Pages

Saturday, 31 December 2022

আল-কুরআনের ভাবানুবাদঃ (৬৯) সূরাতু আল্‌-হ়াক়্ক়াহ্ (অবশ্যম্ভাবী ঘটনা)

 

৬৯) সূরাতুল্‌-হ়াক়্ক়াহ্ (অবশ্যম্ভাবী ঘটনা)  

মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৫২, রুকু

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ

আল্লাহর নামে (শুরু করছি) যিনি পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু।

 

الْحَاقَّةُ

অবশ্যম্ভাবী ঘটনা!

مَا الْحَاقَّةُ

অবশ্যম্ভাবী ঘটনাটা কী?

وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْحَاقَّةُ

তুমি কী জানো সেই অবশ্যম্ভাবী ঘটনা সম্পর্কে?

كَذَّبَتْ ثَمُودُ وَعَادٌ بِالْقَارِعَةِ

আদ ও সামুদ উভয় জাতিই মহাপ্রলয়কে মিথ্যা মনে করেছিল

فَأَمَّا ثَمُودُ فَأُهْلِكُوا بِالطَّاغِيَةِ

অতঃপর এক প্রলয়ংকর বিপর্যয় দ্বারা সামূদ জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল।  

وَأَمَّا عَادٌ فَأُهْلِكُوا بِرِيحٍ صَرْصَرٍ عَاتِيَةٍ

আর আদ জাতিকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচন্ড ঝঞ্জাবায়ূ দিয়ে;

سَخَّرَهَا عَلَيْهِمْ سَبْعَ لَيَالٍ وَثَمَانِيَةَ أَيَّامٍ حُسُومًا فَتَرَى الْقَوْمَ فِيهَا صَرْعَى كَأَنَّهُمْ أَعْجَازُ نَخْلٍ خَاوِيَةٍ

তিনি (মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ্‌) ওই ঝঞ্ঝাকে তাদের উপর সাত রাত ও আট দিন পর্যন্ত অবিরাম প্রবাহিত করেছিলেন। তুমি (সেখানে থাকলে) তাদেরকে দেখতে পেতে, তারা অসাড় খেজুর কান্ডের ন্যায় ভূপাতিত হয়ে রয়েছে।

فَهَلْ تَرَى لَهُم مِّن بَاقِيَةٍ

তুমি কি (এখন সেখানে) তাদের কোনো অস্তিত্ব দেখতে পাও?

وَجَاء فِرْعَوْنُ وَمَن قَبْلَهُ وَالْمُؤْتَفِكَاتُ بِالْخَاطِئَةِ

ফেরাউন, তার পূর্ববর্তী লোকেরা এবং যাদের বসতভিটে উল্টে দেওয়া হয়েছিল তারা প্রত্যেকেই (কোনো না কোনো) গুরুতর পাপ করেছিল।

فَعَصَوْا رَسُولَ رَبِّهِمْ فَأَخَذَهُمْ أَخْذَةً رَّابِيَةً

তারা তাদের পালনকর্তা কর্তৃক প্রেরিত রাসূলকে (বার্তাবাহককে) অমান্য করেছিল। ফলে তিনি তাদেরকে কঠোর হাতে দমন করেছিলেন।

إِنَّا لَمَّا طَغَى الْمَاء حَمَلْنَاكُمْ فِي الْجَارِيَةِ

(স্মরণ করো,) যখন জলোচ্ছ্বাস বেড়ে গেছিল আমি চলন্ত নৌযানে তোমাদের আরোহণের ব্যবস্থা করেছিলাম।

لِنَجْعَلَهَا لَكُمْ تَذْكِرَةً وَتَعِيَهَا أُذُنٌ وَاعِيَةٌ

যাতে এ ঘটনাকে আমি তোমাদের জন্য স্মরণযোগ্য করে রাখি এবং তোমাদের শ্রবণেন্দ্রিয়ই ঘটনাকে উপদেশ গ্রহণের উপযোগী রূপে গ্রহণ করে।

فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ نَفْخَةٌ وَاحِدَةٌ

যখন শিংগায় প্রথম বার ফুঁ দেয়া হবে,

وَحُمِلَتِ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةً وَاحِدَةً

এবং পৃথিবী ও পর্বতমালাকে উত্তোলিত করে অতঃপর তা চুর্ণ-বিচুর্ণ করে দেয়া হবে,

فَيَوْمَئِذٍ وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ

সেদিন কেয়ামত (মহাপ্রলয়) সংঘটিত হবে।

وَانشَقَّتِ السَّمَاء فَهِيَ يَوْمَئِذٍ وَاهِيَةٌ

সেদিন আকাশ বিদীর্ণ বিক্ষিপ্ত হবে।

وَالْمَلَكُ عَلَى أَرْجَائِهَا وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمَانِيَةٌ

