Pages

Showing posts with label সম্পাদকীয়. Show all posts
Showing posts with label সম্পাদকীয়. Show all posts

Saturday, 4 April 2026

বিপন্ন সাংবিধানিক ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্র - ড. নূরুল ইসলাম



অধুনা এক শ্রেণির হিন্দু হিন্দুধর্মের গরিমা ও হিন্দুদের অস্মিতা জাহির করতে নিজেদের সনাতনী বলছেন। সচেতনভাবে নিজেদের হিন্দু না বলে সনাতনী বলছেন। বস্তুত প্রতিটি ধর্ম অনুসারী নিজেদের সনাতনী বলেন বা তার প্রতিশব্দ ব্যবহার করেন। নিজেদের ধর্ম বিশ্বাস ও আস্থা নিয়ে পৃথিবীর প্রায় সকল মানুষ গর্ব করেন। তবে কিছু মানুষ আছেন যারা এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত নয়। তারা চরম ও চুড়ান্ত সত্য আবিষ্কার করতে নিরবিচ্ছিন্ন প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা নিজেদের সত্য সন্ধানী বলেন। উদারপন্থী বলেন। এধরণের মানুষের সংখ্যা খুব বেশি নয়। কিন্তু এরাই পৃথিবীর ভবিষ্যৎ। শান্তি ও স্থিতিশীলতার গ্যারান্টার।  
 
এদেশে এখন আমাদের সংবিধানে উল্লিখিত ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে আলোচনা হয় না। বরং প্রশ্ন উঠছে, ভারত কেন ধর্মনিরপেক্ষ হবে? কেন হিন্দু রাষ্ট্র হবে না? সংবিধানের প্রস্তাবনায় কেন ধর্মনিরপেক্ষ শব্দ অনুপ্রবিষ্ট হল? এগুলো নির্দ্বিধায় বলে।
 
হিন্দু বীরত্বের বহিঃপ্রকাশ করতে এক শ্রেণির মানুষ ভয়ঙ্কর অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে। কট্টরবাদী হয়ে পড়েছে। তারা নিজেদের বিশ্বাস ও আস্থা অপরের উপরে চাপিয়ে দিতে চায়। এজন্য তারা সুপরিকল্পিত সাংস্কৃতিক আগ্রাসন শুরু করেছে। সত্য বলতে কি, এই ধারা শুধু ভারতে নয়,  পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে সক্রিয়। ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এই শ্রেণির মানুষ দেশে দেশে একই কাজ করে চলেছে। মজার বিষয়, সকল মৌলবাদী ও উগ্রবাদী আবার অপরকে মৌলবাদী ও উগ্রবাদী বলে। নিজেদের মানবতাবাদী ও শান্তির দূত বলে। বিস্ময়কর ! বিভ্রান্তিকর! 

সম্প্রতি ভারতে অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতা ভয়ঙ্কর স্তরে পৌঁছে গেছে। দুর্বল ও সংখ্যালঘু শ্রেণির মানুষ দারুণভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রায় প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও দুর্বল ও সংখ্যালঘু শ্রেণির মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। মজার বিষয়, অপরাধীরা সগর্বে ও দুঃসাহসিকভাবে এই অপকর্ম করে চলেছে। পরিকল্পিতভাবে। সুসংঠিতভাবে। এক শ্রেণির মানুষ তাদের বীরের সংবর্ধনা দিচ্ছে। শুধু তাই নয়! আক্রান্তদের রাক্ষস ও অসুর প্রতিপন্ন করতে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে! এটা ভয়ঙ্কর!
 
এরকম এক অসহিষ্ণু ও সংঘাতময় প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বেলাগাম হিন্দুত্ববাদী দল ও তার নেতাকর্মীরা। বিনা প্ররোচনায় প্রতিদিন তারা ধর্মযুদ্ধ ঘোষণা করে চলেছে। অবদমিত দুর্বল ও সংখ্যালঘু শ্রেণির মানুষ প্রতিবাদ করতেও সাহস করছে না। প্রতিবাদ করার ধৃষ্টতা দেখালে প্রতিবাদীদের সমাজবিরোধী ও রাষ্ট্র বিরোধী দেগে দেওয়া হচ্ছে।  অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা ও দেশের জাতীয় উন্নয়ন ভয়ানক সংকটের মুখোমুখি।
 
এই রকম একটি পরিমন্ডলে পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে জাতীয় নির্বাচন কমিশন অভূতপূর্ব এস আই আর নামক অভিযান শুরু করেছে। এস আই আর এখন দৈনন্দিন গার্হস্থ্য পরিভাষা। একটি আশঙ্কা ও আতঙ্কের নাম। এখন এদেশের অধিকাংশ মানুষ বলছেন, এস আই আর বাঙালি মুসলিম ও অবদমিত শ্রেণির মানুষের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত অভিযান। এই বিশ্বাস কীভাবে গড়ে উঠেছে সেবিষয়ে খুব সংক্ষেপে আলোচনা করব।  
 
