুলে পাউরুটি দেবে খেতে
ইশ্‌ কি বোকা ছিলাম তখন তাই না
না ঠিক বোকা নয়, ছিলাম সরল মনের
অল্পেতে সন্তুষ্টি পেতাম মনে।

তারপর বাবা যখন আমাকে হোস্টেলে পাঠাল,
তখন তো দু চোখে যেন স্বপ্ন আর ধরে না;
ভালো ভাবে লেখা পড়া করবো,
ভালো রেজাল্ট করবো।
সবাই স্নেহ করবে।
সবাই দামি দামি জামাকাপড় গিফট করবে।
সে এক লম্বা ফিরস্তি।
আচ্ছা, এবার না হয় একটু
খেলাধুলার কথা বলি।
আগাগোড়া ক্রিকেট পাগল আমি
লেগ স্পিনটা বেশ ভালোই পারতাম,
গুগলিও পারতাম, কেউ শেখায়নি;
তাও আবার টেনিস বলে,
প্রায় এক ফিট স্পিন করত মাঝেমধ্যে।
আর ব্যাট হাতে নামলে
অফে কাট, স্লিপের ওপর দিয়ে বাউন্ডারি,
পুল-সিলিপয়েন্ট, শট খেলতাম প্রায় মাঠের চারিদিকে।
কিন্তু, ওই লং অফে ছয় মারতে গিয়ে
অধিকাংশ দিনই আউট হতাম।
আমি তো গ্রামের ছেলে,
কাদামাটি নিয়ে সংসার।
ফুটবল তো সহজাত।
তাতেও ছিলাম বেশ স্বচ্ছন্দ,
অ্যাটেকিং মিড ফিল্ডে খেলতাম;
বাম পাটা বেশ শৈল্পিক ছিল।
দু'চারজনকে ডোজ মেরে
হামেশায় স্ট্রাইকারকে পাস বাড়াতাম।
একবার বাইরের এক মাঠে গেছি খেলতে
সেমি ফাইনাল ম্যাচ
বেশ জমে উঠেছে লড়াই
আমি মাঝ মাঠ থেকে
পাঁচ জনকে কাটিয়ে
একটা পাস বাড়িয়েছি,
বলটা সাহিমের মাথার হাল্কা স্পর্শ নিয়ে
জড়িয়ে গেল জালে;
চারিদিকে হর্ষধ্বনি,
সারা মাঠ ছুটছি আমরা।
হঠাৎ করে একজন
ছুটে আসলো আমার কাছে
কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার হাতে
দশ টাকার একটা নোট ধরিয়ে দিয়ে
দ্রুত হারিয়ে গেল ভিড়ে
শুধু এতটুকুই শুনতে পেয়েছিলাম
'অসাধারণ পাস বোস'
একবার তো এক ফুটবলপ্রেমী
পাঁচটা লিচু ধরিয়ে দিয়েছিল হাতে
ওই পাঁচটা লিচু সেদিন
বেশ দামী মনে হয়েছিল আমার কাছে।
তারপর চলে এলাম কোলকাতা
ভর্তি হলাম মৌলানা আজাদে
খেলাধুলার পাঠ গেল চুকে
মানুষ হতে হবে যে
তাই এক আকাশ স্বপ্ন নিয়ে
শুরু করলাম যাত্রা কংক্রিটের পথে
আলিম-ফাযিলের মতো
গ্রাজুয়েশনেও ফল হল নজরকাড়া
প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হলাম,
মাস্টার্সেও গুণীজনদের বাহবা পেলাম।
এমএসসি-এসএসসি-সিএসসি,
আরো কত পরীক্ষা দিলাম
কিন্তু সবের ফলাফল একটাই
অথচ লোকে বলে 'শুধু সময়ের অপেক্ষা'

স্বপ্ন পূরণের এই দীর্ঘ মরুপথে
হারিয়ে গেছে কতশত স্বপ্ন,
হারিয়ে গেছি আমি, হেরে গেছে
শহরের স্বার্থান্বেষী আবহে
গ্রামের সেই বালক, সরলমতি।