Pages

Monday, 7 March 2016

আমর বিন কুলসুম-এর মুআল্লাকা


আম্‌র বিন্‌ কুল্‌সূম-এর মুআল্লাক়া 

[কবি ‘আম্‌র বিন কুলসুম পনেরো বছর বয়সে নিজ গোত্রকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর মু‘আল্লাকায় ১০০টি পঙক্তি আছে। এর কিছুটা তিনি হীরারাজ ‘আম্‌র বিন হিন্দের সম্মুখে পরিবেষণ করেছিলেন। তাঁর এই মু‘আল্লাকাটি ওয়াফির ছন্দে রচিত।]

أَلا هُبِّي بصَحْنِكِ فَاصْبَحينا    وَلا تُبْقِي خُمورَ الأَندَرِينا

(হে প্রেমিকা) তুমি একটা বড় পেয়ালা নিয়ে জেগে ওঠো। আর আমাদেরকে সকালের মদিরা পান করাও। আন্দারিন (সিরিয়ার একটি স্থান বা প্রদেশ)-এর মদ একটুও অবশিষ্ট রেখো না।

صَبَنْتِ الْكَأْسَ عَنّا أُمَّ عَمْرٍو     وكانَ الْكَأْسُ مَجْراها الْيَمِينا

উম্মে ‘আম্‌র, তুমি আমার থেকে পেয়ালাটা সরিয়ে রাখলে, অথচ পেয়ালার পরিচালনা ডান দিক থেকে হওয়ার কথা ছিল (কিন্তু তুমি তা বাম দিক থেকে পরিবেষণ করলে)

وَمَا شَرُّ الثّلاثَةِ أُمَّ عَمْروٍ    بِصاحِبِكِ الّذِي لا تصْبَحِينا

উম্মে ‘আম্‌র, এই তিনজনের সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট তোমার সেই বন্ধুটি নয় যাকে তুমি মদিরা পান করালে না (অর্থাৎ আমি নিকৃষ্ট ব্যক্তি নই)।

وَإِنَّا سَوْفَ تُدْرِكُنا الَمنَايَا    مُقَدَّرَةً لَنا وَمُقَدِّرِينا

অতিশীঘ্রই মৃত্যু আমাদেরকে স্পর্শ করবে। আর তা আমাদের জন্য নির্ধারিত এবং আমরা তার জন্য নির্ধারিত।

تُرِيكَ إِذا دَخَلْتَ عَلى خَلاءٍ    وَقَدْ أَمِنَتْ عُيُونَ الْكَاشِحِينَا

সে তোমাকে দেখাবে, যখন তুমি একাই তার কাছে একান্ত নির্জনে যাবে, এমত অবস্থায় যে সে শত্রুদের চক্ষু থেকে নিরাপদ;

وَثَدْياً مِثْلَ حُقِّ الْعَاجِ رَخْصاً    حَصَاناً مِنْ أَكُفِّ الّلامِسِينا

এমন দু’টি স্তন যা হাতি দাঁতের ন্যায় শুভ্র তবে কোমল এবং স্পর্শকারীদের হাত থেকে সুরক্ষিত (অর্থাৎ কেউ কখনও তা স্পর্শ করেনি)।

وَمَأْكَمةً يَضِيقُ الْبَابُ عَنْها    وَكَشْحاً قَدْ جُنِنْتُ بِهِ جُنُونا

এবং এমন নিতম্ব যার কাছে দরজা সংকীর্ণ হয়ে পড়ে, আর এমন কোমর ও কটিদেশ যার সৌন্দর্যে আমি পাগলপারা। 

وَسَارِيَتَيْ بِلَنْطٍ أَوْ رُخامٍ    يَرِنُّ خَشَاشُ حَلْيِهِما رَنِينا

আর হাতি দাঁত বা শ্বেত মর্মরের (মতো ধবধবে ফর্সা) এমন দু’টি পা, যার নূপুর মৃদু স্বরে বেজে ওঠে।

