Pages

Monday, 20 November 2017

খালীল মুতরানঃ সন্ধ্যাবেলায়

সন্ধ্যাবেলায়  

মূল- খালীল মুত্‌রান, লেবানন

অনুবাদ- আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

 

স্পর্শ করেছে আমায় এক যাতনা।               
ভেবেছিলাম, এতেই হয়তো
লাভ করবে আরোগ্য
আমার প্রেম-দাবানল;  
কিন্ত তা হয়নি; তীব্রতর হয়েছে
অন্তঃক্ষরণ।  
ওরা দু’জনেই দুর্বল! তা সত্ত্বেও-                             
ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে আমাকে;                                     
আর দুর্বলের কর্তৃত্ব বরণ
ভীষণই পীড়াদায়ক, সবাই তা জানে ! 
তাছাড়া, বাসনা
বিগলিত করেছে হৃদয়কে                           
ঔষধ করেছে জীর্ণ শরীরকে। 
আর এদু’য়ের মাঝে প্রাণ পাখীটি  
ভিতর-বাহির করে চলেছে
নিঃশ্বাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে । 
আর প্রদীপতুল্য মেধা শক্তি 
ঢেকে যাচ্ছে দুর্বলতার অমোঘ মেঘে। 
দেহ, মন, এমনকি নিঃশ্বাসেও 
এটুকুই আজ অবশিষ্ট রেখেছো, তুমি! 
তোমাতেই বিলীন করেছি দু-দু’টি জীবন,
তাই আজ কেঁদে বেড়াই সারাক্ষণ,
কিন্তু তুমি সুবিচার করোনি!  
বিলীন হয়েছে আমার যৌবন,                                             
অমর-লেখনী শক্তিও;                                                       
তুমি যে তাতেই হয়েছ মৃত্যুঞ্জয়ী। 
মূর্খের মতো সুখ ভোগ করতে পারিনি                                 
পারিনি জ্ঞানীর মতো মূল্যায়ন করতে
নিজ জীবনের   
তুমি উজ্জ্বল তারকা, তুমি পথ দেখাও –                               
ভ্রষ্টতার আকাশের ও কপটতার পৃথিবীর।                   
তুমি যে মরীচিকা;  মেটাও তৃষ্ণা                                         
কেবল ধ্বংসের আর মৃত্যুর।                                               
হে পুষ্প, তোমার সুরভী  
সজীব করে, মনে প্রেম জাগায়; 
আবার ধ্বংস করে দেয়  নির্মমভাবে
প্রেমিক-মনকে।              
না, তোমায় দোষ দেব না; ভুল তো আমারই-             
প্রেমে কি কখনও সুখ পাওয়া যায়!                          
কখনই না; প্রেম যে সদাই
একটি বিপদ, প্রীতিকর!                 
আর এ বিপদ ধার্য
সকল সৃষ্টির তরে ।                                   
পথ হারিয়ে যদি দেখা পাই
আমার সেই তারকার                                
ছুতে পাই তার ঔজ্জ্বল্যকে
তা-ই হবে আমার পথপ্রাপ্তি।           
মরীচিকার এক বিন্দু  জলে
যদি তৃষ্ণা মেটে আমার;                
কি উৎকৃষ্ট সেই জল, সে-ই তো আরোগ্য!                            
সেই কাননের বিচ্ছুরিত সৌরভ-ঘ্রাণে                        
কাটিয়েছি যে জীবন, উত্তম সে জীবন।                                  
এক অচেনা জায়গায়  বাস করেছি দীর্ঘদিন                             
আরোগ্য লাভের আশায়
পাড়াপড়শির কথা শুনে।               
জীর্ণদেহটি, সেখানকার কোমল বাতাসে
সজীব হয়েছিল কিঞ্চিৎ;                
কিন্তু অন্তঃক্ষরণ বিন্দুমাত্র কমেনি।                           
সেখানকার মনোরম দৃশ্যেও
আটকা পড়েনি আমার মন;
মন যে বিরহে নিয়ন্ত্রণ হারায়, হয়তো তা-ই।                           
ব্যর্থ হয়েছে আমার দেশ ভ্রমণ                                            
আর আরোগ্যের আশায় নির্বাসন                                          
বর্ধিত করেছে মনের দহনকে।        
আমার ভালোবাসায়, আমার হতাশায়,                                   
আমি যে নিঃসঙ্গ, আমার দুঃখেও।                                        
সমুদ্রের নিকট অভিযোগ করি অস্থির চিত্তের              
আর তার উত্তর দেয় ভারী সমুদ্র-তুফান;                                 
এক শক্ত পাথরের উপর দাঁড়িয়ে ।                                       
হায়, আমার হৃদয় যদি হতো
সেই পাথরের ন্যায়!                      
আছড়ে পড়ে ঢেউগুলি তার উপর
আমার দুঃখের ন্যায়,         
তবে সে বিক্ষিপ্ত করে দেয়  উত্তাল তরঙ্গগুলিকে                   
যেমনটা করেছে জীর্ণতা আমার দেহকে।
আর সন্ধ্যাবেলায় সমুদ্র-সংকীর্ণতা
এক করে দেয় সমুদ্রতীরকে ও আমার ভারাক্রান্ত মনকে।                      
অন্ধকার নেমে আসে ধরণীর বুকে;                          
হৃদয়ের মেঘ দৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করেছে যেন।                
দিগন্ত ঢেকে গেছে অন্ধকারে                                             
আর আমি অদ্ভুতভাবে চেয়ে আছি বিভীষিকা পাণে।               
এই অস্তমিত সূর্য বয়ে এনেছে বেদনা                                  
প্রেমিকের তরে আর জ্ঞানীর তরে শিক্ষা;                              
না, আলোর অন্ত্যেষ্টিতে ঘোষিত হয়েছে                              
দিনের অবসান ও সূর্যের পরাজয়?                                        
না, বিশ্বাসের গায়ে আঘাত হেনেছে আর                              
উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে অন্ধকার-আবরণে সন্দেহের?                
নাকি মিটিয়ে দিয়েছে অস্তিত্বকে আর                                  
ধ্বংস করে দিয়েছে চিহ্নগুলিকে?                                      
আর সেক্ষেত্রে সূর্যের প্রত্যাবর্তন হবে                                  
পুনর্জন্ম বা নবজন্ম।                                                           
দিনান্তে তোমাকে স্মরণ করেছি,                                         
মন তখন টলমল আশা-হতাশার সাগরে;                               
আমার আহত হৃদয় নিজ চোখে                                          
রক্তিম মেঘের ন্যায় রঙিন।                                     
তাই আজ নির্গত হচ্ছে অশ্রু                                   
গায়ে মেখে অস্তমিত সূর্যের গোধূলি আলো;                         
দিগন্তে কৃষ্ণ মেঘপুঞ্জের উপর                                            
ঝরে পড়ছে সোনালী সূর্যরশ্মি।                                            
অবশেষে দুখণ্ড মেঘের মধ্য দিয়ে               
ঝরে পড়ল সেই রক্তিম অশ্রুবিন্দুটি।                                     
যেন সেটি ছিল প্রকৃতির অন্তিম অশ্রুবিন্দু                               
সাঙ্গ করে আমার অশ্রুজলের শেষাংশকে।                             
দেখলাম আমার সময় শেষ; আরও দেখলাম, 
প্রকৃতির সান্ধ্য-দর্পণে নিজ জীবনসন্ধ্যার প্রতিচ্ছবি।    
 