ষড়যন্ত্র –
গত বছর ২০২৫ সালে বিহার রাজ্যে নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে নির্বাচন কমিশন ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করে। তখন ভোটারদের কাছে যে সুনির্দিষ্ট এগারোটা নথি চাওয়া হয় সে দেখে বুঝা গিয়েছিল, ডাল ম্যাঁয় কুছ কালা হ্যায়। অবৈধ ভোটার খোঁজা নয়। সুনির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের ভোটাধিকার হরণ করার অপপ্রয়াস।  
 
বস্তুত ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন যে এগারোটা ডকুমেন্টকে বৈধ ভোটার চিহ্নিতকরণের মৌলিক মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে সেটা বিতর্কিত শুধু নয়, অভিসন্ধিমূলক।  অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়, বহিষ্করণমূলক। সুনির্দিষ্ট কিছু মানুষের ভোটাধিকার সংকুচিত করতে সেই অভিযান শুরু হয়। ভালো কথা, উল্লেখিত এগারোটা ডকুমেন্টের মধ্যে যেকোন একটি নথি জমা দিতে পারলে তাকে বৈধ নাগরিক বিবেচনা করা হবে। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, এরকম আরও বিশ প্রকার নথি যোগ করলেও একশো শতাংশ বৈধ নাগরিক নিজেকে বৈধ ভোটার প্রমাণ করতে সক্ষম হবে না। কারণ এজাতীয় নথি সব মানুষের কাছে থাকার কথা নয়। দেশের নাগরিক কখনো ভাবেনি তাদের ভোটে নির্বাচিত সরকার তাদের ভোটাধিকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন। এজন্য তারা সদা প্রস্তুত থাকবে!
 
বিস্ময়কর , নির্বাচন কমিশন সরকার প্রদত্ত প্রায় সকল সার্বজনীন নথিগুলোকে এস আই আর  প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করেনি। ভোটার আই কার্ড, রেশন কার্ড, প্যান কার্ড এমনকি আধার কার্ডও এস আই আর প্রক্রিয়ায় মৌলিক নথি হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি! এসব দেখে কী মনে হয়? নির্বাচন কমিশনের অভিপ্রায় বিষয়ে কোন সন্দেহ আছে? তবে ভয় নেই। এই নিয়ম সকলের জন্য প্রযোজ্য হবে না। শুধুমাত্র সুনির্দিষ্ট ধর্ম ও জাতি বিবেচনা করে প্রয়োগ হবে। হচ্ছে তাই।  এই মুহূর্তে এই ষড়যন্ত্রের শিকার পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সম্প্রদায়। নগণ্য সংখ্যক মানুষ আছেন দলিত শ্রেণির। বর্ণ হিন্দু থাকলে সেটা একদম ব্যতিক্রমী। এজন্য লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে অবলুপ্ত।
 
ষড়যন্ত্র –
নির্বাচন কমিশন যুদ্ধ তৎপরতায় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায় কেন? অভিযোগ , এই অভিলাষের মধ্যে গভীর ষড়যন্ত্র আছে। সেই ষড়যন্ত্রকে আড়াল করতে কখনো এ আই যন্ত্রের দোহাই দিয়ে  নিজেদের অপরাধ ঢাকতে চায়। এখন সময়ের স্বল্পতার অজুহাত দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার সংকুচিত করার পাঁয়তারা শুরু করেছে। এই মুহূর্তে অ্যাডজুডিকেশনে যাদের নাম কাটা গেছে তারা এবার ভোট দিতে পারবেন না। তাদের এখন হয়তো শুনানিই শুরু হবে না। এদের সংখ্যা বিশ পঁচিশ লক্ষের কম নয়। এসব ভোটার সেই সব কেন্দ্রে যেখানে তাদের অনুপস্থিতি একটি নির্দিষ্ট দলকে জিততে সাহায্য করবে। এখন প্রশ্ন, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া এখনো চলছে। এমনকি ট্রাইব্যুনালে এবং পরবর্তীতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত না যাওয়া পর্যন্ত এই এই প্রক্রিয়া চালু থাকার কথা। একটি বৈধ ভোটারের ভোটাধিকার হরণ করাও সংবিধান বিরোধী কাজ। তাহলে এই মুহূর্তে নির্বাচন হয় কী করে?
 
ষড়যন্ত্র –
সর্বশেষ পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, নির্বাচন কমিশন ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিতভাবে অস্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রস্তুত করতে মরিয়া। বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গে এধরণের অস্বচ্ছতা সুস্পষ্ট। অসংখ্য জীবিত মানুষকে মৃত ঘোষণা করে ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম মুছে দেওয়া হয়েছে! অসংখ্য মানুষের নাম আনম্যাপড বলে ডিলিট করা হয়েছে। এসব হতভাগ্য মানুষের সঠিক পরিসংখ্যানও পাওয়া যাচ্ছে না। এসব এমনি করছে না। নির্দিষ্ট লক্ষ্য আছে। অভিযোগ, সুনির্দিষ্ট একটি দলকে জেতাতে হবে। নতুন ভোটারদের আবেদন গ্রহণ করতে হবে। তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অভিযোগ, লক্ষ লক্ষ আবেদন ঝুলে রয়েছে। ৭ নম্বর ফর্ম জমা দিয়ে এক শ্রেণির মানুষ তাদের শত্রুদের হয়রানি করতে চায়। এজন্য হাজার হাজার এধরণের আবেদনের শুনানি না করে কারো নাম বাদ দেওয়া অপরাধ!
 