فَما وَجَدْتْ كَوَجْدِي أُمُّ سْقبٍ    أَضَلَّتْهُ فَرَجَّعَتِ الَحنِينا

এমন উষ্ট্রীও আমার মত দুঃখ পায়নি, যে উষ্ট্রী নিজ শাবককে হারিয়েছে এবং দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণায় বারবার সশব্দে আর্তনাদ ও কান্নাকাটি করেছে।

وَلا شَمْطَاءُ لَمْ يَتْرُكْ شَقاها    لَها مِنْ تِسْعَةٍ إِلا جَنِينا

(আমার মত দুঃখ পায়নি) এমন ধূসর বর্ণের চুল বিশিষ্টা রমণীও (অর্থাৎ বৃদ্ধাও), দুর্ভাগ্য যার নয়টি বাচ্চাকে কেড়ে নিয়েছে, শুধু রেখে গেছে গর্ভস্থ ভ্রূণটি।

تَذَكَّرْتُ الصِّبَا وَاشْتَقْتُ لَمَّا    رَأَيْتُ حُمُولَهَا أُصُلاً حُدِينا

আমি বাল্য (অর্থাৎ তরুণ বয়সের) প্রেমের কথা স্মরণ করলাম আর উৎসুক হয়ে পড়লাম যখন দেখলাম আমার প্রেমিকার হাওদা সমন্বিত উটগুলিকে সন্ধ্যাবেলায় চালিত করা হচ্ছে।

أَبَا هِنْدٍ فَلا تَعْجَلْ عَلَيْنا    وَأَنْظِرْنا نُخَبِّرْكَ الْيَقِينا

‘আম্‌র বিন হিন্দ, তুমি আমাদের বিষয়ে তাড়াহুড়ো করো না। আমাদেরকে অবকাশ দাও, যাতে আমরা তোমাকে নিশ্চিত সংবাদ দিতে পারি।

بأَنَّا نُورِدُ الرَّايَاتِ بِيضاً     وَنُصْدِرُهُنَّ حُمْراً قَدْ رَوِينا

(আমরা সংবাদ দিতে পারি এ বিষয়ে) যে, আমরা তরবারিগুলি সাদা অবস্থায় উপস্থাপন করি আর সেগুলিকে ফিরিয়ে আনি রক্তে রঞ্জিত ও পরিতৃপ্ত অবস্থায়।

وَسَيِّدِ مَعْشَر قَدْ تَوَّجُوهُ    بِتَاجِ الُملْكِ يَحْمِي الُمْحَجرِينا

এমন এক গোত্রপতি আছেন লোকেরা যাকে বাদশার মুকুট পরিয়েছেন, তিনি অসহায় ও আশ্রয়প্রার্থীদের সাহায্য করেন।

تَرَكْنا الَخيْلَ عَاكِفَةً عَلَيْهِ    مُقَلَّدَةً أَعِنَّتَها صُفُونا

আমরা তাঁর সন্নিকটে আমাদের অশ্বগুলোকে দাঁড় করিয়েছি লাগাম পরিহিত ও তিন পায়ে দাঁড়ানো অবস্থায় (অর্থাৎ সম্পূর্ণ রূপে প্রস্তুত করে)।

وَأَنْزَلْنا الْبُيُوتَ بِذِي طُلُوحٍ    إِلَى الشَّامَاتِ تَنْفِي الُموِعدِينا

আমরা তাঁবুগুলিকে জু-তুলুহ থেকে শামাত পর্যন্ত এমন ভাবে বিস্তৃত করেছি যে, সেগুলি ধমক প্রদানকারীদেরকে বিতাড়িত করেছে।

وَقَدْ هَرَّتْ كلابُ الَحيِّ مِنَّا    وَشَذَّبنا قَتادَةَ مَنَ يَلِينا

এমত অবস্থায় যে, শত্রু গোত্রের কুকুরগুলো আমাদের উপর ঘেউ ঘেউ করছিল। আমরা আমাদের নিকটবর্তী কাঁটাদার বৃক্ষকে ছেঁটে দিয়েছিলাম।

