Pages

Monday, 24 June 2019

সিয়াম পালনঃ মনীষাদের দৃষ্টিভঙ্গি




বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা বলেছেন— মুসলিমদের এই উপবাসব্রত একনিষ্ঠ মনে পালন করে যাওয়াটাকে যদি আমরা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করি, তাহলে দেখা যাচ্ছে এর মধ্যে রয়েছে প্রভূত কল্যাণ রোজা মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের একটি বিধান এতে প্রচ্ছন্ন রয়েছে বহু বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য সৌষ্ঠব

ডঃ বিধান চন্দ্র রায় রোজা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছিলেনরোজাকে সুন্দর একটি পবিত্র ওষুধ বললে অত্যুক্তি হবেনা বলেই আমার ধারনা৷ এবিষয়ে অন্যরা যাই ভাবুক না কেন

ডঃ যোসেফ বলেছেন রোজা হচ্ছে মানুষের ভিতর-বাইরের যাবতীয় গ্লানী ও কলুষতা মুছে দেওয়া একটা পবিত্র বস্তুর নাম৷

ডঃ জেকবের ভাষায় রোজা হলো আত্মার নির্ভেজাল আহার্য৷ আমার চেয়ে বেশি সত্য প্রমাণ পাবেন একজন খাঁটি রোজাদারের কাছে জিজ্ঞেস করে

ডঃ এমারসনের মন্তব্য হলো স্বাস্থ্যের উন্নতির উদ্দেশ্যে কেউ যদি অনশন করতে চায়, সে যেন সম্পূর্ণ ইসলামের নির্দেশ মতো রোজাব্রত পালন করে

অধ্যক্ষ ডঃ জি সি গুপ্ত বলেন পবিত্র ইসলাম রোজা পালনের যে আদেশ করেছে তা মানবের আত্মিক ও দৈহিক কল্যাণের জন্যেই সত্যিই রোজা উপকারের আকর

ডাঃ ম্যাকারিয়াস রোজার উচ্ছসিত প্রশংসা করে বলেন রোজা পালন গোটা দেহটাই পবিত্র হয়ে যায়৷ যাকে আমরা বলি পরিচ্ছন্নতা রোজার মাধ্যমেই অঙ্গপ্রতঙ্গ গুলি বিশ্রাম পায়, ফলে এগুলো পূর্বের চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যপূর্ণ হয়ে ওঠে

ডাঃ সি ফ্রয়েডের অভিমত হল রোজা হচ্ছে মানুষের পাপ ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখার চমৎকার একটি ওষুধ

ডাঃ লিউ ফার্ট বলেছেন পবিত্র রমযান মাসে মুসলিমরা যে রোজা পালন করে থাকেন, সেটা যদি চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখা হয়, তাহলে দেখা যাবে যে দেহের জন্য রোজা অত্যন্ত হিতকর একটি টনিক৷ তাই রোজার মাসে মুসলিমরা বেশ কয়েকটি রোগ থেকে মুক্ত থাকেন

মি হেনরী মুর বলেছেন আমি এই মহান সত্যকে স্বীকার করছি, রোজা পালন করার কঠোর নির্দেশের মধ্যে প্রচ্ছন্ন রয়েছে মানবের পবিত্র সুন্দর চরিত্র সৃষ্টির ঐশী অবদান

মি ভলক্রীট বলেছেন রোজাতে পাওয়া যায় অন্তরের নির্মলতা, আত্মার পবিত্রতা, চিন্তা-ভাবনার উৎকর্ষতা ও দেহের পরিচ্ছন্নতা 

মহাত্মা গান্ধী  বলেছেন পবিত্র রমযান মাসের রোজাকে মুসলমানরা যে নিয়মে পালন করেন, সত্যিই উপবাসব্রতের এ নিয়ম অতি উত্তম 

Saturday, 22 June 2019

আল-কুরআনের ভাবানুবাদঃ (৮৬) সূরাতু আত়্‌-ত়ারিক়্

আল্‌-কুর্‌আনের ভাবানুবাদঃ জুয্‌উ 'আম্মা (আমপারাঃ৩০তম অধ্যায়)


৮৬) সূরাতু আত়্‌-ত়ারিক়্ (রাতে আগমনকারী)

মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত-১৭, রুকু- ১

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ

আল্লাহ্‌র নামে (শুরু করছি); তিনি পরম করুণাময়অতি দয়ালু!