মহাষড়যন্ত্র –
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অভিনব আবিষ্কার লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি বা যৌক্তিক অসঙ্গতি! এআবার কি! ভোটারের প্রদত্ত ক্রেডিনশিয়ালে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। প্রায় দেড় কোটি মানুষের নামে নাকি অসঙ্গতি ধরা পড়েছে! আবার কারও বাবার নামে নাকি ছয়ের বেশি সন্তানের হদিস পাওয়া গেছে! আচ্ছা, শুধুমাত্র দেড় কোটি কেন? আমি যতদূর জানি, আশি শতাংশ মানুষের নামে বানান ও পদবি মিসম্যাচ আছে। সেটা কি লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি? হ্যাঁ। এটাই লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি। কিন্তু এটা পরিচালিত হচ্ছে সুনির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষকে টার্গেট করে। আচ্ছা, এদেশে কি কোন আইন আছে যে কোন দম্পতি ছয়ের বেশি সন্তান জন্ম দিতে পারবে না! এটাও নাকি লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি। এটা সমাধান করতে হলে কথিত এগারোটার মধ্যে কোন একটি নথি শুনানির সময় জমা করতে হবে! ভাবুন। অভিযোগ কী ছিল আর জবাব কী দিতে হল! এধরণের অভিযোগ সমাধানের কার্যকর পদ্ধতি হচ্ছে, সরাসরি অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে তদন্ত করা। তা না করে অসুস্থ ও বৃদ্ধ সহ দেড় কোটি মানুষকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া!  এটা যদি সঠিক পদ্ধতি হয়, তাহলে সব রাজ্যে বাস্তবায়ন হচ্ছে না কেন?
 
ষড়যন্ত্র –
কমিশন যে কথিত মিসম্যাচের অভিযোগে অভিযুক্তদের শুনানিতে হাজির হতে বাধ্য করল তা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। একেবারে অসভ্যতা ও নৃশংসতা! এই অসঙ্গতি সমাধানের জন্য বি এল ও একাই যথেষ্ট। তার শংসাপত্র যথেষ্ট। খুব বেশি হলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে এফিডেভিট নিলেই মিটে যেত। কিন্তু না, এন আর সি ডকুমেন্ট লাগবে! উদ্দেশ্য পরিষ্কার। সাংবিধানিক স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান অবিচার করলে তার জবাবদিহিতা দাবি করা সহজ নয়! এজন্য এসব পদে অসৎ মানুষ বসলে জনগণের সর্বনাশ! বর্তমান নির্বাচন কমিশন প্রধান কয়েক দিন আগে প্রকাশ্য সাংবাদিক সম্মেলন করে বলে গেলেন, যেসব ভোটারের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থাকবে তাদের কোন নথি জমা করতে হবে না। এখন দেখছি, তাদেরকে লক্ষ্যবস্তু করে যত হয়রানি। অধিকাংশ ডিলিটেড নাম ২০০২ সালের তালিকার অন্তর্ভুক্ত। এই প্রহসন কীভাবে মেনে নেওয়া সম্ভব!
 
ষড়যন্ত্র –
অসাংবিধানিকভাবে মাইক্রো অবজার্ভার ও রোল অবজার্ভার নিয়োগ করে অবৈধভাবে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা একটি গভীর ষড়যন্ত্রের ফলশ্রুতি। বহু পরিশ্রম করে যে কাজ  ই. আর. ও. এবং এ. ই. আর. ও. বন্ধুরা সুসম্পন্ন করে ফেলেছে তখন মাইক্রো অবজার্ভার ও রোল অবজার্ভাররা কোন অধিকারে তাকে রোল ব্যাক করল? এই অবৈধ ও অনৈতিক কাজকে কোর্ট কীভাবে বৈধতা দিচ্ছে ! নির্বাচন কমিশন বিপুল সংখ্যক মানুষের নামে কীভাবে অ্যাডজুডিকেশন তকমা দিয়ে গভীর ফাঁদে জড়িয়ে দিল! এসব সার্কাস খেলার উদ্দেশ্য মানুষ বুঝে গেছে। কোথাও স্বচ্ছতা নেই। গভীর ষড়যন্ত্র আছে।
 
ষড়যন্ত্র –
অ্যাডজুডিকেশন! বিচারপতিরা কাদের বিচার করছেন? কোন অপরাধের বিচার করছেন? বিচার প্রক্রিয়ার মানদণ্ড কী! যে অপরাধীদের বিচার হচ্ছে তারা নিজেদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নেই কেন? অপরাধ প্রমাণিত হল কীভাবে? সে বিষয়ে কেউ জানতে পারবে না! কী জন্য একজনের নাম ভোটার লিস্ট থেকে মুছে দেওয়ার রায় হল সেবিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানান হবে না? এসব কী হচ্ছে? বিচার না সার্কাস? প্রতি মিনিটে কতজনের বিচার সম্পন্ন হচ্ছে? কতজনের ভাগ্য নির্ণয় হচ্ছে? সর্বনাশ হচ্ছে! বহু বুথে ৩০% থেকে ৮০% মানুষের নাম বাদ! করণিকের কাজের জন্য মহামহিম বিচারপতি! বিচারপতিরা বিচারিক সিদ্ধান্ত নিবেন। লিখিত সিদ্ধান্ত জানাবেন। কিন্তু এসব কী হচ্ছে?
 
