Pages

Showing posts with label অ্যাডোনিস. Show all posts
Showing posts with label অ্যাডোনিস. Show all posts

Monday, 3 February 2020

অ্যাডোনিসঃ অন্তর্দৃষ্টি



অন্তর্দৃষ্টি
মূল- অ্যাডোনিস, সিরিয়া
অনুবাদ- আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

ব্যাবিলন, হে আগুন ও রহস্যের শহর
পোড়া কাঠের মুখোশ পরে
তুমি গোপন করো নিজ পরিচয়;
আমি অপেক্ষা করছি ঈশ্বরের
যে ঈশ্বর হাজির হবে
গায়ে জড়িয়ে আগুণের চাদর   
এবং গলায় মুক্তোর মালা
যা সমুদ্রের ফুসফুস ঝিনুক থেকে চুরি করা
আমি অপেক্ষা করছি সেই ঈশ্বরের;  
যে নিজেই বিহ্বল, দ্বিধাগ্রস্ত 
রাগ করে, কাঁদে, নত হয় এবং দীপ্তি ছড়ায়;   
তোমার মুখমণ্ডল, হে মিহ্‌ইয়ার
বহন করছে সেই ঈশ্বরের আগমনবার্তা।            

হলুদ গম্বুজে রাখা
ছেঁড়াফাটা-জীর্ণ বইগুলোয় চোখ রেখে
আমি দেখতে পাচ্ছি—
হাওয়ায় ভাসছে একট ফুটো শহর
সিল্কের দেয়াল এবং একটি নিহত নক্ষত্র   
দোল খাচ্ছে সবুজ বোতলের ভেতর;  
আরও দেখতে পাচ্ছি, একটি কান্নার মূর্তি
বিচ্ছিন্ন অঙ্গসমূহ নিয়ে ভূলুণ্ঠিত হয়ে আছে
রাজপুত্রের দরবারে



رؤيا
تَقنّعي بالخشَبِ المحروقْ
يا بابلَ الحريقِ والأسرارْ،
أنتظرُ الله الذي يجيءْ
مُكْتسياً بالنّار
مُزَيناً باللؤلؤ المسروقْ
من رئةِ البحرِ من المحارْ؛
أنتظرُ الله الذي يحارْ
يغضبُ يبكي ينْحني يُضيءْ -
وجهكَ يا مهيارْ
يُنْبئُ بالله الذي يجيءْ.




رؤيـا
ألمح بين الكتب الذليلهْ
في القبّة الصفراء
مدينةٌ مثقوبة تطيرْ
ألمح جدراناً من الحريرْ
ونجمةً قتيله
تسبح في قارورةٍ خضراء.
ألمح تمثالاً من الدّموعْ
من خزَف الأشلاءْ والرّكوع
في حضرة الأميرْ.


[কর্ণ, জানুয়ারি ২০২০ সংখ্যায় প্রকাশিত] 

অ্যাডোনিসঃ মহা প্লাবন



মহা প্লাবন
মূল- অ্যাডোনিস, সিরিয়া 
অনুবাদ- আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

পায়রা— তুমি যাও এবার।
তোমার প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা করি না আর।
তারা সঁপেছে তাদের শরীর
পাথরের কাছে, আর আমি
এগিয়ে চলেছি দূরবর্তী প্রান্তের দিকে
নৌকার পাল ধরে। 
এই মহা প্লাবনই আমার গ্রহ;
যা আবর্তনহীন, বিনাশী এবং প্রাচীন। 
এখানেই হয়তো, ঘ্রাণের পথ ধরে
খুঁজে পাবো কোনো একদিন  
সমাহিত শতাব্দীর ঈশ্বর
হয়তো প্রাধান্য পাবে আমাদের কাছে
এই দীর্ঘ বৈঠক;
পায়রা, তুমি যাও এবার।
তোমার প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা করি না আর।   


الطوفان
أدونيس


إِذهَبي، لا نُريدكِ أن تَرجعي يا حمامَهْ
إنهم أسلموا لحمهم للصخورْ
وأنا - ها أنا أتقدم نحو القرار السحيقْ
عالِقاً بشراع السفينه.
إنّ طوفاننا كوكبٌ لا يدورْ
إنه امرٌ عتيقْ -
ربّما نَتنشَّقُ فيه إلهَ لعصور الدَّفينَه
ربما نؤثر هذا اللقاء العريق،
فاذهبي، لا نريدكِ أن ترجعي يا حمامه.



