Pages

Showing posts with label পাথেয়. Show all posts
Showing posts with label পাথেয়. Show all posts

Thursday, 9 March 2023

বদিউর রহমানঃ আমি পাগল হবো, এখন আমার সাধ



আমি পাগল হবো, এখন আমার সাধ
বদিউর রহমান
 
আমার জীবনে দুটো শখ ছিল এক মন্ত্রী হওয়ার দুই পাগল হওয়ার মন্ত্রী হওয়ার পিছনে বেশ কয়েকটা আশ মেটানোর ইচ্ছাটাই ছিল মুখ্য মানুষ ও জনসেবা করার উদ্দেশ্যে মন্ত্রী হতে চাইনি অবশ্য ভোটের আগে মানুষকে বোঝাতাম যে আমি তাদের কাছের মানুষ প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে সকলের পাশে থাকবো মানুষকে বোঝাতে আমি বেশ সক্ষম বাকচাতুরী বলুন অথবা সুন্দর করে বক্তব্য পেশ করতে আমি বেশ দক্ষ এলাকার অনুন্নয়ন আর মানুষের চাহিদা সম্পর্কে আমার সম্যক ধারণা আছে সবরকম অসুবিধা দূর করে এলাকার সামগ্রিক উন্নতি করবজনসমাবেশে অবিশ্বাস্য বক্তব্য রাখতে বেশপটু নেতা হতে যে সব গুনাগুন থাকা প্রয়োজন সবই আমার আছে অতএব মন্ত্রী হতে দোষ কী! কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও নির্বাচনে একটা টিকিট জোগাড় করতে পারলাম না ওখানেও অনেক প্যাঁচ-পয়যারঠাঁই নাই ঠাঁই নাই ছোট এ তরীর ব্যাপারটা যে রাজনীতিতেও বিশেষত মানুষের সেবা করার বাসনাতেও যে এত মানুষ উদগ্রীব তা আমার জানা ছিল না ভেবেছিলাম মন্ত্রী হওয়ার পথটা খুব সোজা নির্বাচন আসবেজনসাধারণকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে ভোট আদায় করে মন্ত্রী হব লালবাতি লাগানো গাড়ি চড়ে ঘুরবোগাড়িতে হুইটার বাজবে। ট্রাফিক পুলিশ সতর্ক হয়ে অন্যান্য গাড়ি সাইড করিয়ে আমাকে স্যালুট দিয়ে পার করাবে আমি দু-চারজন প্রাণের বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে দফতরের ঘরে বসবো সচিবকে ডেকে বলবো কাউকে এলাও করবেন না বলবেন ব্যস্ত আছি তারপর কফি পাঠাতে বলে এসি কামরায় বসে আড্ডা দেবো ঘরের দরজার উপরে লালবাতিতে লেখা থাকবে ENGAGED নাহ! স্বপ্নটা পূরণ হলো না
 
আমার দ্বিতীয় স্বপ্নটা পাগল হওয়া এটা পূরণ হতে কোন বাধা দেখছি না ভালো ভালো সাহিত্যিকদের পাগলের ওপর লেখা পেয়েছি জীব্রান খলিল জীব্রানের মাজনুন শিরোনামে লেখাটা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ওই লেখায় পাগলের দৃষ্টিতে অন্যান্য মানুষজনের চালচলন ইত্যাদি আমার দৃষ্টিতেও মূল্যহীন মনে হয় ওই জাতের আরো লেখা বিভিন্ন ভাষায় পড়েছি সব লেখকই নিজ নিজ ভাষায় স্বনামধন্য তবুও পাগলদের উপর লেখাগুলো পড়ে মনে হয়েছে লেখক বাইরে থেকে উপরে উপরে লিখেছেন সত্যিকারের পাগল হতে পারেননি আমার ইচ্ছা তারা যা পারেনি আমাকে তাই করে দেখাতে হবে। অন্যান্য লেখকদের মত একটা পাগল শিরোনামে লেখা লিখে পরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে সমাজ ও মানুষজন নিয়ে লেখা নয় আমার ইচ্ছা পাগলের ওপর শুধুই লেখা নয়, সত্যিকারের পাগল হওয়া। তারপর লিখি না লিখি তাতে কিছু যায় আসে না  জীবনে যখন মন্ত্রী হওয়ার শখটা পূরণ হলো না দ্বিতীয় শখটা পূরণ করতে তো বাধা নেই এ ব্যাপারে একটু আশার আলো দেখতে পাচ্ছি।

