Pages

Showing posts with label উৎসাহ. Show all posts
Showing posts with label উৎসাহ. Show all posts

Saturday, 13 August 2022

বিন্দুতে সিন্ধুঃ অনুপ্রেরণা ও উৎসাহের স্ফুরণ - ঘ



 
আপনার মনে কি হিংসা, লালসা ও অলসতা আছে?
তাহলে আপনার কপালে দুঃখ আছে।
 
 
‘গত’ অতীত।
‘আগামী’ ভবিষ্যৎ।
শুধু ‘আজ’টাই বাস্তব।
তাই ‘আজ’কে বাঁচুন। এই ‘আজ’-এরই নাম জীবন।
 
 
সাফল্যের চাবিকাঠি কী?
জানেনই তো— পরিশ্রম।
মনে রাখবেন, এটাই প্রকৃতির বিধান ও চরম বাস্তবতা।
 
 
নিজেকে নিজের  সাথে তুলনা করুন।
আর ভাবুন— আপনি কী করতে সক্ষম? আর করছেন কী?
 
 
ভাবুন— আপনি পৃথিবীতে কেন?
কারণ, যে ব্যক্তি নিজ জীবনকে নিরর্থক ও উদ্দেশ্যহীন মনে করে সে প্রকৃতার্থে স্রষ্টাকে উপহাস করে।
 
 
 
নিজ জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও আদর্শ পৃথিবী থেকে নিয়ে আবার পৃথিবীতেই বিতরণ করে যাবো—
এটাই তো কাম্য। 
 
 
সংখ্যালঘু সমস্যার সব চেয়ে ভালো সমাধান হল—
তাঁরা দ্বিগুণ পরিশ্রম করবে।
 
 
আপনার জীবন কি এতই সস্তা যে, কোন ‘যদি’ বা ‘হয়তো’র নিকট আত্মসমর্পণ করবেন?
নিশ্চয়ই নয়, তাহলে...  
 
 
ইতিহাসের সমুদ্র থেকে মুক্ত সংগ্রহ করুন!
দীর্ঘায়ু হবেন আপনি এবং সমৃদ্ধ হবে আপনার দেশ ও সমাজ।
 
 
একটা বাড়ি বানাতে ইটগুলোকে একটা একটা করে অত্নি যত্নে জুড়তে হয়।
জীবন-গড়ার কাজটাও খানিকটা তেমনই...।   
 
 
ভিত্তির ইটটা যদি একটু বাঁকা হয়ে যায়, তাহলে—
উঁচু-দীর্ঘ দেওয়ালটা পুরোটাই বাঁকা ও বে-মানান হবে।
 
 
মনে রাখা দরকার—
বাল্যকালের অভ্যাসগুলি আজীবন সঙ্গে থাকে।
 
 
মনকে সর্বদা ইতিবাচক ভাবনায় ব্যস্ত রাখুন।
আর মনে কোনও ভালো চিন্তার উদয় হলে তা ডায়েরীতে লিখে রাখুন।
 
 
হিংসা, বিদ্বেষ ও অহংকার আগুনের থেকেও ভয়ংকর।
যদি কারও মনে জন্ম নেয়, তার ধ্বংস অনিবার্য।
তাই পরিত্যাগ করুন যত দ্রুত সম্ভব।
 
 
যতদিন শ্বাস ততদিন আশ।  
তাহলে মৃত্যুর আগেই কেন মরে যাচ্ছেন?
 
 
ছেলেদেরকে পড়ান।
আর মেয়েদেরকে অবশ্যই পড়ান।
কেননা, তাদের শিক্ষায় একটি পরিবার শিক্ষিত হয়।
 
 
উপদেশ কথার মাধ্যমে না দিয়ে কাজের মাধ্যমে দিন।
কারণ, কাজের মাধ্যমে প্রদত্ত উপদেশ অধিক কার্যকরী ও প্রভাবশালী।
 
 
সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীর প্রত্যেকটি বস্তুকে তার বিপরীত বস্তুসহ সৃষ্টি করেছেন।
তাই রোগ থাকলে, থাকবে তার নিরাময়ের উপায়ও। আর সমস্যা থাকলে, তার সমাধানও।
অতএব নিরাশ না হয়ে চলুন আরও একবার চেষ্টা করে দেখি।
  
