Pages

Saturday, 12 March 2016

দীওয়ানুল্‌ হ়ামাসাহ্


দীওয়ানুল্‌ হ়ামাসাহ্‌  
আব্দুল মাতিন ওয়াসিম
 
দীওয়ানুল্‌ হ়ামাসাহ্‌ পরিচিতিঃ
সাহিত্য-প্রেমিকদের নিকট আরবি সাহিত্যের উপাদানের আধিক্য সুপরিচিত সাহিত্যপদানগুলির মধ্যে দীওয়ানুল্‌ হ়ামাসাহ্‌ অন্যতম সংকলনে বহু মূল্যবান আরবি কবিতা সংকলিত হয়েছে সংকলনটি না হলে হয়তো বহু কবিতা বিলুপ্ত হয়ে যেত। কবি আবু তাম্মাম হাবীব বিন আওস আত্‌-তায়ী সর্বপ্রথম দীওয়ানুল হামাসা সংকলন করে
 
দীওয়ান শব্দের অর্থ সংকলন, সঞ্চয়িতা ইত্যাদি। আর হামাসাহ্‌ শব্দটি হামাসা ক্রিয়াপদের মাস্‌দার বা বিশেষ্যপদ। এর অর্থ সাহসিকতা, তীব্রতা, উদ্দীপনা, শৌর্যবীর্য, লড়াই করা ইত্যাদি। আল্‌-হামাসাহ্‌ বা সাহসিকতা ও শৌর্যবীর্য বিষয়ক কবিতার অধিক সংকলনের কারণে উক্ত নামে নামাঙ্কিত করা হয়েছে। আবার অনেকে মনে করেন, এই বিশাল কাব্যসংকলনটির আল্‌-হামাসাহ্‌ নামকরণ করা হয়েছে, কারণ বাবুল্‌ হামাসাহ্‌ শিরোনামের অধ্যায়টি এই সংকলনের সব থেকে বড় অধ্যায়। অথবা ই জন্য যে, এটি এই সংকলনের প্রথম অধ্যায়। আর প্রথম অধ্যায় দ্বারা নামকরণ মধ্যযুগীয় সাহিত্যে একটি সুপরিচিত বিষয় বা রীতি
 
দীওয়ানুল্‌ হ়ামাসাহ্‌ সংকলনের কাহিনীঃ
আব্বাসী যুগে যখন সাহিত্য ও কাব্যরুচি পরিবর্তিত হল, সাহিত্য প্রেমিকরা নির্বাচিত কতিপয় সাহিত্যসৃষ্টির স্বাদগ্রহণে মগ্ন হয়ে পড়ল। ফলস্বরূপ সে যুগে কতিপয় সাহিত্য সংকলনের আত্মপ্রকাশ ঘটল। তার মধ্যে দীওয়ানুল্‌ হ়ামাসাহ্‌ অন্যতম। আর এর রচনার পটভূমি হচ্ছে, কবি আবু তাম্মাম খোরাসান হতে ইরাকের দিকে যাত্রা করছিলেন পথিমধ্যে হামাযানে আবুল্‌ ওয়াফা বিন সালামাহ্‌র নিকট অতিথিরূপে কিছু দিন অবস্থান করেন। হঠাৎ একদিন প্রচন্ড তুষারপাতে অগ্রযাত্রা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তা দেখে আপ্যায়ক অতিথিকে বলেনএখানে আরও কিছু দিন অবস্থানের ব্যাপারে মনস্থির করুন। এবং নিজ সঞ্চিত পুস্তক ভাণ্ডার তাঁর সম্মুখে উপস্থিত করেন। আবু তাম্মাম সেই পুস্তকগুলি অধ্যায়ন করার পর পাঁচটি কাব্যসংকলন প্রস্তুত করেন। তার মধ্যে দীওয়ানুল্‌ হ়ামাসাহ্‌ অধিক বিখ্যাত। তিনি উক্ত সংকলনে প্রাক-ইসলামী যুগ থেকে আব্বসী যুগ পর্যন্ত বহু কবিতা সংকলন করেছেন
 