 

কবি পরিচিতি

খালীল মুত্রান (১৮৭২-১৯৪৯) ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে ১লা জুলাই লেবাননের বালবাক শহরে জন্ম গ্রহণ করেন স্বনামধন্য কবিসাহিত্যিক খলীল মুতরান। পিতা আব্দুল মুতরান ছিলেন খ্রীষ্ট ধর্মাবলম্বী এবং গন্যমান্য ব্যবসায়ী। যাহ্‌লা শহরের আল-কুল্লিয়াতুশ শারক্বিয়াহ (ওরিয়েন্টাল কলেজ) নামক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষার্জনের পর বেইরুতের একটি বিশপ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে আরবী ভাষার পাশাপাশি ফরাসীতেও যথেষ্ট ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। এখানে অধ্যায়নবস্থাতেই তার কাব্য প্রতিভার স্ফুরন ঘটে। যার ফল স্বরূপ স্বদেশবাসীর উপর উসমানী শাসকদের অত্যাচারের প্রতিবাদে মা’রাকাতু আইয়ানা (আইয়ানা সংঘর্ষ) শীর্ষক কবিতা রচনা করলে তা শাসক দলের কুনজরে পড়ে। সরকার তাকে বিদ্রোহী, অস্থিরতা সৃষ্টিকারী রূপে চিহ্নিত করে।

সরকারী গোয়েন্দাদের কুদৃষ্টি এবং আক্রম থেকে আত্মরক্ষার তাগিদে ১৮৯০ সালে তিনি প্যারিস যাত্রা করেন। সেখানে তিনি ফরাসী সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি পাশ্চাত্য সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসেন। এখানেও একটি তুর্কী সরকার বিরোধী সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে তুর্কী সরকারের দূতাবাস তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। ফলে প্যারিস ত্যাগ করে লাতিন আমেরিকা যাবার মনস্থ করেও পরে ১৮৯২ সালে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া অভিমুখে যাত্রা করেন।

সাংবাদিকতাঃ মিশরে পৌঁছেই সেখানকার দৈনিক ‘আল-আহরাম’ পত্রিকার সম্পাদক সেলিম তাকলার মৃত্যুতে একটি শোকগাথা রচনা করলে তা তার ভাইয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।। তিনি ১৮৯৩ সালে কবিকে উক্ত পত্রিকার সাংবাদিক নিযুক্ত করেন। এর পাশাপাশি তিনি আল-লিওয়া ও আল-মুয়াইয়িদ পত্রিকাতেও লেখালেখি করেছেন।

সম্পাদনাঃ আল্‌-আহরামে সাংবাদিকতার কিছুকাল পর সম্পাদক পদে উন্নীত হন। এছাড়া ১৯০০ সালে তিনি নিজে একটি পাক্ষিক প্রকাশ করেন আল-মাজাল্লাতুল মিসরিয়া নামে। ১৯০২ সালে শায়খ ইউসুফের সঙ্গে মিলিত হয়ে এটিকে দৈনিক আল-জাওয়ায়িবুল মিসরিয়াতে রূপান্তরিত করেন।

এছাড়াও ১৯১২ সালে কৃষিসংঘের সহকারী সচিব নিযুক্ত হন। মাঝে কিছুদিন ব্যবাসায়ে মনোনিবেশ করেন। আবার ১৯৩২ সালে শাওকীর মৃত্যুর পর অ্যাপোলোর সভাপতি নিযুক্ত হন। ১৯৩৫ সালে জাতীয় নাট্যদলের সভাপতি হন।