এবং ফেরেশতারা আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে, সেদিন আট জন ফেরেশতা তাদের ঊর্ধ্বে তোমার পালনকর্তার আরশকে (তাঁর উপযুক্ত সিংহাসনকে) বহন করবে।

يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ لَا تَخْفَى مِنكُمْ خَافِيَةٌ

সেদিন তোমাদের প্রত্যেককেই উপস্থিত করা হবে। তোমাদের কোনো কিছু গোপন থাকবে না।

فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ فَيَقُولُ هَاؤُمُ اقْرَؤُوا كِتَابِيهْ

অতঃপর যার আমলনামা (কৃতকর্মের খতিয়ান) ডান হাতে দেয়া হবে, সে বলবেঃ নাও, তোমরাও আমার আমলনামা পড়ে দেখো।

إِنِّي ظَنَنتُ أَنِّي مُلَاقٍ حِسَابِيهْ

আমি জানতাম যে, আমাকে হিসাবনিকাশের সম্মুখীন হতে হবে।

فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَّاضِيَةٍ

অতঃপর সে সুখী জীবন-যাপন করবে,

فِي جَنَّةٍ عَالِيَةٍ

সুউচ্চ ও আড়ম্বরপূর্ণ জান্নাতে।

قُطُوفُهَا دَانِيَةٌ

তার ফলসমূহ অবনমিত থাকবে।

كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا أَسْلَفْتُمْ فِي الْأَيَّامِ الْخَالِيَةِ

(তাদের উদ্দেশ্যে বলা হবে) বিগত দিনে (অর্থাৎ পার্থিব জীবনে) তোমরা যে সৎ কর্ম সম্পাদন ও আনুগত্য করেছিলে, তার প্রতিদান স্বরূপ তোমরা (এই রকমারি খাবার ও সুস্বাদু পানীয়) তৃপ্তি সহকারে খাও এবং পান করো।

وَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِشِمَالِهِ فَيَقُولُ يَا لَيْتَنِي لَمْ أُوتَ كِتَابِيهْ

আর যে ব্যক্তিকে আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে, সে বলবেঃ হায় আমায় যদি আমার আমল নামা না দেয়া হতো (তাহলেই ভালো হতো)!

وَلَمْ أَدْرِ مَا حِسَابِيهْ

আমি জানতাম না (অর্থাৎ বিশ্বাস করতাম না) যে, (মৃত্যুর পর) আমার (কৃতকর্মের) হিসাবনিকাশ হবে!

يَا لَيْتَهَا كَانَتِ الْقَاضِيَةَ

হায়, মৃত্যুই যদি আমার সবকিছুর শেষ হতো!