ষড়যন্ত্র –
যৌক্তিক অসঙ্গতি তারপর বিচারাধীন তারপর মুছে ফেলার যে প্রক্রিয়া চলছে তার সর্বনাশা  প্রভাবের কথা ভেবেছেন? একটি হাস্যকর নাট্য মঞ্চস্থ করে তারা কত পরিবার ধ্বংস করতে চাইছেন ? খবর রাখেন? প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ থেকে আশি লক্ষ মানুষের জীবনে কি বিভীষিকা নেমে এসেছে! কি মনে হয়? এরা সবাই অনুপ্রবেশকারী? আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, আপনার ও আমার চেয়ে তাদের অনেকের বেশি ডকুমেন্ট আছে। যা দিয়ে সহজেই প্রমাণিত হবে তিনি এদেশের ভূমিপুত্র ও মূলনিবাসী। দেশপ্রেমিক নাগরিক ও বৈধ ভোটার। কিন্তু কাকে দেখাবে? একজন হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি একাধিক বার নথি জমা দিয়েছেন। এমনকি পাসপোর্ট থেকে শুরু করে সব গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দেওয়ার পরও তাঁর নাম ডিলিট করা হয়েছে। এই দুঃসাহস হয় কী করে! মূলত এসব গভীর ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ!
 
ষড়যন্ত্র –
এক শ্রেণির মানুষের অভিযোগ, এসব সম্ভব হচ্ছে, কারণ একটি অশুভ শক্তি অসৎ মানুষ নিয়ে একটি আঁতাত গড়ে তুলেছে! নেক্সাস! এত বড় অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে কীভাবে! কোটি কোটি নাগরিকের জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ তছনছ করে দিয়েছে -এই কথিত এস আই আর নামক অনুশীলন। কোটি কোটি মানুষ আতঙ্কিত ও সন্ত্রস্ত! লক্ষ লক্ষ কর্মদিবস নষ্ট। কোটি কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে। দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। অথচ তথাকথিত কর্মকর্তাদের গতিবিধি দেখে মনে হচ্ছে, দুনিয়া ডুবলেও তাদের কাছে এক হাঁটু জল! এমন কি হয়েছে? ক্ষমতা দখলের অভিসারে সব বৈধ।
 
ষড়যন্ত্র – ১০
বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে। পৃথিবীর সকল মানুষ বিচার ব্যবস্থার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করে। দুর্বৃত্ত ব্যক্তি, মাফিয়া গোষ্ঠী ও স্বৈরাচারী সরকারের নিপীড়ন থেকে বাঁচার একমাত্র আশ্রয় বিচারালয় ও বিচার ব্যবস্থা। কিন্তু একি লক্ষ্য করছি! যতবার  সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হচ্ছে তারপর নির্বাচন কমিশন পরের দিন বেপরোয়া হয়ে যাচ্ছে! সুপ্রিম কোর্ট আধার কার্ডকে গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে গ্রহণ করতে একাধিক বার বলার পরেও নির্বাচন কমিশন তা উপেক্ষা করে চলেছে। সুপ্রিম কোর্টে ধমক খাওয়ার পরের দিন এক কোটি ছত্রিশ লক্ষ মানুষের নামে কমিশন লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির নোটিশ করেছে! তাদের ক্রেডিনশিয়ালে নাকি অসঙ্গতি আছে! মানে সন্দেহজনক। মহামহিম নির্বাচন কমিশনের নিদান আমরা মানতে বাধ্য। সব কাজ ফেলে তার নির্দেশ অবলাইজ করেছি। শত কষ্ট স্বীকার করে।
 
হাজার হাজার সরকারি কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে কথিত লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি যখন প্রায় শেষ হয়েছে তখন আবার কোর্টের শুনানি। কোর্টের ধমক খেয়ে বিচার বিভাগকে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার প্রাক মুহূর্তে নির্বাচন কমিশন ষাট লক্ষ মানুষের নামে আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন ট্যাগ লাগিয়ে দিল। বেলাগাম! বেপরোয়া ! নির্লজ্জ!  
 
আমাদের বিশ্বাস, সুপ্রিম কোর্ট তো সুপ্রিম। তাহলে তাকে অবজ্ঞা করার সাহস হচ্ছে কি করে! সর্ষের মধ্যে ভূত নেই তো! কোর্ট কীভাবে কোটি কোটি মানুষের নামে নোটিশ জারি করাকে মেনে নিল! ষাট লক্ষ মানুষের নামে আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন তকমা কীভাবে স্বীকৃতি দিল! এই মুহূর্তে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশিত বিচারকরা কোন আইন ও মানদণ্ড মেনে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার রহিত করে চলেছে! খুব বিপজ্জনক! এই সর্বনাশের অভিঘাত খুব সহজে মিটবে না।