স্বভাব কবি মুতরান বহু সাহিত্যি সেবার পর বাত রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯৪৯ সালের ১লা জুলাই ৭৭ বছর বয়সে কায়রোতে মৃত্যু বরন করেন।

তিনি ছিলেন সহজাত কবি প্রতিভার অধিকারী। তার কবিতায় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয় ঘটে। তার অনুভূতি বোধ ছিল সূক্ষ্ম, প্রখর বিশ্লষণ ক্ষমতা তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট। অত্যন্ত স্বচ্ছ কাব্যশৈলীর অধিকারী ছিলেন। তার কোনো কবিতাতে বিষয়বস্তু বিক্ষিপ্তভাবে আলোচিত হয়নি। পাশ্চাত্য তথা ফরাসী কবিদের সাহচর্যে তিনি ফরাসী রোমান্টিকতায় প্রভাবিত হন, যা তার বিভিন্ন প্রেম মূলক কবিতায় পরিস্ফুটিত হয়। তিনি নিজেই বলেন- আমার কবিতার তিন চতুর্থাংশই হল প্রেমের কবিতাতিনিই সর্বপ্রথম কাহিনীনির্ভর কবিতা (আশ-শি’রুল ক্বাসাসি)-র প্রবর্তন করেন।

তার অসংখ্য সাহিত্যকীর্তি আরবী সাহিত্য ভাণ্ডারের উজ্জ্বল রত্ন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- দীওয়ানুল খলীল (চার খণ্ডে সমাপ্ত তার কাব্য সংকলন) আল-মুজায ফি ‘ইল্মিল ইক্বতিস্বাদ (অর্থনীতিঃ সংক্ষিপ্ত আলোচনা, ফরি থেকে আরবিতে অনুদিত হাফিয ইবরাহিমের সঙ্গে যুগ্মভাবে) মিরআতুল আইয়াম ফি মুলাখখাসিত তারিখিল ‘আম (কালদর্পণঃ ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত বিবরণী)ইলাশ-শাবাব (যুবকদের প্রতি, উপদেশমূলক কাব্যসংকলন)শেকস্‌পীয়রের বিখ্যাত নাটক যথাওথেলো, মার্চেন্ট অব ভস, ম্যাকবেথ, হ্যামলেট ইত্যাদি-র আরবী অনুবাদ করেন 

তাঁর এই বিপুল সাহিত্য সেবার জন্য ১৯৪৭ সালে মিসরের অপেরা হাউসে তাঁর সম্মানার্থে এক সাহিত্য সভার আয়োজন করা হয়, যেখানে তাকে শায়েরুল-ক্বুত্বরাইন (দুই ভূখণ্ডের কবি) ও শায়েরুল আক্বত্বারিল ‘আরাবিয়াহ (আরব ভূখণ্ডের কবি) উপাধিতে ভূষিত করা হয়।     

কবি জীবনসন্ধায় শারীরিক জীর্ণতা ও মানষিক অবসাদ হতে আরোগ্য লাভের আশায় আলেকজান্দ্রিয়ার এক সৈকতে স্বাস্থ্য উদ্ধারে গিয়েছিলেন। সমুদ্রতীরে দাঁড়িয়ে, বিকেলের পড়ন্ত রৌদ্রে গোধূলি আলোর মধ্য দিয়ে সূর্যের অস্তমিত হওয়ার দৃশ্য এবং পৃথিবী-বুকে নেমে আসা আলোআঁধারির খেলা দেখে তাঁর মনের ক্যানভাসে যে অনুভূতিগুলি ভেসে উঠেছিল এই কবিতায় সেগুলিকে  শব্দের আবরণে অমর করেছেন 

[ প্রকাশিত- ঋঌ, ১ম বর্ষ, ২য় সংখ্যা, ২০১৫ ISSN NO : 2394 – 8213

 

 

المساء

خليل مطران - لبنان  

داءٌ ألَمَّ فَخِلْتُ فِيهِ شَفَائِي                 مِنْ صَبْوَتِي فَتَضَاعَفَتْ بُرَحَائِي

يَا لَلضَّعِيفَيْنِ اسْتَبَدَّا بِي وَمَا              فِي الظُّلْمِ مِثْلُ تَحَكُّمِ الضُّعَفَاءِ

قَلْبٌ أَذَابَتْهُ الصَّبَابَةُ وَالْجَوَى              وَغِلاَلَةٌ رَثَّتْ مِنِ الأَدْوَاءِ

وَالرُّوْحُ بيْنَهُمَا نَسِيمُ تَنَهُّدٍ                 فِي حَالَيَ التَّصْوِيبِ وَ الصُّعَدَاءِ

وَالعَقْلُ كَالمِصْبَاحِ يَغْشَى نُورَهُ             كَدَرِي وَيُضْعِفُهُ نُضُوبُ دِمَائِي

هَذَا الَّذِي أَبْقَيْتِهِ يَا مُنْيَتِي                 مِنْ أَضْلُعِي وَحَشَاشَتِي وَذَكَائِي

عُمْرَيْنِ فِيكِ أَضَعْتُ لَوْ أَنْصَفْتِنِي         لَمْ يَجْدُرَا بِتَأَسُّفِي وَبُكَائِي

عُمْرَ الْفَتَى الْفَانِي وَعُمْرَ مُخَلَّدٍ           بِبيَانِهِ لَوْلاَكِ في الأَحْيَاءِ

فغَدَوْتَ لَمْ أَنْعَمْ كَذِي جَهْلٍ وَلَمْ           أغْنَمْ كَذِي عَقْلٍ ضَمَانَ بَقَاءِ