نَزَلْتُمْ مَنْزِلَ الأَضْيَافِ مِنَّا    فَأعْجَلْنا الْقِرَى أَنْ تَشْتِمُونا

তোমরা আমাদের কাছে অতিথিরূপে অবতরণ করেছো। তাই আমরা দ্রুত তোমাদের আতিথেয়তার ব্যবস্থা করেছি যাতে তোমরা কোনোভাবেই আমাদেরকে তিরস্কার করতে না পারো।

قَرَيْنَاكُمْ فَعَجَّلْنا قِرَاكُمْ    قُبَيْلَ الصُّبْحِ مِرْدَاةً طَحُونا

আমরা তোমাদের আতিথেয়তা করেছি, তোমাদের আতিথেয়তার জন্য দ্রুত সকালের পূর্বেই পেষণকারী একটি বড় পাথর উপস্থাপন করেছি।

نَعُمُّ أُنَاسَنا وَنَعِفُّ عَنْهُمْ     وَنَحْمِلُ عَنْهُمُ مَا حَمَّلُونا

আমরা আমাদের লোকেদের ব্যাপকভাবে উপকার করে থাকি, তবে তাদের থেকে বিরত থাকি। আর তারা যে বোঝাগুলি আমাদের উপর চাপায় আমরা তা (মুখ বুজে) বহন করি।

نُطَاعِنُ مَا تَراخَى النّاسُ عَنَّا    وَنَضْرِبُ بِالسُّيُوفِ إِذَا غُشِينا

যতক্ষন পর্যন্ত লোকেরা আমাদের থেকে দূরে থাকে আমরা বর্শা দ্বারা আঘাত করি। আর যখন আমরা শত্রুবেষ্টিত হয়ে পড়ি (অর্থাৎ শত্রুরা আমাদের কাছে চলে আসে) আমরা তরবারি দিয়ে আঘাত করি।

وَرِثْنا الَمجْدَ قَدْ عَلَمِتْ مَعَدٌّ     نُطَاعِنُ دُونَهُ حَتَّى يَبِينا

আমরা মর্যাদার অধিকারী হয়েছি, এটা মা‘আদ গোত্র ভালো করেই জানে। আমরা এর জন্যই বর্শাঘাত করি (অর্থাৎ যুদ্ধ করি) যতক্ষন না তা স্পষ্ট হয়ে যায়।

إِذا ما عَيَّ بالإِسْنافِ حَيٌّ     مِنَ الَهوْلِ الُمَشَّبهِ أَنْ يَكُونا

যখন কোনো গোত্র কোনো ভালো কাজ সম্পাদন করার ক্ষেত্রে অপারগ হয়, কোনো এমন ভয়ের কারণে যা নিকটেই সংঘটিত হবে;

نَصَبْنا مِثْلَ رَهْوَةَ ذَاتَ حَدِّ     مُحَافَظَةً وكُنّا الْسّابِقِينا

তখন আমরা রাহ্‌ওয়া পর্বতের ন্যায় মর্যাদাবান একটি সুরক্ষাবাহিনী স্থাপন করি, আর আমরাই অগ্রগামী;

بِشُبَّانٍ يَرَوْنَ الْقَتْلَ مَجْداً     وَشِيبٍ في الُحرُوبِ مُجَرَّبِينا

এমন যুবকদের সাহায্যে, যারা নিহত ও শহীদ হওয়াকে মর্যাদা ও সম্মান মনে করে এবং এমন বৃদ্ধদের সাহায্যে, যারা যুদ্ধ বিষয়ে অভিজ্ঞ। 