দীওয়ানুল্‌ হ়ামাসাহ্‌সাহিত্য-মূল্যঃ
সাহিত্য মূল্যের দৃষ্টিকোণ থেকে এই সংকলনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে এর কিছু সাহিত্যিক মূল্য পর্যালোচনা করা হল
(১) কাব্যের উৎস বা প্রাচীন কাব্যের রক্ষাকারীরূপেঃ নিঃসন্দেহে দীওয়ানুল্‌ হ়ামাসাহ্‌ আরবি সাহিত্যের কাব্য-সংকলনগুলির মধ্যে একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সংকলন। এ সংকলনে ৩৯০২টি বায়েত বা পঙক্তি, ৮৭১টি মাক্‌তা’ বা ছোট কবিতা এবং ৮৫৪ জন কবির বাণী সংকলিত রয়েছে। আবু তাম্মামের এই সংকলনের মাধ্যমে আমাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন। এ সংকলনটি না হলে বহু কবিতা ধরনি তল হতে বিলুপ্ত হয়ে যেত, বলে অনেকে আশংকা প্রকাশ করেছেন।
 
(২) ইতিহাসের পুস্তকরূপেঃ  এই সংকলনের মারফৎ প্রাক-ইসলামী যুগ হতে আব্বাসী যুগ পর্যন্ত বহু গোত্র, কবি, বহু স্থান ও নেতা নেত্রীর সম্পর্কে বহু মূল্যবান তথ্য পাঠকূলের উদ্দেশ্যে উপস্থাপিত হয়েছে। এ সংকলনটি না হলে এ ধরনের বহু তথ্য সম্পর্কে পাঠককূল অজ্ঞাত থাকত।
 
(৩) বিস্তৃত আরবি শব্দভাণ্ডার রূপেঃ এই সংকলনে ৩৯০২টি বায়েত বা পঙক্তি রয়েছে। প্রত্যেকটি পঙক্তিতে কমপক্ষে পাঁচটি শব্দ রয়েছে। প্রাক-ইসলামী যুগ হতে আব্বাসী যুগ পর্যন্ত ব্যবহৃত এই বিপুল সংখ্যক শব্দ এই সংকলন ব্যতীত অন্য কোন পুস্তকে দেখা যায় না। এই দৃষ্টিকোন থেকে দীওয়ানুল্‌ হ়ামাসাহ্‌ সংকলনটি সত্যি প্রশংসাযোগ্য। স্পষ্ট ভাষায় এটি একটি বিস্তৃত আরবি শব্দভান্ডার।
 
তাই, আবু তাম্মাম হ়াবীব বিন্‌ আওস আত়্-ত়ায়ী কর্তৃক সংকলিত এই দীওয়ানুল্‌ হ়ামাসাহ্‌ গ্রন্থটি আরবি সাহিত্যের কাব্যজগতে একটি বিশেষতম সংকলন। সাহিত্যিক দৃষ্টিকোন থেকে এ সংকলনের গুরুত্ব অপরিসিম। প্রাক-ইসলামী যুগ থেকে আব্বাসী যুগ পর্যন্ত খ্যাতনামা কবিদের মূল্যবান নীতিকথা, চিন্তাচেতনামূলক ও সাহিত্যিক বৈশিষ্টসমৃদ্ধ কবিতাসমূহে পূর্ণ এই সংকলনটি। তাই অগ্রগতি ও উন্নতির এ যুগেও এই সংকলনটি বহু মাদ্রাসা, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।  

Thursday, 10 March 2016

أبو عثمان عمرو بن بحر الجاحظ

أبو عثمان عمرو بن بحر الجاحظ

(٧٨٠ – ٨٦٩ م)

تعريفه ومولده:

هو أبو عثمان عمرو بن بحر بن محبوب الكناني البصري، أحد مشاهير الكُتّاب والأدباء للعصر العباسي. كان متبحّرا في علم الكلام وخالطا إيّاه بفلسفة يونان. وهو أوّل عالم عربي جمع بين الجدّ والهزل. وقد لُقّب بالجاحظ لكونه دميم الخلقة جــاحظ العينين. وُلد في البصرة عـام 780م الموافق 159 هـ.