يَا كَوْكَباً مَنْ يَهْتَدِي بِضِيائِهِ             يَهْدِيهِ طَالِعُ ضِلَّةٍ وَرِيَاءِ

يا مَوْرِداً يَسْقِي الوُرُودَ سَرَابُهُ              ظَمَأً إِلى أَنْ يَهْلِكُوا بِظَمَاءِ

يَا زَهْرَةً تُحْيِي رَوَاعِيَ حُسْنِهَا              وَتُمِيتُ نَاشِقَهَا بِلاَ إِرْعَاءِ

هَذا عِتَابُكِ غَيْرَ أَنِّيَ مُخْطِيءٌ            أَيُرَامُ سَعْدٌ فِي هَوَى حَسْنَاءِ

حَاشَاكِ بَلْ كُتِبَ الشَّقَاءُ عَلَى الْورَى      وَالْحُبُّ لَمْ يَبْرَحْ أَحَبَّ شَقَاءِ

نِعْمَ الضَّلاَلَةُ حَيْثُ تُؤْنِسُ مُقْلَتِي         أَنْوَارُ تِلْكَ الطَّلْعَةِ الزَّهْرَاءِ

نِعْمَ الشَّفَاءُ إِذَا رَوِيْتُ بِرشْفَةٍ              مَكْذُوبَةٍ مِنْ وَهْمِ ذَاكَ المَاء

نِعْمَ الْحَيَاةُ إذا قضَيْتُ بِنَشْقَةٍ             مِنْ طِيبِ تِلكَ الرَّوْضَةِ الغَنَّاءِ

إِنِّي أَقَمْتُ عَلى التَّعِلَّةِ بِالمُنَى            فِي غُرْبَةٍ قَالوا تَكُونُ دَوَائِي

إِنْ يَشْفِ هَذَا الْجِسْمَ طِيبُ هَوَائِهَا        أَ يُلَطَّف النِّيرَانَ طِيبُ هَوَاءِ

أَوْ يُمْسِكِ الْحَوْبَاءَ حُسْنُ مُقَامَهَا          هَلْ مَسْكَةٌ فِي البُعْدِ للْحَوْبَاءِ

عَبَثٌ طَوَافِي فِي الْبِلاَدِ وَعِلَّةٌ             فِي عِلَّةٍ مَنْفَايَ لاِسْتشْفَاءِ

مُتَفَرِّدٌ بِصَبَابَتِي مُتَفَرِّد                    بِكَآبَتِي مُتَفَرِّدٌ بَعَنَائِي

شاكٍ إِلى البَحْرِ اضْطَرابَ خَوَاطِرِي       فَيُجِيبُنِي بِرِيَاحِهِ الهَوْجَاءِ

ثاوٍ عَلَى صَخْرٍ أَصَمَّ وَلَيْتَ لِي          قَلْباً كَهَذِي الصَّخْرَةِ الصَّمَّاءِ

يَنْتَابُهَا مَوْجٌ كَمَوْجِ مَكَارِهِي               وَيَفُتُّهَا كَالسُّقْمِ فِي أَعْضَائِي

وَالبَحْرُ خَفَّاقُ الْجَوَانِبِ ضَائِقٌ            كَمَداً كصَدْرِي سَاعَةَ الإِمْسَاءِ

تَغْشَى الْبَريَّةَ كُدْرَةٌ وَكَأَنَّهَا                صَعِدَتْ إِلى عَيْنَيَّ مِنْ أَحْشَائي

وَالأُفْقُ مُعْتَكِرٌ قَرِيحٌ جَفْنُهُ                يُغْضِي عَلَى الْغَمَرَاتِ وَالأَقْذَاءِ

يا لَلْغُرُوبِ وَمَا بِهِ مِنْ عِبْرَةٍ              للِمْسْتَهَامِ وَعِبْرَةٍ لِلرَّائي

أَوَلَيْسَ نَزْعاً لِلنَّهَارِ وَصَرْعَةً              لِلشَّمْسِ بَيْنَ مَآتِمِ الأَضْوَاءِ

أَوَلَيْسَ طَمْساً لِلْيَقِينِ وَمَبْعَثاً              للِشَّكِّ بَيْنَ غَلاَئِلِ الظَّلْمَاءِ

أَوَلَيْسَ مَحْواً لِلْوُجُودِ إِلى مَدىً            وَإبَادَةً لِمَعَالِمِ الأَشْيَاءِ

حَتَّى يَكُونَ النُّورُ تَجْدِيداً لَهَا             وَيَكونَ شِبْهَ الْبَعْثِ عَوْدُ ذُكَاءِ

وَلَقَدْ ذَكَرْتُكِ وَالنَّهَارُ مُوَدِّعٌ               وَالْقَلْبُ بَيْنَ مَهَابَةٍ وَرَجَاءِ

وَخَوَاطِرِي تَبْدُو تُجَاهَ نَوَاظِرِي             كَلْمَى كَدَامِيَةِ السَّحَابِ إزَائِي

وَالدَّمْعُ مِنْ جَفْنِي يَسِيلُ مُشَعْشَعاً         بِسَنَى الشُّعَاعِ الْغَارِبِ المُتَرَائِي

وَالشَّمْسُ فِي شَفَقٍ يَسِيلُ نُضَارُهُ           فَوْقَ الْعَقِيقِ عَلى ذُرىً سَوْدَاءِ

مَرَّتْ خِلاَلَ غَمَامَتَيْنِ تَحَدُّراً              وَتَقَطَّرَتْ كَالدَّمْعَةِ الحَمْرَاءِ

