Pages

Showing posts with label নাজিক আল-মালায়িকাহ. Show all posts
Showing posts with label নাজিক আল-মালায়িকাহ. Show all posts

Friday, 27 August 2021

নাজিক আল-মালাইকাঃ আমি কে...!



আমি কে...!  
নাজ়িক আল্‌-মালাইকা, ইরাক
অনুবাদ- আব্দুল মাতিন ওয়াসিম
 
রাত জিজ্ঞাসেআমি কে!  
আমি তার নিগূঢ়-উদ্বেগ
তিমির-ঘেরা বিচলন  
আমি তার অবাধ্য নীরবতা  
যে–নীরবতার দহনে
তুষ্ট করেছি নিজ মনকে
মুড়ে নিয়ে অনুমানের চাদরে   
আর নিষ্পলক চেয়ে আছি ক্লান্ত চোখে   
তাই কালও জিজ্ঞাসেআমি কে?
আমি কেতা জানতে চায় হাওয়া! 
আমি তো তার উদভ্রান্ত আত্মা 
বর্জন করেছে সময় আমাকে
তাই বায়ুর সাথে শূন্যে চলেছি ভেসে। 
চলছে আমার এক অফুরান পথচলা
এক অনন্ত-অবিরাম, চিহ্নবিহীন যাত্রা।  
অবশেষে যখন পৌঁছবো
জীবন-পথের শেষ মোড়ে
মনে হবে– এই তো দহনরাত্রির শেষ;
তারপর আবার সেই মহাশূন্যতা!
মহাকালও জিজ্ঞাসেআমি কে?
আমি তারই মতো এক মহাকায়
শতশত বছরকে সযতনে রাখি   
দিয়ে চলেছি তাকে পুনর্জীবন
মনোরম আশার স্ফুরণ দিয়ে
আমিই সৃষ্টি করি সুদূর অতীতকে;
আবার আমিই সমাহিত করি তাকে
নিজের জন্য এক নতুন অতীত
তৈরি করবো ভেবে;
ভাবীকাল হবে যার স্নিগ্ধ শিশির।   
 
নিজ সত্ত্বাও জিজ্ঞাসে, অবশেষে
আমি কে?
আমি তারই মত বিমূঢ়-দিশেহারা
দীঘল আঁখি মেলে চেয়ে আছি অন্ধকারের পানে
শান্তি নেই কোথাও !  
যদিও নিরন্তর চলে সেই জিজ্ঞাসাবাদ
যার উত্তর ঢাকা পড়ে যায় মরীচিকাবৎ পর্দায়
তবুও ভাবি সে আসবে;  
কিন্তু যখনই গিয়ে দাঁড়াই তার কাছে
দেখিসে নিথর; হয়ে গেছে বিলীন
এক অদৃশ্য ঠিকানায়!    
 
[নাজ়িক আল্‌-মালাইকাকবি, সমালোচক এবং গবেষক। জন্ম ২৩শে আগস্ট ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে ইরাকের বাগদাদে। বিখ্যাত হয়ে আছেন আরবি ভাষার প্রথম সার্থক মুক্তছন্দের কারিগর হিসেবে। ১৯৪৫ সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আশিক়াতুল্‌ লায়লি(দ্য নাইটস্ লাভার, রাতের প্রেমিক) ১৯৪৭-এ প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে সোশালিস্ট আল্‌-বাস পার্টির আগ্রাসনে দেশান্তরি হয়ে কুয়েতে বসবাস করতে থাকেন। পরে ১৯৯০ সালে সাদ্দাম হোসেনের আমলে আবার দেশে ফিরে আসেন। দীর্ঘদিন পারকিন্সন্সে ভোগার পর ২০শে জুন ২০০৭-এ কায়রোতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন]
 
[শব্দের মিছিল, জুন ৩০ ২০১৮, অনুবাদ বিভাগ-এ প্রকাশিত]

أنا

نازك الملائكة


الليل يسأل من أنا

أنا سرّه القلق العميق الأسود

أنا صمته المتمرّد

قنّعت كنهي بالسكون

ولففت قلبي بالظنون

وبقيت ساهمة هنا

أرنو وتسألني القرون

أنا من أكون؟

والريح تسأل من أنا

أنا روحها الحيران أنكرني الزمان

أنا مثلها في لا مكان

نبقى نسير ولا انتهاء

نبقى نمرّ ولا بقاء

فإذا بلغنا المنحنى

خلناه خاتمة الشقاء

فإذا فضاء !

