Pages

Showing posts with label উর্দু কবিতা. Show all posts
Showing posts with label উর্দু কবিতা. Show all posts

Wednesday, 22 May 2024

জাগাহ জি লাগানে কি দুনিয়া নেহি হ্যায় (কেবল চার দিনের বসন্ত এ দুনিয়া)


 
কেবল চার দিনের বসন্ত দুনিয়া
 মূল- খাজা আজিজুল হাসান মাজযুব 
অনুবাদ- আব্দুল মাতিন ওয়াসিম 
 
রং রঙ্গনের আকারে
বাস্তবে, বিষাক্ত কাঁটার মতো দুনিয়া
মুহূর্তেই এধার থেকে ওধার
কেবল চার দিনের বসন্ত দুনিয়া
কে রেখেছিল এর নামজীবন’?
মৃত্যুর জন্য অপেক্ষার প্রহর দুনিয়া;
চিরস্থায়ী আবাসের জায়গা নয় দুনিয়া
উপদেশ গ্রহনের জায়গা, ভোগ-বিলাসের জায়গা নয় দুনিয়া!  
 
মৃত্যুর হাত থেকে নিস্তার পায়নি, না কিস্রা (ইরানের রাজপরিবার) না দারা (দারাশিকোহ)
আর না বিশ্বজয়ী সেকেন্দার, সেও হয়েছে পরাজিত
ওদের ঠাটবাট-আসবাবপত্র সবই আজ পরিত্যাক্ত
কিছুই সাথে নিয়ে যেতে পারেনি তারা, পরিতাপ আফসোস  ছাড়া;  
চিরস্থায়ী আবাসের জায়গা নয় দুনিয়া
উপদেশ গ্রহনের জায়গা, ভোগ-বিলাসের জায়গা নয় দুনিয়া! 
 
কতশত রাজ-পরিবার মিশে গেছে মাটিতে
বহু জাতি, বহু সম্প্রদায় হয়ে গেছে বিলীন
কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী হয়ে গেছে নিশ্চিহ্ন
তরুণ-যুবকের দল মিলিয়ে গেছে ভূগর্ভে;  
চিরস্থায়ী আবাসের জায়গা নয় দুনিয়া
উপদেশ গ্রহনের জায়গা, ভোগ-বিলাসের জায়গা নয় দুনিয়া! 
 
শৈশব তোমাকে দোল খাইয়েছে তার কোলে
যৌবন তার প্রেমে করেছে পাগল
আর বার্ধক্য দিয়েছে অজস্র যন্ত্রণা
অবশেষে রিক্ত হস্তে পাড়ি দেবে মৃত্যুর সাথে;
চিরস্থায়ী আবাসের জায়গা নয় দুনিয়া
উপদেশ গ্রহনের জায়গা, ভোগ-বিলাসের জায়গা নয় দুনিয়া!
 
তুমি স্বপ্ন দেখো, আমি রবো সবার উর্দ্ধে
আমার সৌন্দর্য হবে অনন্য, ফ্যাশন হবে উন্নত
মরণশীল জেনেও কী করে এমন স্বপ্ন দেখো  
কীভাবে বাহ্যিক সৌন্দর্যের মায়ায় ডুবে থাকো;
চিরস্থায়ী আবাসের জায়গা নয় দুনিয়া
উপদেশ গ্রহনের জায়গা, ভোগ-বিলাসের জায়গা নয় দুনিয়া !
 
নিজ প্রভুকে সন্তুষ্ট করেই ঘুমোতে যেও
কে জানে, তুমি দেখতে পাবে কি না সকালের আলো
হয়তো বা সকালে তুমি থাকবে মাটির তলে;
আর কতদিন তুমি মত্ত থাকবে দুনিয়ায়
আর কতদিন পড়ে থাকবে এই মিথ্যে মায়ায়;
চিরস্থায়ী আবাসের জায়গা নয় দুনিয়া
উপদেশ গ্রহনের জায়গা, ভোগ-বিলাসের জায়গা নয় দুনিয়া! 
 
ভোগ-বিলাসের কেমন অট্টালিকা
যেখানে পাশাপাশি অবস্থান করে মৃত্যু
এবার তো এই অজ্ঞতা হতে বেরিয়ে এসো
এবার তো এই জীবন শৈলী পরিবর্তন করো;
চিরস্থায়ী আবাসের জায়গা নয় দুনিয়া
উপদেশ গ্রহনের জায়গা, ভোগ-বিলাসের জায়গা নয় দুনিয়া!  
 
এই ধ্বংসশীল দুনিয়া কি তোমার এতই প্রিয়
কোন্‌ পার্থিব বিষয়ে তুমি এত প্রভাবিত
তুমি কি বিবেকহীন হয়ে পড়েছ, মাজ্যুব
তোমার কি এখনো বোধোদয় হয় না;
চিরস্থায়ী আবাসের জায়গা নয় দুনিয়া
উপদেশ গ্রহনের জায়গা, ভোগ-বিলাসের জায়গা নয় দুনিয়া!  