বিন্দুতে সিন্ধু – ঘ    
আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

Wednesday, 13 July 2022

বিন্দুতে সিন্ধুঃ অনুপ্রেরণা ও উৎসাহের স্ফুরণ - গ



আমরা বলি দুষ্টু খোকা
            আমরা বলি চঞ্চল
নিষ্পাপ তার মুখের হাসি
            একশ তার পুণ্যফল।
 
 
আপনি আপনার পিতা অপেক্ষা অধিক সফল ব্যক্তি হতে পারেন।
কিন্তু কখনো কি আপনার পিতার পিতা হতে পারবেন?
তাহলে শিক্ষকের শিক্ষক সাজতে যান কেন?!
 
 
বন্ধুর ব্যর্থতায় দুঃখ পান?
বন্ধুর ব্যর্থতায় মনে মনে আনন্দ পান?
বন্ধুর আনন্দে আনন্দ পান?
বন্ধুর আনন্দে মনে মনে দুঃখ পান?
নিজের মনকে প্রশ্ন করুন, নিজেকে চিনতে পারবেন।
 
 
দেহ ও মনকে সজীব করে তোলে—
লক্ষ্যে পৌঁছানোর বাসনা।
 
 
নিজের কৃতকর্মগুলি মনের আয়নায় দেখুন আর নিজেই নিজের বিচার করুন—
যদি ভালো মানুষ হতে চান।
 
 
আপনার বহু প্রশ্নের উত্তর নিহিত আছে প্রশ্নের মধ্যেই।
একটু যত্ন, একটু অনুরাগ সহ খুঁজুন।
 
 
আপনার মনের রুদ্ধ দারগুলি উন্মোচিত হতে পারে—
কোন একটি বইয়ের অধ্যয়নে। 
একবার যাচাই করে তো দেখুন। 
 
 
হিসেবনিকেশ হবে—
স্রষ্টা আপনাকে যে সম্পদ প্রদান করেছেন আপনি তার কতটা সদব্যবহার করেছেন?
এমনকি হিসেব হবে—
তিনি আপনাকে যে বোধ-ক্ষমতা দিয়েছেন আপনি তা কীভাবে ব্যবহার করেছেন?
 
 
অভাব ও স্বচ্ছলতা দু’টি স্রোত।
বিপরীতমুখী নয়, পরস্পরের সঙ্গী।
প্রস্তুত থাকুন, আপনাকে ছোঁবেই তারা।
 
 
নিজের দৃষ্টিতে ‘ছোট’ হয়ে যাওয়া মানে অন্যের দৃষ্টিতে ‘ছোট’ হওয়া।
অতএব এমন কিছু করবেন না, যা আপনাকে আপনার দৃষ্টিতে ‘ছোট’ করে দেবে।
 
 
কণ্টকময় কাণ্ডের অগ্রেই প্রস্ফুটিত হয়—
বসরাই গোলাপ।
 
 
লক্ষ্যে পৌঁছানোর আকুলতা সাফল্যের নামান্তর।
 
 
সাফল্যের আনন্দ ও ব্যর্থতার বেদনা, এদু’য়ের প্রকাশ স্পষ্ট করে দেয়—
‘আপনি কেমন মানুষ?’
 
 
সুযোগ তো রয়েছে।
তবে আপনার মনে আকাঙ্ক্ষা আছে কি?
 
 
আপনি যদি সদা অন্যের দোষ-ত্রুটি অন্বেষণে ব্যস্ত থাকেন—
তাহলে আত্মসমিক্ষা ও আত্মসমালোচনার সময় পাবেন কীভাবে?
 