Friday, 30 December 2022

সম্পাদকীয়ঃ নাস্তিকের ধর্ম-সংকট


নাস্তিকের ধর্ম-সংকট
 
ধর্ম যেমন একটি সংস্কৃতি ও জীবন ব্যবস্থা। নাস্তিকতা তেমনি একটি সংস্কৃতি ও জীবন ব্যবস্থা। ধর্ম যেমন একটি দর্শন। নাস্তিকতাও একটি দর্শন। মানব সভ্যতার ইতিহাসকে ধর্ম এক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে। নাস্তিকতা ভিন্ন একটি দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে। ধর্ম ও নাস্তিকতা বিজ্ঞানকে বিপরীত দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে। উভয়ের দাবি, বিজ্ঞান তাদের পৈতৃক উত্তরাধিকার। পৃথিবীর সকল ধর্মে বিশ্বাসীরা যেমন ঐক্যবদ্ধ নয়। নাস্তিকরাও ঐক্যবদ্ধ নয়। উভয়ের অসংখ্য দল ও উপদল আছে। মানব সভ্যতার ইতিহাসে ধর্ম বিশ্বাসীরা অধিকাংশ সময় মূলস্রোতের শক্তি। নাস্তিকরা চিরকাল প্রান্তিক শক্তি। আধুনিক বিজ্ঞানীদের কত শতাংশ নাস্তিক আর কত শতাংশ ধর্মবিশ্বাসী সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য কোনো পরিসংখ্যান আছে বলে আমার জানা নেই। তবে বিজ্ঞানীরা যে সব জান্তা নয়, সেটাও মাথায় রাখতে হবে। ডারউইন বড়ো বিজ্ঞানী না আইনেস্টাইন; এবং ধর্ম বিষয়ে তারা কি অভিন্ন মত পোষণ করতেন— সেসবও ভেবে দেখার বিষয়।
 
পৃথিবীর সুদীর্ঘ ইতিহাসে নিকট অতীতে স্বঘোষিত নাস্তিকরা পৃথিবীর বিশাল একটি অঞ্চলে কিছু কাল শাসন করেছিল। তারা কত শান্তিপ্রিয় ও সৃজনশীল তা এখন প্রমাণিত হয়েছে। হাজার হাজার বছরের মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক শতাব্দী বা অর্ধশতাব্দী কিছুই না। ওই সব অঞ্চলের এক সময়ের গর্বিত নাস্তিকরা এখন আবার পূর্বপুরুষের ধর্মে ফিরে এসেছে। নাস্তিকরা এখন পৃথিবীর কোথাও ক্ষমতাসীন নয়। কোনো সমাজে মূলস্রোতের শক্তি নয়।
 
এ রাজ্যের বাঙালি নাস্তিকরা বাম শাসনামলে সমাজের মূলস্রোতের শক্তি রূপে সমাজে বেশ প্রভাব বিস্তার করেছিল। তবে তাদের অভিন্ন পরিচিতি ছিল না। হিন্দু নাস্তিক, মুসলিম নাস্তিক, ব্রাহ্মণ নাস্তিক ও দলিত নাস্তিক বলে তারা পরিচিত হয়েছিল। বাম সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী শ্রী সুভাষ চক্রবর্তী নিজেকে একবার ব্রাহ্মণ নাস্তিক বলে পরিচয় দিলে বাঙালি মুসলিম এক নাস্তিক বলেছিলেন, “না সুভাষ, ব্রাহ্মণ নাস্তিক, হিন্দু নাস্তিক ও মুসলিম নাস্তিক বলে কিছু হয় না।” জানি না, তার সেই পবিত্র প্রবচন হিন্দু নাস্তিকরা গ্রহণ করেছিল কিনা। তবে মুসলিম নাস্তিকরা তার নীতিকথা অক্ষরে অক্ষরে মেনে ছিল। তারা মুসলিম সমাজ থেকে ধর্মের প্রভাব উৎপাটন করতে দারুন ভাবে সচেষ্ট হয়েছিল। এই নাস্তিকরা সে-সময় মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটির শীর্ষে বসে মসজিদ ও মাদ্রাসা ভিত্তিক মুসলিম সমাজের ঐক্য ও সংহতিকে চুরমার করে দিয়েছিল। মসজিদ ও মাদ্রাসার জমি ও সম্পদগুলো মুসলিম কমরেডদের সঙ্গে নিয়ে লুটপাট করেছিল। মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে আপস মীমাংসার একটি গ্রাম্য সমাজ ও সভা থাকে। তারা সেগুলোকে দখল করেছিল। তাদের আধিপত্য এতটাই অতিরঞ্জিত ছিল যে, এক সময় মুসলিম সমাজের অস্তিত্ব প্রায় বিপন্ন হতে বসেছিল। অন্যদিকে, হিন্দু সমাজে তাদের নাস্তিক্য প্রভাব তেমন শক্তিশালী ছিল না। প্রভাবশালীও ছিল না। তাদের শাসন কালে কোলকাতা শহরের পথে পথে হাজার হাজার হিন্দু বেদি ও মন্দির গড়ে উঠেছে। গ্রামে গ্রামে আর এস এস, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ও বজরঙ দলের শাখা গড়ে উঠেছে। বাবরি মসজিদ ভেঙে মন্দির বানানোর জন্য এখান থেকে হাজার হাজার ইঁট গেছে উত্তর প্রদেশে। আদবানিরা নির্বিঘ্নে হিন্দুদের সুড়সুড়ি দিয়ে বেড়িয়েছে। কোনো অসুবিধা হয়নি। কিন্তু কোনো মুসলিম মহল্লায় জামায়াতে ইসলামীর মোকামী শাখা গড়ে উঠেছে। তবলীগ জামাতের নিরীহ চিল্লা পার্টি মসজিদে এলে তাদের তৎপরতার শেষ ছিল না। তাদের বক্তব্যে রাজনীতি আছে কিনা তার বিশ্লেষণ হত। তখন বামপন্থী লোকাল কমিটি, জোনাল কমিটি, জেলা ও রাজ্য কমিটি থেকে জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে মুসলিম নাস্তিক কমরেডের কাছ থেকে। মুসলিম সমাজের ধার্মিকতা ও মুসলিম সংগঠনের সক্রিয়তার জন্য মুসলিম কমরেডকেই দায় নিতে হতো। জবাবদিহি করতে হতো।
 