فَكَأَنَّ آخِرَ دَمْعَةٍ لِلْكَوْنِ قَدْ               مُزِجَتْ بِآخِرِ أَدْمُعِي لِرِثَائِي

وَكأَنَّنِي آنَسْتُ يَوْمِيَ زَائِلاً               فَرَأَيْتُ فِي المِرْآةِ كَيْفَ مَسَائي


Monday, 13 November 2017

বদিউর রহমানঃ তোমার মরণোত্তর জন্মদিনে

তোমার মরণোত্তর জন্মদিনে
বদিউর রহমান

শরতের বৃষ্টিতে ভেজা
টুকটুকে লাল রঙন গোছার দিকে
ছোট্ট আঙুল তুলে
পরীর মত এক মেয়ে বলল
তার সেটা চা

ফুল আকর্ষণ করে, শুধু মানুষকে নয়;
প্রজাপতি রঙিন ডানা মেলে ঘোরে তার চারপাশে
মৌমাছি গান শুনিয়ে যায় গুনগুনিয়ে
অন্যান্য পতঙ্গও একাত্ম হতে চায় ফুলের সঙ্গে।

রূপের গরিমায় গরবিনী ফুল
পরম তৃপ্তিতে হাসে।
হাওয়ায় দোল খায় পরম সুখে,
লাল টুকটুকে রঙন থোকা।
ছোট্ট মেয়েটার আব্দার
তার চা সে ফুল।

সে আব্দার দুর্নিবার
রঙনের গোছাটা দিলাম তুলে
পদ্মকুঁড়ির মত ছোট্ট করতলে।

ফুলের মধ্যে অদৃশ্য পিঁপড়ের দল
তুলতুলে নরম কচি হাত নিমেশে ক্ষতবিক্ষত
তীব্র দংশন জ্বালায়
অঝোর কান্নায় ভেসে যায় দুচোখ।
অনেক যতনে শান্ত হল শিশু
ক্ষত সারল বেশ কিছুদিন পর।

আঠার বছরে তার যাওয়ার পর
আজ কেন ভেসে ওঠে সেই বেদনাবিদুর স্মৃতি?
কেন মুষড়ে যায় প্রাণ!
ব্যথায় টনটন করে বুক!!

তোমার যাওয়ার পর
দু-দুটো বর্ষা গেল
আকাশে মেঘের ঘনঘটা,
বিদ্যুতের ঝলসানি,
প্রবল কালবৈশাখীর পর
বৃষ্টি এলো ঝমঝমিয়ে
বারবার Macbeth-এ বর্ণিত পরিবেশ হল সৃষ্টি
মনে উদয় হলঃ ‘Where shall we meet!’ কিন্তু,
তুমি আসনি।
কথা রাখনি।  

মনে পড়ে কি তোমায় শুনিয়েছিলাম
‘We are seven’ কবিতাটা?
আমারও বিশ্বাস তুমি আছ বড় কাছাকাছি।
তোমার ঘাসের ঢিবিটার পাশে কতবার দাঁড়িয়েছি।
Nay, we are seven’ কথাটার মতো
আমার কেন মনে হয়না ‘We are three!
হয়তো কবিতার শিশুটার মতো নিষ্পাপ নই বলে।
যার উদ্দেশ্যে কবি বলেনঃ
What should it know of death?
আমি কিছুটা জানি –
মৃত্যু নিয়ে আসে অমোঘ চির বিচ্ছেদ।
আর একটা বিখ্যাত কবিতার উক্তি
‘Tell them; I came but nobody answered’ তুমিও জানতে
তোমার শিয়রে দাঁড়িয়ে কত কথা বলি
কোন উত্তর পাইনা।
ঐ উক্তিটা যে অত কঠিন বাস্তব হতে পারে
ভাবিনি কোন দিন।
দুই জগতের অভেদ্য, অমোঘ পার্টিশনের আড়ালে
একদিকে তুমি, অন্যদিকে আমি।
দুর্ভেদ্য প্রাচীর ভাঙার অধীর অপেক্ষায়
তোমার দেখা পাওয়ার আশায়।
তোমার অভিমানের কথা শোনার অপেক্ষায় উদগ্রীব হ’য়ে
মহাকালের মুহূর্ত গুণে চলেছি।