مَا أَغْنَى عَنِّي مَالِيهْ

আমার ধন-সম্পদ আমার কোনও উপকারে আসল না।

هَلَكَ عَنِّي سُلْطَانِيهْ

আমার ক্ষমতাও বরবাদ হয়ে গেল।

خُذُوهُ فَغُلُّوهُ

(ফেরেশতাদেরকে বলা হবে) একে ধরে গলায় বেড়ি পরিয়ে দাও,

ثُمَّ الْجَحِيمَ صَلُّوهُ

অতঃপর ছুঁড়ে ফেলে দাও জাহান্নামে।

ثُمَّ فِي سِلْسِلَةٍ ذَرْعُهَا سَبْعُونَ ذِرَاعًا فَاسْلُكُوهُ

তারপর তাকে সত্তর গজ দীর্ঘ এক শিকলে শৃঙ্খলিত করো।

إِنَّهُ كَانَ لَا يُؤْمِنُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ

কেননা, সে মহান আল্লাহর একত্ব ও প্রভুত্বকে বিশ্বাস করতো না।

وَلَا يَحُضُّ عَلَى طَعَامِ الْمِسْكِينِ

সে অসহায়-মিসকীনদের আহার্য দিতে (অন্যদের) উৎসাহিত করতো না।

فَلَيْسَ لَهُ الْيَوْمَ هَاهُنَا حَمِيمٌ

অতএব, আজকের দিনে এখানে তার কোনও সুহৃদ ও অন্তরঙ্গ বন্ধু নেই।

وَلَا طَعَامٌ إِلَّا مِنْ غِسْلِينٍ

এবং ক্ষত-নিঃসৃত পুঁজ ব্যতীত তার জন্য কোনও খাদ্যও বরাদ্দ নেই,

لَا يَأْكُلُهُ إِلَّا الْخَاطِؤُونَ

আর গোনাহগার ব্যতীত কেউই এ খাবার খাবে না।

فَلَا أُقْسِمُ بِمَا تُبْصِرُونَ

কেউই না, (শোনো) তোমরা যা কিছু দেখো আমি তার শপথ করে বলছি,

وَمَا لَا تُبْصِرُونَ

এবং যা কিছু তোমরা দেখো না বা দেখতে পাও না তারও শপথ,

إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ

নিশ্চয়ই এই (পবিত্র) আল্‌-কুরআন একজন সম্মানিত রাসূল ও বার্তাবাহক কর্তৃক আনীত বাণী;

وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَاعِرٍ قَلِيلًا مَا تُؤْمِنُونَ

কোনও কবির কল্পনা মিশ্রিত সৃজন নয়; বস্তুত তোমরা খুব কমই বিশ্বাস করো;

وَلَا بِقَوْلِ كَاهِنٍ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ

আর না কোনও অতীন্দ্রিয়বাদী জ্যোতিষের ভবিষ্যদ্বাণী; বাস্তবেই তোমরা খুব কমই উপদেশ গ্রহণ করো।

تَنزِيلٌ مِّن رَّبِّ الْعَالَمِينَ

ই আল্‌-কুর্‌আন হল নিখিল বিশ্বের প্রতিপালক মহান আল্লাহ্‌র নিকট হতে অবতীর্ণ।

وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ الْأَقَاوِيلِ

অতএব সে (অর্থাৎ মুহাম্মদ সাঃ) যদি আমার নামে কোনও কথা রচনা করতো (অর্থাৎ তাঁর নিজস্ব সৃজনকে আমার কথা বলে প্রচার করতো),

لَأَخَذْنَا مِنْهُ بِالْيَمِينِ

তাহলে অবশ্যই আমি তাঁর ডান হাত ধরে ফেলতাম,

ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوَتِينَ

অতঃপর তাঁর গ্রীবা (অর্থাৎ তাঁর জীবন-ধমনী ও হৃদয়তন্ত্রী) কেটে দিতাম।

فَمَا مِنكُم مِّنْ أَحَدٍ عَنْهُ حَاجِزِينَ

আর তোমাদের কেউ তাঁকে রক্ষা করতে পারতো না।

وَإِنَّهُ لَتَذْكِرَةٌ لِّلْمُتَّقِينَ

ই আল-কুর্‌আন আল্লাহ্‌ভীরু ও সংযমশীলদের জন্য অবশ্যই একটি উপদেশ।

وَإِنَّا لَنَعْلَمُ أَنَّ مِنكُم مُّكَذِّبِينَ

আমি জানি যে, তোমাদের মাঝে কিছু মিথ্যা প্রতিপন্নকারীও আছে (যারা এ বিষয়েও মিথ্যারোপ করবে)।

وَإِنَّهُ لَحَسْرَةٌ عَلَى الْكَافِرِينَ

নিশ্চয় এই কুর্‌আন অবিশ্বাসী ও কাফেরদের জন্য অনুশোচনা ও অনুতাপের কারণ হবে।

وَإِنَّهُ لَحَقُّ الْيَقِينِ

আর ই আল্‌-কুর্‌আনই নিশ্চিত সত্য।

فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ

অতএব, তুমি তোমার মহান পালনকর্তার নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো।