 
—আপনার কাছে সময় আছে?
—হ্যাঁ।
—সাহসও আছে?
—হ্যাঁ।
—তাহলে ভয় কীসের, লড়তে থাকুন। জয়ী আপনি হবেনই।
 
বিন্দুতে সিন্ধু – গ   
আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

Wednesday, 8 June 2022

বিন্দুতে সিন্ধুঃ অনুপ্রেরণা ও উৎসাহের স্ফুরণ - খ

 




যদি কারও উপকার করার পর তার কাছে বিনিময় আশা না করি—
তাহলে পৃথিবীর অর্ধেক দুঃখ কমে যাবে, আমার বিশ্বাস।
 
 
ভুলে ভরা জীবনে, ভুলে ভরা কাজ,
গুরুজনে শুধিতে, তবে কেন লাজ?
 
 
কাঁচির তুলনায় সুঁচ অতি ক্ষুদ্র।
কিন্তু, কাঁচি কেটে দেয় আর সুঁচ জুড়ে দেয়।


‘কে সঠিক’— বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
‘কোনটি সঠিক’— বিভ্রান্তি দূর করে।
 
 
সিয়ামব্রত— একটি অধ্যাবসায়। একটি সাধনা। 
পালনকারীকে সংযত করে। 
ধৈর্যশীল হতে সাহায্য করে। 
সহমর্মী ও সংবেদনশীল তৈরি করে।


ভূপৃষ্ঠে সর্বাপেক্ষা সহজ কাজ— সমালোচনা করা।
 
 
 
—জানতে চান, আপনার ভবিষ্যৎ কেমন হবে?
—আজকের দিনটাকে লক্ষ্য করুন। আর লক্ষ্য করুন আজকে আপনার অবস্থান।

 
সঠিক পদ্ধতিতে সঠিক প্রতিপালনই  প্রগতির সোপান।
 
 
অনেকসময় ক্লাসের সবচেয়ে মেধাবী ছেলেটি নজরকাড়া সাফল্য পায় না।
তাহলে কি শুধু মেধা সাফল্য-অর্জনে যথেষ্ট নয় !
 
 
দৃষ্টিভঙ্গি— দৃষ্টি অপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
 
 
সুস্থ জীবনের সব থেকে বড় রহস্য— ইতিবাচক চিন্তাধারা।
 
 
আপনার জন্য স্রষ্টার সর্বাধিক মূল্যবান উপহার— 
আপনার বিবেক, আপনার চিন্তাশক্তি।
 
 
ব্যর্থ হয়ে আপনি কাঁদেন; আর লোকেরা তা দেখে মনে মনে হাসে।
তাই কান্নাকাটি বন্ধ করে মনের গহীনে ব্যর্থতার ধ্বংসাবশেষের উপর সাফল্যের ইমারৎ গড়ার দৃঢ় সংকল্প করুন; আপনি নিশ্চিত সফল হবেন।
 
 
কাঁদার জন্য কেউই তার কাঁধ এগিয়ে দেবে না।
লোকেরা একবারেই কাঁধ এগিয়ে দেবে, আপনার শেষ যাত্রায়।
 
 
দু’জনের আঙুলের ছাপ যেমন এক হয় না, ঠিক তেমনই দু’জনের মেধাশক্তিও সমান হয় না।
সুতরাং আপনি অন্যের সাথে নয়, নিজের সাথে প্রতিযোগিতা করুন।
 
 
আপনার সন্তানেরা সময়ের পূর্বে স্কুলে চলে যাচ্ছে! 
তারা গৃহ অপেক্ষা স্কুলকে অধিক ‘নিরাপদ’ মনে করছে না তো?
স্কুলই তাদের ‘আশ্রয়স্থল’ হয়ে যায়নি তো?  
 
 
আপনি শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন?
মনে রাখবেন—  
প্রচেষ্টা সফলতার প্রথম চিহ্ন। প্রথম শর্ত।


সর্বাপেক্ষা সহজ কাজ— নিজের ব্যর্থতায় অন্যকে দোষারোপ করা।
 
 
নকলে বুদ্ধি হ্রাস পায়।
তাই, অন্যের নকল না করে ‘নিজস্বতা’টা বজায় রাখুন।
 
 
অসামাজিক কাজ সর্বপ্রথম জন্ম নেয় আপনার মনে।
তাই মনকে সর্বদা ব্যস্ত রাখুন চিন্তনে। 

বিন্দুতে সিন্ধু - খ    
আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

Saturday, 23 April 2022

বিন্দুতে সিন্ধুঃ অনুপ্রেরণা ও উৎসাহের স্ফুরণ - ক


শুরু যদি না-ই করি,
সব কাজ লাগে ভারী।


আজ যদি হেরে যাও, নও তুমি ব্যর্থ
সফলতা কাল পাবে, এই তার অর্থ।


সে মেধাবী।
সফলও।
কিন্তু তার চরিত্র?!