والدهر يسأل من أنا

أنا مثله جبّارة أطوي عصور

وأعود أمنحها النشور

أنا أخلق الماضي البعيد

من فتنة الأمل الرغيد

وأعود أدفنه أنا

لأصوغ لي أمسا جديد

غده جليد

والذات تسأل من أنا

أنا مثلها حيرى أحدّق في ظلام

لا شيء يمنحني السلام

أبقى أسائل والجواب

سيظلّ يحجبه سراب

وأظلّ أحسبه دنا

فإذا وصلت إليه ذاب

وخبا وغاب

Wednesday, 14 July 2021

নাজিক আল-মালায়িকাহঃ নববর্ষের প্রতি



নববর্ষের প্রতি  
নাজ়িক আল্‌-মালায়িকাহ্‌, ইরাক  
 
হে নববর্ষ, তুমি এসো না আমাদের ঘরে  
ভূতের জগৎ থেকে উঠে আসা প্রতিধ্বনি আমরা
আমাদের পরিত্যাগ করেছে মানুষ
কেটে গেছে আমাদের রাত, টুটে গেছে অতীত
আমাদের ভুলে গেছে তকদির
এখন আমাদের জীবন কাটছে ভূতেদের মতো
আমরা আশা-আকাঙ্ক্ষায় চিরবঞ্চিত
আমাদের না আছে কোনো স্মৃতি, না আছে কোনো স্বপ্ন
আমাদের চোখের দিগন্ত ছাইয়ে ভরা
আমাদের শান্ত মুখগুলো যেন এক একটা স্থির হ্রদ
আর আমাদের কপাল নীরব ও নিশ্চুপ
তাতে না আছে রং, না আছে জৌলুস
আমাদের ঠোঁটগুলোও বিবর্ণ 
আমরা ভুলে গেছি অনুশোচনা
আমরা ফিরে গেছি সময় থেকে শূন্যে 
তবুও কখনও পুড়িনি অনুতাপে
বরং অতিবাহিত করে চলেছি নিজেদের জীবন
এক মোলায়েম হাবেলিতে
অনুভূতিহীন ও স্মৃতিবিহীন সেই জীবন
আমরা বেঁচে আছি, কিন্তু জানি না—
জীবন কী, অভিযোগ কী, ক্রন্দন কী
আমরা জানি না মৃত্যু কী, জন্ম কী
আর না আমরা জানি আকাশের অর্থ।
 