ভাবানুবাদ - আব্দুল মাতিন ওয়াসিম 

Friday, 30 December 2022

সম্পাদকীয়ঃ নাস্তিকের ধর্ম-সংকট


নাস্তিকের ধর্ম-সংকট
 
ধর্ম যেমন একটি সংস্কৃতি ও জীবন ব্যবস্থা। নাস্তিকতা তেমনি একটি সংস্কৃতি ও জীবন ব্যবস্থা। ধর্ম যেমন একটি দর্শন। নাস্তিকতাও একটি দর্শন। মানব সভ্যতার ইতিহাসকে ধর্ম এক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে। নাস্তিকতা ভিন্ন একটি দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে। ধর্ম ও নাস্তিকতা বিজ্ঞানকে বিপরীত দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে। উভয়ের দাবি, বিজ্ঞান তাদের পৈতৃক উত্তরাধিকার। পৃথিবীর সকল ধর্মে বিশ্বাসীরা যেমন ঐক্যবদ্ধ নয়। নাস্তিকরাও ঐক্যবদ্ধ নয়। উভয়ের অসংখ্য দল ও উপদল আছে। মানব সভ্যতার ইতিহাসে ধর্ম বিশ্বাসীরা অধিকাংশ সময় মূলস্রোতের শক্তি। নাস্তিকরা চিরকাল প্রান্তিক শক্তি। আধুনিক বিজ্ঞানীদের কত শতাংশ নাস্তিক আর কত শতাংশ ধর্মবিশ্বাসী সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য কোনো পরিসংখ্যান আছে বলে আমার জানা নেই। তবে বিজ্ঞানীরা যে সব জান্তা নয়, সেটাও মাথায় রাখতে হবে। ডারউইন বড়ো বিজ্ঞানী না আইনেস্টাইন; এবং ধর্ম বিষয়ে তারা কি অভিন্ন মত পোষণ করতেন— সেসবও ভেবে দেখার বিষয়।
 
পৃথিবীর সুদীর্ঘ ইতিহাসে নিকট অতীতে স্বঘোষিত নাস্তিকরা পৃথিবীর বিশাল একটি অঞ্চলে কিছু কাল শাসন করেছিল। তারা কত শান্তিপ্রিয় ও সৃজনশীল তা এখন প্রমাণিত হয়েছে। হাজার হাজার বছরের মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক শতাব্দী বা অর্ধশতাব্দী কিছুই না। ওই সব অঞ্চলের এক সময়ের গর্বিত নাস্তিকরা এখন আবার পূর্বপুরুষের ধর্মে ফিরে এসেছে। নাস্তিকরা এখন পৃথিবীর কোথাও ক্ষমতাসীন নয়। কোনো সমাজে মূলস্রোতের শক্তি নয়।
 
এ রাজ্যের বাঙালি নাস্তিকরা বাম শাসনামলে সমাজের মূলস্রোতের শক্তি রূপে সমাজে বেশ প্রভাব বিস্তার করেছিল। তবে তাদের অভিন্ন পরিচিতি ছিল না। হিন্দু নাস্তিক, মুসলিম নাস্তিক, ব্রাহ্মণ নাস্তিক ও দলিত নাস্তিক বলে তারা পরিচিত হয়েছিল। বাম সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী শ্রী সুভাষ চক্রবর্তী নিজেকে একবার ব্রাহ্মণ নাস্তিক বলে পরিচয় দিলে বাঙালি মুসলিম এক নাস্তিক বলেছিলেন, “না সুভাষ, ব্রাহ্মণ নাস্তিক, হিন্দু নাস্তিক ও মুসলিম নাস্তিক বলে কিছু হয় না।” জানি না, তার সেই পবিত্র প্রবচন হিন্দু নাস্তিকরা গ্রহণ করেছিল কিনা। তবে মুসলিম নাস্তিকরা তার নীতিকথা অক্ষরে অক্ষরে মেনে ছিল। তারা মুসলিম সমাজ থেকে ধর্মের প্রভাব উৎপাটন করতে দারুন ভাবে সচেষ্ট হয়েছিল। এই নাস্তিকরা সে-সময় মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটির শীর্ষে বসে মসজিদ ও মাদ্রাসা ভিত্তিক মুসলিম সমাজের ঐক্য ও সংহতিকে চুরমার করে দিয়েছিল। মসজিদ ও মাদ্রাসার জমি ও সম্পদগুলো মুসলিম কমরেডদের সঙ্গে নিয়ে লুটপাট করেছিল। মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে আপস মীমাংসার একটি গ্রাম্য সমাজ ও সভা থাকে। তারা সেগুলোকে দখল করেছিল। তাদের আধিপত্য এতটাই অতিরঞ্জিত ছিল যে, এক সময় মুসলিম সমাজের অস্তিত্ব প্রায় বিপন্ন হতে বসেছিল। অন্যদিকে, হিন্দু সমাজে তাদের নাস্তিক্য প্রভাব তেমন শক্তিশালী ছিল না। প্রভাবশালীও ছিল না। তাদের শাসন কালে কোলকাতা শহরের পথে পথে হাজার হাজার হিন্দু বেদি ও মন্দির গড়ে উঠেছে। গ্রামে গ্রামে আর এস এস, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ও বজরঙ দলের শাখা গড়ে উঠেছে। বাবরি মসজিদ ভেঙে মন্দির বানানোর জন্য এখান থেকে হাজার হাজার ইঁট গেছে উত্তর প্রদেশে। আদবানিরা নির্বিঘ্নে হিন্দুদের সুড়সুড়ি দিয়ে বেড়িয়েছে। কোনো অসুবিধা হয়নি। কিন্তু কোনো মুসলিম মহল্লায় জামায়াতে ইসলামীর মোকামী শাখা গড়ে উঠেছে। তবলীগ জামাতের নিরীহ চিল্লা পার্টি মসজিদে এলে তাদের তৎপরতার শেষ ছিল না। তাদের বক্তব্যে রাজনীতি আছে কিনা তার বিশ্লেষণ হত। তখন বামপন্থী লোকাল কমিটি, জোনাল কমিটি, জেলা ও রাজ্য কমিটি থেকে জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে মুসলিম নাস্তিক কমরেডের কাছ থেকে। মুসলিম সমাজের ধার্মিকতা ও মুসলিম সংগঠনের সক্রিয়তার জন্য মুসলিম কমরেডকেই দায় নিতে হতো। জবাবদিহি করতে হতো।
 