Saturday, 11 November 2017

বাদিউয্‌যামান সা‘য়ীদ আন-নূরসী

বাদিউয্‌যামান সা‘য়ীদ আন-নূরসী
আব্দুল মাতিন ওয়াসিম
পূর্ব তুরস্কের বিৎলিস প্রদেশের ছোট্ট গ্রাম নুরস। ১৮৭৭ সালের এক বসন্তে সেই নুরস গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বাদিউয্‌যামান সা‘য়ীদ আন-নূরসীছোট থেকেই ছিলেন স্বাধীনচেতামাত্র ১৪ বছর বয়সে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপ্ত করে ধর্মতত্ত্বের উপর অগাধ পাণ্ডিত্য লাভ করেন। যার দরুন পরবর্তীতে তাঁকে বাদিউয্‌যামান (কালের এক বিস্ময়কর প্রতিভা) উপাধি প্রদান করা হয়। অর্থাৎ তিনি ছিলেন সে-সময়ের এক শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। মানুষের অধিকার, মুক্তি ও স্বাধীনতা বিষয়ক নামিক কামালের পুস্তকগুলো তরুণ নুরসি র মনে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ১৮৯২ সালে তিনি হারাকাতু তুরকিয়া আল-ফাতাত (ইয়ং টার্কিশ মুভমেন্ট)-এ যোগ দেনআর তখন থেকেই রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে শুরু করেন।
যখন ভ্যান প্রদেশের গভর্নরের আমন্ত্রণে, তাঁর বাসভবনে বসবাস করতে শুরু করেন, সে-সময়ে সেখানকার আর্কাইভ ও লাইব্রেরির বইপত্রগুলো অধ্যয়ন করে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করেন। বিজ্ঞান, দর্শন, গণিত- এসব বিষয়ের উপর জ্ঞান অর্জন করতে থাকেন১৯০৯ সালে উসমানীয় সরকার তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের অভিযোগ এনে তাঁকে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করায়। কারণ তিনি তখন কমিটি অফ্‌ ইউনিয়ন প্রোগ্রেস (Committee of Union Progress/ CUP)– এর সাথে মিলে উদারবাদী সংস্কার আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। তবে, পরবর্তীতে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন এবং মুক্তি পান। অতঃপর উসমানীয় সাম্রাজ্যের শেষদিকে, শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের জন্যে আন্দোলন শুরু করেন। সুলতান আবদুল হামিদকে নতুন শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়নের প্রস্তাবও দেন। তাঁর প্রস্তাব ছিল, সনাতনী মাদ্রাসা শিক্ষার সাথে সাথে সুফিইজ্‌ম ও আধুনিক বিজ্ঞানের সমন্বয় করে নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শুরুর দিকে তিনি যুদ্ধে অংশগ্রহণের বিরোধী ছিলেন। অবশ্য পরবর্তীতে খিলাফতের বিপন্ন অবস্থা দেখে নিজেই যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।  যুদ্ধের সময় তিনি দ্য সিক্স স্টেপস (The Six Steps) শিরোনামে একটি প্রবন্ধ রচনা করেছিলেন। তাঁর এই লেখা তুর্কি সৈনিকদের মনোবল দৃঢ় ও মজবুত করে তোলে।  কিন্তু তাঁর ধর্মীয় প্রভাবে নয়া তুর্কি প্রজাতন্ত্র-কামালবাদী সেক্যুলার আদর্শ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছিল। আর তাই একটা ছোট্ট ঘটনাকে ইস্যু করে ১৯২৫ সালের ৪ঠা মার্চ একটা আইন পাশ করা হয়। আগে থেকেই তাঁকে আটক করার সুযোগ খুঁজছিল নয়া স্বৈর-সরকার। এই আইনের মাধ্যমে ডাইরেক্টরি ক্ষমতা প্রয়োগ করে অনেকের সাথে তাঁকেও কারাবন্দী করে ইস্তান্বুল পাঠানো হয়।
তারপর ১৯২৬ সালে ইস্পার্তায় নির্বাসনে পাঠানো হয় তাঁকে। কিন্তু তিনি যেখানেই যেতেন সেই জায়গার মানুষগুলো তাঁর শিশ্য, ভাব-শিশ্য ও ভক্তে পরিণত হতো। এ কারণে তাঁকে আরো দুর্গম এলাকা বারলায় নির্বাসন দেয়া হয়। কিন্তু, সরকারের এই কৌশল হিতে বিপরীত হয়, এখানে তাঁর ছাত্র সংখ্যা আরো বেড়ে যায়। এই বারলাতেই বসে তিনি তাঁর বিখ্যাত তাফসীর (আল্‌-কুর্‌আনের ব্যখ্যা ও বিশ্লেষণ) গ্রন্থ রাসায়েলুন্‌ নূর রচনার দুই-তৃতীয়াংশ কাজ সম্পন্ন করেন।
তাফসিরটির রচনা সম্পূর্ণ হলে তাঁর ছাত্ররা নিজ হাতে এর অসংখ্য কপি তৈরি করে। এমনকি তাফসিরটির আরবির পাশাপাশি আরও অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ করা হয়। আর নূরস পোস্টাল সিস্টেম’-এর মাধ্যমে পুরো তুরস্কে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। আর তুরস্ক জুড়ে এর ব্যাপক প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে। এতে কর্তৃত্ববাদী সেক্যুলার স্বৈর-সরকার বুঝতে পারে যে, নুরসির আন্দোলনকে তাঁরা থামিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছে। 