অনুবাদ- আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

আবু তাম্মাম হ়াবীব বিন আওস

আবু তাম্মাম হ়াবীব বিন আওস  
(৮০৪ ৮৪৬ খ্রি)
আব্দুল মাতিন ওয়াসিম
 
পরিচিতি ও জন্মঃ
মুয়াল্লাদুন কবিগোষ্ঠির অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি আবু তাম্মা দীওয়ানুল্‌ হামাসা সংকলনের দৃষ্টিকোন থেকে তিনিই শীর্ষস্থানীয়। প্রশংসা ও শোকগাথামূলক কবিতা রচনায় ছিলেন সিদ্ধহস্ত। তিনি একাধারে কবি, সংকলক ও সুসাহিত্যিক ছিলেন। প্রকৃত নাম হ়াবীব, উপনাম আবু তাম্মাম। পিতার নাম আওস। তবে পিতার প্রকৃত নাম ছিল সাদূস। ইসলাম গ্রহণের পর তা পরিবর্তিত করে আওস রাখেন। তিনি নিজেকেত়্-ত়ায়ী বংশোদ্ভূত দাবী করতেন। দামেস্ক প্রদেশের জাসিম গ্রামে ৮০৪ মতান্তরে ৮০৬ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
 
বাল্য জীবনঃ
কবির জন্মের কিছুদিন পরেই তাঁর তাঁতি পিতা দামেস্কে বসবাস শুরু করেন। কবি সর্বদা বয়নকাজে পিতাকে সাহায্য করতেন বলে বাল্যকালে বিদ্যার্জনের সুযোগ পাননি।
 
যৌবনকালে বিদ্যার্জনঃ
যৌবনের প্রারম্ভে পিতার মৃত্যুর পর তিনি মিশর যাত্রা করেন। সেখানে জামে’ঊ আম্‌র ইব্‌নুল্‌ ‘আস়্ নামক মসজিদে পানি সরবরাহের কাজে নিযুক্ত হন। সে যুগে মসজিদই ছিল জ্ঞানী ও সাহিত্যিকদের আশ্রয়স্থল। তাই অবসর সময়ে তিনি বিদ্যার্জনের প্রতি মনযোগী হন। অল্প দিনের মধ্যেই তিনি লব্ধকবি রূপে আত্মপ্রকাশ করেন।
 
কাব্যচর্চা ও দেশভ্রমনঃ
কবির স্বীয় বর্ণনানুসারে তিনি সর্বপ্রথম আব্বাস বিন লাহিয়ার প্রশংসায় কবিতা রচনা করেন। কিছুদিন পর তিনি সিরীয়ায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে খলিফা মামুনের সম্মুখে কবিতা পাঠ করে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে বাগদাদে উপস্থিত হয় খলিফা মুতাসিম কর্তৃক পুরস্কৃত ও সমাদৃত হন।
 
 হামাসা সংকলনঃ
খোরাসান হতে বাগদাদ প্রত্যাবর্তনের সময় হামাদানে ইব্‌নু সালামাহ্‌ নামক জনৈক বন্ধুর নিকট অবতরন করেন। প্রচন্ড বরফ পড়ার কারণে যাত্রা অসম্ভব হওয়ায় অতিথি বিষন্ন, কিন্তু আপ্যায়ক উৎফুল্ল হন এবং বলেন "وطن نفسك على البقاء, إن الثلج لا يخسر الا بعد زمان" (এখানে থাকার ব্যাপারে নিজের মনকে বোঝান, মনস্থির করুন। কারণ তুষারপাত বন্ধ হতে সময় লাগবে।) আর স্বীয় সংগৃহিত পুস্তকসমূহ তাঁর নিকট উপস্থিত করেন। কবি সেগুলি অধ্যায়ন করে সেখানে পাঁচটি পুস্তক রচনা করেন। তার মধ্যে দীওয়ানুল্‌ হ়ামাসাহ্‌ সর্বাধিক প্রসিদ্ধ।
 
মৃত্যু-বরণঃ
অত্যাধিক পরিশ্রমের কারনে কবি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে ৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে ইহকাল ত্যাগ করেন।
 