শুনেছি, শুধু শুনেছি কেন, দেখেওছি পাগলদের হাত-পায়ের নখগুলো বেশ বড় বড় মাথার চুল গুলো অগোছালো-অবিন্যস্ত দীর্ঘদিন স্নান না করার জন্য শরীরে ময়লার আস্তরণ জামাকাপড় গুলো ছেঁড়া-ফাটা নোংরা বহুদিন দাঁত পরিষ্কার না করার জন্য দাঁতগুলোর ওপর হলুদ আস্তরণ পড়ে যায়। খোঁচা খোঁচা গোফ দাড়ি ভেদ করে হাসির সময় ওই হলদেটে দাঁতগুলো তার চেহারার একটা আলাদা মাত্রা এনে দেয় তার শরীরের বোঁটকা গন্ধ মাথা ঝিমঝিম করায় গন্ধের চোটে তার পাশাপাশি থাকা যায় না আর অনিবার্য ভাবে তার একটা থলে থাকবে তাতে থাকবে রাজ্যের নোংরা কাপড়ের টুকরো; ছেঁড়া কাগজ ইত্যাদিতে সেটা এত ভর্তি থাকবে যে তার অর্ধেক থলি থেকে উপচে পড় পড় হয়ে থাকবে। আর সে খাওয়া-দাওয়ার জন্য কখনো ব্যস্ত হবে না যেখানে যা পাবে খাবে কিছু ফেলবে, কিছু মুখ ও গোঁফ দাড়িতে মেখে রাখবে। দু-চারটে কুকুর জুটে গেলে তাদের সঙ্গে খাবারটা ভাগাভাগি করে খেতে দ্বিধা করবে না যখন মেজাজটা সরিফ থাকবে তখন আপন মনে কথা বলবে হাসবে কাঁদবেপৃথিবীর সব রহস্যাবলী সম্পর্কে সম্যক ধ্যান-ধারণা থাকার জন্য সেগুলোর উপর অমূল্য বাণী শ্রোতা ব্যতিরেকেই বিতরণ করবে প্লেটো, ইবনে সিনার দর্শন নিংড়ানো জ্ঞান-গহ্বর কথাগুলো সাধারণ মানুষের বোধগম্য না হওয়াতে সেগুলো কখনো সখনো আওড়ালে মানুষজন তার দিকে ইট-পাথর ছুড়বে বিশেষ করে ছোট বাচ্চারা তাকে দেখলে নানা বিভূষণে রঞ্জিত করে উত্যক্ত করবে কখনো সরকার বাহাদুরের কৃপাদৃষ্টি পড়লে তাকে ভ্যানে তুলে নিয়ে গিয়ে তার সমগোত্রীয় অন্যান্য মহাপুরুষদের সঙ্গে এক ছাদের তলায় বন্ধ করে রাখবে সেখানে জীবনের মহান স্বাধীনতার অধিকার বাধা প্রাপ্ত হলে মাঝেমধ্যেই বিদ্রোহ করতে চিৎকার করে উঠবে তার জন্য যতদূর অভিযোগ করার করতে গিয়ে নির্বোধ পুলিশের হাতে তাকে লাঠির মার খেতে হবে এমনকি জোর করে অজ্ঞান করার ইনজেকশন দিয়ে দু-দশ ঘন্টা ফেলে রাখা হবে এত কিছুর পরও সেই মহান মানুষটা তেমনই থাকতে চাইবে যেমনটা সে চায় তা লোকে তাকে পাগল বলে বলুক না সে ভাবে ঈশ্বর এদের ক্ষমা কর এরা আমায় চিনল না এরা অতীব অসাধারণ হয়ে জন্মে সাধারণ হয়ে থাকতেই পছন্দ করলো। উচ্চমার্গের খোঁজ পেল না। হাই কপাল! ওদের ক্ষমা করো প্রভু
 