 

نشأته وتعليمه:

نشـأ بالبصرة فقيـرا. فكان يبيع السمك والخبز في النهـار، ويكتري دكاكين الورّاقين في الليل. وكان يقرأ منها ما يسـتطيـع قراءته. وطلب العلم في سن مبكّرة. وقرأ القرآن ومبادئ اللغة على شيوخ بلده. وأخذ علم اللغة العربية وآدابها على أبي عبيدة، والأصمعي. ودرس النحو على الأخفش، وعلم الكلام على يد إبراهيم بن هانئ.

 

اعتقاده:  

كان مُغْـرما بمطالعـة الكتب. فلم يقع في يده كتاب إلا استتمّ قراءته واستوعب مادّته. ثم تعلّم علم الكلام من أبي إسحاق المعتزلي فتأثر به وأصبح معتزليا. فلم يزل يؤيد المعتزليين بقلمه ولسانه.

 

 نشاطاته ووفاته:

قضى أكثر عمره  في مسقـط رأسه عـاكفا على التأليف. وسافر إلى بغــداد أيام المــامون والمعتصم والواثق والمتوكل لكسـب المعيشة. ثم استقر بالبصرة. وأصيب بالفالج النصفي في آخر عمره، وطال عليه المرض حتى توفي عام 869 م. وقد شارف المائة.

 

علمه وأدبه:

تميّز الجــاحظ من أنداده لغزارة العلم وقوّة الحجـة واستقصاء البحث وشدّة المعارضة وبلاغة القول. وتبحّر في علم الكلام وخلطه بفلسفة يونان. وانتـهج في كتبه ورسـائله منهج بحثٍ علميٍ مضبوط ودقيق. وكان يبدأ بالشَّك لِيُعْرض على النَّقد، ويسبغ على بحثه صبغــة أدبيَّة جماليَّـة تُضفي على المعــارف العلميَّــة. وهذه ميزة قلَّت نظيراتها في التراث الإنساني. وكان لطيف الروح، ذكيّ الفؤاد، صادق المواساة. أخرج الإنشاء العربي من أسلوبه القديم إلى أسلوب جديد بديع. وميزة أسلوبه سهولة العبارة مع رونقها، وتقطيع الجمل إلى قطع، والإطناب في البيان، ومزج الفكاهات، وغيرها.

 

مؤلفاته:

ألّف نحو مائتي كتاب. وكُتُبه كما قال ابن العميد "تُعلّم العقـل أولا والأدب ثانيا". ومن أشهرها كتاب البيان والتبيين (في أربعة أجزاء)، وكتاب الحيوان (في ثمانية أجزاء)، وكتاب البخلاء، وكتاب المحاسن والأضــداد، والبرصان والعرجــان، والتـاج في أخلاق الملوك، والآمل والمأمول، والتبصرة في التجارة، والبغال، وفضل السودان على البيضان.


كتبه: عبد المتين وسيم 

আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম বিন আলী আল-হারীরী


আল্‌-ক়াসিম বিন্‌ ‘আলী আল্‌-হ়ারীরী
(১০৫৪ – ১১২ খ্রি)
আব্দুল মাতিন ওয়াসিম
 
পরিচিতি ও জন্মঃ 
আব্বাসী যুগে যারা গদ্য সাহিত্যের ক্ষেত্রকে লালন করেছিলেন হারীরী তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তিনি হামাযানীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রায় ৫০টি মাক়ামাহ রচনা করেন। এবং নিজের স্বতন্ত্র রচনাশৈলী দ্বারা সমকালীন গদ্য সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম ক়াসিম, উপনাম আবু মুহ়াম্মদ, পিতার নাম আলী, পিতামহের নাম মুহ়াম্মদ, প্রপিতামহের নাম উস্‌মানতাঁর পূর্বপুরুষরা রেশমের ব্যবসা করতেন বলে তিনিও হ়ারীরী নামে পরিচিত হন। অনেক ঐতিহাসিক তিনি উক্ত পেশার সাথে জড়িত ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি ইরাকের বাস়রা শহরের নিকটবর্তী মাশান নামক গ্রামে ৪৪৬ হিজরী মোতাবেক ১০৫৪ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।
 