চরিত্র ও বৈশিষ্টঃ
তিনি কৃষ্ণবর্ণের, দীর্ঘকায় ও অত্যন্ত মিষ্ট ভাষী ছিলেন। কিঞ্চি জড়তা থাকায় নিজে না করে সালেহ নামক এক ব্যক্তিকে দিয়ে নিজের কবিতাগুলি আবৃত্তি করাতেন। অসাধার মেধা, উপস্থিত বুদ্ধি ও প্রখর স্মৃতি-শক্তির অধিকারী ছিলেন তিনি। কথিত আছে, কাসীদাহ্‌ ও মাক্‌তু’আহ্‌ ছাড়াও তাঁর চৌদ্দ হাজার উর্‌জুযাহ্‌ মুখস্থ ছিল।
 
কাব্য প্রতিভাঃ
তিনি মুয়াল্লাদুন কবিগোষ্ঠির ২য় স্তরের শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন। তিনি তাঁর কবিতায় পূর্ববর্তী ও পরবর্তী দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় সাধন করেছিলেন। জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা-দীক্ষা ও সংস্কৃতি-সভ্যতার দৃষ্টিকোন থেকে আরবদের সর্বাধিক গৌরবময় যুগে জন্ম গ্রহণ করায় তাঁর কবিতায় অভিনব কলা-কৌশল স্থান পায়। তার ভাষা ছিল সাধারণ, তবে কোথাও এমন যুক্তিপূর্ণ বাক্য ব্যবহার করেছেন যে রচনায় সাবলীলতার বিলুপ্তি ঘটেছে। তাই অনেকে মনে করেন, তিনি কবিতা রচনার চেয়ে কবিতা সংকলনে অধিক বুৎপত্তি ও মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন।
 
কবিতার উপাদানঃ
বেদুঈন আরবদের দৈনন্দিন জীবনের রীতি-নীতি ও কার্যকলাপ তাঁর সাহিত্যের অন্যতম উপাদান। তিনি বীরত্ব, শোকগাথা, শিষ্টাচার, প্রনয়গীতি, ব্যাঙ্গাত্বক, বর্ননাবিষয়ক ও আক্রমন প্রত্যুত্তর মূলক কবিতা প্রচুর রচনা করেছেন। তিনি বেদুঈন ও আরব ভদ্র সমাজের প্রচলিত রীতি-নীতির সমন্বয় সাধন করেছেন। তবে তাঁর সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ উপাদান ইতিহাস।
 
কাব্যিক বৈশিষ্টসমূহঃ
মুয়াল্লিদুন কবিগোষ্ঠির দ্বিতীয় স্তরের শীর্ষস্থানীয় এই কবি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল কবিদের ভাবের সমাবেশ ঘটিয়েছেন। তিনি নিজের কবিতার জন্য নতুন স্টাইল গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ভাষার সহজতার চেয়ে অর্থের সৌন্দর্যকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই তাঁর বহু কবিতায় ভাষাগত জটিলতা পরিলক্ষিত। তবে তাঁর ত্রুটিমুক্ত কবিতা ত্রুটিযুক্ত কবিতা অপেক্ষা অধিক সংখ্যক। তিনি কখনও কখনও চমৎকার অর্থপ্রদ প্রবাদবাক্য ও অভিনব প্রজ্ঞাসূচক বাক্য প্রয়োগ করতেন। তিনি জ্ঞানপূর্ণ বক্তব্যগুলিকে প্রবাদবাক্যে, যুক্তি, প্রমান ও সূক্ষ্ম ইঙ্গিতের মাধ্যমে পেশ করতেন। এরপর তিনি তা তিবাক, ইস্‌তে’আরাহ্‌ ও জেনাস (আরবি অলংকার শাস্ত্রের কিছু বাক্য-কৌশল) দ্বারা গোপন করার চেষ্টা করতেন। তিনি তাঁর এক কবিতায় আহমাদ-বিন-মুতাসিমের প্রশংসা করে বলেছেন—
إقدام عمرو في سماحة حانم                    في حلم أحنف في ذكاء إياس
لا تنكروا ضربي له من دونه                    مثلا شرودا في الندى والبأس
فالله قد ضرب الأقل لنوره                    مثلا من المشكاة والنبراس