তাদের গালভরা দাবি ছিল, হিন্দু নাস্তিক বামপন্থীরা একক ও একমাত্র মৌলবাদ বিরোধী শক্তি।  সকলেই জানেন, তারা গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে রাজ্যে হিন্দু তরঙ্গ রুখতে চুড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছিল। হিন্দু মৌলবাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। তারা প্রায় সব সময় বলত, তারা হিন্দু ও মুসলিম বলে কাউকে বিচার করে না। তারা সকলকে মানুষ বলে বিবেচনা করে। কিন্তু মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি তাদের বৈষম্য ছিল ভয়ঙ্কর। মন্ত্রীসভায় তাদের প্রতিনিধিত্ব ছিল প্রতিকী। সাংগঠনিক ক্ষেত্রে তাদের প্রতিনিধিত্ব ছিল প্রতিকী। পশ্চিমবঙ্গের মাত্র দু’টি জেলায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। গত চল্লিশ বছর বামপন্থী প্রগতিশীল দল কোনো মুসলিমকে জেলা সভাপতি করেনি। কারণ তারা নাকি সাম্প্রদায়িকতাকে প্রোৎসাহিত করতে চায়নি। কিন্তু হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাতেও কখনো মুসলিম বামপন্থীদের সভাপতি অথবা গুরুত্বপূর্ণ পদে অভিষেক করেনি। তিন দশকের অধিক কাল ধরে তারা এই অপকর্ম করেছে। নির্বিঘ্নে। তারা তো মুসলিম নেতৃত্বের অস্তিত্বকে নির্মূল করে দিয়েছিল। কোনো মুসলিম ব্যক্তি মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব বিষয়ে প্রশ্ন তুললে তাকে মৌলবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে তারা তার তীব্র নিন্দা করত। শুধু তাই নয়, তারা প্রশ্ন তুলতো, মুসলিম হলে মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বার্থ বিষয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার হয় না। মুসলিম সম্প্রদায় যে প্রগতিশীল বামপন্থী হিন্দুদের নির্বাচিত করেছে তারাই তাদের আইনসম্মত প্রতিনিধি। এমনকি তারা সাচার কমিটির রিপোর্টকে ভুল ও ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণ করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল। যাক এসব প্রসঙ্গ। এত কথা বলার অর্থ নাস্তিকরা ধর্মবিশ্বাসীদের শুধু বিশ্বাসকে ঘৃণা করে না । তাদের শাসন ব্যবস্থাকেও ঘৃণা করে। নিন্দা করে। তাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে ঘৃণা করে।
 
আমাদের মুসলিম সমাজে কিছু তথাকথিত বামপন্থী নাস্তিক বেশ সক্রিয়। মুসলিম ও ইসলাম বিষয়ে তাদের ঘৃণা অত্যন্ত কদর্য। তাদের দুঃখ, তাদের পরিচিতির সঙ্গে মুসলিম ও ইসলাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। দূর্ভাগ্য এই জড়িয়ে যাওয়া এখন তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। তাদের গলগ্রহ হয়ে গেছে। তারা মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে এতো বলছে তাও তাদের সতীর্থ প্রগতিশীল নাস্তিক হিন্দুরা তাদের বিশ্বাস করে না। তাদের পরিচিতি গুলিয়ে দিচ্ছে। তারা এখন চরম সংকটে। এক দুর্ভেদ্য চক্রব্যূহে। আমার ধারণা, এই চক্রব্যূহ ভেদ করার তাদের কাছে এখন আর কোনো সুস্থ ও সম্ভাব্য উপায় ও অবকাশ নেই।
 