তাদের গালভরা দাবি ছিল, হিন্দু নাস্তিক বামপন্থীরা একক ও একমাত্র মৌলবাদ বিরোধী শক্তি।  সকলেই জানেন, তারা গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে রাজ্যে হিন্দু তরঙ্গ রুখতে চুড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছিল। হিন্দু মৌলবাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। তারা প্রায় সব সময় বলত, তারা হিন্দু ও মুসলিম বলে কাউকে বিচার করে না। তারা সকলকে মানুষ বলে বিবেচনা করে। কিন্তু মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি তাদের বৈষম্য ছিল ভয়ঙ্কর। মন্ত্রীসভায় তাদের প্রতিনিধিত্ব ছিল প্রতিকী। সাংগঠনিক ক্ষেত্রে তাদের প্রতিনিধিত্ব ছিল প্রতিকী। পশ্চিমবঙ্গের মাত্র দু’টি জেলায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। গত চল্লিশ বছর বামপন্থী প্রগতিশীল দল কোনো মুসলিমকে জেলা সভাপতি করেনি। কারণ তারা নাকি সাম্প্রদায়িকতাকে প্রোৎসাহিত করতে চায়নি। কিন্তু হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাতেও কখনো মুসলিম বামপন্থীদের সভাপতি অথবা গুরুত্বপূর্ণ পদে অভিষেক করেনি। তিন দশকের অধিক কাল ধরে তারা এই অপকর্ম করেছে। নির্বিঘ্নে। তারা তো মুসলিম নেতৃত্বের অস্তিত্বকে নির্মূল করে দিয়েছিল। কোনো মুসলিম ব্যক্তি মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব বিষয়ে প্রশ্ন তুললে তাকে মৌলবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে তারা তার তীব্র নিন্দা করত। শুধু তাই নয়, তারা প্রশ্ন তুলতো, মুসলিম হলে মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বার্থ বিষয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার হয় না। মুসলিম সম্প্রদায় যে প্রগতিশীল বামপন্থী হিন্দুদের নির্বাচিত করেছে তারাই তাদের আইনসম্মত প্রতিনিধি। এমনকি তারা সাচার কমিটির রিপোর্টকে ভুল ও ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণ করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল। যাক এসব প্রসঙ্গ। এত কথা বলার অর্থ নাস্তিকরা ধর্মবিশ্বাসীদের শুধু বিশ্বাসকে ঘৃণা করে না । তাদের শাসন ব্যবস্থাকেও ঘৃণা করে। নিন্দা করে। তাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে ঘৃণা করে।
 
আমাদের মুসলিম সমাজে কিছু তথাকথিত বামপন্থী নাস্তিক বেশ সক্রিয়। মুসলিম ও ইসলাম বিষয়ে তাদের ঘৃণা অত্যন্ত কদর্য। তাদের দুঃখ, তাদের পরিচিতির সঙ্গে মুসলিম ও ইসলাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। দূর্ভাগ্য এই জড়িয়ে যাওয়া এখন তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। তাদের গলগ্রহ হয়ে গেছে। তারা মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে এতো বলছে তাও তাদের সতীর্থ প্রগতিশীল নাস্তিক হিন্দুরা তাদের বিশ্বাস করে না। তাদের পরিচিতি গুলিয়ে দিচ্ছে। তারা এখন চরম সংকটে। এক দুর্ভেদ্য চক্রব্যূহে। আমার ধারণা, এই চক্রব্যূহ ভেদ করার তাদের কাছে এখন আর কোনো সুস্থ ও সম্ভাব্য উপায় ও অবকাশ নেই।
 
নুরুল ইসলাম নূরানি

Saturday, 30 July 2022

সম্পাদকীয়ঃ নবী মোর পরশমণি



নবী মোর পরশমণি
 
হঠাৎ প্রবল বর্ষণে জলমগ্ন হয়ে উঠলো মক্কা। প্রাণকেন্দ্র কাবা চত্বরও জলের তলে। বেশ ক্ষয়ক্ষতি হল কাবা ঘরের। জল নেমে গেলে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হল। অর্থ সংগ্রহ হল। শিশুকিশোরেরাও অংশ নিল। কাঁধে ও মাথায় করে নুড়ি-পাথর বইতে লাগলো তারা। কেউ কেউ কাঁধে যাতে আঘাত না লাগে, পাথরের ঘষায় ক্ষত না তৈরি হয় তার জন্য পরনের কাপড় খুলে কাঁধে রাখলো। অনেকের দেখাদেখি যখন শিশু মুহাম্মদ (সাঃ)-এর লুঙ্গি খুলে কাঁধে রাখা হল, তৎক্ষণাৎ তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন।
 