নববর্ষ, এগিয়ে যাও তুমি
ওই পথ ধরে, নিজ পদচিহ্নকে মুড়ে  
আমাদের জাগাবার চেষ্টা করো না খামোখা
আমাদের শিরা এখন পাটকাঠির মতো
আবেগ ও অনুভূতিহীন
দুঃখ কী, আমরা জানি না 
আমাদের রন্ধ্রে আর ক্রোধ বয় না
বিদ্রোহ করতে পারে আমাদের আত্মা
কে বলেছে তোমায় এ কথা?
এর চেয়ে ঢের ভালো হতো যদি আমরা মারা যেতাম
আর কবর প্রত্যাখ্যান করতো আমাদের শবগুলোকে
যদি আমরা ফিরে পেতাম সময়কে অন্যদের মতো করে  
যদি মাপতে পারতাম বছরের বাটখারা দিয়ে যুগকে
যদি বুঝতে পারতাম নিজের একটা ঘর থাকার মানে
যদি গগনচুম্বী প্রাসাদের দরজাগুলো
উদ্বেলিত করতো আমাদের মনকে
বয়ে আনতো আমাদের জন্য জীবনের রসদ 
যদি ছুটতে পারতাম জীবনের সাথে পাল্লা দিয়ে
দেখে-শুনে-জেগে-ঘুমিয়ে  
যদি তীব্র তুষারপাত গ্রাস করতো আমাদেরকে  
যদি ঘোর অন্ধকারে ঢেকে যেতো আমাদের গা
যদি অনুভব করতে পারতাম আমরা  
যেভাবে আর পাঁচজন অনুভব করে
যদি বিচলিত হতো আমাদের অন্তর  
উন্মাদনায়, দুঃখে বা অসুস্থতায়
যদি রুদ্ধ হয়ে যেতো আমাদের নির্বুদ্ধিতার পথ
স্মৃতিচারণা, আকাঙ্ক্ষা অথবা অনুশোচনায়
যদি নীরবতা বিঘ্ন ঘটাতো আমাদের একাকীত্বে
এবং আমরা ভয় পেতাম উন্মাদনায়
যদি আমাদের বিশ্রাম বিঘ্নিত হতো যাত্রায়
আঘাতে অথবা অসম্ভব প্রেম-যাতনায়;  
ভালো হতো যদি আমরা আর পাঁচজনের মতো করে
আলিঙ্গন করতে পারতাম মৃত্যুকে!



إلى العام الجديد

نازك الملائكة – العراق


يا عام لا تقرب مساكننا فنحن هنا طيوف

من عالم الأشباح، يُنكرُنا البشر

ويفر منّا الليل والماضي ويجهلنا القدر

ونعيش أشباحًا تطوفْ

نحن الذين نسير لا ذكرى لنا

لا حلم, لا أشواقُ تُشرق، لا مُنى

آفاق أعيننا رمادْ

تلك البحيرات الرواكدُ في الوجوه الصامتهْ

ولنا الجباه الساكتهْ

لا نبضَ فيها لا اتّقادْ

نحن العراة من الشعور، ذوو الشفاه الباهتهْ

الهاربون من الزمان إلى العدمْ

الجاهلون أسى الندمْ

نحن الذين نعيش في ترف القصورْ

ونَظَلُّ ينقصنا الشعور.

لا ذكرياتْ،

نحيا ولا تدري الحياةْ،

نحيا ولا نشكو، ونجهلُ ما البكاءْ

ما الموت, ما الميلاد, ما معنى السماء

**

يا عامُ سرْ، هو ذا الطريقْ

يلوي خطاكَ، سدًى نؤمل أن تُفيقْ

نحن الذين لهم عروق من قصبْ

بيضاءُ أو خضراء نحن بلا شعورْ.

الحزن نجهله ونجهل ما الغضب

ما قولُهم إنّ الضمائر قد تثور

ونود لو متنا فترفضنا القبور

ونود لو عرف الزمانْ

يومًا إلينا دربه كالآخرين

لو أننا كنا نؤرخ بالسنين,

لو أننا كنا نقيَّد بالمكانْ

لو أن أبواب القصور الشاهقات

كانت تجيءُ قلوبَنا بسوى الهواء،

لو أننا كنا نسير مع الحياةْ

نمشي، نحس، نرى، ننام

وينالنا ثلج الشتاءْ

ويلفُّ جبْهَتَنا الظلام

أواه لو كنا نحسّ كما يحس الآخرونْ

وتنالنا الأسقام أحيانًا وينهشنا الألم

لو أنَّ ذكرَى أو رجاء أو ندم

يومًا تسدُّ على بلادتنا السبيلْ

لو أننا نخشى الجنونْ

ويثيرُ وحشَتنا السكون

لو أن راحتنا يعكّرها رحيل

أو صدمة أو حزن حب مستحيل.

أواه لو كنا نموت كما يموت الآخرونْ

 

ديوان "قرارة الموجة"، 1957