আঁধার যতই হোক না কালো
                                  হোক না যতই ভয়ের রাত,
বিদায় তারে হবেই নিতে
                                 আসবে আলোর সুপ্রভাত।


আমার মনে হয় –
অভাব-অভিযোগ আর ব্যর্থতা একই আধুলির এপিঠ-ওপিঠ।


‘আমি সবার চেয়ে ভালো মানুষ।’ –
এটা প্রমাণ করতেই কেটে যায় আমাদের অর্ধেক জীবন।
কথায় না, সম্ভব হলে কাজে প্রমাণ করুন।


আগে আপনি নিজের মনকে জিজ্ঞেস করুন –
‘ভালো বা মন্দ হওয়ার জন্য আপনার কী করা উচিৎ, আর কী করা উচিৎ নয়?’
তারপরে ভাবুন –
আপনি কী করেছেন এবং কী করেননি, আর কী করছেন এবং কী করছেন না!


কোনো অবস্থাকে আগে তো গ্রহণ করবেন; তার পরে না হয় ভেবে স্থির করবেন যে –
সংশোধন করবেন,
না সংযোজন করবেন,
না বিয়োজন করবেন,
না সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করবেন। 


এই জীবন পথে সর্বোত্তম পাথেয় হল–
আত্মবিশ্বাস।


ইতিবাচক চিন্তাধারা সাহস যোগায় লড়াই করার –
সময়ের সঙ্গে ।
আর নেতিবাচক চিন্তাধারা দুর্বল করে দেয় আপনার মনোবল,
নষ্ট করে দেয় আপনার কর্মক্ষমতা।
এবার নিজেকে বদলান!


-আজ সারাদিনে আপনি কিছু পড়েছেন কি? কিছু শিখেছেন?
-না।
-আপনি আজ সারা দিনে কী কী করেছেন, তার সমীক্ষা কি করেছেন?
-না।
-তাহলে, আপনার জীবনের একটা দিন যে নষ্ট হয়ে গেল!


ছাত্র একটি প্রদীপ।
আর শিক্ষক তার ইন্ধন।
সম্পর্কটা অটুট রাখুন। তাহলেই ঔজ্জ্বল্য ছড়াবে।


-আপনি কি ধৈর্যহীন?
-হ্যাঁ। 
-তাহলে আপনি একটা ‘শয়তান’।


হীনমন্যতা – আপনাকে জীবন হতে দূরে, মৃত্যুর নিকটবর্তী করে দেবে।


কঠিন প্রচেষ্টার পরেও ভাগ্যে জোটে ব্যর্থতা-
ঘাবড়াবেন না, মনে রাখবেন- 'ধৈর্যই সাফল্যের চাবি-কাঠি'। 


নিজের সব জ্ঞান, সব ডিগ্রি পেছনে ফেলে চলুন-
‘তাঁর’ শিষ্যত্ব গ্রহণ করি।


মহান স্রষ্টা আপনার মধ্যেও কিছু বৈশিষ্ট অবশ্যই সৃষ্টি করেছেন।
খুঁজুন..., অবশ্যই খুঁজুন! 


সময়ের দোহাই দেওয়া-
মানে, হেরে পালিয়ে যাওয়া।


আপনি বেঁচে আছেন বটে।
কিন্তু, আপনি কি জীবিত?