নুরুল ইসলাম নূরানি

Thursday, 29 December 2022

বদিউর রহমানঃ চোখ দু’টো আবার ঝাপসা হয়ে গেল


চোখ দু’টো আবার ঝাপসা হয়ে গেল

বদিউর রহমান

 

গত সংখ্যায় “এক অভূতপূর্ব অনুভূতি” শীর্ষক আত্মকথনে আমার ক্যাটারাক্ট অপারেশন প্রসঙ্গে কথা হচ্ছিল। আর তাই একটা কথা না বলে পারছি না। আমাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়ার আগে একটা হলে নিয়ে গেল। দেখি আট-দশটা বেডে ছসাতজন ও-টি ড্রেস পরে মরার মত শুয়ে আছে। আমাকে ওই রকম কাপড় পরিয়ে একটা বেডে শুতে বলা হল। একজন সিস্টার এসে আমার চোখে ড্রপ দিয়ে চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকতে বললেন। কিছুক্ষণ পর আবার ড্রপ। আবার চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকা। আল্লাহ্‌ আল্লাহ্‌ করছি। হঠাৎ শুনি একজন বলছেন— বদিউর রহমানটা কে?

বললাম— আমি’।

আমার কাছে একজন এসে বললেন— দেখুন তো আমাকে চিনতে পারেন কি না?’

মুখে মাস্ক মাথায় ক্যাপ পরা মানুষটাকে চিনতে পারলাম না। তিনি বললেন— ‘আমি হার্টের ডাক্তার। চোখ অপারেশনের আগে আমি সকলকে পরীক্ষা করি। নাম ডাক্তার ভৌমিক। প্রায় চল্লিশ বছর আগে কিম্বার স্ট্রিটের বাড়িতে আপনার কছে আমার সার্টিফিকেটগুলোর আরবি অনুবাদ করিয়েছিলাম। পরে আপনার দিল্লির ঠিকানা নিয়ে সেখান থেকেও অনুবাদ করাই। তখন আপনার স্ত্রী কলকাতায় ছিলেন। কাজগুলো করে দিয়ে আপনি আমাকে ও আমার স্ত্রীকে হামদার্দের মেইন গেট পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে অটোতে বসিয়ে দিয়েছিলেন।’

 

উনি বললেন কিন্তু আমার কিছুই মনে পড়ল না। তার পর আমার পালা পড়ল ও-টিতে ঢোকার। অপারেশন টেবিলে শুতে যাচ্ছি সেই ডাক্তার ভৌমিক সকলকে শুনিয়ে বললেন— ‘ইনি একজন গুণী মানুষ। আমার এই এই কাজ ইনি এক কালে করে দিয়েছিলেন।

 

যে ডাক্তার অপারেশন করবেন তিনি হঠাৎ বললেন— ইনি আমার প্রফেসর ডাক্তার ই আহমেদ সাহেবের আত্মীয় (শ্যালক)। ইনিও প্রফেসর। তাই ইনি আমারও প্রফেসর।

 

আমি এরকম দুজন মহান মানুষের অমন বিনয়ী আচরণে সেদিন বেশ অবাক হই। অপারেশন চলল। আমি ওনাদের মাহাত্ম্য নিয়ে ভাবছিলাম। হঠাৎ শুনলাম ডাক্তার অজয় পাল (আমার অপারেশনের ডাক্তার) বলছেন— ‘ভাল অপারেশন হয়েছে। আস্তে আস্তে উঠুন।’


ধীরে ধীরে আমার চোখ ভাল হয়ে গেল। সম্পূর্ণ দৃষ্টি ফেরত পেলাম। দিন ছয়েক আগে খবর পেলাম উনি (ডাক্তার অজয় পাল) আর এ জগতে নেই। আমার চোখ দু’টো আমার অজান্তেই ক্ষণিকের জন্য আবার ঝাপসা হয়ে গেল।

Wednesday, 16 November 2022

নবী চরিতঃ মক্কা বিজয় ও তার প্রভাব

 

মক্কা বিজয় ও তার প্রভাব
 
অন্ধকারের গহীনে লুকিয়ে থাকে সূর্যছাটা। মানবতার মুক্তির দিশারী মহানবী (সাঃ)-এর জীবনেও তেমনি যাবতীয় প্রতিকূলতার আড়ালে লুকিয়ে ছিল রক্তিম নীল আভা। যে জন্মভূমি থেকে মহানবী (সাঃ) ব্যাথিত হয়ে মদিনায় হিজরত করেছিলেন ৮ বছর পর সেই মক্কায় পুনরায় বিজয়ীর বেশে প্রবেশ করেছিলেন এবং সেদিন যে মহানুভবতার পরিচয় তিনি দিয়েছিলেন তাঁর নজির পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।
 