وَالسَّمَاء وَالطَّارِقِ

১) আকাশের এবং আত়্‌-ত়ারিক়্ (রাতে আগমনকারী নক্ষত্র)-এর শপথ

وَمَا أَدْرَاكَ مَا الطَّارِقُ

২) আত়্‌-ত়ারিক়্ (রাতে আগমনকারী) কী? তার সম্বন্ধে তুমি কী জানো? 

النَّجْمُ الثَّاقِبُ

৩)  আত়্‌-ত়ারিক়্ একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র।

إِن كُلُّ نَفْسٍ لَّمَّا عَلَيْهَا حَافِظٌ

৪) নিশ্চয় প্রত্যেক জীবের উপর একজন করে তত্ত্বাবধায়ক (ফেরেশ্‌তা মোতায়েন) রয়েছে (যে তার প্রতি নজর রাখে এবং তার ভালো ও মন্দের হিসেব লিখে রাখে)

فَلْيَنظُرِ الْإِنسَانُ مِمَّ خُلِقَ

৫) সুতরাং মানুষের ভেবে দেখা উচিৎ— কোন্‌ বস্তু থেকে সে সৃজিত হয়েছে।

خُلِقَ مِن مَّاء دَافِقٍ

৬) সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্খলিত জল থেকে;

يَخْرُجُ مِن بَيْنِ الصُّلْبِ وَالتَّرَائِبِ

৭) যে জল নির্গত হয় মেরুদণ্ড ও বুকপাঁজরের মধ্য থেকে।

إِنَّهُ عَلَى رَجْعِهِ لَقَادِرٌ

৮) নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তার পুনরাবর্তন ও পুনর্জীবনদানে সক্ষম।

يَوْمَ تُبْلَى السَّرَائِرُ

৯) যেদিন সকল গোপন বিষয় (অর্থাৎ সকল কৃতকর্ম) পরীক্ষা করা হবে,

فَمَا لَهُ مِن قُوَّةٍ وَلَا نَاصِرٍ

১০) সেদিন তার না কোনো শক্তি থাকবে আর না কোনো সাহায্যকারী

وَالسَّمَاء ذَاتِ الرَّجْعِ

১১) চক্রশীল ও বর্ষণমুখর আকাশের শপথ,

وَالْأَرْضِ ذَاتِ الصَّدْعِ

১২) এবং পৃথিবীর শপথ যা (উদ্ভিদের অঙ্কুরন ও উদ্গারনে) বিদীর্ণ হয়;

إِنَّهُ لَقَوْلٌ فَصْلٌ

১৩) নিশ্চয় এই বাণী (অর্থাৎ আল্‌-কুর্‌আন) সত্য-মিথ্যার মাঝে পার্থক্য নিরূপণকারী;

وَمَا هُوَ بِالْهَزْلِ

১৪) কোনোরকম উপহাস বা বিদ্রূপের বিষয় নয়।

إِنَّهُمْ يَكِيدُونَ كَيْدًا

১৫) নিশ্চয় অবিশ্বাসী ও অসৎ লোকেরা (তোমার বিরুদ্ধে হে মুহাম্মদ সাঃ) ভীষণ ভাবে চক্রান্ত করছে;

وَأَكِيدُ كَيْدًا

১৬) এবং আমিও কৌশল করি।

فَمَهِّلِ الْكَافِرِينَ أَمْهِلْهُمْ رُوَيْدًا

১৭) অতএব কাফেরদেরকে (অর্থাৎ অবিশ্বাসীদেরকে) অবকাশ দাও এবং তাদের সাথে কিছু দিনের জন্য বিনম্র আচার-আচরণ ও লেনদেন করো