-আপনি কি অল্পতে রেগে যান?
-হ্যাঁ।
-তার মানে, আপনার মনের মধ্যে শান্তি নেই; আর না আছে জীবনে শৃঙ্খলা।


‘অশিক্ষা’-র জগৎ একটি ভয়ানক ও পথহীন অরণ্য।
আর ‘শিক্ষা’-র আলোয় হদিশ মেলে –
পথের, কোনো পুষ্পশোভিত কাননের।


সফলতা যে উপাদানগুলি দিয়ে তৈরি, মেধা তার একটি; সব কটি বা সব কিছু নয়।


আপনার অবস্থান কী? জানতে চান!
প্রত্যাবর্তন করুন স্রষ্টার দিকে।


আপনি বহু কিছু পড়লেন,
শিখলেনও বহু কিছু,
অভিজ্ঞতার ঝুড়িও প্রায় পূর্ণ;
কিন্তু সে-অনুযায়ী কাজ করলেন না,
তাহলে আপনি ‘ব্যর্থ’!


আপনি কী চান?
জিততে চান; জিতবেন।
হেরে যেতে চান; হেরে যাবেন। 
ঠিক করুন, আপনি কোনটা চান!


অনেক সময় একটি মাছিই সিংহের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে।


আপনি বয়ঃপ্রাপ্ত।
কিন্তু আপনি যদি ভাবেন যে, কেউ হাত ধরে আপনাকে এগিয়ে  নিয়ে যাবে; তাহলে আপনি এখনো শিশুই।


“প্রলয় আসবে, আর সবকিছু তছনছ করে দেবে”
-আচ্ছা, তার জন্য কি আপনি হাল ছেড়ে দেবেন?
-না।
-তাহলে সম্মানের সাথে বাঁচার উপকরণ তৈরি করুন।


পরিতাপের বিষয় হল-
আমাদের যুবসমাজের কাছে প্রতিটা কাজের ক্ষেত্রে একটা ‘কিন্তু’ তৈরি আছে।

আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

Monday, 12 November 2018

বিন্দুতে সিন্ধুঃ অনুপ্রেরণা ও উৎসাহের স্ফুরণ

বি ন্দু তে সি ন্ধু

অনুপ্রেরণা ও উৎসাহের স্ফুরণ
 

উৎসর্গ 
                         যার কনিষ্ঠা আঙুল ধরে আমার জীবনের পথ চলা শুরু, আমার পিতা
                         যার স্নেহের পরশ আমার প্রতিটি পদক্ষেপের অনুপ্রেরণা, আমার জননী
                         যার মুখনিঃসৃত আখ্যান-উপাখ্যন আমার পাথেয়, আমার নানিমা
                         এবং সকল কর্মপ্রিয় পাঠককূলের করকমলে
                                                                                 অর্পিত। 

শুভেচ্ছা বার্তা 
পুত্রপ্রতিম আব্দুল মাতিন ওয়াসিম একজন নিষ্ঠাবান ছাত্র। এই ক্ষুদ্র প্রয়াসেঅনুপ্রেরণামূলক ভাবনাগুছ, উপদেশের সমাহার ওভাষার সাবলীলতাআমায় মুগ্ধ করেছে। আশা করি, স্বল্প পরিসরে তাৎপর্যপূর্ণ উপদেশাবলীর এই মাল্যটি অন্ধকার ও হতাশ জীবনকে আলোর সন্ধান দেবে। তার উত্তরোত্তরসাফল্য ও শ্রীবৃদ্ধি কামনা করি।
                                                                                                       বদিউর রাহমান
                                    প্রোফেসর, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

কিছু কথা

সকল প্রশংসা স্রষ্টার। তাঁর ইচ্ছা ও আশীর্বাদে এই ক্ষুদ্র প্রয়াসটির সম্পাদনা সমাপ্তির দ্বারপ্রান্তে। অতঃপর অগণিত শান্তিরধারা বর্ষিত হোক নিখিল বিশ্বের জন্য করুণা স্বরূপ প্রেরিত মুহাম্মাদ (সাঃ), তাঁর অনুচর ওপরিবারবৃন্দ এবং পৃথিবীর সকল ‘শান্তিকামী’ আত্মার প্রতি।