[কর্ণ, জানুয়ারি ২০২০ সংখ্যায় প্রকাশিত] 

Saturday, 1 February 2020

অ্যাডোনিসঃ আমার মাতৃভূমি



 আমার মাতৃভূমি 
অ্যাডোনিস, সিরিয়া   
অনুবাদ- আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

বিষাদের প্রকোপে শুকিয়ে যায় যে মুখ  
আমি তার কাছে মাথা নত করি,
আমি মাথা নত করি সেই রাস্তার কাছে
যার প’রে দাঁড়িয়ে ভুলে যাই নিজ কান্নার কথা;  
যে পিতা মারা গেল মেঘের মতো সবুজ হয়ে
নিজের বুকে পাল তুলে, আমি তার কাছে মাথা নত করি;   
আমি মাথা নত করি সেই শিশুর কাছে, যে শিশু
বিক্রি হয়ে যায় প্রার্থনা জুতো পালিশের জন্য
যদিও আমার দেশে সকলে প্রার্থনা করে  
জুতো পালিশও করে প্রতিদিন।       
আমি মাথা নত করি সেই পাথরের কাছে
যার প’রে নিজ ক্ষুধা দিয়ে আমি খোদাই করেছি এ কথা;
সে যে আবর্তিত হয় আমার চোখের পাতায়
বৃষ্টি ও বিদ্যুৎ হয়ে। আমি মাথা নত করি
সেই বাড়ির কাছে, যার মাটি আমি বয়ে চলেছি
আমার এই ভবঘুরে জীবন জুড়ে—
সবই আমার মাতৃভূমি; শুধু দামেস্ক নয়


وطن
أدونيس

لِلْوجوهِ التي تَتيبّسُ تحت قناع الكآبه
أنحني؛ لدروبِ نسيتُ عليها دموعي
لأبٍ مات أخضراً كالسّحابه
وعلى وجهه شراعُ
أنحني؛ ولطفل يُباعُ
كي يُصلّي وكي يمسحَ الأحذيه-
كلنا في بلادي نصلّي كلنا نمسح الأحذيه
ولِصخرٍ نقشتُ عليه بجوعي
أنّه مَطرٌ يتدحرجُ تحت جفوني وبَرْقُ
ولبيتٍ نقلتُ معي في ضياعيَ تُرابَهْ
أنحني - هذه كلها وَطني، لا دِمشْقُ.


أغاني مهيار الدمشقي (الأعمال الشعرية-1) 259


অ্যাডোনিস। প্রকৃত নাম ‘আলি আহ়্‌মাদ সা‘য়ীদ ইস্‌বার। জন্ম ১৯৩০ সালে পশ্চিম সিরিয়ার কাশাবিন গ্রামেঅন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের লেখকদের মতো তিনিও আবিষ্কার করেছেন নির্বাসনের সীমাহীন যন্ত্রণাআর তাই আক্ষেপ করে একদিন বলেছিলেন, আমি এমন একটি ভাষায় লিখি যেটি আমাকে নির্বাসন দিয়েছেতাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত সৃষ্টি হল আগ়়ানী মিহ্‌ইয়ার আদ্‌-দিমাশ্‌ক্বী (দ্য সংস অফ মিহ্‌ইয়ার দ্য দামাস্কিন) ১৯৬১-তে প্রকাশিত। এই কাব্যগ্রন্থে তিনি আবিষ্কার করেছেন এমন এক কাব্যকৌশল যার মাধ্যমে তিনি কবিতার সামাজিক-রাজনৈতিক দায়িত্বের সাথে অভিজ্ঞতার সুক্ষ্ণ পরিশীলীত বুনন, কবিতার আকর্ষনীয় নান্দনিকতা এবং নির্বাসনের প্রতীকী কাব্যভাষার মেলবন্ধন ঘটাতে সফল হয়েছেন ফলে ধীরে ধীরে তাঁর কবিতা হয়ে ওঠেছে জটিল নাটকীয়তায় ঋদ্ধ, বিবিধস্বরে জারিত এবং ভাষা ফর্মের দিক দিয়ে অনেক নিরীক্ষণ-প্রবণএর সাথে তিনি সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন ক্লাসিক্যাল আরবি কবিতার মরমী গভীরতা এবং স্বদেশ আশ্রিত বিপ্লবী মনোভাব আর  ইউরোপীয় আধুনিকতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গিসেতু গড়েছেন আরবি ভাষার সাথে পশ্চিমা ও গ্রীক ঐতিহ্যেরকবিতাকে মুক্ত করেছেন ঐতিহ্যগত, গতানুগতিক রীতিনীতি থেকে। তাঁর দীর্ঘ লেখক-জীবনে তিনি দুবার নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনিত হয়েছেন তাঁর কবিতার সামগ্রিক উপস্থাপনরীতি যেকোনো কাব্যমোদীর মনকে ছুঁয়ে যায়; বিশেষ করে ভাব ও ভাষার নিরীক্ষণ-প্রবণতা, আরবি কবিতার গনগনে আগুন আর তাতে জ্বলে ওঠা এক নির্বাসিত কবির পরিশীলিত নান্দনিক প্রাণময়তা

[কর্ণ, জানুয়ারি ২০২০ সংখ্যায় প্রকাশিত]