শৈশব উৎরে তিনি তখন টগবগে যুবক। আরেকবার নির্মাণ ও মেরামতির কাজ চলছে কাবা ঘরের। অত্যন্ত পবিত্র কৃষ্ণ প্রস্তরকে তার জায়গায় পুনঃস্থাপনের পালা। সকলেই এই সম্মানের অধিকারী হতে উদগ্রীব। তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও অধীর আগ্রহ তাঁদেরকে উন্মাদ করে তোলে। পরিস্থিতি এমন পর্যায় চলে যায় যে যেকোনো মুহূর্তে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠবে। সবার সম্মতিতে এগিয়ে এলেন তিনি, অভূত পূর্ব পন্থায় মীমাংসা করলেন। একটি চাদরে পবিত্র পাথরকে রেখে মক্কার বিভিন্ন গোত্রীয় নেতাদের দিয়ে সেই চাদর বহনের আহ্বান জানালেন। তারপর নিজ হাতে তা পুনঃস্থাপন করলেন। এভাবে একটি আসন্ন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ টলে গেল।
 
বয়স একটু বেড়েছে। বিবেক জাগ্রত হয়েছে। ভালো ও মন্দের তারতম্য স্পষ্ট হয়েছে। ঠিক সেই সময় যুদ্ধের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বহু শৈশব। কৈশোর, তারুণ্য ও যৌবন উদ্ভ্রান্ত ও বিধ্বস্ত হয়ে উঠেছে। আর এসবের একমাত্র কারণ হার্‌বু ফিজার বা ফিজারের যুদ্ধ। যুদ্ধ শেষে কিছু শান্তিকামী বিবেক একত্রিত হয়ে যে-কোনোরকমের নাশকতা রুখতে বদ্ধপরিকর হয়েছিলেন। সেই সকল মুরুব্বীদের মাঝে এক তরুণও উপস্থিত ছিল এবং অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল সেই শান্তি সংঘ প্রতিষ্ঠায়। তিনি হলেন নবী মুহাম্মদ (সাঃ)। তবে তখনও তিনি নবিত্ব লাভ করেননি।

Wednesday, 8 June 2022

সম্পাদকীয়ঃ সাংস্কৃতিক ধ্বংসাবশেষের গহ্বরে

 



সাংস্কৃতিক ধ্বংসাবশেষের গহ্বরে
 
বাবরি মসজিদ শহীদ হয়েছে। এবার জ্ঞানবাপীমথুরাকুতুব মিনারতাজমহলজামে মসজিদ দিল্লিলাল কেল্লাআজ়ানহ়িজাব একের পর এক বিতর্ক চলতে থাকবে। বলা বাহুল্যএসবকে কেন্দ্র করে পরস্পর বিতর্ক জিইয়ে রাখা হবে। সেই সাথে ইসলাম ও মুসলিমদেরকে উদ্দেশ্য করেহেয় করে নানান ধরণের ডিবেট ও টক শো'র আয়োজন ও উপস্থাপন দিনদিন বাড়তে থাকবে। তবে তুমি তাদের কথায় দুঃখ পেয়ো না। [সূরাতু ইউনুসআয়াত ৬৫] বরং “ধৈর্য্য ধরোযেভাবে (ইবরাহিমঈসা ও মূসা আঃ-এর মতো) মহৎ ও দৃঢ় আত্মপ্রত্যয়ী নবী-রসুলগণ ধৈর্য্য ধরেছিলেন। [সূরাতু আল্-আহ়্ক়াফ়আয়াত ৩৫]
 
আসামে থানায় এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও পাব্লিকের মাঝে বচসা বাধে। ক্ষিপ্ত জনতা থানা জ্বালিয়ে দেয়। তারপর পুলিশ অনুমানের ভিত্তিতে কিছু মানুষের ঘরবাড়ি বুল্ডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়। ঘটনাচক্রেথানায় নিহত ব্যক্তি মুসলিমযাদের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে তারাও মুসলিম। আর তা দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় উচ্ছ্বাসের লহর বইছে। পাশাপাশিদুচারটে পরিতাপ ও প্রতিবাদও আছে। তবে তা অধিকাংশই মুসলিম ও কিছু ন্যায়পরায়ণ মানুষদের।
 
বুল্ডোজার ইদানীং বাঁধ নির্মাণনালা খনন ও নদী সংস্কারে তেমন ব্যবহার হয় না। ব্যবহার হয় বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙতে। উত্তর প্রদেশের পর মধ্যপ্রদেশদিল্লি হয়ে এখন সেই ট্রেন্ড আসামে পৌঁছেছে। অন্যদিকেআসামে বন্যার জন্য প্রায় ছ’ লাখ মানুষ ঘরছাড়া। সবাই কেমন ভাবলেশহীন। যেনবন্যার জল কেবল মুসলমানদের পাড়ায় ঢুকেছে। হিন্দুদের বাড়ির দহ্লিজ দিয়ে ঘুরে বেছে বেছে মুসলমানদের বাড়িঘরে ঢুকেছে। তারাই কেবল বন্যার প্রকোপে পড়েছে। যেন ওরা সবাই নিরাপদ। বন্যা-ভূমিকম্প যা-ই আসুক, ওদের কোনো ভয় নেই!
 
