ইচ্ছে করে ওই লাল বাড়িটায় ফিরে যেতে!
আব্দুল মাতিন ওয়াসিম
কোনো নির্ঘুম রাতে, কখনো বিকেলের অলসক্ষণে, কাজের মাঝে পাওয়া অবসরে,
হঠাৎ করে মনে পড়ে স্মিথ লেনের ওই লাল বাড়িটার কথা। মনে পড়ে বেকারের ৮০ নম্বর রুমের
কথা। মনে পড়ে সেই স্মৃতি বিজড়িত দিনগুলি। আমার জীবনের অত্যন্ত আনন্দমুখর দিন ছিল সেগুলি। জমিয়ে আড্ডা
দেওয়া, একসঙ্গে খেতে যাওয়া, দীর্ঘ রাত পর্যন্ত বিষয়হীন
বিরামহীন আলোচনা আর ‘তানিয়া’কে নিয়ে পরস্পরের খুনসুটি। সব মনে পড়ে। আজও ভাবি, কীভাবে হারিয়ে গেল সেই দিনগুলি! সকলের
চোখে ছিল কত স্বপ্ন, চাকরি-বাড়ি...; সেই স্বপনগুলো
আজ নিখোঁজ, হারিয়ে গেছে তাদের ঠিকানা।
আরও মনে পড়ে, ভীষণ ভাবে মনে পড়ে ওদের কথা। সাহেব, ভাজি ভাই ও সরলমতি কামিল দার কথা। ছোটা হাতি- নাজমুল, প্রাইসট্যাগ-জোন্স, চার্মিং বয় আলি ও রিয়াজ খ্যাপার কথা। কোনোকিছু হলেই কি সকাল কি সন্ধ্যা আলি ডাকতো, “ও মাতিন দা!” তাঁরা আজ যে যার পথে। বড্ড কষ্ট হয়, তাদের কথা মনে পড়লে। ওই দিনগুলোর ছবি চোখে ভেসে উঠলে। মাঝেমাঝেই ভাবি, তাদের ফোন করবো। কিন্তু কী বলব ফোনে! সবাই যে পুড়ছে। বেকারত্ব সহ নানা রকম আর্থসামাজিক সমস্যায় জ্বলছে বর্তমান। আতঙ্কিত ভবিষ্যৎ।
চোখের আয়নায় ভেসে ওঠে তাদের নিষ্পাপ
মুখগুলো। আর মনে পড়ে যায় তাদের নানা ভাবনার কথা। চাকরিবাকরি নিয়ে তাদের হাহুতাশ
করার ছবি। সাহেবের দুর্গম সংগ্রাম, জোন্সের অব্যক্ত বেদনা, মাথার মধ্যে বিড়বিড় করে আরও কতশত না-বলা কথা।
বোধ করি, জীবন এক স্মৃতিমাল্য। তার এক দু’টো পাপড়ি হঠাৎ করে ভেসে ওঠে স্মৃতিপটে। আর অশ্রুরা ভিড় করে চোখের কোণে। আজকাল আমার বড্ড ইচ্ছে করে বেকারের সেই ৮০-তে ফিরে যেতে। যেখানে রিয়াজ ফুচকা খেতো কামড়ে। নাজ শিশুর মতো অভিমান করত। জোন্স কী খেয়েছে, রোজ রাতে টিভি-বিজ্ঞাপনের মতো করে শোনাত। আর কামিল দা হরহামেশাই ঝগড়া করত ফোনে। আলি সর্বদা ব্যস্ত থাকতো সাজুগুজু নিয়ে। ভাজ্জি বড়াই করত সবকিছুতে। আর সাহেব মজে ছিল এক বিরঙ্গনাতে। রোজ ঘটা করে শোনাত তার কথা। আরও একজন ছিল ৮০-র ওই আড্ডায়। সে ছিল সবার সব গল্পের নির্বাক শ্রোতা!
ইচ্ছে করে আজও, তাদের না-বলা গল্পের শ্রোতা হতে। ইচ্ছে করে, বড্ড বেশি ইচ্ছে করে স্মিথ লেনের ওই লাল বাড়িটায় ফিরে যেতে। রোজ রাতে মিনার্ভা, পবিত্র বা জগন্নাথ থেকে ফিরে ৮০-র আড্ডায় শামিল হতে!