মক্কা বিজয়ঃ
দীর্ঘ আট বছর পর হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ৬৩০ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসে প্রায় ১০,০০০ হাজার সৈন্য বাহিনী নিয়ে মক্কা আক্রমনের জন্য অগ্রসর হন। পথিমধ্যে সমাবেশ দেখে কুরাইশগণ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। মুসলমানগণ যখন মক্কা নগরে প্রবেশ করতে থাকেন, তখন ইকরামার নেতৃত্বে কিছু সংখ্যক কুরাইশ মক্কার দক্ষিণ ফটকে বাঁধা দান করে। কিন্তু মহাবীর খালিদের তরবারির সামনে কেউ স্থির থাকতে পারেন নি। ঐ সংঘর্ষে ২৪ জন কুরাইশ নিহত হয়, আর মুসলমানদের পক্ষে শহীদ হন ২ জন। সুতরাং বলা যায় মুসলমানগণ অল্প বিদ্রোহে মক্কা বিজয় করেন। বিরল।
 
মক্কা বিজয়ের কারণসমূহঃ
বিভিন্ন প্রকার গুরুত্বপূর্ণ কারনের জন্য মুহাম্মদ (সাঃ) মক্কা অভিযানে প্রবৃত্ত হয়েছিলেন। তাঁর প্রধান কারণগুলি নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ
 
() মক্কায় ইসলামের প্রভাবঃ
মক্কায় ইসলামের প্রভাব মক্কা বিজয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। মক্কায় তরুণ সম্প্রদায় হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সত্য প্রচারে আকৃষ্ট হয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হতে থাকে। বিশেষ করে খালিদ-বিন-ওয়ালিদ, আম্‌র-বিন-আল-আস্‌ এবং ওসমান-বিন-তালহা ইসলাম গ্রহণ করলে মহানবী (সাঃ) মক্কা বিজয়ে অধিক আগ্রহী হন।
 
() হুদায়বিয়ার সন্ধি ভঙ্গঃ
কুরাইশগণ মাত্র দু-বছর হুদায়বিয়ার সন্ধি পালন করেছিল। এর পর তারা এ সন্ধি ভঙ্গ করে সকল মুসলমানদের প্রতি নানা অত্যাচারে লিপ্ত হয়। তাই মহানবী (সাঃ) কুরাইশদের নিকট সন্ধি ভঙ্গের প্রতিকার দাবি করলে কুরাইশরা এতে কর্ণপাত না করে সন্ধিকে বাতিল বলে ঘোষণা করে। এ কারণে মুহাম্মদ (সাঃ) মক্কা আক্রমনের সিদ্ধান্ত নেন।
 
() কুরাইশদের অনৈক্য ও গোত্রস্বার্থঃ
বদর যুদ্ধের পর থেকেই মক্কার অভ্যন্তরীন অবস্থার অবনতি ঘটে। গোত্রে গোত্রে কলহের কারণে তাঁদের শক্তির চরম ঘাটতি দেখা যায়। বস্তুত কুরাইশদের রাজনৈতিক অনৈক্য ও গোত্রস্বার্থ এবং তাঁদের শক্তির হ্রাস-ই মুহাম্মদ (সাঃ) কে মক্কা বিজয়ে ত্বরান্বিত করেছিল।
 
() কুরাইশদের শত্রুতার মূলোৎপাটনঃ
ইসলামের সূত্রপাত থেকে কুরাইশগণ মহানবী (সাঃ) এবং তাঁর অনুগামীদের উপর চরম নির্যাতন চালায়। তারা ছিল ইসলামের চিরশত্রু। তাই কুরাইশদের শত্রুতার চির অবসানকল্পে মহানবী (সাঃ) মক্কা বিজয়ের উপলব্ধি করেন।
 
() প্রস্তাব আরোপঃ
যুদ্ধ এড়ানোর জন্য মহানবী (সাঃ) কুরাইশদের তিন-তিনটি প্রস্তাব সংকলিত একটি পত্রসহ শান্তিদূত প্রেরণ করেন। প্রস্তাবগুলি হলো— (১) অন্যায়ভাবে নিহত বনু খুজাহ্‌ গোত্রের লোকদের ক্ষতি পূরণ দিতে হবে। (২) বানু বাক্‌র সম্প্রদায়কে সকল প্রকার সাহয্য প্রদানে বিরত থাকতে হবে। (৩) হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্তাবলী বাতিল ঘোষিত হবে।
 