প্রতিপালন ও শিক্ষাঃ 
জ্ঞান ও সাহিত্যের প্রতি অধিক আগ্রহের কারণে তিনি পৈতৃক পেশাকে অপছন্দ করতেন। ফলে তা ত্যাগ করে জ্ঞানীজনদের আসরকে বেছে নেন। নিরলস প্রচেষ্টা ও সাধনার মাধ্যমে সাহিত্য জ্ঞান অর্জন করেন। তাঁর বিখ্যাত কতিপয় গুরু হলেন আল্‌-ফাযল আল্‌-কাসবানী, ইবনুস্‌-সাব্বাগ, আবু ইস্‌হাক সিরাজী, আল-মুকরী প্রমুখ।
 
কর্মজীবনঃ 
তিনি কর্মজীবনে তথ্য-সচিবের পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তাই সুধীমহল ও সর্বসাধারণের নিকট তাঁর বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা ছিলতিনি বাসরায় আজীবন তথ্য-সচিবের পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এমনকি তাঁর পরে খলীফা মুক্তাফী বিল্লাহর আমল পর্যন্ত উক্ত পদটি তাঁর বংশে বহাল ছিল।
 
মৃত্যুঃ 
তিনি ৬ই রজব ৫১৬ (মতান্তরে ৫১৫) হিজরী মোতাবেক ১১ই সেপ্টেম্বর ১১২২ খ্রিস্টাব্দে বাসরার বানু হারেম মহল্লায় পরলোক গমন করেন। অনেকে তাঁর মৃত্যু সন সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন যে তিনি ৫৩৮ হিজরীর পর মৃত্যু বরন করেন। কারণ, ইব্‌নু খাল্লিকান ৫৩৮ হিজরীতে তাঁর ওয়াসিত ভ্রমণের কথা উল্লেখ করেছেন।
 
ব্যক্তিত্বঃ 
তিনি ছিলেন প্রখর মেধাবী, সূক্ষ্ম চিন্তাশীল, ভাষা ও সাহিত্যে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তিত্ব। শব্দ-জ্ঞান, প্রবাদ-প্রবচন, বাগ্‌ধারা, আরবী ব্যাকরণ ও অলংকার শাস্ত্রে তিনি বিশেষ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। গদ্য ও পদ্য উভয়ে তাঁর সমান দক্ষতা ছিল। তিনি অত্যন্ত সহনশীল, সৎ স্বভাব ও সত্য-প্রিয় মানুষ ছিলেন।
 
রচনাবলীঃ 
তিনি বিভিন্ন বিষয়ে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেগুলি তাঁর অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর। যেমন দুররাতুল্‌ গ়াওয়াস় ফী আওহামিল্‌ খ়াওয়াস় (এতে তিনি সমকালীন লেখকদের সমালোচনা করে শব্দ ও বাক্যের যথার্থ ব্যবহারের প্রতি দিকনির্দেশনা করেন), মুলিহ়্হ়াতুল্‌ ই‘রাব (আরবী ব্যাকরণের বিষয়গুলিকে পদ্যে বর্ণনা করেছে), স়ুদূরু যামানিল্‌ ফুতূর ওয়া ফুতূরু যামানিস়্ স়ুদূর (এটি ইতিহাস গ্রন্থ), দীওয়ানুল্‌ হ়ারীরী (তাঁর কাব্য সংকলন), দীওয়ানু রাসাইলিল্‌ হ়ারীরী (তাঁর ক্ষুদ্র রেসালাহ-সমষ্টি) আল্‌-মাক়ামাতুল্‌ হ়ারীরিয়্যাহ্‌ তাঁর শ্রেষ্ঠ ও অমর কীর্তি।
 