Monday, 9 May 2022

নিদা ফাজলিঃ পিতার মৃত্যুতে



পিতার মৃত্যুতে
মূল- নিদা ফাজ়লি
অনুবাদ- আব্দুল মাতিন ওয়াসিম
 
আমি তোমার কবর জ়িয়ারত করতে আসিনি
আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তুমি আমায় ছেড়ে যেতে পারো না
তোমার মৃত্যুর খবর যে রটিয়েছে সে মিথ্যুক
যে মারা গেছে, বাবা তুমি সেই ব্যক্তি নও!
একটা শুকনো পাতা হাওয়ায় দোল খেতে খেতে
ঝরে পড়েছে মূল থেকে ছিন্ন হয়ে
আমার দৃষ্টিশক্তি এখনো তোমার নানা দৃশ্যে বন্দী
আমি আজও যা কিছু ভাবি, যা কিছু দেখি
সবই তোমাকে ঘিরে, আমার সবই
তোমার সুখ্যাতি ও কুখ্যাতির পৃথিবী থেকে থেকে নেওয়া
কোথাও কোনো পরিবর্তন হয়নি
আমার আঙুলে তোমার হাত নিশ্বাস ফেলে এখনো
লেখার জন্য আমি যখনই কলম খাতা হাতে নিই
আমি দেখি, তুমি আমার চেয়ারে বসে
আমার শরীরে যত রক্ত
তোমার ব্যর্থতা ও পদস্খলনের সাথে আবর্তিত
আমার কন্ঠে তোমার কথা
আমার অসুস্থতায় তুমি
আমার ব্যর্থতায় তুমি
আমার অক্ষমতায় তুমি
কবরের উপর তোমার নাম লিখেছে যে সে মিথ্যুক
তোমার কবরে আমিই শুয়ে
আর তুমি আমার ভেতরে জীবিত
কখনো সময় সুযোগ পেলে
এসো আমার কবর জ়িয়ারত করতে।
 
৩ মে ২০২২, ঈদুল ফিতর
বাঁশকুড়ি, দঃ দিনাজপুর 



والد کی وفات پر
ندا  فاضلی

تمہاری قبر پر
میں فاتحہ پڑھنے نہیں آیا
مجھے معلوم تھا
تم مر نہیں سکتے
تمہاری موت کی سچی خبر جس نے اڑائی تھی
وہ جھوٹا تھا
وہ تم کب تھے
کوئی سوکھا ہوا پتہ ہوا سے مل کے ٹوٹا تھا
مری آنکھیں
تمہارے منظروں میں قید ہیں اب تک 
میں جو بھی دیکھتا ہوں
سوچتا ہوں
وہ وہی ہے
جو تمہاری نیک نامی اور بد نامی کی دنیا تھی 
کہیں کچھ بھی نہیں بدلا
تمہارے ہاتھ میری انگلیوں میں سانس لیتے ہیں 
میں لکھنے کے لیے 
جب بھی قلم کاغذ اٹھاتا ہوں 
تمہیں بیٹھا ہوا میں اپنی ہی کرسی میں پاتا ہوں
بدن میں میرے جتنا بھی لہو ہے 
وہ تمہاری 
لغزشوں ناکامیوں کے ساتھ بہتا ہے
مری آواز میں چھپ کر
تمہارا ذہن رہتا ہے
مری بیماریوں میں تم 
مری لاچاریوں میں تم 
تمہاری قبر پر جس نے تمہارا نام لکھا ہے 
وہ جھوٹا ہے
تمہاری قبر میں میں دفن ہوں
تم مجھ میں زندہ ہو
کبھی فرصت ملے تو فاتحہ پڑھنے چلے آنا

Sunday, 5 January 2020

ফায়েজ আহমাদ ফায়েজঃ আমরা দেখবো



আমরা দেখবো
মূল- ফায়েজ় আহ়্‌মাদ্‌ ফায়েজ়
অনুবাদ- আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

হাম দেখেঙে- আমরা দেখবো,
নিশ্চিতরূপে, আমরাও দেখবো 
যে-দিনটার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে
যে-দিনটার কথা বিধির বিধানে লেখা রয়েছে
যে-দিন ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে অত্যাচারের বিশাল পাহাড়
উড়ে বেড়াবে বাতাসের সাথে তুলোর মতো
আর আমরা যারা শাসিত ও শোষিত, আমাদের পদাঘাতে
থর থর করে কেঁপে উঠবে পৃথিবী  
ক্ষমতাসীনদের মাথার উপর
তীব্র বজ্রাঘাত সহ বিদ্যুৎ চমকাবে
যে-দিন খোদার জমিন হতে, মধ্যমণি কা’বা হতে   
তানাশাহ্‌দের সকল মূর্তি উপড়ে ফেলা হবে
আর আমরা যারা বঞ্চিত-বিতাড়িত, নিষ্পাপ জনসাধারণ
আমাদেরকে বসানো হবে ক্ষমতার অলিন্দে
সে-দিন চূর্ণ করা হবে সকল মুকুট
উপড়ে ফেলা হবে সব সিংহাসন     
সে-দিন উচ্চারিত হবে শুধু আল্লাহ্‌’র নাম   
যিনি গায়েব আবার হাজির, যিনি দৃশ্য ও চক্ষুষ্মান  
এবং উচ্চারিত হবে সমস্বরে একটাই স্লোগান—
‘আনাল্‌ হাক়্‌’ আমিই সত্য, আমিই বাস্তব
আমি, আপনি, আমরা— আমরাই হক়্‌
আর সে-দিন; রাজ করবে আমজনতা 
রাজ করবো আমি, আপনি, আমরা।  