১৯৬০ সালের ২৩শে মার্চ নুরসি উরফা প্রদেশে দেহ ত্যাগ করেন।  

Image result for bediuzzaman said nursi

Thursday, 9 November 2017

الأستاذ بديع الرحمن: معلمون بدون أدنى دور في التعليم



معلمون بدون أدنى دور في التعليم
البروفيسور الدكتور بديع الرحمن*
 
ألا أيهـــــا النفـــــــس اللوامـــــــــــــــــــة
هل تبقى الحــيـــــــــــــاء في العلامــــــة
ألّا كسبــــــــت الرغيـــــــف باللحـــــــــــم
المشوي والأطعمـــــــــة الدسّامــــــــــــــة
مـــــــا أحســـــن زيـــــــــــــــــــــــــــــــــأ
تعـــــــــــــــاكس تمـــــــــــاما من الباطنــة
بئس الأستــــــــاذ لا إلمــــــــــــــام لـــه ولا
إتقــــــــــــــــــــــان دون التمـلقــــــــــــــــة
يحتبك جو الدخــــــــــان و الأحــــــــلام
ممـلوأ بالأشبـــــــــــــاح والأجنــــــــــــــة
أعـلى المقـــــــــــــــــــــــــــام هدفــــــوا
فلرب كل الخــــــــلابة والمكيـــــــــــــدة
فيــــــا عجبـــــــــــــا من استعــــــــانوه
ظلموا على أنفســــــــــــهم والمخلوقــة
المنصب العــــــــــــالي بشغل خـــــــالي
يزداد في مجهـــــزات المستريحـــــــــة
زادت الـــــراتبـــــــــــة كل سنـــــــــــــة
متحليـــــــــــا بالحيـــــــــــــاة التريفـة
يستخــــــــدم المرتبة كالحبــــــــــالــة
لشبـــــــــك الشـــــرص والشريصــــــة
فريسـة الجهــــــــــــــــــــلاء حولـــــه
مخمـــورين من راق والرقيـــــــــــــــة
بئس الأستـــــــاذ في الجبة الفاخـــرة
بدون العـــــــــــــــلم وخير الجليســـة
من يبقى في هــــــــــذا الجــــــــــــــو
الـدرك الأسفـــــــــــــــل انحطاطـــــــة
تطهّـــر البطـون من أكل النــــــــــــــار
يا رب جنّبنـــا عن زيغ الـخديعـــــــة
 
26/08/2006
ـــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــ
*الأستاذ والرئيس السابق للقسم العربي والفارسي بجامعة كلكتة، الهند 

Tuesday, 7 November 2017

হাসসান বিন সাবিত (রাঃ) শায়েরুর রাসূল

হাসসান বিন সাবিত (রাঃ) শায়েরুর রাসূল বা রাসূলের কবি 
(৫৫৩ – ৬৭৪ খ্রি)
আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

তিনি মুখাযরাম (যে সকল কবিসাহিত্যিক প্রাক-ইসলামি ও ইসলামি উভয় যুগে সাহিত্য চর্চা করেছেন) কবিকুলের মধ্যে অন্যতম। কুৎসা রচনায় ও প্রতি-উত্তর প্রদানে তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। রাসুল সা ও ইসলামের প্রশংসায় এবং কাফির-মুশরিকদের প্রতি-উত্তরে বহু কবিতা রচনা করেছেন। আর এ কারণেই তিনি শায়েরুর-রাসূল (রাসুলের কবি) উপাধিতে ভূষিত।

পরিচিতি ও জন্ম
তিনি খাযরাজ বংশীয় একজন মুখাযরাম কবি। নাম হাসসান, উপনাম আবুল ওয়ালিদ, পিতার নাম সাবিত ৫৫৩ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় জন্ম গ্রহণ করেছিলেন।

ইসলাম-পূর্ব জীবন
তিনি মদিনায় লালিত পালিত হয়েছেনপ্রাক-ইসলামি ও ইসলামি উভয় যুগেই কাব্য চর্চা করেছেন। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তিনি মানাযেরাগাসাসেনাহ-দের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেনতাঁদের থেকে প্রচুর উপহার-উপঢৌকনও পেয়েছেন  এছাড়া জাফনা পরিবারের স্তুতি বর্ণনা করে অসংখ্য কবিতা রচনা করেছেনফলে ইসলামোত্তর জীবনেও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর

রাসুলের কবি রূপে
হিজরতের পরে, নিজ গোত্রের এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রাসুল সা-র নিকট উপস্থিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং সে-দিন থেকেই রাসুল ও ইসলামের সেবায় আত্মনিবেদন করেন। পরবর্তীতে কোরায়েশের কুৎসা-বাণ অসহনীয় হয়ে উঠলে রাসুল সা আক্ষেপের সুরে বলেন-
" مَا يَمْنَعُ الَّذِيْنَ نَصَرُوا اللهَ وَ رَسُوْلَهُ بأسلحتهم أن ينصروه بألسنتهم"
(যারা নিজ তরবারি দিয়ে আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসুলের সাহায্য করেছেন, কথা দিয়ে সাহায্য করতে কোন জিনিস তাঁদের বাধা দিচ্ছে)
কবি হাসসান   "أنا لها"(আমি এই কাজের লোক) বলে তাঁর আহ্বানে সাড়া দেন। অতঃপর রাসুল সা হাসসানকে প্রশ্ন করেন- “আমিও কোরায়েশ বংশীয়, তাহলে কীভাবে তুমি তাদের কুৎসা করবে?” এর উত্তরে কবি বলেছিলেন-
" أسُلُّكَ مِنْهُمْ كَمَا تُسَلُّ الشَّعْرَةُ مِنَ الْعَجِيْنِ"
(আমি আপনাকে তাঁদের মধ্য থেকে বের করে আনবো, যেভাবে মথিত আঁটা থেকে চুল বের করে আনা হয়)
অতঃপর রাসুল সা তাঁর জন্য প্রার্থনা করলেন- اللّهُمّ أيّدْهُ بروْحِ القُدس (আল্লাহ্‌! তুমি জিবরাইল দ্বারা এর সাহায্য করো)ফলে রাসুল সা-এর অনুমতি ও আশীর্বাদ নিয়ে হাসসান রা এমনভাবে কোরায়েশদের কুৎসা করলেন যে তাদের সকলকে নির্বাক করে দিলেন।

পরলোকগমন
এ সফলতার পর তাঁর শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছিল, খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল চতুর্দিকেবায়তুল-মাল (মুসলিমদের কোষাগার) হতে তিনি মৃত্যু কাল পর্যন্ত ওযীফা (সাম্মানিক ভাতা) প্রাপ্ত হয়েছিলেন।
১২০ বছর বয়সে ৬৭৪ খ্রি মোতাবেক ৫৪ হিজরিতে তিনি পরলোকগমন করেন।  