২০১১-এর বিদায় ও ২০১২-এর সূচনা-সন্ধিক্ষণে এক নির্মম সত্য আমার অস্তিত্ব নাড়িয়ে দিয়েছিল। না-ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি, ‘বাবা’ ডাকার আমার আহ্লাদ-আদিখ্যেতাকে সঙ্গে করে। চিরতরে। তখন চরম সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে এক ‘কলেজ পড়ুয়া’ আমি। নানান টানাপড়েনে মাঝে মাঝে মনের অভিধানে উঁকি দিতে আরম্ভকরে আত্মহনন শব্দটিও। সৌভাগ্য আমার যে, সে-সময়ে কিছু ‘প্রকৃত বন্ধু’ নিরন্তর সাহায্য করেছিল, তাদের বুকে ও কোপালে আঁকা বর্ণসমষ্টির মাধ্যমে। এবং অনুপ্রাণিত করেছিল, উৎসাহ জুগিয়েছিল, প্রাণবন্ত করে তুলেছিল জীবন যুদ্ধে টিকে থাকার ক্ষেত্রে।

জীবনের সেই সংকটময় পরিস্থিতিতে যে প্রকৃত বন্ধুরা আমার পাশে ছিল, তারা আর কেউ নয়; গুটি কতক বই। জীবনী-আত্মজীবনী-ভাবনাগুচ্ছ; শূন্য থেকে শীর্ষে পৌঁছেছে এমন কোনো মনীষার। আত্মহননের চোখে চোখ রেখে শাসিয়ে এসেছে, তারপর ভুবনজুড়ে খ্যতি অর্জন করেছে এমন যোদ্ধাদের। ব্যর্থতার হাজারটা সোপান ডিঙিয়ে সাফল্যের ঠোঁটে উষ্ণ চুম্বন এঁকে দিয়েছে এমন আত্মপ্রত্যয়ীদের। আজও আমার মননে-চিন্তনে অবাধ বিচরণ; নিত্য আনাগোনা সেই সব মনীষাদের; ভাবনা-র মোড়কে, চিন্তা-র রূপে, সমাধান-এর আবহে। সেগুলিই বর্ণ ও শব্দের জামা গায়ে দিয়ে আঙুল ও কীবোর্ডের সংগমে ভূমিষ্ঠ হয়েছে মাঝেমধ্যে আমার ফেসবুক-ওয়ালে। সীমিত শব্দগুচ্ছের আবহে তাৎপর্যপূর্ণ উপদেশসমূহ প্রভাবিত করেছে অনেককে। আমারও মনে হয়েছে, এসব উপদেশ মেনে নিষ্ঠার সাথে কর্ম সম্পাদন নিশ্চিত সাফল্য নিয়ে আসবে, উভয় জীবনে অনেকের। হয়তো এগুলো কোনোদিন কারো জন্য বাঁচার তরে রসদ, চলার পথে পাথেয় হবে। অনেককেই অনুপ্রাণিত করবে ‘বেঁচে’ থাকতে। ইন্ধন জোগাবে জীবনের লড়াই চালিয়ে যেতে। তাই এগুলিকে একত্রে সংকলন করে একটি পুস্তিকার রূপ দিলাম। আর নাম রাখলাম ‘বিন্দুতে সিন্ধু’, যে শব্দ বিন্দুতে রয়েছে ভাবের সিন্ধু।

উল্লেখ্য, ভাবের স্পষ্টতা ও শব্দের সাবলীলতার প্রতি যথাসাধ্য খেয়াল রেখেছি। যাতে অন্তর্নিহিত ভাবনাটা সকলের জন্য উপলব্ধি করা সহজ হয়। এর পরেও মুদ্রণ বা ভাষার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি লক্ষিত হলে পাঠকবর্গের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আর যাদের সহযোগিতা-পরামর্শ-স্নেহ-ভালোবাসা এই কাজের সাথে মিশে একাকার বিশেষতঃ আমার ‘গুরু’ প্রোফেসর বদিউর রহমান, বন্ধুবর ওবাইদ-আমিন ও স্নেহভাজন মুহাফিজ-মাকিন এবং অবশ্যই প্রকাশক মহাশয়কে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

আব্দুল মাতিন ওয়াসিম 

সক