['হাম দেখেঙ্গে' এই কবিতাটাকে ইদানীং কিছুজন 'মুসলিম' রূপে চিহ্নিত করে, কানপুর আই আই টি'র যে ছেলেরা ক্যা-এর বিরোধ প্রদর্শনে গেয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। এবং পরিতাপের বিষয় এই যে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়ে গেছে।

কবিতাটি ১৯৭৯ সালে লেখা, জেনারেল জিয়াউল হকের তানাশাহির বিরুদ্ধে। ১৯৮৬, ১৩ ফেব্রুয়ারি, আল্‌-হাম্‌রা আর্টস কাউন্সিলে ইকবাল বানু কালো শাড়ি পরে তানাশাহির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী গান হিসেবে গেয়েছিলেন; যার ফলে কবিতাটি সারা পৃথিবীতে বিশেষত এশিয়ার বহু মানুষের কাছে বিপ্লবী গীত রূপে সমাদর লাভ করে। যদিও ১৯৮৪-তে কবি, ১৯৮৮-তে তানাশাহ্‌, ২০০৯-য়ে গায়িকা ইহলোক ত্যাগ করেন; থেকে যায় কবিতাটি।

ফায়েজ একজন প্রগতিশীল কবি ও লেখক। বামপন্থী মতবাদে বিশ্বাসী বা অত্যন্ত প্রভাবিত (তাঁর রচনা ও চেতনার আলোকে আমার তা-ই মনে হয়েছে)। কিন্তু তাঁর এই কবিতাটি নাকি 'মুসলিম'! যদিও কবিতার কোন ধর্ম হয় না। কবিতা ও সাহিত্য ইতিহাস ও ভূগোলের সব সীমানা পেরিয়ে শুধু মানুষের আওয়াজ হিসেবে বেঁচে থাকে যুগ যুগ ধরে।

কবি প্রত্যক্ষ সম্বোধন করেছিলেন উর্দু ভাষী পাকিস্তানী মুসলিম সমাজকে। তাই স্বাভাবিক ভাবেই কবিতাটিতে আল্লাহ্‌ ও আরও কিছু ইসলামী পরিভাষার শব্দ রয়েছে; তবে সেগুলি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ এবং সিমিলি ও ম্যাটাফোরিক্যাল প্রয়োগ। তাছাড়া কবিতাটিতে 'আনাল্‌ হাক্‌'-এর উল্লেখ আছে এবং এটা ইসলামের মৌলিক সিদ্ধান্তের সাথে বিসংগত। সুফি মতবাদ ছাড়া অন্যান্য চিন্তাধারার লোকেদের কাছে এটা গৃহীত নয়। মুসলিম সমাজে মান্‌সুর হাল্লাজ প্রথম এর প্রয়োগ ও প্রচার আরম্ভ করেন। তবে কবিতাটির প্রেক্ষাপটে ওই শব্দবন্ধনীর এক আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। তাই আমি এই অসাধারণ কবিতাটি যতটুকু বুঝেছি, বলা ভালো রচনার প্রেক্ষিত সহ এর যেটুকু মর্ম উদ্ধার করতে পেরেছি সে-অনুযায়ী অনুবাদের চেষ্টা করেছি ]



فیض احمد فیض

ہم دیکھیں گے
لازم ہے کہ ہم بھی دیکھیں گے
وہ دن کہ جس کا وعدہ ہے
جو لوح ازل میں لکھا ہے
جب ظلم و ستم کے کوہ گراں
روئی کی طرح اڑ جائیں گے
ہم محکوموں کے پاؤں تلے
جب دھرتی دھڑ دھڑ دھڑکے گی
اور اہل حکم کے سر اوپر
جب بجلی کڑ کڑ کڑکے گی
جب ارض خدا کے کعبے سے
سب بت اٹھوائے جائیں گے
ہم اہل صفا مردود حرم
مسند پہ بٹھائے جائیں گے
سب تاج اچھالے جائیں گے
سب تخت گرائے جائیں گے
بس نام رہے گا اللہ کا
جو غائب بھی ہے حاضر بھی
جو منظر بھی ہے ناظر بھی
اٹھے گا انا الحق کا نعرہ
جو میں بھی ہوں اور تم بھی ہو
اور راج کرے گی خلق خدا
جو میں بھی ہوں اور تم بھی ہو


০৬ জানুয়ারি, ২০২০ 
কোলকাতা- ৩৯