কাব্য-প্রতিভা
তিনি জাহেলি যুগে খাযরাজের কবি ছিলেন। নবী সা-এর জীবদ্দশায় রাসুলের কবি ও ইসলামি যুগে ইয়ামেনের কবি  ছিলেন। জাহেলি যুগে তিনি কঠিন শব্দে ও দৃঢ় ভঙ্গিমায় কবিতা রচনা করতেন, কিন্তু ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর এই তেজস্বীতা দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই আস্মায়ী মন্তব্য করেছেন- " إن شعره لم يقو إلا في الشر، فلما جاء الإسلام بالخير ضعف"
(নিশ্চয় তাঁর কবিতা শুধু অমঙ্গলের ক্ষেত্রেই সবল ও শক্তিশালী ছিল। ফলে যখন ইসলাম মঙ্গল বয়ে আনল, তাঁর কবিতা তীব্রতা ও তেজস্বীতা হারিয়ে ফেলল।)

উপজীব্য  
তিনি আত্মগৌরবমূলক (فخرية), সাহসিকতা ও বিরত্বগাথা (حماسة), প্রশংসামূলক (مدحية) ও কুৎসামূলক (هجائية) বিবিধ আঙ্গিকে কবিতা রচনা করেছেন। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে গাসাসেনাহ ও মানাযেরাহদের প্রশংসা করে কবিতা রচনা করেছেন। আর ইসলাম গ্রহণের পরে রাসুল সা-র প্রশংসায় ও মুসলিমদের পক্ষ নিয়ে বহু কবিতা সৃজন করেছেন। এছাড়া নিজ গোত্র ও বংশের বিরত্বের গান গেয়েছেন বহু কবিতায়।  

কবিতার বৈশিষ্ট
(ক) তিনি তীব্র কুৎসাকারী ও তীক্ষ্ণ বিদ্রূপকারী ছিলেন। বিশেষত, কোরায়েশদের এমন তীব্র কুৎসা করেছিলেন যে তারা নির্বাক হয়ে পড়েছিল। এরই দরুন বলা হতো- " لو مزج البحر بشعره لمزجه" (তাঁর কবিতা যদি সমুদ্রে মেশানো হয় তাহলে সমুদ্রকেও নিজ রঙে রাঙিয়ে দেবে ।) যেমন তিনি বলেছেন-
بأن سيوفنا تركتك عبدا     و عبد الدار سادتها الإماء
(হে আবু সুফিয়ান!) আমাদের তরবারি তোমাকে দাসে পরিণত করেছে। আর (তোমার গোত্র) আব্দুদ্দার-এর নেতৃত্ব দেয় বাঁদিরা।

(খ)  গৌরব বর্ণনায় অনেকের মতে তিনি আমর বিন কুলসুমের সমকক্ষ ছিলেন। নিজ গোত্রের গৌরব বর্ণনায় বলেছেন-  
لقد تقلدنا العشيرة أمرها     و نسود يوم النائبات و نعتلي
নিঃসন্দেহে আমরা সমাজের বিষয়সমূহ নিজ-কাঁধে বহন করি। আর দুর্যোগ ও সংঘর্ষের মুহূর্তে আমরাই নেতৃত্ব দিই এবং জয়ী হই।

(গ) প্রশংসামূলক কবিতা রচনায় ছিলেন সিদ্ধহস্ত। যাবারকানের প্রতিউত্তরে রাসুল ও তার গোত্রের প্রশংসায় বলেছিলেন-   
إن الذوائب من فهر و إخوتهم     قد بينوا سنة للناس تتبع
নিশ্চয় ফাহার গোত্রের সিংহেরা (নেকড়েরা) জনগণের জন্য যে পথ স্পষ্ট করে দিয়েছে, তা-ই অনুসরণ করা হবে।

(ঘ) তিনি ছিলেন ইসলামের তরে নিবেদিত প্রাণ। তাই ইসলামী পরিভাষার প্রাচুর্য রয়েছে তার রচনায়। তিনি কবিতায় কুরআনের বাক্যাংশ সুন্দরভাবে ব্যবহার করেছেন, যেমন-  
الحمد لله و النعماء و الأمر كله      فإياك نستهدي و إياك نعبد
যাবতীয় স্তুতি, করুণা ও কর্তৃত্ব তাঁরই। তাই আমরা শুধু তাঁরই সকাশে সু-পথের সন্ধান যাঞ্চা করি এবং শুধু তাঁরই ইবাদত (আনুগত্য ও উপাসনা) করি।

(ঙ) অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানের বিষয়ও স্থান পেয়েছে তাঁর কবিতায়। তাঁর এ ধরণের কোনও কোনও কবিতা প্রবাদের আবহে আজও সমানভাবে প্রচলিত এও উল্লেখ্য যে, তিনি ছিলেন স্বভাব কবি। কাব্যিক-সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য অহেতুক পরিশ্রম করতেন না। সে-বিষয়ে তিনি নিজেই বলেছেন-              
لا أسرق الشعراء ما نطقوا     بل لا يوافق شعرهم شعري

কবিরা কী বলেছেন- আমি তা অনুকরণ করি না। ফলে, আমার কবিতার সাথে তাঁদের কবিতা মেল খায় না। 

Image result for ‫حسان بن ثابت‬‎
Image result for ‫حسان بن ثابت‬‎Image result for ‫حسان بن ثابت‬‎