মাক়ামাহ্‌ সাহিত্য তাঁর অবদানঃ 
মাক়ামাহ কী? এ প্রসঙ্গে আহ্‌মাদ হাসান যাইয়াত বলেছেন
المقامة حكاية قصيرة أنيقة الأسلوب تشتمل على عظة أو ملحة
অর্থাৎ, রম্য রচনার ধাঁচে রচিত ছোট গল্পকে মাকামাহ বলা হয়, যাতে কোনও উপদেশ বা রসাত্মক বর্ণনা থাকে। মাক়ামাহ শব্দটি মূলত মাক়াম শব্দ থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ দাঁড়াবার স্থান। ধীরে ধীরে শব্দটির অর্থে ব্যাপকতা সৃষ্টি হয় এবং তা মজলিস ও স্থানের অর্থ ব্যবহার হতে থাকে। পরবর্তীতে মজলিসে উপস্থিত ব্যক্তি, অতঃপর প্রদত্ত বক্তৃতা অর্থেও ব্যবহার হয়। সাহিত্যের এ শাখাটির উদ্ভাবক বাদীয্‌ যামান হামাযানী। তিনি চার শত মাক়ামাহ্‌ রচনা করেছিলেন। তাঁরই অনুসরণ করে পরবর্তীতে অনেকে রচনা করেছেন। তবে তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক খ্যাতি লাভ করেছেন হারীরী। তিনি প্রায় পঞ্চাশটি মাক়ামাহ্‌ রচনা করেন। তাঁর মাক়ামাহ্‌তে বর্ণনাকারী হলেন হ়ারিস বিন হাম্মাম এবং নায়ক হলেন আবু যায়েদস্‌-সুরুজী।   

Wednesday, 9 March 2016

العلامة ابن خلدون

العلامة ابن خلدون

(١٣٣٢ – ١٤٠٦ م)

 

تعريفه ومولده:

هو ولي الدين أبو زيد عبد الرحمن بن محمد المغربي، المعروف بابن خلدون، عالم عبقري، أنشأ علما جديدا ما نسميه الآن علم الاجتماع أو السوسيولوجيا؛ وأتى فيها بما لم يستطع أحد من الباحثين المتقدمين ولا المتأخرين. وُلد بتونس في أفريقية، في أول شهر رمضان سنة 1332م الموافق 732ه.

 

نشأته وتعليمه:

شرع بحفظ القرآن في مسجد القبا، وجوّد القراءات السبع. ثمّ درس فيه العلوم الشرعية أيضا من التفسير والحديث والفقه والأصول والتوحيد. ثم تلقى علوم اللسانية والفلسفة والعلوم الطبيعية. وحظى في جميع دراساته بإعجاب أساتذته ونال إجازاتهم.

 

اشتغالاته بالوظائف:

وبعد أن تلقى مختلف العلوم توظّف بالوظائف الديوانية والسياسية، وقد أمضى فيها خمسة وعشرين سنة في بلاد المغرب وما حولها.

 

تفرّغه للتأليف:              

ثمّ تفرّغ نفسه للتأليف فقضى النصف الأول لهذه المدّة في قلعة لبني سلامة، والنصف الباقي في تُونس. ومن بين الأشياء الّتي صنّفها في هذه المدّة "كتاب العبر وديوان المبتدأ والخبر في أيام العرب والعجم و البربر ومن عاصرهم من ذوي السلطان الأكبر".

 

تفرّغه للتدريس والقضاء ووفاته:

اشتغل بالقضاء والتدريس في آواخر عمره وقضى فيها بضع وعشرين سنة، وقضاها كلّها في مصر. وكما قدّر الله أنّ لكلّ أجل كتاب. فتوقف قلب عبقريّ الإنسانية هذا عام 1406م الموافق 808 هـ. ولكنّ فكره لم يتوقف إلى دهر الداهرين.