হ্যাঁ আমি ঠিক ওই রকম আদর্শ পাগল হতে চাই। ইদানিং লক্ষ্য করছি আমার হাত পায়ের নখগুলো বড় হচ্ছে কাটতে ইচ্ছা করে না গোঁফ-দাড়ি চুলের ব্যাপারটাও সেই রকম ইদানিং দু’-দশ দিন স্নান না করে থাকতে ভালো লাগছে। পরিচিত অপরিচিত অনেকের সঙ্গে কথা বলতে বেশ লাগছে আমি যখন অনর্গল কথা বলা শুরু করি বেশিরভাগ লোকই আমার দিকে এক অদ্ভুত চাহনি দিয়ে চলে যায় ইদানিং মুখ ধোওয়া, দাঁত মাজাটা প্রায়শঃ ভুলে যাই মনে হয় এগুলো সব অযথা পন্ডশ্রম আজকাল প্রায়ই সল্টলেকের একটা গাছের বেদিতে বসে মানুষজনের চলাফেরা লক্ষ্য করি তারা নাকি অপিসে কাজে যাচ্ছে তাদের অনাবশ্যক ব্যস্ততা দেখে হাসি পায় জীবনের গূঢ় রহস্যের খোঁজ ওরা করল না আমি তো দিব্য-চক্ষুর সাহায্যে ইদানিং অনেক আলোর সন্ধান পাচ্ছি মনে হচ্ছে আমার জীবনের দ্বিতীয় ইচ্ছাটা একটু একটু করে পূরণ হবে আমি পাগল হব। জীবনের স্বপ্ন বলুন আশা বলুন সেই পরশ পাথর এখন আমার হস্তাগত আমি ভাগ্যবান আমার আশা পূরণ হতে চলেছে সমস্ত রকমের শৃঙ্খল ভেঙ্গে আমি মুক্ত হতে চলেছি। কী আনন্দ! কী আনন্দ!
 
সল্টলেক, কোলকাতা
১৫. ০২. ২০২৩

Friday, 2 June 2017

পবিত্র আল-কুরআন সবার জন্য


পবিত্র আল-কুরআন সবার জন্য
আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

গত ২৫শে জানুয়ারি থেকে আরম্ভ হয়েছে ৪১তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বই মেলা। এই তিলোত্তমা নগরীর মায়া, বাঙালির আবেগ ও ভালোবাসা টানে লেখক-পরিচালক-সাহিত্যরসিক-কাব্যমোদী সকলকে। তাই ছুটে আসে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গুণীজন, সৃজনশীল, সত্যান্বেষু ও অনুসন্ধিৎসু মানুষেরা। বসে কবিতার আসর, সাহিত্যের আড্ডা। চলে বই-প্রকাশ অনুষ্ঠান। থাকে প্রেস কর্নারও।

বিগত ক’বছর ধরে যারা এই বই মেলায় এসেছেন নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন, বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তির বাণী সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে উদ্যত। তাঁরা ছুটছেন। এফোঁড় ওফোঁড় করে দিচ্ছেন মিলন মেলা প্রাঙ্গণকে। বিতরণ করছেন পুস্তিকা-গ্রন্থ-ধর্মগ্রন্থ বিনা মূল্যে। হিন্দু-মুসলিম-খ্রিস্টান, শিয়া-আহমাদি-সুন্নি-সালাফি সকলে। উদ্দেশ্য স্রষ্টার বাণী, শান্তির বার্তা পৌঁছে দেওয়া প্রত্যেকের নিকট। তাতে একটি নতুন পালক সংযোজিত হল এবার। বাংলা ইসলামী প্রকাশনী ট্রাষ্ট ৪ঠা ফেব্রুয়ারি শনিবারে আয়োজন করল এক প্রেস কর্নারের। আলোচ্য বিষয় ছিল ‘কুরআন সবার জন্য’। অতিথি ও আলোচকরূপে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সমাজের বুদ্ধিজীবী প্রতিনিধিগন। 