মক্কার কুরাইশরা শেষ প্রস্তাবটি গ্রহণ করে। মহানবী (সাঃ) অগ্যতা বাধ্য হয়ে অষ্টম হিজরী মোতাবেক ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে এক মুজাহিদ বাহিনী নিয়ে মক্কার অভিমুখে যাত্রা করেন।
 
মক্কা বিজয়ের প্রভাব গুরুত্বঃ
মক্কা বিজয়ের মধ্যে দিয়ে মহানবী (সাঃ)-এর দীর্ঘ আকাঙ্খিত সাফল্যের বাস্তবায়ন ঘটে। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই এ বিজয়ের প্রভাব ও গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামের বিস্তার এবং সমগ্র আরবের একত্রীকরণের জন্য মক্কা বিজয়ের প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিসীম। নিম্নে মক্কা বিজয়ের প্রভাব সম্পর্কে বর্ণনা করা হল
 
() প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচারঃ
মহনবী (সাঃ) ও তাঁর সাহাবীগণ এতদিন আতঙ্ক ও ভয়ভীতির সঙ্গে ইসলাম প্রচার করতেন। মক্কা বিজয়ের ফলে ইসলাম এক অপ্রতিরোধ অদম্য মহাপ্লাবনের মতোই বাঁধা বন্ধনমুক্ত বিজয়ী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। আরবের সকল গোত্র ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেন।  
 
() কাবার গৌরব পুনঃপ্রতিষ্ঠিতঃ
মক্কা বিজয়ের পর কাবা গৃহের পবিত্রতা পুনরায় ফিরে আসে। মহানবী (সাঃ) এর নির্দেশে কাবা ঘরে রক্ষিত ৩৬০ টি মূর্তি ভেঙ্গে ফেলা হয়। কাবা গৃহের পবিত্রতা ও গৌরব ফিরে আসে।
 
() ইসলামী রাষ্ট্রের শক্তি বৃদ্ধিঃ
হিজরতের পূর্বে মক্কার মুসলমানগণ ভয়ে সবসময় আতঙ্কিত হয়ে থাকতেন। কুরাইশরা যেকোনো মূহুর্তে আক্রমণ করতে পারে, এ ভয়ে মুসলামনগণ রণ প্রস্তুতিতে থাকতেন। কিন্তু মক্কা বিজয়ের ফলে ইসলাম ও ইসলামী রাষ্ট্র সকল বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে অপ্রতিদ্বন্দ্বি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
 
() উদারতা ক্ষমতার বিজয়ঃ
সুদীর্ঘ ১৩ বছর যাবৎ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এবং তাঁর অনুসারীগণ মক্কার কুরাইশদের চরম অত্যাচার ও নির্যাতনে স্বীকার হন। করুনার মূর্তপ্রতীক মহানবী (সাঃ) মক্কা বিজয় করে তিনি তাঁদের প্রতি কোনো প্রকার প্রতিহিংসামূলক আচরণ করেননি। তিনি তাদের প্রতি যে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি দান করেন তা বিশ্বের ইতিহাসে সত্যিই বিরল।
 
() সত্যের আগমন ও মিথ্যার অন্তর্ধানঃ
মক্কা বিজয়ের ফলে কাবা গৃহের পবিত্রতা ফিরে আসে। কাবা গৃহের মূর্তি ভাঙ্গার সময় নবী (সাঃ)-এর কণ্ঠে জাআল হাক্‌ ওয়া যাহাকাল্‌বাতল উচ্চারিত হয়ে থাকে। পৌত্তলিকতার সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ চিহ্নগুলি অপসারনের পর ইসলামের বিজয়ধ্বনি সমগ্র আরবে প্রতিধ্বনি হতে থাকে।
 
উপসংহারঃ
পরিশেষে বলা যায় যে, যে মক্কা বিজয় শুধু ইসলামে একটা নতুন যুগের সূচনা করেনি বরং এ বিজয়ের মধ্যে দিয়ে একটি সু-বিশাল রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। মক্কা বিজয়ের পর ইসলাম ক্ষুদ্র গণ্ডির মধ্যে আর না থেকে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী এবং ইসলামী রাষ্ট্রের সীমানা বহুদূর বিস্তৃতি হয়। সারা বিশ্ব এই অভিনব মক্কা বিজয়ের সাফল্যের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখতে থাকে।

-আব্দুল মাতিন ওয়াসিম