 

تراثه العلمي والفكري:

لا مجال للإنكار بعبقريته، وقد اعترف بذلك الأصدقاء والأعداء لانتاجاته العلمية. وأشهرها: كتاب العبر وديوان المبتدأ والخبر في أيام العرب والعجم والبربر ومن عاصرهم من ذوي السلطان الأكبر، وأخبار دولة بني الأغلب بإفريقية، والتعريف بابن خلدون ورحلته غربا وشرقا، وشفاء السائل لتهذيب المسائل. وقد اعترف التاريخ أنه أول إنسان استنبط فلسفة التاريخ، وسمّاها بطبيعة العمران. ومولّفاته خصوصا "المقدّمة" تدلّ على سداد رأيه وصدق نظره ووسعة علمه.


كتبه: عبد المتين وسيم  

Monday, 7 March 2016

আমর বিন কুলসুম-এর মুআল্লাকা


আম্‌র বিন্‌ কুল্‌সূম-এর মুআল্লাক়া 

[কবি ‘আম্‌র বিন কুলসুম পনেরো বছর বয়সে নিজ গোত্রকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর মু‘আল্লাকায় ১০০টি পঙক্তি আছে। এর কিছুটা তিনি হীরারাজ ‘আম্‌র বিন হিন্দের সম্মুখে পরিবেষণ করেছিলেন। তাঁর এই মু‘আল্লাকাটি ওয়াফির ছন্দে রচিত।]

أَلا هُبِّي بصَحْنِكِ فَاصْبَحينا    وَلا تُبْقِي خُمورَ الأَندَرِينا

(হে প্রেমিকা) তুমি একটা বড় পেয়ালা নিয়ে জেগে ওঠো। আর আমাদেরকে সকালের মদিরা পান করাও। আন্দারিন (সিরিয়ার একটি স্থান বা প্রদেশ)-এর মদ একটুও অবশিষ্ট রেখো না।

صَبَنْتِ الْكَأْسَ عَنّا أُمَّ عَمْرٍو     وكانَ الْكَأْسُ مَجْراها الْيَمِينا

উম্মে ‘আম্‌র, তুমি আমার থেকে পেয়ালাটা সরিয়ে রাখলে, অথচ পেয়ালার পরিচালনা ডান দিক থেকে হওয়ার কথা ছিল (কিন্তু তুমি তা বাম দিক থেকে পরিবেষণ করলে)

وَمَا شَرُّ الثّلاثَةِ أُمَّ عَمْروٍ    بِصاحِبِكِ الّذِي لا تصْبَحِينا

উম্মে ‘আম্‌র, এই তিনজনের সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট তোমার সেই বন্ধুটি নয় যাকে তুমি মদিরা পান করালে না (অর্থাৎ আমি নিকৃষ্ট ব্যক্তি নই)।

وَإِنَّا سَوْفَ تُدْرِكُنا الَمنَايَا    مُقَدَّرَةً لَنا وَمُقَدِّرِينا

অতিশীঘ্রই মৃত্যু আমাদেরকে স্পর্শ করবে। আর তা আমাদের জন্য নির্ধারিত এবং আমরা তার জন্য নির্ধারিত।

تُرِيكَ إِذا دَخَلْتَ عَلى خَلاءٍ    وَقَدْ أَمِنَتْ عُيُونَ الْكَاشِحِينَا

সে তোমাকে দেখাবে, যখন তুমি একাই তার কাছে একান্ত নির্জনে যাবে, এমত অবস্থায় যে সে শত্রুদের চক্ষু থেকে নিরাপদ;

وَثَدْياً مِثْلَ حُقِّ الْعَاجِ رَخْصاً    حَصَاناً مِنْ أَكُفِّ الّلامِسِينا

এমন দু’টি স্তন যা হাতি দাঁতের ন্যায় শুভ্র তবে কোমল এবং স্পর্শকারীদের হাত থেকে সুরক্ষিত (অর্থাৎ কেউ কখনও তা স্পর্শ করেনি)।

وَمَأْكَمةً يَضِيقُ الْبَابُ عَنْها    وَكَشْحاً قَدْ جُنِنْتُ بِهِ جُنُونا

এবং এমন নিতম্ব যার কাছে দরজা সংকীর্ণ হয়ে পড়ে, আর এমন কোমর ও কটিদেশ যার সৌন্দর্যে আমি পাগলপারা। 