হায়দ্রাবাদের মেয়ে নিক্‌হাত জ়ারিন বিশ্বজয় করেছে। বক্সিংয়ে স্বর্ণপদক জিতে ফিরেছে। চারিদিকে উৎসবের আমেজ। শুভেচ্ছা বার্তায় ফেসবুকইন্সটাগ্রাম ও টুইটার ভরে গেছে। আরও কতকিছু। তবে এখনো সরকারী ও বেসরকারী ভাবে তেমন নজরকাড়া কোনো আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা খবরের নজরে আসেনি। কারণ যে কীতা হয়তো নিক্‌হাতই ভালো বলতে পারবে।
 
বক্সিং রিংয়ে সে আর পাঁচটা মেয়ে বক্সারের মতোই পোশাক পরে নামে। তবে এনডি টিভির এক সাক্ষাৎকারে হিজাব বিতর্ক প্রসঙ্গে তাঁর ব্যাল্যান্স্‌ড মন্তব্য অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
 
২৫-০৫-২০২২
তপ্সিয়াকোলকাতা

Sunday, 28 February 2021

আয়েশার মৃত্যুঃ আত্মহনন না সমাজহনন


আয়েশার মৃত্যুঃ আত্মহনন না সমাজহনন
 
আয়েশার ভিডিওটা বেশ বার দেখলাম একটা মানুষ কতটা ডিপ্রেস্ হলে অমন ভাবে হেসেখেলে জীবন দিতে পারে! তার জীবন কতটা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছিল যে মৃত্যুর আগে সে কামনা করছে তাকে আর কোনো মানুষের মুখোমুখি হতে হবে না হয়তো সমাজ আত্মহনন বলে তার পরিস্থিতিকে লঘু করে দেখবে; আরও হালকা করে দেবে তাদের পাপের বোঝা যারা আয়েশার ওই পরিস্থিতির জন্য দায়ী এক্ষেত্রে শুধু তার স্বামী-শ্বশুর বাড়ির লোকই শুধু দায়ী নয় কোথাও না কোথাও পুরো সমাজ, আমরা সবাই দায়ী আমাদের অত্যাধিক লোভ, লালসা দায়ী  
 
অনেকে ভাবতে পারেন, আয়েশা চাইলে তালাকের পথ বেছে নিতে পারতো তা অবশ্যই পারতো, কিন্তু আমাদের সমাজে তালাকের পথ কি অতই সহজ! বিশেষ করে একটি মেয়ে যদি তালাক চায় তখন সমাজ ওই মেয়েকেই মনে মনে দোষী সাব্যস্ত করে তার কপালে নানা ধরণের কালি লেপন করে দেয় কেউ একবারও ভেবে দেখে না, একটা মেয়ে তার সংসার কেন ছাড়তে চাইছে!
 
এর পাশাপাশি মা-বাবারাও অনেক ক্ষেত্রে বড্ড বেশি দায়ী সে ছেলের হোক বা মেয়ের ছেলের মা-বাবা ছেলের খুশী, পছন্দ-অপছন্দের চেয়ে সমাজে নিজের পজিশন, মানসম্মান ইত্যাদি দেখনদারির বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয় ঠিক তেমনই মেয়ের বাবামায়েরাও মেয়ের পছন্দ, রুচি কোনোকিছুর তোয়াক্কা না করেই নিজের মনমর্জি করে সোনায় মেপে জামাই নেবে, নিজের সব কিছু বিক্রি করে হলেও আর সোনার ওই পাহাড়ের মাঝে মেয়েটা কতটা খুশী থাকবে তার একটা ছবি নিজের মতো করে অগ্রিম কল্পনা করে বসে থাকে   
 
সব কিছুতেই একটা বস্তুবাদী মনোভাবকে উভয় পক্ষই এত বেশি প্রাধান্য দেয় যে, ছেলে হোক বা মেয়ে তার যে কোথাও একটা নিজস্বতা আছে, কিছু ইমোশনস আছে, তার নিজেরও যে ভালোমন্দের একটা মানদণ্ড আছে, সে-সবকিছুই উপেক্ষিত থেকে যায় আর সেখান থেকেই শুরু হয় হতাশা জন্ম নেউ ডিপ্রেশন কেউ সেই ডিপ্রেশনকে সামলে কোনোরকমে ধুঁকে ধুঁকে জীবন কাটায় তো কেউ বেশামাল হয়ে আত্মহনন নিষিদ্ধ মহাপাপ জেনেও আয়েশাদের পথ বেছে নেয় কারণ সমাজের জটিল ব্যাকরণের অজুহাত তার সামনে যে আর কোনো পথ খোলা রাখে না!
আব্দুল মাতিন ওয়াসিম