স্রষ্টার এই গ্রন্থটি যে কেবল মুসলিমদের জন্য নয়, বরং সকল মানব জাতির জন্য; এমনকি সকল সৃষ্টির উদ্দেশ্যে – এ কথাই বিভিন্ন তথ্য ও তত্ত্বের সাহায্য স্পষ্ট করেন বক্তারা। আলোচনায় উঠে আসে সূরা সাবা-র ২৮ নম্বর আয়াত [(হে নবী সাঃ) আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি সকল মানুষের জন্যে]-টি। এর পাশাপাশি সূরা আল-বাকারাহর ১৮৫ নম্বর আয়াত [এ গ্রন্থ পথ নির্দেশক সকল মানুষের]-টিও।

তারপরে আল-কুরআনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সম্বোধনের দীর্ঘ ফিরিস্তি উদ্ধৃত হয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্থানে প্রত্যক্ষ ও পরক্ষ ভাবে ‘বানি আদাম’ (আদম সন্তান), ‘নাস’ (মনুষ্য জাতি) ও ‘ইনসান’ (মানুষ) প্রভৃতি শব্দের মোড়কে আদম-সন্তানকে ৮৩৯ বার সম্বোধন করা হয়েছে। পক্ষান্তরে ‘মুমিন’ ও ‘মুসলিম’ (বিশ্বাসী, ইসলাম ধর্মাবলম্বী)-র ন্যায় শব্দাবলী দ্বারা সম্বোধনের সংখ্যা ২১৩। সত্যিই গুগলে সহজলব্ধ এই তথ্যও প্রমাণ করে 'আল-কুরআন সবার জন্য', আমার আপনার সবার নিমিত্তে। 

এদিনের মনোগ্রাহী আলোচনায় যে-সব কথা অত্যন্ত সাবলীলভাবে ফুটে ওঠে তা হল- মহান আল্লাহ্‌র একটি গুণবাচক নাম আল-খালিক্ব (স্রষ্টা)। তিনি সকল সৃষ্টির স্রষ্টা। একটি হাদিসে কুদসি-তে রয়েছে, ‘সকল সৃষ্টি আল্লাহ্‌র পরিবার’। যদি সকল সৃষ্টি আল্লাহ্‌র পরিবার হয় তাহলে তাঁর এই কালজয়ী গ্রন্থটি শুধুমাত্র মুসলিম সমাজের জন্য নির্দিষ্ট হবে কেন? আল্লাহর সকল সৃষ্টি তো সমগ্র মানব জাতির জন্য। পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে মানুষের কল্যাণেই তার সৃষ্টি। সূর্য-আলো-বাতাস-জল সবার জন্যে। তাহলে স্রষ্টার মহাগ্রন্থটি শুধু মুসলিমদের জন্য খাস হবে কোন যুক্তিতে? আল্লাহ্‌র আরও একটি গুণবাচক নাম ‘আলীম’ (সর্বজ্ঞ)। সকল বস্তুকে তিনি জ্ঞান দ্বারা পরিব্যপ্ত করে রেখেছেন। তাই তিনি আদি পিতা আদমকে সৃষ্টি করে বিভিন্ন বিষয়ের জ্ঞানে তাঁকে সমৃদ্ধ করেন (সূরা আল-বাক্বারাহঃ ৩১)। এমনকি যখন তিনি এই মহাগ্রন্থটির অবতারণ আরম্ভ করলেন, সর্ব প্রথম শিক্ষণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বললেন, ‘তিনি মানুষকে শিখিয়েছেন যা তাঁরা জানতো না’ (সূরা আলাক্বঃ ৫)। ‘ইনসান’ (মানুষ) শব্দের উল্লেখ করে স্রষ্টা প্রথম দিনেই তো স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এ গ্রন্থ সবার।

প্রসঙ্গত, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য, ধর্মীয় ও আধুনিক নানা ভাগে জ্ঞানের এই বিভাজন-এর উর্ধে, মানবের জন্য মঙ্গল বয়ে আনে এমন সকল জ্ঞান- তা প্রাচ্যের হোক বা পাশ্চাত্যের, ধর্মীয় হোক বা আধুনিক সকলের জন্য। সবার তাতে সমান দায়িত্ব ও অধিকার। তাই বহু জ্ঞানের উৎস এই আল-কুরআন সবার।