وَسَارِيَتَيْ بِلَنْطٍ أَوْ رُخامٍ    يَرِنُّ خَشَاشُ حَلْيِهِما رَنِينا

আর হাতি দাঁত বা শ্বেত মর্মরের (মতো ধবধবে ফর্সা) এমন দু’টি পা, যার নূপুর মৃদু স্বরে বেজে ওঠে।

فَما وَجَدْتْ كَوَجْدِي أُمُّ سْقبٍ    أَضَلَّتْهُ فَرَجَّعَتِ الَحنِينا

এমন উষ্ট্রীও আমার মত দুঃখ পায়নি, যে উষ্ট্রী নিজ শাবককে হারিয়েছে এবং দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণায় বারবার সশব্দে আর্তনাদ ও কান্নাকাটি করেছে।

وَلا شَمْطَاءُ لَمْ يَتْرُكْ شَقاها    لَها مِنْ تِسْعَةٍ إِلا جَنِينا

(আমার মত দুঃখ পায়নি) এমন ধূসর বর্ণের চুল বিশিষ্টা রমণীও (অর্থাৎ বৃদ্ধাও), দুর্ভাগ্য যার নয়টি বাচ্চাকে কেড়ে নিয়েছে, শুধু রেখে গেছে গর্ভস্থ ভ্রূণটি।

تَذَكَّرْتُ الصِّبَا وَاشْتَقْتُ لَمَّا    رَأَيْتُ حُمُولَهَا أُصُلاً حُدِينا

আমি বাল্য (অর্থাৎ তরুণ বয়সের) প্রেমের কথা স্মরণ করলাম আর উৎসুক হয়ে পড়লাম যখন দেখলাম আমার প্রেমিকার হাওদা সমন্বিত উটগুলিকে সন্ধ্যাবেলায় চালিত করা হচ্ছে।

أَبَا هِنْدٍ فَلا تَعْجَلْ عَلَيْنا    وَأَنْظِرْنا نُخَبِّرْكَ الْيَقِينا

‘আম্‌র বিন হিন্দ, তুমি আমাদের বিষয়ে তাড়াহুড়ো করো না। আমাদেরকে অবকাশ দাও, যাতে আমরা তোমাকে নিশ্চিত সংবাদ দিতে পারি।

بأَنَّا نُورِدُ الرَّايَاتِ بِيضاً     وَنُصْدِرُهُنَّ حُمْراً قَدْ رَوِينا

(আমরা সংবাদ দিতে পারি এ বিষয়ে) যে, আমরা তরবারিগুলি সাদা অবস্থায় উপস্থাপন করি আর সেগুলিকে ফিরিয়ে আনি রক্তে রঞ্জিত ও পরিতৃপ্ত অবস্থায়।

وَسَيِّدِ مَعْشَر قَدْ تَوَّجُوهُ    بِتَاجِ الُملْكِ يَحْمِي الُمْحَجرِينا

এমন এক গোত্রপতি আছেন লোকেরা যাকে বাদশার মুকুট পরিয়েছেন, তিনি অসহায় ও আশ্রয়প্রার্থীদের সাহায্য করেন।

تَرَكْنا الَخيْلَ عَاكِفَةً عَلَيْهِ    مُقَلَّدَةً أَعِنَّتَها صُفُونا

আমরা তাঁর সন্নিকটে আমাদের অশ্বগুলোকে দাঁড় করিয়েছি লাগাম পরিহিত ও তিন পায়ে দাঁড়ানো অবস্থায় (অর্থাৎ সম্পূর্ণ রূপে প্রস্তুত করে)।

وَأَنْزَلْنا الْبُيُوتَ بِذِي طُلُوحٍ    إِلَى الشَّامَاتِ تَنْفِي الُموِعدِينا

আমরা তাঁবুগুলিকে জু-তুলুহ থেকে শামাত পর্যন্ত এমন ভাবে বিস্তৃত করেছি যে, সেগুলি ধমক প্রদানকারীদেরকে বিতাড়িত করেছে।

وَقَدْ هَرَّتْ كلابُ الَحيِّ مِنَّا    وَشَذَّبنا قَتادَةَ مَنَ يَلِينا

এমত অবস্থায় যে, শত্রু গোত্রের কুকুরগুলো আমাদের উপর ঘেউ ঘেউ করছিল। আমরা আমাদের নিকটবর্তী কাঁটাদার বৃক্ষকে ছেঁটে দিয়েছিলাম।

نَزَلْتُمْ مَنْزِلَ الأَضْيَافِ مِنَّا    فَأعْجَلْنا الْقِرَى أَنْ تَشْتِمُونا

তোমরা আমাদের কাছে অতিথিরূপে অবতরণ করেছো। তাই আমরা দ্রুত তোমাদের আতিথেয়তার ব্যবস্থা করেছি যাতে তোমরা কোনোভাবেই আমাদেরকে তিরস্কার করতে না পারো।

قَرَيْنَاكُمْ فَعَجَّلْنا قِرَاكُمْ    قُبَيْلَ الصُّبْحِ مِرْدَاةً طَحُونا

আমরা তোমাদের আতিথেয়তা করেছি, তোমাদের আতিথেয়তার জন্য দ্রুত সকালের পূর্বেই পেষণকারী একটি বড় পাথর উপস্থাপন করেছি।

نَعُمُّ أُنَاسَنا وَنَعِفُّ عَنْهُمْ     وَنَحْمِلُ عَنْهُمُ مَا حَمَّلُونا

আমরা আমাদের লোকেদের ব্যাপকভাবে উপকার করে থাকি, তবে তাদের থেকে বিরত থাকি। আর তারা যে বোঝাগুলি আমাদের উপর চাপায় আমরা তা (মুখ বুজে) বহন করি।

نُطَاعِنُ مَا تَراخَى النّاسُ عَنَّا    وَنَضْرِبُ بِالسُّيُوفِ إِذَا غُشِينا

যতক্ষন পর্যন্ত লোকেরা আমাদের থেকে দূরে থাকে আমরা বর্শা দ্বারা আঘাত করি। আর যখন আমরা শত্রুবেষ্টিত হয়ে পড়ি (অর্থাৎ শত্রুরা আমাদের কাছে চলে আসে) আমরা তরবারি দিয়ে আঘাত করি।

وَرِثْنا الَمجْدَ قَدْ عَلَمِتْ مَعَدٌّ     نُطَاعِنُ دُونَهُ حَتَّى يَبِينا

আমরা মর্যাদার অধিকারী হয়েছি, এটা মা‘আদ গোত্র ভালো করেই জানে। আমরা এর জন্যই বর্শাঘাত করি (অর্থাৎ যুদ্ধ করি) যতক্ষন না তা স্পষ্ট হয়ে যায়।

إِذا ما عَيَّ بالإِسْنافِ حَيٌّ     مِنَ الَهوْلِ الُمَشَّبهِ أَنْ يَكُونا

যখন কোনো গোত্র কোনো ভালো কাজ সম্পাদন করার ক্ষেত্রে অপারগ হয়, কোনো এমন ভয়ের কারণে যা নিকটেই সংঘটিত হবে;

نَصَبْنا مِثْلَ رَهْوَةَ ذَاتَ حَدِّ     مُحَافَظَةً وكُنّا الْسّابِقِينا

তখন আমরা রাহ্‌ওয়া পর্বতের ন্যায় মর্যাদাবান একটি সুরক্ষাবাহিনী স্থাপন করি, আর আমরাই অগ্রগামী;

بِشُبَّانٍ يَرَوْنَ الْقَتْلَ مَجْداً     وَشِيبٍ في الُحرُوبِ مُجَرَّبِينا

এমন যুবকদের সাহায্যে, যারা নিহত ও শহীদ হওয়াকে মর্যাদা ও সম্মান মনে করে এবং এমন বৃদ্ধদের সাহায্যে, যারা যুদ্ধ বিষয়ে অভিজ্ঞ। 

অনুবাদ- আব্দুল মাতিন ওয়াসিম